সরকারি ডিপ টিউবওয়েল আবেদন ২০২৬: কীভাবে পাবেন নিরাপদ পানির সুবিধা, নিয়ম ও খরচ
বাংলাদেশের গ্রামীণ এবং আধা-শহুরে অঞ্চলগুলোতে বিশুদ্ধ সুপেয় জলের তীব্র সংকট মেটাতে দীর্ঘদিন ধরেই কাজ করে যাচ্ছে সরকার। বিশেষ করে যেসব এলাকায় ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে গেছে কিংবা পানিতে অতিরিক্ত আর্সেনিকের উপস্থিতি রয়েছে, সেখানে নিরাপদ পানি নিশ্চিত করা একটি বড় চ্যালেঞ্জ।
এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর (DPHE) দেশজুড়ে সরকারি সহায়তায় গভীর নলকূপ বা ডিপ টিউবওয়েল স্থাপন করে আসছে। তবে অনেকেই জানেন না কীভাবে সঠিক নিয়মে এই সুবিধার জন্য আবেদন করতে হয়। ২০২৬ সালে এসে এই পুরো প্রক্রিয়াটি এখন অনেক বেশি ডিজিটাল ও সহজতর করা হয়েছে।
যেভাবে করবেন আবেদন: অনলাইন ও অফলাইন
বর্তমানে নাগরিকেরা ঘরে বসেই সরকারি সমন্বিত সেবা পোর্টাল ‘মাইগভ’ (myGov)-এর মাধ্যমে ডিপ টিউবওয়েলের জন্য আবেদন করতে পারছেন। আবেদনের মূল ধাপগুলো নিচে তুলে ধরা হলো:
১. পোর্টালে প্রবেশ ও রেজিস্ট্রেশন: প্রথমে ‘myGov’ মোবাইল অ্যাপ বা ওয়েবসাইটে প্রবেশ করে আপনার জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) ও সচল মোবাইল নম্বর দিয়ে একটি অ্যাকাউন্ট তৈরি করে নিতে হবে। ২. সেবা অনুসন্ধান: লগইন করার পর সার্চ বক্সে ‘গভীর নলকূপ’ বা ‘ডিপ টিউবওয়েল’ লিখে সার্চ করলেই সংশ্লিষ্ট আবেদন ফরমটি স্ক্রিনে চলে আসবে। ৩. তথ্য পূরণ: ফরমে আবেদনকারীর নাম, সঠিক ঠিকানা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড নম্বর এবং যেখানে টিউবওয়েলটি স্থাপন করা হবে সেই সম্ভাব্য স্থানের বিবরণ স্পষ্ট করে লিখতে হবে। এছাড়া ওই নলকূপের মাধ্যমে কতটি পরিবার উপকৃত হবে, সেই সংখ্যা উল্লেখ করা বাধ্যতামূলক।
জরুরি নোট: অনলাইন পোর্টাল ছাড়াও দেশের কিছু কিছু দুর্গম এলাকায় এখনো সরাসরি উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের অফিসে গিয়েও নির্দিষ্ট ফরমে আবেদন জমা দেওয়া যায়।
প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যা আগে থেকেই প্রস্তুত রাখবেন
আবেদন প্রক্রিয়াটি দ্রুত শেষ করতে এবং বাতিল হওয়া এড়াতে কিছু জরুরি নথি আগে থেকেই স্ক্যান বা ছবি তুলে কাছে রাখা প্রয়োজন:
-
আবেদনকারীর জাতীয় পরিচয়পত্রের (NID) পরিষ্কার কপি।
-
সাম্প্রতিক তোলা রঙিন পাসপোর্ট সাইজের ছবি।
-
স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান বা ওয়ার্ড মেম্বারের প্রত্যয়নপত্র/সুপারিশপত্র।
-
যে স্থানে টিউবওয়েল বসানো হবে, সেই জমির মালিকানার তথ্য ও সম্মতিপত্র।
আবেদন করলেই কি নলকূপ পাওয়া নিশ্চিত?
জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানান, আবেদন করলেই যে সবাই নলকূপ পাবেন, বিষয়টি তেমন নয়। সরকারি প্রকল্প ও বাজেটের সীমাবদ্ধতার কারণে একটি নির্দিষ্ট অগ্রাধিকার তালিকা মেনে এই বরাদ্দ দেওয়া হয়।
সাধারণত আর্সেনিক কবলিত এলাকা, পানির তীব্র সংকট রয়েছে এমন অঞ্চল, মসজিদ, মাদ্রাসা, স্কুল ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান এবং যেখানে একটিমাত্র নলকূপের মাধ্যমে অনেকগুলো দরিদ্র পরিবার উপকৃত হবে—সেসব স্থানকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়। আবেদন জমা পড়ার পর অধিদপ্তরের মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তারা সরজমিনে তদন্ত করে চূড়ান্ত অনুমোদনের সুপারিশ করেন।
ব্যয় এবং কিছু অতি প্রয়োজনীয় সতর্কতা
অনেকেরই ধারণা সরকারি ডিপ টিউবওয়েল সম্পূর্ণ বিনামূল্যে পাওয়া যায়। তবে মাঠ পর্যায়ের বাস্তব চিত্র ভিন্ন। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী, সমতল, পাহাড়ি বা উপকূলীয় অঞ্চলভেদে একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা (যা সুবিধাভোগীর অংশ বা চাঁদা হিসেবে পরিচিত) সরকারি চালানের মাধ্যমে ব্যাংকে জমা দিতে হয়।
এই নির্ধারিত চালানের বাইরে কোনো ধরনের অতিরিক্ত অর্থ লেনদেন না করার জন্য কঠোর নির্দেশনা রয়েছে। প্রশাসন থেকে বারবার সতর্ক করা হয়েছে যেন কোনো দালাল বা মধ্যস্বত্বভোগীর মাধ্যমে এই আবেদন না করা হয়। আবেদনের বর্তমান অবস্থা জানতে অনলাইন ট্র্যাক নম্বর ব্যবহার করুন অথবা যেকোনো তথ্যের জন্য সরকারি হেল্পলাইন ৩৩৩ বা স্থানীয় উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অফিসে যোগাযোগ করুন।
চলমান বার্তা ডেস্ক : 















