শিরোনাম :
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে জাতিসংঘ হাইকমিশনারের বৈঠক, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে জোর ঐশ্বরিয়া রাই ফিরছেন প্যারিসের মঞ্চে ময়মনসিংহে ছেলেকে জিম্মি করে মাকে দলবদ্ধ ধর্ষণ: অভিযুক্তদের বাড়িঘর ভাঙচুর ফার্মগেটের মসজিদ থেকে আটক ৫ জঙ্গি কারাগারে কালোটাকা ও মূল্যস্ফীতি ঠেকাতে ১০০০ টাকার নোট বাতিলের দাবিতে আইনি নোটিশ সরকারি হাসপাতালের সামনে ক্লিনিকের অনুমোদন নয়: স্বাস্থ্যমন্ত্রী ককটেল ফাটিয়ে সংকট তৈরি সম্ভব নয়, বললেন উপদেষ্টা জাহেদ প্রযুক্তি ও কারিগরি শিক্ষায় গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান রাষ্ট্রপতির তেলের পর নতুন চাপ বাসভাড়া কি.মি. এ বাড়ল ১৭ পয়সা জাতিসংঘ অধিবেশনে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক উপস্থিতি

বর্ষায় টাইফয়েডের ঝুঁকি বাড়ে, যেসব অভ্যাস বদলালে সংক্রমণ এড়ানো সম্ভব

বর্ষাকালে ডেঙ্গু, চিকুনগুনিয়া ও ম্যালেরিয়ার পাশাপাশি টাইফয়েডের ঝুঁকিও বেড়ে যায়। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দূষিত পানি ও খাবারের মাধ্যমে ছড়ানো এই ব্যাকটেরিয়াজনিত রোগ থেকে সুরক্ষিত থাকতে হলে ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা এবং নিরাপদ খাদ্যাভ্যাসের ওপর সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে।
টাইফয়েডের জন্য দায়ী সালমোনেলা টাইফি নামের ব্যাকটেরিয়া। বাংলাদেশে বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা, নিরাপদ পানির সংকট এবং খাদ্য দূষণের কারণে রোগটির সংক্রমণ বাড়তে দেখা যায়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) তথ্যমতে, দূষিত খাবার ও পানির মাধ্যমেই অধিকাংশ ক্ষেত্রে এই জীবাণী মানুষের শরীরে প্রবেশ করে।
চিকিৎসকদের ভাষ্য, টাইফয়েডে আক্রান্ত হলে কয়েক দিন ধরে উচ্চমাত্রার জ্বর থাকতে পারে। শরীরের তাপমাত্রা ১০৩ থেকে ১০৪ ডিগ্রি ফারেনহাইট পর্যন্ত উঠতে পারে। এর সঙ্গে তীব্র মাথাব্যথা, দুর্বলতা, শরীর ও গাঁটে ব্যথা, ডায়রিয়া বা কোষ্ঠকাঠিন্য এবং কখনও ত্বকে গোলাপি রঙের র‍্যাশ দেখা দিতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অপরিশোধিত পানি পান করা টাইফয়েডের অন্যতম প্রধান কারণ। তাই ফুটিয়ে বা পরিশোধিত পানি পান করা জরুরি। বাইরে বের হলে নিজের পানির বোতল সঙ্গে রাখা এবং নিয়মিত তা পরিষ্কার করার পরামর্শ দেওয়া হয়। রাস্তার শরবত, খোলা পানি কিংবা অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে তৈরি খাবার এড়িয়ে চলাও গুরুত্বপূর্ণ।
এ ছাড়া রান্নার আগে সবজি ও ফল ভালোভাবে ধুয়ে নেওয়া, কাঁচা সালাদ পরিষ্কার পানি দিয়ে ধোয়া এবং রান্নাঘর পরিচ্ছন্ন রাখা প্রয়োজন। খাওয়ার আগে ও টয়লেট ব্যবহারের পর অন্তত ২০ সেকেন্ড ধরে সাবান দিয়ে হাত ধোয়ার অভ্যাস সংক্রমণের ঝুঁকি অনেকটাই কমিয়ে দিতে পারে।
বাংলাদেশের জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা আরও বলছেন, শিশু, বয়স্ক এবং যাদের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা কম, তারা টাইফয়েডে বেশি ঝুঁকিতে থাকেন। তাই পরিবারের এসব সদস্যের খাবার ও পানির নিরাপত্তায় বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন। দেশে সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে টাইফয়েড শনাক্তের পরীক্ষা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী টিকার ব্যবস্থাও রয়েছে।
জ্বর তিন দিনের বেশি স্থায়ী হলে, তাপমাত্রা কমতে না চাইলে, তীব্র পেটের সমস্যা বা শরীরে র‍্যাশ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। নিজে থেকে অ্যান্টিবায়োটিক সেবন না করে পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে রোগ নিশ্চিত করে চিকিৎসা নিলে জটিলতার ঝুঁকি কমানো সম্ভব।
বর্ষাকালে সামান্য কিছু স্বাস্থ্যবিধি মেনে চললেই টাইফয়েডসহ পানিবাহিত অনেক সংক্রামক রোগের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

Share this news as a Photo Card

© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

জনপ্রিয় সংবাদ

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে জাতিসংঘ হাইকমিশনারের বৈঠক, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে জোর

সম্পাদক ও প্রকাশক

মোঃ মাহমুদুন্নবী জ্যোতি

অফিসঃ ২/২ আরকে মিশন রোড , ঢাকা।

ইমেলঃ chalomanbarta@yahoo.com, chalomanbarta@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১০৫৬৮৬৬, ০১৬৮১৯২৪০০০

জাতিসংঘ অধিবেশনে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক উপস্থিতি

২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
facebook.com/dailycholomanbarta
www.cholomanbarta.com

বর্ষায় টাইফয়েডের ঝুঁকি বাড়ে, যেসব অভ্যাস বদলালে সংক্রমণ এড়ানো সম্ভব

আপডেট সময় ০২:২৩:৫৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬

বর্ষাকালে ডেঙ্গু, চিকুনগুনিয়া ও ম্যালেরিয়ার পাশাপাশি টাইফয়েডের ঝুঁকিও বেড়ে যায়। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দূষিত পানি ও খাবারের মাধ্যমে ছড়ানো এই ব্যাকটেরিয়াজনিত রোগ থেকে সুরক্ষিত থাকতে হলে ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা এবং নিরাপদ খাদ্যাভ্যাসের ওপর সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে।
টাইফয়েডের জন্য দায়ী সালমোনেলা টাইফি নামের ব্যাকটেরিয়া। বাংলাদেশে বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা, নিরাপদ পানির সংকট এবং খাদ্য দূষণের কারণে রোগটির সংক্রমণ বাড়তে দেখা যায়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) তথ্যমতে, দূষিত খাবার ও পানির মাধ্যমেই অধিকাংশ ক্ষেত্রে এই জীবাণী মানুষের শরীরে প্রবেশ করে।
চিকিৎসকদের ভাষ্য, টাইফয়েডে আক্রান্ত হলে কয়েক দিন ধরে উচ্চমাত্রার জ্বর থাকতে পারে। শরীরের তাপমাত্রা ১০৩ থেকে ১০৪ ডিগ্রি ফারেনহাইট পর্যন্ত উঠতে পারে। এর সঙ্গে তীব্র মাথাব্যথা, দুর্বলতা, শরীর ও গাঁটে ব্যথা, ডায়রিয়া বা কোষ্ঠকাঠিন্য এবং কখনও ত্বকে গোলাপি রঙের র‍্যাশ দেখা দিতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অপরিশোধিত পানি পান করা টাইফয়েডের অন্যতম প্রধান কারণ। তাই ফুটিয়ে বা পরিশোধিত পানি পান করা জরুরি। বাইরে বের হলে নিজের পানির বোতল সঙ্গে রাখা এবং নিয়মিত তা পরিষ্কার করার পরামর্শ দেওয়া হয়। রাস্তার শরবত, খোলা পানি কিংবা অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে তৈরি খাবার এড়িয়ে চলাও গুরুত্বপূর্ণ।
এ ছাড়া রান্নার আগে সবজি ও ফল ভালোভাবে ধুয়ে নেওয়া, কাঁচা সালাদ পরিষ্কার পানি দিয়ে ধোয়া এবং রান্নাঘর পরিচ্ছন্ন রাখা প্রয়োজন। খাওয়ার আগে ও টয়লেট ব্যবহারের পর অন্তত ২০ সেকেন্ড ধরে সাবান দিয়ে হাত ধোয়ার অভ্যাস সংক্রমণের ঝুঁকি অনেকটাই কমিয়ে দিতে পারে।
বাংলাদেশের জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা আরও বলছেন, শিশু, বয়স্ক এবং যাদের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা কম, তারা টাইফয়েডে বেশি ঝুঁকিতে থাকেন। তাই পরিবারের এসব সদস্যের খাবার ও পানির নিরাপত্তায় বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন। দেশে সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে টাইফয়েড শনাক্তের পরীক্ষা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী টিকার ব্যবস্থাও রয়েছে।
জ্বর তিন দিনের বেশি স্থায়ী হলে, তাপমাত্রা কমতে না চাইলে, তীব্র পেটের সমস্যা বা শরীরে র‍্যাশ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। নিজে থেকে অ্যান্টিবায়োটিক সেবন না করে পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে রোগ নিশ্চিত করে চিকিৎসা নিলে জটিলতার ঝুঁকি কমানো সম্ভব।
বর্ষাকালে সামান্য কিছু স্বাস্থ্যবিধি মেনে চললেই টাইফয়েডসহ পানিবাহিত অনেক সংক্রামক রোগের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

Share this news as a Photo Card