সিল খোলার পর সব ওষুধ নিরাপদ থাকে না, কোনগুলো দ্রুত ফেলে দেবেন?

সিল খোলার পর কতদিন নিরাপদ থাকে ওষুধ? জেনে নিন কোনগুলো দ্রুত বদলে ফেলা উচিত
বাড়িতে প্রয়োজনের সময় কাজে লাগবে ভেবে অনেকেই সিরাপ, চোখের ড্রপ বা ইনসুলিনসহ বিভিন্ন ওষুধ দীর্ঘদিন সংরক্ষণ করে রাখেন। বেশির ভাগ মানুষই ওষুধের গায়ে লেখা মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ দেখে ব্যবহার করেন। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কিছু ওষুধের ক্ষেত্রে শুধু এক্সপায়ারি ডেট নয়, বোতল বা প্যাকেট খোলার দিনটিও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
ওষুধের সিল একবার খুলে গেলে তা বাতাস, আর্দ্রতা ও জীবাণুর সংস্পর্শে আসে। এতে ওষুধের কার্যকারিতা ধীরে ধীরে কমে যেতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে ব্যাকটেরিয়া বা ছত্রাকের সংক্রমণও ঘটতে পারে, যা ব্যবহারকারীর জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, কাশির সিরাপ, প্যারাসিটামল সিরাপ, ভিটামিন সিরাপসহ বেশির ভাগ তরল ওষুধ সিল খোলার পর এক মাসের বেশি ব্যবহার না করাই নিরাপদ। বোতলের গায়ে ভিন্ন নির্দেশনা থাকলে অবশ্য সেটিই অনুসরণ করতে হবে।
অ্যান্টিবায়োটিক সিরাপের ক্ষেত্রে সতর্কতা আরও বেশি। যেসব অ্যান্টিবায়োটিক গুঁড়ার সঙ্গে পানি মিশিয়ে তৈরি করতে হয়, সেগুলো সাধারণত ৭ থেকে ১৪ দিনের মধ্যে ব্যবহার শেষ করার পরামর্শ দেওয়া হয়। এরপর ওষুধ অবশিষ্ট থাকলেও তা ফেলে দেওয়াই নিরাপদ।
চোখের ড্রপও দীর্ঘদিন ব্যবহার করা উচিত নয়। অধিকাংশ আই ড্রপ সিল খোলার প্রায় ২৮ থেকে ৩০ দিনের মধ্যে পরিবর্তন করার পরামর্শ দেন চিকিৎসকেরা। কারণ, প্রতিবার ব্যবহারের সময় ড্রপারের মুখে জীবাণু লাগার ঝুঁকি থাকে।
ডায়াবেটিস রোগীদের ব্যবহৃত ইনসুলিন পেনও খোলার পর নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত কার্যকর থাকে। সাধারণভাবে এটি ঘরের স্বাভাবিক তাপমাত্রায় ২৮ দিন পর্যন্ত ব্যবহারযোগ্য, এরপর নতুন পেন ব্যবহার করা উচিত।
এ ছাড়া নাইট্রোগ্লিসারিন ট্যাবলেট এবং কিছু প্রিজারভেটিভবিহীন নাকের ড্রপ বা ন্যাজাল স্প্রেও সিল খোলার পর দ্রুত কার্যকারিতা হারাতে পারে। তাই এসব ওষুধ ব্যবহারের আগে প্যাকেটের নির্দেশনা ভালোভাবে পড়ে নেওয়া জরুরি।
বাংলাদেশে ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তর এবং চিকিৎসকেরাও পরামর্শ দেন, ওষুধ সবসময় ঠান্ডা, শুকনো ও আলো থেকে দূরে সংরক্ষণ করতে। রান্নাঘর বা বাথরুমের মতো আর্দ্র স্থানে ওষুধ রাখা উচিত নয়। একই সঙ্গে সিল খোলার তারিখ বোতলের গায়ে লিখে রাখলে কখন ওষুধ পরিবর্তন করতে হবে, তা সহজেই মনে রাখা যায়।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, ওষুধের কার্যকারিতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে শুধু মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ নয়, সিল খোলার পর কতদিন হয়েছে—সেদিকেও সমান গুরুত্ব দেওয়া উচিত।

Share this news as a Photo Card

© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

জনপ্রিয় সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক

মোঃ মাহমুদুন্নবী জ্যোতি

অফিসঃ ২/২ আরকে মিশন রোড , ঢাকা।

ইমেলঃ chalomanbarta@yahoo.com, chalomanbarta@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১০৫৬৮৬৬, ০১৬৮১৯২৪০০০

টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিক, তদন্তে হাইকোর্টে রিট

২৭ জুলাই ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
facebook.com/dailycholomanbarta
www.cholomanbarta.com

সিল খোলার পর সব ওষুধ নিরাপদ থাকে না, কোনগুলো দ্রুত ফেলে দেবেন?

আপডেট সময় ০৭:১৫:৩২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬

সিল খোলার পর কতদিন নিরাপদ থাকে ওষুধ? জেনে নিন কোনগুলো দ্রুত বদলে ফেলা উচিত
বাড়িতে প্রয়োজনের সময় কাজে লাগবে ভেবে অনেকেই সিরাপ, চোখের ড্রপ বা ইনসুলিনসহ বিভিন্ন ওষুধ দীর্ঘদিন সংরক্ষণ করে রাখেন। বেশির ভাগ মানুষই ওষুধের গায়ে লেখা মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ দেখে ব্যবহার করেন। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কিছু ওষুধের ক্ষেত্রে শুধু এক্সপায়ারি ডেট নয়, বোতল বা প্যাকেট খোলার দিনটিও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
ওষুধের সিল একবার খুলে গেলে তা বাতাস, আর্দ্রতা ও জীবাণুর সংস্পর্শে আসে। এতে ওষুধের কার্যকারিতা ধীরে ধীরে কমে যেতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে ব্যাকটেরিয়া বা ছত্রাকের সংক্রমণও ঘটতে পারে, যা ব্যবহারকারীর জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, কাশির সিরাপ, প্যারাসিটামল সিরাপ, ভিটামিন সিরাপসহ বেশির ভাগ তরল ওষুধ সিল খোলার পর এক মাসের বেশি ব্যবহার না করাই নিরাপদ। বোতলের গায়ে ভিন্ন নির্দেশনা থাকলে অবশ্য সেটিই অনুসরণ করতে হবে।
অ্যান্টিবায়োটিক সিরাপের ক্ষেত্রে সতর্কতা আরও বেশি। যেসব অ্যান্টিবায়োটিক গুঁড়ার সঙ্গে পানি মিশিয়ে তৈরি করতে হয়, সেগুলো সাধারণত ৭ থেকে ১৪ দিনের মধ্যে ব্যবহার শেষ করার পরামর্শ দেওয়া হয়। এরপর ওষুধ অবশিষ্ট থাকলেও তা ফেলে দেওয়াই নিরাপদ।
চোখের ড্রপও দীর্ঘদিন ব্যবহার করা উচিত নয়। অধিকাংশ আই ড্রপ সিল খোলার প্রায় ২৮ থেকে ৩০ দিনের মধ্যে পরিবর্তন করার পরামর্শ দেন চিকিৎসকেরা। কারণ, প্রতিবার ব্যবহারের সময় ড্রপারের মুখে জীবাণু লাগার ঝুঁকি থাকে।
ডায়াবেটিস রোগীদের ব্যবহৃত ইনসুলিন পেনও খোলার পর নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত কার্যকর থাকে। সাধারণভাবে এটি ঘরের স্বাভাবিক তাপমাত্রায় ২৮ দিন পর্যন্ত ব্যবহারযোগ্য, এরপর নতুন পেন ব্যবহার করা উচিত।
এ ছাড়া নাইট্রোগ্লিসারিন ট্যাবলেট এবং কিছু প্রিজারভেটিভবিহীন নাকের ড্রপ বা ন্যাজাল স্প্রেও সিল খোলার পর দ্রুত কার্যকারিতা হারাতে পারে। তাই এসব ওষুধ ব্যবহারের আগে প্যাকেটের নির্দেশনা ভালোভাবে পড়ে নেওয়া জরুরি।
বাংলাদেশে ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তর এবং চিকিৎসকেরাও পরামর্শ দেন, ওষুধ সবসময় ঠান্ডা, শুকনো ও আলো থেকে দূরে সংরক্ষণ করতে। রান্নাঘর বা বাথরুমের মতো আর্দ্র স্থানে ওষুধ রাখা উচিত নয়। একই সঙ্গে সিল খোলার তারিখ বোতলের গায়ে লিখে রাখলে কখন ওষুধ পরিবর্তন করতে হবে, তা সহজেই মনে রাখা যায়।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, ওষুধের কার্যকারিতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে শুধু মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ নয়, সিল খোলার পর কতদিন হয়েছে—সেদিকেও সমান গুরুত্ব দেওয়া উচিত।

Share this news as a Photo Card