গ্যাস সংকটে বিপর্যস্ত দেশ, সমাধান কবে মিলবে?

দেশের অর্থনীতি ও দৈনন্দিন জীবনের প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্র যে জ্বালানির ওপর নির্ভরশীল, সেই প্রাকৃতিক গ্যাসের সরবরাহ এখন তলানিতে। শিল্পকারখানা থেকে শুরু করে বিদ্যুৎকেন্দ্র, পরিবহন খাত ও সাধারণ গৃহস্থালি—সবখানেই এখন গ্যাসের জন্য হাহাকার। পেট্রোবাংলার হিসাবে, চাহিদার তুলনায় বর্তমানে সরবরাহ হচ্ছে মাত্র ৫৬ শতাংশ গ্যাস।
সংকটের মূল কারণ কক্সবাজারের মহেশখালীতে থাকা দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনালের একটির যান্ত্রিক ত্রুটি। মার্কিন প্রতিষ্ঠান এক্সিলারেট এনার্জি পরিচালিত ওই টার্মিনালে আগুন লাগার পর গত সপ্তাহ থেকে সেখান থেকে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। এর ফলে যেখানে প্রতিদিন ১০৫ কোটি ঘনফুট পর্যন্ত গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হতো, তা এখন নেমে এসেছে ৫০ কোটি ঘনফুটের নিচে। সব মিলিয়ে দেশের দৈনিক গ্যাস সরবরাহ প্রায় ২৬৫ কোটি ঘনফুট থেকে কমে ২১৫ কোটি ঘনফুটের নিচে নেমেছে, যেখানে দৈনিক চাহিদা প্রায় ৩৮০ কোটি ঘনফুট।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সমস্যাটি কেবল একটি টার্মিনালের বিভ্রাটে সীমাবদ্ধ নয়, বরং এর পেছনে রয়েছে জ্বালানি খাতের দীর্ঘদিনের কাঠামোগত দুর্বলতা। গত ছয় বছরে দেশীয় গ্যাসক্ষেত্রগুলো থেকে উৎপাদন কমেছে প্রায় ৯০০ মিলিয়ন ঘনফুট, অথচ নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধানে আশানুরূপ অগ্রগতি হয়নি। ফলে আমদানি করা এলএনজির ওপর নির্ভরতা বেড়েছে বহুগুণ, আর বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় একটি টার্মিনাল বিকল হতেই পুরো ব্যবস্থা ভেঙে পড়ছে।
সরকার অবশ্য আশাবাদী, আগামী এক-দুই সপ্তাহের মধ্যে পরিস্থিতির উন্নতি হবে। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত জানিয়েছেন, সংকট নিরসনে প্রধানমন্ত্রী মালয়েশিয়ার সরকারের সহায়তা চেয়েছেন। তার ভাষ্যমতে, এক্সিলারেট এনার্জি আগামী সপ্তাহের শুরুতে আংশিক এবং পরের সপ্তাহের শেষে পূর্ণমাত্রায় সরবরাহ স্বাভাবিক করার আশ্বাস দিয়েছে।
এদিকে ভোগান্তির চিত্র সবচেয়ে স্পষ্ট রাজধানীর আবাসিক এলাকা ও সিএনজি স্টেশনগুলোতে। মোহাম্মদপুর, ধানমন্ডি, মিরপুর, বাড্ডা, রামপুরার মতো এলাকায় দিনের অধিকাংশ সময় চুলা জ্বলছে না। বাধ্য হয়ে অনেকে বৈদ্যুতিক চুলা বা ইন্ডাকশন কুকারের দ্বারস্থ হচ্ছেন, কেউবা রাত গভীর হলে সামান্য চাপ পেয়ে পরদিনের রান্না সেরে রাখছেন। নিম্ন আয়ের অনেক পরিবার আবার ফিরে যাচ্ছেন মাটির চুলা আর লাকড়ির রান্নায়।
পরিবহন খাতেও সংকটের ছাপ প্রকট। রাজধানীর সিএনজি ফিলিং স্টেশনগুলোর সামনে যানবাহনের দীর্ঘ সারি, ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও চাহিদামতো গ্যাস মিলছে না অনেক চালকের। কর্মঘণ্টা নষ্ট হওয়ায় আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও রাইড শেয়ারিং চালকরা। কিছু পাম্প চাপ না থাকায় বিক্রিই বন্ধ রেখেছে।
জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, তাৎক্ষণিক সমাধানের পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদে নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধান ও বিকল্প সরবরাহ ব্যবস্থা গড়ে না তুললে এ ধরনের সংকট আরও ফিরে আসতে পারে।

Share this news as a Photo Card

© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

জনপ্রিয় সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক

মোঃ মাহমুদুন্নবী জ্যোতি

অফিসঃ ২/২ আরকে মিশন রোড , ঢাকা।

ইমেলঃ chalomanbarta@yahoo.com, chalomanbarta@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১০৫৬৮৬৬, ০১৬৮১৯২৪০০০

শিশুদের সঠিক গড়ে ওঠার ওপর গুরুত্ব দিলেন প্রধানমন্ত্রী

২৮ জুলাই ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
facebook.com/dailycholomanbarta
www.cholomanbarta.com

গ্যাস সংকটে বিপর্যস্ত দেশ, সমাধান কবে মিলবে?

আপডেট সময় ০৬:৪৯:৪১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬

দেশের অর্থনীতি ও দৈনন্দিন জীবনের প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্র যে জ্বালানির ওপর নির্ভরশীল, সেই প্রাকৃতিক গ্যাসের সরবরাহ এখন তলানিতে। শিল্পকারখানা থেকে শুরু করে বিদ্যুৎকেন্দ্র, পরিবহন খাত ও সাধারণ গৃহস্থালি—সবখানেই এখন গ্যাসের জন্য হাহাকার। পেট্রোবাংলার হিসাবে, চাহিদার তুলনায় বর্তমানে সরবরাহ হচ্ছে মাত্র ৫৬ শতাংশ গ্যাস।
সংকটের মূল কারণ কক্সবাজারের মহেশখালীতে থাকা দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনালের একটির যান্ত্রিক ত্রুটি। মার্কিন প্রতিষ্ঠান এক্সিলারেট এনার্জি পরিচালিত ওই টার্মিনালে আগুন লাগার পর গত সপ্তাহ থেকে সেখান থেকে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। এর ফলে যেখানে প্রতিদিন ১০৫ কোটি ঘনফুট পর্যন্ত গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হতো, তা এখন নেমে এসেছে ৫০ কোটি ঘনফুটের নিচে। সব মিলিয়ে দেশের দৈনিক গ্যাস সরবরাহ প্রায় ২৬৫ কোটি ঘনফুট থেকে কমে ২১৫ কোটি ঘনফুটের নিচে নেমেছে, যেখানে দৈনিক চাহিদা প্রায় ৩৮০ কোটি ঘনফুট।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সমস্যাটি কেবল একটি টার্মিনালের বিভ্রাটে সীমাবদ্ধ নয়, বরং এর পেছনে রয়েছে জ্বালানি খাতের দীর্ঘদিনের কাঠামোগত দুর্বলতা। গত ছয় বছরে দেশীয় গ্যাসক্ষেত্রগুলো থেকে উৎপাদন কমেছে প্রায় ৯০০ মিলিয়ন ঘনফুট, অথচ নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধানে আশানুরূপ অগ্রগতি হয়নি। ফলে আমদানি করা এলএনজির ওপর নির্ভরতা বেড়েছে বহুগুণ, আর বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় একটি টার্মিনাল বিকল হতেই পুরো ব্যবস্থা ভেঙে পড়ছে।
সরকার অবশ্য আশাবাদী, আগামী এক-দুই সপ্তাহের মধ্যে পরিস্থিতির উন্নতি হবে। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত জানিয়েছেন, সংকট নিরসনে প্রধানমন্ত্রী মালয়েশিয়ার সরকারের সহায়তা চেয়েছেন। তার ভাষ্যমতে, এক্সিলারেট এনার্জি আগামী সপ্তাহের শুরুতে আংশিক এবং পরের সপ্তাহের শেষে পূর্ণমাত্রায় সরবরাহ স্বাভাবিক করার আশ্বাস দিয়েছে।
এদিকে ভোগান্তির চিত্র সবচেয়ে স্পষ্ট রাজধানীর আবাসিক এলাকা ও সিএনজি স্টেশনগুলোতে। মোহাম্মদপুর, ধানমন্ডি, মিরপুর, বাড্ডা, রামপুরার মতো এলাকায় দিনের অধিকাংশ সময় চুলা জ্বলছে না। বাধ্য হয়ে অনেকে বৈদ্যুতিক চুলা বা ইন্ডাকশন কুকারের দ্বারস্থ হচ্ছেন, কেউবা রাত গভীর হলে সামান্য চাপ পেয়ে পরদিনের রান্না সেরে রাখছেন। নিম্ন আয়ের অনেক পরিবার আবার ফিরে যাচ্ছেন মাটির চুলা আর লাকড়ির রান্নায়।
পরিবহন খাতেও সংকটের ছাপ প্রকট। রাজধানীর সিএনজি ফিলিং স্টেশনগুলোর সামনে যানবাহনের দীর্ঘ সারি, ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও চাহিদামতো গ্যাস মিলছে না অনেক চালকের। কর্মঘণ্টা নষ্ট হওয়ায় আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও রাইড শেয়ারিং চালকরা। কিছু পাম্প চাপ না থাকায় বিক্রিই বন্ধ রেখেছে।
জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, তাৎক্ষণিক সমাধানের পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদে নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধান ও বিকল্প সরবরাহ ব্যবস্থা গড়ে না তুললে এ ধরনের সংকট আরও ফিরে আসতে পারে।

Share this news as a Photo Card