শিরোনাম :
মার্কিন শুল্ক চুক্তি নিয়ে স্বচ্ছতা ও খোলামেলা আলোচনা চান ব্যবসায়ীরা মদিনা থেকে জেদ্দা যাওয়ার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় ৭ বাংলাদেশির মৃত্যু খুলনায় ডায়াগনস্টিক সেন্টারে চাইনিজ কুড়াল হাতে পাঁচ যুবকের হামলা ২৪২ রানে অপরাজিত সেঞ্চুরিতে ইতিহাস গড়লেন হৃদয় শিশুদের শিক্ষার মান বাড়াতে ৩০ কোটি ডলার দিচ্ছে বিশ্বব্যাংক অভিষেকের বাড়িতে রাত ২টায় সশস্ত্র হামলার অভিযোগ, উড়িয়ে দিল বিজেপি গ্রাম পুলিশের বেতন বাড়ল ৩ হাজার টাকা, মিলবে মোবাইল ভাতাও ট্রাকের চাপায় বাবা মা সহ নিহত আট মাসের শিশু ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে একাই লড়ছেন তাওহীদ হৃদয়, ১৫৪ রানে অপরাজিত দল, ধর্ম ও বর্ণ নির্বিশেষে পরিচয় একটাই বাংলাদেশি: প্রধানমন্ত্রী

মার্কিন শুল্ক চুক্তি নিয়ে স্বচ্ছতা ও খোলামেলা আলোচনা চান ব্যবসায়ীরা

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে হওয়া পারস্পরিক বাণিজ্যচুক্তি (এআরটি) কীভাবে কাজে লাগানো হবে, তা বাংলাদেশকেই ঠিক করতে হবে। তাই চুক্তিতে কী আছে এবং তার অর্থ কী, সে বিষয়ে পূর্ণ স্বচ্ছতা থাকা উচিত। রাজধানীতে অনুষ্ঠিত এক সেমিনারে এমন মত দিয়েছেন ফুটওয়্যার লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাক্সেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএইএ) সভাপতি সৈয়দ নাসিম মঞ্জুর।

শনিবার ঢাকার ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলে ‘বাংলাদেশ–যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্যের নতুন সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জ’ শীর্ষক এই সেমিনার হয়। আমেরিকান চেম্বার অব কমার্স ইন বাংলাদেশ (অ্যামচেম) ও ঢাকার যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের যৌথ আয়োজনে তিন দিনব্যাপী ইউএস ট্রেড শোর শেষ দিনে এটি অনুষ্ঠিত হয়।

খোলামেলা আলোচনার তাগিদ

সৈয়দ নাসিম মঞ্জুর বলেন, চুক্তির সুযোগ আর ঝুঁকি কোথায়, তা না বুঝলে এর সুফল পুরোপুরি পাওয়া যাবে না। তাঁর ভাষায়, বিষয়টি নিষিদ্ধ আলোচনার তালিকায় থাকা উচিত নয়। চুক্তিতে কী আছে, এটি বাংলাদেশকে কীভাবে প্রভাবিত করছে এবং কোন দিকে নিয়ে যাচ্ছে, তা নিয়ে কথা বলা দরকার।

তিনি আরও বলেন, কোনো একটি দেশের সঙ্গে নির্দিষ্ট মাত্রার চুক্তি হলে সেটি অন্য দেশের জন্যও মানদণ্ড হয়ে দাঁড়ায়। তারাও তখন একই ধরনের সুবিধা দাবি করে। চুক্তিটি প্রবৃদ্ধির বড় চালিকাশক্তি হতে পারে, আবার কমপ্লায়েন্স ও ট্রেসেবিলিটির (সরবরাহ শৃঙ্খলের সন্ধানযোগ্যতা) জন্য বাড়তি খরচও আছে। এ জন্য প্রস্তুতি দরকার।

যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ককাঠামো ভালোভাবে বিশ্লেষণের পরামর্শও দেন তিনি। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে কিছু আইনি পরামর্শক প্রতিষ্ঠান আছে, যারা পণ্যে সামান্য পরিবর্তন এনে শুল্ক ৩৭ শতাংশ থেকে ৭ শতাংশে নামিয়ে আনার পথ বাতলে দেয়।

এলডিসি উত্তরণের সঙ্গে সম্পর্ক

সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মাননীয় ফেলো ফাহমিদা খাতুন মার্কিন শুল্ক চুক্তির বাস্তবায়ন ও স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উত্তরণকে একে অপরের পরিপূরক বলে মনে করেন। তাঁর মতে, চুক্তির সুবিধা পেতে হলে কমপ্লায়েন্স নিশ্চিত করতে এবং দক্ষতা ও উৎপাদনশীলতা বাড়াতে হবে। এলডিসি-পরবর্তী বাস্তবতাতেও একই দাবি থাকবে।

ক্রেতা বাড়ছে, তবে আলোচনা কম

ঢাকা চেম্বারের সাবেক সভাপতি ও শাশা ডেনিমসের এমডি শামস মাহমুদ জানান, প্রায় এক বছর আগে চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। অথচ এর সুফল রপ্তানিকারকদের কাছে কোন প্রক্রিয়ায় পৌঁছাবে, তা নিয়ে আলোচনা খুব কম। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ও রপ্তানিকারকদের সঙ্গে এ নিয়ে কথা বলছে না বলে তাঁর অভিযোগ।

তবে চুক্তির কারণে অনেক মার্কিন ক্রেতা এখন বাংলাদেশে আসছেন বলে জানান তিনি। এসব ক্রেতা আগে সাধারণত এখানে আসতেন না। শামস মাহমুদের তথ্যমতে, যুক্তরাষ্ট্রের কটনে তৈরি কাপড় যাচ্ছে পাকিস্তানে, আর সেই কাপড়ের পোশাক সেখান থেকে যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি হচ্ছে। এতে বাংলাদেশের মতো সরবরাহকারীর সামনে নতুন পথ খুলেছে।

কটন প্ল্যান ও অস্পষ্টতা

কটন ইউএসএর কান্ট্রি রিপ্রেজেন্টেটিভ আলী আরসালান জানান, যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি সেক্রেটারি ব্রুক রলিন্স সম্প্রতি ‘গ্রেট আমেরিকান কটন প্ল্যান’-এর অংশ হিসেবে বিশেষভাবে বাংলাদেশের নাম উল্লেখ করেছেন। সেখানে পোশাকে মার্কিন তুলা ব্যবহারের ভিত্তিতে সম্পূর্ণ শুল্ক ছাড়ের কথা বলা হয়েছে। তবে ব্যবস্থাটি কীভাবে কাজ করবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।

সেমিনারে সঞ্চালকের দায়িত্বে ছিলেন এইচএসবিসি বাংলাদেশের সিইও মাহবুব উর রহমান। স্বাগত বক্তব্য দেন অ্যামচেম সভাপতি সৈয়দ মোহাম্মদ কামাল। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন মেটলাইফ বাংলাদেশের সিইও আলা উদ্দিন আহমদ।

Share this news as a Photo Card

© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

জনপ্রিয় সংবাদ

রাজশাহীর বাঘা মাজারের গ্রিল ও সিন্ধুকের তালা ভেঙ্গে টাকা চুরি

সম্পাদক ও প্রকাশক

মোঃ মাহমুদুন্নবী জ্যোতি

অফিসঃ ২/২ আরকে মিশন রোড , ঢাকা।

ইমেলঃ chalomanbarta@yahoo.com, chalomanbarta@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১০৫৬৮৬৬, ০১৬৮১৯২৪০০০

দল, ধর্ম ও বর্ণ নির্বিশেষে পরিচয় একটাই বাংলাদেশি: প্রধানমন্ত্রী

০৭ নভেম্বর ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
facebook.com/dailycholomanbarta
www.cholomanbarta.com

মার্কিন শুল্ক চুক্তি নিয়ে স্বচ্ছতা ও খোলামেলা আলোচনা চান ব্যবসায়ীরা

আপডেট সময় ০৭:৫১:১১ অপরাহ্ন, শনিবার, ৭ নভেম্বর ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে হওয়া পারস্পরিক বাণিজ্যচুক্তি (এআরটি) কীভাবে কাজে লাগানো হবে, তা বাংলাদেশকেই ঠিক করতে হবে। তাই চুক্তিতে কী আছে এবং তার অর্থ কী, সে বিষয়ে পূর্ণ স্বচ্ছতা থাকা উচিত। রাজধানীতে অনুষ্ঠিত এক সেমিনারে এমন মত দিয়েছেন ফুটওয়্যার লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাক্সেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএইএ) সভাপতি সৈয়দ নাসিম মঞ্জুর।

শনিবার ঢাকার ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলে ‘বাংলাদেশ–যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্যের নতুন সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জ’ শীর্ষক এই সেমিনার হয়। আমেরিকান চেম্বার অব কমার্স ইন বাংলাদেশ (অ্যামচেম) ও ঢাকার যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের যৌথ আয়োজনে তিন দিনব্যাপী ইউএস ট্রেড শোর শেষ দিনে এটি অনুষ্ঠিত হয়।

খোলামেলা আলোচনার তাগিদ

সৈয়দ নাসিম মঞ্জুর বলেন, চুক্তির সুযোগ আর ঝুঁকি কোথায়, তা না বুঝলে এর সুফল পুরোপুরি পাওয়া যাবে না। তাঁর ভাষায়, বিষয়টি নিষিদ্ধ আলোচনার তালিকায় থাকা উচিত নয়। চুক্তিতে কী আছে, এটি বাংলাদেশকে কীভাবে প্রভাবিত করছে এবং কোন দিকে নিয়ে যাচ্ছে, তা নিয়ে কথা বলা দরকার।

তিনি আরও বলেন, কোনো একটি দেশের সঙ্গে নির্দিষ্ট মাত্রার চুক্তি হলে সেটি অন্য দেশের জন্যও মানদণ্ড হয়ে দাঁড়ায়। তারাও তখন একই ধরনের সুবিধা দাবি করে। চুক্তিটি প্রবৃদ্ধির বড় চালিকাশক্তি হতে পারে, আবার কমপ্লায়েন্স ও ট্রেসেবিলিটির (সরবরাহ শৃঙ্খলের সন্ধানযোগ্যতা) জন্য বাড়তি খরচও আছে। এ জন্য প্রস্তুতি দরকার।

যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ককাঠামো ভালোভাবে বিশ্লেষণের পরামর্শও দেন তিনি। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে কিছু আইনি পরামর্শক প্রতিষ্ঠান আছে, যারা পণ্যে সামান্য পরিবর্তন এনে শুল্ক ৩৭ শতাংশ থেকে ৭ শতাংশে নামিয়ে আনার পথ বাতলে দেয়।

এলডিসি উত্তরণের সঙ্গে সম্পর্ক

সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মাননীয় ফেলো ফাহমিদা খাতুন মার্কিন শুল্ক চুক্তির বাস্তবায়ন ও স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উত্তরণকে একে অপরের পরিপূরক বলে মনে করেন। তাঁর মতে, চুক্তির সুবিধা পেতে হলে কমপ্লায়েন্স নিশ্চিত করতে এবং দক্ষতা ও উৎপাদনশীলতা বাড়াতে হবে। এলডিসি-পরবর্তী বাস্তবতাতেও একই দাবি থাকবে।

ক্রেতা বাড়ছে, তবে আলোচনা কম

ঢাকা চেম্বারের সাবেক সভাপতি ও শাশা ডেনিমসের এমডি শামস মাহমুদ জানান, প্রায় এক বছর আগে চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। অথচ এর সুফল রপ্তানিকারকদের কাছে কোন প্রক্রিয়ায় পৌঁছাবে, তা নিয়ে আলোচনা খুব কম। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ও রপ্তানিকারকদের সঙ্গে এ নিয়ে কথা বলছে না বলে তাঁর অভিযোগ।

তবে চুক্তির কারণে অনেক মার্কিন ক্রেতা এখন বাংলাদেশে আসছেন বলে জানান তিনি। এসব ক্রেতা আগে সাধারণত এখানে আসতেন না। শামস মাহমুদের তথ্যমতে, যুক্তরাষ্ট্রের কটনে তৈরি কাপড় যাচ্ছে পাকিস্তানে, আর সেই কাপড়ের পোশাক সেখান থেকে যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি হচ্ছে। এতে বাংলাদেশের মতো সরবরাহকারীর সামনে নতুন পথ খুলেছে।

কটন প্ল্যান ও অস্পষ্টতা

কটন ইউএসএর কান্ট্রি রিপ্রেজেন্টেটিভ আলী আরসালান জানান, যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি সেক্রেটারি ব্রুক রলিন্স সম্প্রতি ‘গ্রেট আমেরিকান কটন প্ল্যান’-এর অংশ হিসেবে বিশেষভাবে বাংলাদেশের নাম উল্লেখ করেছেন। সেখানে পোশাকে মার্কিন তুলা ব্যবহারের ভিত্তিতে সম্পূর্ণ শুল্ক ছাড়ের কথা বলা হয়েছে। তবে ব্যবস্থাটি কীভাবে কাজ করবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।

সেমিনারে সঞ্চালকের দায়িত্বে ছিলেন এইচএসবিসি বাংলাদেশের সিইও মাহবুব উর রহমান। স্বাগত বক্তব্য দেন অ্যামচেম সভাপতি সৈয়দ মোহাম্মদ কামাল। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন মেটলাইফ বাংলাদেশের সিইও আলা উদ্দিন আহমদ।

Share this news as a Photo Card