শিরোনাম :
মার্কিন শুল্ক চুক্তি নিয়ে স্বচ্ছতা ও খোলামেলা আলোচনা চান ব্যবসায়ীরা মদিনা থেকে জেদ্দা যাওয়ার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় ৭ বাংলাদেশির মৃত্যু খুলনায় ডায়াগনস্টিক সেন্টারে চাইনিজ কুড়াল হাতে পাঁচ যুবকের হামলা ২৪২ রানে অপরাজিত সেঞ্চুরিতে ইতিহাস গড়লেন হৃদয় শিশুদের শিক্ষার মান বাড়াতে ৩০ কোটি ডলার দিচ্ছে বিশ্বব্যাংক অভিষেকের বাড়িতে রাত ২টায় সশস্ত্র হামলার অভিযোগ, উড়িয়ে দিল বিজেপি গ্রাম পুলিশের বেতন বাড়ল ৩ হাজার টাকা, মিলবে মোবাইল ভাতাও ট্রাকের চাপায় বাবা মা সহ নিহত আট মাসের শিশু ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে একাই লড়ছেন তাওহীদ হৃদয়, ১৫৪ রানে অপরাজিত দল, ধর্ম ও বর্ণ নির্বিশেষে পরিচয় একটাই বাংলাদেশি: প্রধানমন্ত্রী

রাজশাহীর বাঘা মাজারের গ্রিল ও সিন্ধুকের তালা ভেঙ্গে টাকা চুরি

রাজশাহীর বাঘায় ঐতিহ্যবাহী হজরত আব্দুল হামিদ দানিশ মন্দের (রহ.) মাজারে প্রতিদিন ভক্তদের দেওয়া নজরানা ও মানতের টাকা চুরি হয়েছে। শনিবার (৬ নভেম্বর) রাতে মাজারের কবরের গ্রিল ও সিন্ধুকের তালা ভেঙ্গে এই টাকা চুরির ঘটনা ঘটেছে।

জানা গেছে, মাজারের ভেতরে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে বিপুল পরিমাণ কাগজের নোট। ছাদঢালা মাজারটি চারদিক থেকে নেট দিয়ে ঘেরার ভেতরে ৫ টাকা, ১০ টাকা, ২০ টাকা, ৫০ টাকা, ১০০, ৫০০ টাকা, ১ হাজার টাকার নোটের স্তূপ জমে আছে। পাশে সিন্ধুক ও দানবাক্স রয়েছে। এগুলো ভেঙ্গে চুরি করে নিয়ে গেছে চোরেরা।

ওয়াক্ফ এস্টেট উপদেষ্টা কমিটি সূত্রে জানা গেছে, দানবাক্স ও মাজারের ভেতরের টাকা উত্তোলনের জন্য যৌথ হিসাবের ব্যবস্থা রয়েছে। এর চাবি থাকে কমিটির সহ-সভাপতি ও সদস্য সচিবের কাছে। ফলে এককভাবে কেউ ইচ্ছামতো তা খুলতে পারে না। ৬ মাস আগে দানবাক্স থেকে ৫৭ হাজার ৪১ টাকা এবং মাজারের ভেতর থেকে ৭১ হাজার ৫৩ টাকা সংগ্রহ করা হয়েছিল। বিশেষ দিন বা ওরস মৌসুমে এর পরিমাণ আরও বেড়ে যায়।

এ বিষয়ে বাজুবাঘা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান খন্দকার মানোয়ারুল ইসলাম বলেন, মাজারের ভেতরে বর্তমানে যে পরিমাণ টাকা জমে আছে, তা গণনা করে মাজারের উন্নয়ন কাজে ব্যবহার করা হয়। মাজারের আয়-ব্যয় নিয়ম অনুযায়ী টাকা সংগ্রহ করে ব্যাংকে জমা দেওয়া হয়।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও ওয়াক্ফ কমিটির সহ-সভাপতি তকী ফয়সাল তালুকদার বলেন, মাজারে দান করে মানুষ মানসিক শান্তি পাই। মানত পূরণ হওয়ায় সামর্থ্য অনুযায়ী দান করে। এই টাকা রাতের আধারে কে বা কারা গ্রিল ও তালা ভেঙ্গে চুরি করে নিয়ে গেছে। চুরির বিষয়ে জেলা প্রশাসককে অবগত করা হয়েছে। এছাড়া তদন্ত সাপেক্ষো চুরির সাথে জড়িতদের আইনের আওতায় আনার জন্য ওসিকে নিদেশ দেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে ওয়াক্ফ এস্টেটের প্রধান খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম (রইশ) বলেন, সংগৃহীত অর্থ মাজারের রক্ষণাবেক্ষণ, এতিমদের সহায়তা এবং দরিদ্র শিক্ষার্থীদের বৃত্তি হিসেবে ব্যয় করা হয়। নিয়মিত হিসাব নিরীক্ষার মাধ্যমে ব্যাংকে জমা দেওয়া হয়।

বাঘা থানার ওসি সেরাজুল হক বলেন, এ বিষয়ে একটি অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উল্লেখ্য, হজরত আব্দুল হামিদ দানিশ মন্দ (রহ.) ও তার পিতা হজরত শাহ মোয়াজ্জেম (রহ.) এ অঞ্চলের প্রখ্যাত সুফি সাধক ছিলেন। প্রায় পাঁচ শতাব্দী আগে তারা ইসলাম প্রচার ও মানবসেবায় আত্মনিয়োগ করেন। বর্তমানে তাদের মাজার বাঘার অন্যতম ধর্মীয় ও পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত।

Share this news as a Photo Card

© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

জনপ্রিয় সংবাদ

রাজশাহীর বাঘা মাজারের গ্রিল ও সিন্ধুকের তালা ভেঙ্গে টাকা চুরি

সম্পাদক ও প্রকাশক

মোঃ মাহমুদুন্নবী জ্যোতি

অফিসঃ ২/২ আরকে মিশন রোড , ঢাকা।

ইমেলঃ chalomanbarta@yahoo.com, chalomanbarta@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১০৫৬৮৬৬, ০১৬৮১৯২৪০০০

দল, ধর্ম ও বর্ণ নির্বিশেষে পরিচয় একটাই বাংলাদেশি: প্রধানমন্ত্রী

০৭ নভেম্বর ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
facebook.com/dailycholomanbarta
www.cholomanbarta.com

রাজশাহীর বাঘা মাজারের গ্রিল ও সিন্ধুকের তালা ভেঙ্গে টাকা চুরি

আপডেট সময় ০৭:৫৫:৩৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ৭ নভেম্বর ২০২৬

রাজশাহীর বাঘায় ঐতিহ্যবাহী হজরত আব্দুল হামিদ দানিশ মন্দের (রহ.) মাজারে প্রতিদিন ভক্তদের দেওয়া নজরানা ও মানতের টাকা চুরি হয়েছে। শনিবার (৬ নভেম্বর) রাতে মাজারের কবরের গ্রিল ও সিন্ধুকের তালা ভেঙ্গে এই টাকা চুরির ঘটনা ঘটেছে।

জানা গেছে, মাজারের ভেতরে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে বিপুল পরিমাণ কাগজের নোট। ছাদঢালা মাজারটি চারদিক থেকে নেট দিয়ে ঘেরার ভেতরে ৫ টাকা, ১০ টাকা, ২০ টাকা, ৫০ টাকা, ১০০, ৫০০ টাকা, ১ হাজার টাকার নোটের স্তূপ জমে আছে। পাশে সিন্ধুক ও দানবাক্স রয়েছে। এগুলো ভেঙ্গে চুরি করে নিয়ে গেছে চোরেরা।

ওয়াক্ফ এস্টেট উপদেষ্টা কমিটি সূত্রে জানা গেছে, দানবাক্স ও মাজারের ভেতরের টাকা উত্তোলনের জন্য যৌথ হিসাবের ব্যবস্থা রয়েছে। এর চাবি থাকে কমিটির সহ-সভাপতি ও সদস্য সচিবের কাছে। ফলে এককভাবে কেউ ইচ্ছামতো তা খুলতে পারে না। ৬ মাস আগে দানবাক্স থেকে ৫৭ হাজার ৪১ টাকা এবং মাজারের ভেতর থেকে ৭১ হাজার ৫৩ টাকা সংগ্রহ করা হয়েছিল। বিশেষ দিন বা ওরস মৌসুমে এর পরিমাণ আরও বেড়ে যায়।

এ বিষয়ে বাজুবাঘা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান খন্দকার মানোয়ারুল ইসলাম বলেন, মাজারের ভেতরে বর্তমানে যে পরিমাণ টাকা জমে আছে, তা গণনা করে মাজারের উন্নয়ন কাজে ব্যবহার করা হয়। মাজারের আয়-ব্যয় নিয়ম অনুযায়ী টাকা সংগ্রহ করে ব্যাংকে জমা দেওয়া হয়।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও ওয়াক্ফ কমিটির সহ-সভাপতি তকী ফয়সাল তালুকদার বলেন, মাজারে দান করে মানুষ মানসিক শান্তি পাই। মানত পূরণ হওয়ায় সামর্থ্য অনুযায়ী দান করে। এই টাকা রাতের আধারে কে বা কারা গ্রিল ও তালা ভেঙ্গে চুরি করে নিয়ে গেছে। চুরির বিষয়ে জেলা প্রশাসককে অবগত করা হয়েছে। এছাড়া তদন্ত সাপেক্ষো চুরির সাথে জড়িতদের আইনের আওতায় আনার জন্য ওসিকে নিদেশ দেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে ওয়াক্ফ এস্টেটের প্রধান খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম (রইশ) বলেন, সংগৃহীত অর্থ মাজারের রক্ষণাবেক্ষণ, এতিমদের সহায়তা এবং দরিদ্র শিক্ষার্থীদের বৃত্তি হিসেবে ব্যয় করা হয়। নিয়মিত হিসাব নিরীক্ষার মাধ্যমে ব্যাংকে জমা দেওয়া হয়।

বাঘা থানার ওসি সেরাজুল হক বলেন, এ বিষয়ে একটি অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উল্লেখ্য, হজরত আব্দুল হামিদ দানিশ মন্দ (রহ.) ও তার পিতা হজরত শাহ মোয়াজ্জেম (রহ.) এ অঞ্চলের প্রখ্যাত সুফি সাধক ছিলেন। প্রায় পাঁচ শতাব্দী আগে তারা ইসলাম প্রচার ও মানবসেবায় আত্মনিয়োগ করেন। বর্তমানে তাদের মাজার বাঘার অন্যতম ধর্মীয় ও পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত।

Share this news as a Photo Card