শিরোনাম :
পদত্যাগ প্রশ্নে বিরক্ত রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন রাষ্ট্রপতি পদে ‘জনপ্রিয়তার শীর্ষে’ কে এই খাইরুল দেওয়ান ? শুক্রবার সারা ভারতে জুড়ে বিক্ষোভের ডাক ককরোচ পার্টির ভেনিস উৎসবে প্রথমবারের মতো বাংলাদেশের সিনেমা ‘ব্যক্তিগত মুহূর্তের’ ভিডিও বিতর্কের জেরে জামাত নেতা গাজী নজরুলকে বহিষ্কার, ইসি-স্পিকারকে চিঠি শাহজাদপুরে ১৫৫ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক নেই, ব্যাহত শিক্ষা কার্যক্রম কলেজছাত্রীকে ধর্ষণের দায়ে এনসিপি নেতা গ্রেপ্তার নয়াদিল্লিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে আমন্ত্রণ মোদির সাংবিধানিকভাবে পদত্যাগ করবেন রাষ্ট্রপতি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ২০৩৪ সালে ট্রিলিয়ন ডলার অর্থনীতির অঙ্গীকার প্রধানমন্ত্রীর

কুয়েতে মার্কিন ঘাঁটিতে হামলার দাবি ইরানের

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) নতুন করে দাবি করেছে, তারা কুয়েতে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের একাধিক সামরিক স্থাপনায় সফল হামলা চালিয়েছে। শনিবার প্রকাশিত পৃথক বিবৃতিতে আইআরজিসি জানায়, তাদের সামরিক অভিযানের অংশ হিসেবে কুয়েতের আলী আল সালেম বিমানঘাঁটির একটি রাডার ব্যবস্থা ধ্বংস করা হয়েছে। একই সঙ্গে ক্যাম্প আরিফজানে অবস্থানরত মার্কিন সেনাদের একটি রসদ সরবরাহকেন্দ্রেও হামলা চালানো হয়েছে বলে দাবি করা হয়।
আইআরজিসির ভাষ্য অনুযায়ী, এসব অভিযান ‘অপারেশন নাসর-২’-এর আওতায় পরিচালিত হয়েছে। তাদের দাবি, ক্যাম্প আরিফজানে চালানো হামলায় কয়েকজন মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন। যদিও এই দাবির পক্ষে স্বাধীনভাবে যাচাইযোগ্য কোনো তথ্য এখনো প্রকাশিত হয়নি। যুক্তরাষ্ট্রও তাৎক্ষণিকভাবে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য করেনি।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ড্রোন ব্যবহার করে আলী আল সালেম বিমানঘাঁটির রাডার স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়। পাশাপাশি একটি অস্ত্র রক্ষণাবেক্ষণ হ্যাঙ্গার এবং ড্রোন সংরক্ষণাগারেও আঘাত হানা হয়েছে বলে দাবি করেছে আইআরজিসি। ইরানি বাহিনী জানিয়েছে, প্রয়োজন হলে এ ধরনের অভিযান আরও বিস্তৃত পরিসরে চালানো হবে।
এদিকে আইআরজিসির নৌবাহিনী আলাদা এক বিবৃতিতে জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক হামলার জবাবে তারা সমন্বিত ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা পরিচালনা করেছে। তাদের দাবি, কুয়েতের আল আহমাদি বন্দরে যুক্তরাষ্ট্রের নৌবহরের জ্বালানি সরবরাহকেন্দ্র, বাহরাইনের শেখ ইসা বিমানঘাঁটির একটি সামরিক স্থাপনা এবং বাহরাইনের একটি গোয়েন্দা তথ্যকেন্দ্র লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। একই সঙ্গে কুয়েতে যুক্তরাষ্ট্রের একটি সংকেত ও যোগাযোগকেন্দ্র ধ্বংস করার দাবিও করেছে তারা।
আইআরজিসি আরও দাবি করেছে, পুরো অভিযানের সময় হরমুজ প্রণালির ওপর তাদের নৌবাহিনী পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখেছিল। আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরেই আঞ্চলিক উত্তেজনা বিরাজ করছে।
ইরানের সামরিক বাহিনী অভিযোগ করেছে, সরাসরি যুদ্ধে কাঙ্ক্ষিত সাফল্য না পাওয়ায় যুক্তরাষ্ট্র এখন বেসামরিক অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করছে। তাদের দাবি, হাসপাতাল, সেতু, রেলপথ, বিমানবন্দর, সমুদ্রবন্দর, টেলিযোগাযোগ অবকাঠামো এবং সাধারণ মানুষের ওপর হামলা চালিয়ে যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধক্ষেত্রের ব্যর্থতা আড়াল করার চেষ্টা করছে। তবে এসব অভিযোগেরও স্বাধীন কোনো আন্তর্জাতিক নিশ্চিতকরণ পাওয়া যায়নি।
অন্যদিকে ইরানের সেনাবাহিনী পৃথকভাবে দাবি করেছে, তারা ভারত মহাসাগরে অবস্থানরত একটি মার্কিন জাহাজের দিকেও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। এ ঘটনার সত্যতা নিয়েও এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
তেহরান আরও বলেছে, গত ৭ এপ্রিল মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একতরফাভাবে যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দেওয়ার পরও যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ভূখণ্ডে একাধিক হামলা চালিয়েছে। ইরানের দাবি, এসব হামলা দেশটির বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সাম্প্রতিক যৌথ সামরিক অভিযানেরই অংশ।
ইরানি কর্মকর্তারা আরও উল্লেখ করেছেন, গত মাসে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছিল। ওই সমঝোতার অন্যতম শর্ত ছিল উভয় পক্ষের সামরিক আগ্রাসন বন্ধ রাখা। কিন্তু বাস্তবে সেই প্রতিশ্রুতি রক্ষা হয়নি বলেই অভিযোগ করছে তেহরান।
বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক এসব দাবি মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে। বিশেষ করে কুয়েত, বাহরাইন এবং উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি ঘিরে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তবে আইআরজিসির উত্থাপিত দাবিগুলোর বেশির ভাগই এখনো স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। ফলে ঘটনাগুলোর প্রকৃত চিত্র জানতে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর আনুষ্ঠানিক বক্তব্য ও আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণের দিকেই নজর রাখছেন বিশ্লেষকেরা।

Share this news as a Photo Card

© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

জনপ্রিয় সংবাদ

পদত্যাগ প্রশ্নে বিরক্ত রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন

সম্পাদক ও প্রকাশক

মোঃ মাহমুদুন্নবী জ্যোতি

অফিসঃ ২/২ আরকে মিশন রোড , ঢাকা।

ইমেলঃ chalomanbarta@yahoo.com, chalomanbarta@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১০৫৬৮৬৬, ০১৬৮১৯২৪০০০

২০৩৪ সালে ট্রিলিয়ন ডলার অর্থনীতির অঙ্গীকার প্রধানমন্ত্রীর

২৩ জুলাই ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
facebook.com/dailycholomanbarta
www.cholomanbarta.com

কুয়েতে মার্কিন ঘাঁটিতে হামলার দাবি ইরানের

আপডেট সময় ০৯:১৮:৪০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) নতুন করে দাবি করেছে, তারা কুয়েতে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের একাধিক সামরিক স্থাপনায় সফল হামলা চালিয়েছে। শনিবার প্রকাশিত পৃথক বিবৃতিতে আইআরজিসি জানায়, তাদের সামরিক অভিযানের অংশ হিসেবে কুয়েতের আলী আল সালেম বিমানঘাঁটির একটি রাডার ব্যবস্থা ধ্বংস করা হয়েছে। একই সঙ্গে ক্যাম্প আরিফজানে অবস্থানরত মার্কিন সেনাদের একটি রসদ সরবরাহকেন্দ্রেও হামলা চালানো হয়েছে বলে দাবি করা হয়।
আইআরজিসির ভাষ্য অনুযায়ী, এসব অভিযান ‘অপারেশন নাসর-২’-এর আওতায় পরিচালিত হয়েছে। তাদের দাবি, ক্যাম্প আরিফজানে চালানো হামলায় কয়েকজন মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন। যদিও এই দাবির পক্ষে স্বাধীনভাবে যাচাইযোগ্য কোনো তথ্য এখনো প্রকাশিত হয়নি। যুক্তরাষ্ট্রও তাৎক্ষণিকভাবে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য করেনি।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ড্রোন ব্যবহার করে আলী আল সালেম বিমানঘাঁটির রাডার স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়। পাশাপাশি একটি অস্ত্র রক্ষণাবেক্ষণ হ্যাঙ্গার এবং ড্রোন সংরক্ষণাগারেও আঘাত হানা হয়েছে বলে দাবি করেছে আইআরজিসি। ইরানি বাহিনী জানিয়েছে, প্রয়োজন হলে এ ধরনের অভিযান আরও বিস্তৃত পরিসরে চালানো হবে।
এদিকে আইআরজিসির নৌবাহিনী আলাদা এক বিবৃতিতে জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক হামলার জবাবে তারা সমন্বিত ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা পরিচালনা করেছে। তাদের দাবি, কুয়েতের আল আহমাদি বন্দরে যুক্তরাষ্ট্রের নৌবহরের জ্বালানি সরবরাহকেন্দ্র, বাহরাইনের শেখ ইসা বিমানঘাঁটির একটি সামরিক স্থাপনা এবং বাহরাইনের একটি গোয়েন্দা তথ্যকেন্দ্র লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। একই সঙ্গে কুয়েতে যুক্তরাষ্ট্রের একটি সংকেত ও যোগাযোগকেন্দ্র ধ্বংস করার দাবিও করেছে তারা।
আইআরজিসি আরও দাবি করেছে, পুরো অভিযানের সময় হরমুজ প্রণালির ওপর তাদের নৌবাহিনী পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখেছিল। আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরেই আঞ্চলিক উত্তেজনা বিরাজ করছে।
ইরানের সামরিক বাহিনী অভিযোগ করেছে, সরাসরি যুদ্ধে কাঙ্ক্ষিত সাফল্য না পাওয়ায় যুক্তরাষ্ট্র এখন বেসামরিক অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করছে। তাদের দাবি, হাসপাতাল, সেতু, রেলপথ, বিমানবন্দর, সমুদ্রবন্দর, টেলিযোগাযোগ অবকাঠামো এবং সাধারণ মানুষের ওপর হামলা চালিয়ে যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধক্ষেত্রের ব্যর্থতা আড়াল করার চেষ্টা করছে। তবে এসব অভিযোগেরও স্বাধীন কোনো আন্তর্জাতিক নিশ্চিতকরণ পাওয়া যায়নি।
অন্যদিকে ইরানের সেনাবাহিনী পৃথকভাবে দাবি করেছে, তারা ভারত মহাসাগরে অবস্থানরত একটি মার্কিন জাহাজের দিকেও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। এ ঘটনার সত্যতা নিয়েও এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
তেহরান আরও বলেছে, গত ৭ এপ্রিল মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একতরফাভাবে যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দেওয়ার পরও যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ভূখণ্ডে একাধিক হামলা চালিয়েছে। ইরানের দাবি, এসব হামলা দেশটির বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সাম্প্রতিক যৌথ সামরিক অভিযানেরই অংশ।
ইরানি কর্মকর্তারা আরও উল্লেখ করেছেন, গত মাসে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছিল। ওই সমঝোতার অন্যতম শর্ত ছিল উভয় পক্ষের সামরিক আগ্রাসন বন্ধ রাখা। কিন্তু বাস্তবে সেই প্রতিশ্রুতি রক্ষা হয়নি বলেই অভিযোগ করছে তেহরান।
বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক এসব দাবি মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে। বিশেষ করে কুয়েত, বাহরাইন এবং উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি ঘিরে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তবে আইআরজিসির উত্থাপিত দাবিগুলোর বেশির ভাগই এখনো স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। ফলে ঘটনাগুলোর প্রকৃত চিত্র জানতে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর আনুষ্ঠানিক বক্তব্য ও আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণের দিকেই নজর রাখছেন বিশ্লেষকেরা।

Share this news as a Photo Card