নিউইয়র্ক-নিউ জার্সি স্টেডিয়ামের গ্যালারিতে তখন নিঃশ্বাস আটকে রেখেছেন লাখো দর্শক। ৯০ মিনিটের নির্ধারিত সময়ে গোলের দেখা মেলেনি, কিন্তু মাঠের প্রতিটি মুহূর্তে ছড়িয়ে ছিল উত্তেজনার ঢেউ। অতিরিক্ত সময়ের দ্বিতীয়ার্ধ শুরুর মাত্র ৩৭ সেকেন্ডের মাথায় সেই নীরবতা ভেঙে দিলেন ফেরান তোরেস। তার একটিমাত্র গোলেই ২০১০ সালের পর দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের সোনালি ট্রফি নিজেদের করে নিল স্পেন, আর অধরাই থেকে গেল লিওনেল মেসির হাতে দ্বিতীয় শিরোপা তোলার স্বপ্ন।
ম্যাচের প্রথম মিনিট থেকেই বল দখলে আধিপত্য দেখিয়েছে লুইস দে লা ফুয়েন্তের শিষ্যরা। আক্রমণ সাজানো থেকে শুরু করে সুযোগ তৈরি, প্রতিটি বিভাগেই এগিয়ে ছিল লা রোহা। কিন্তু আর্জেন্টিনার গোলবারের নিচে যেন সেদিন একাই দুর্গ হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন এমিলিয়ানো মার্তিনেজ। একের পর এক অবিশ্বাস্য সেভে বারবার হতাশ করেছেন স্পেনের আক্রমণভাগকে। নির্ধারিত সময়েই ১০টি সেভ করে গড়েছেন বিশ্বকাপ ফাইনালের ইতিহাসে নতুন এক রেকর্ড। তার এই বীরত্বেই মনে হচ্ছিল, হয়তো আরেকবার শিরোপা ছুঁয়ে দেখবেন মেসি।
তবে ম্যাচের মোড় ঘুরে যায় নির্ধারিত সময়ের শেষ দিকে। পাও কুবার্সির ওপর বেপরোয়া ট্যাকল করে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন এনসো ফার্নান্দেজ। এক খেলোয়াড় কমে যাওয়ায় অতিরিক্ত সময়ের পুরোটাই ১০ জন নিয়ে খেলতে হয় লিওনেল স্কালোনির দলকে। এই ধাক্কা সামলেও শেষ পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে গিয়েছিল আকাশি-সাদা জার্সিধারীরা, কিন্তু সংখ্যায় কম থাকার মূল্য শেষ পর্যন্ত দিতে হলো তাদের।
অতিরিক্ত সময়ের দ্বিতীয়ার্ধ শুরু হতেই আসে ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণী মুহূর্তটি। ডান প্রান্ত দিয়ে দুর্দান্ত এক আক্রমণ গড়ে তোলেন পেদ্রো পোরো। তার নিখুঁত ক্রস দূরের পোস্টে মাথা ছুঁইয়ে খেলায় রাখেন নিকো উইলিয়ামস। ফিরতি বল বক্সের ভেতরে পেয়ে জোরালো শটে জালে জড়িয়ে দেন বদলি হিসেবে নামা ফেরান তোরেস। মুহূর্তেই উল্লাসে ফেটে পড়ে গ্যালারি, স্তব্ধ হয়ে যায় আর্জেন্টিনার সমর্থকরা। ম্যাচের ১০৬ মিনিটে আসা এই একটি গোলই শেষ পর্যন্ত গড়ে দেয় ফলাফলের ব্যবধান।
গোল হজমের পর সমতায় ফিরতে মরিয়া হয়ে ওঠে আর্জেন্টিনা। ১১৭ মিনিটে লিওনেল মেসির নেওয়া শট প্রতিহত হয় প্রতিপক্ষের রক্ষণে, যা ছিল পুরো ম্যাচে তাদের প্রথম উল্লেখযোগ্য প্রচেষ্টা। কিন্তু স্পেনের সুসংগঠিত রক্ষণভাগ আর গোলরক্ষক আর কোনো সুযোগ দেননি প্রতিপক্ষকে।
১৯৬২ সালে ব্রাজিলের পর প্রথম দল হিসেবে টানা দুটি বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন নিয়ে মাঠে নেমেছিল আর্জেন্টিনা। কিন্তু স্পেনের আধিপত্যের সামনে সেই ইতিহাস গড়া হলো না তাদের। ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নদের বিপক্ষে নিজের চেনা ছন্দে দেখা যায়নি মেসিকেও।
শেষ বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গেই লাল জার্সিধারীদের মধ্যে শুরু হয়ে যায় বাঁধভাঙা উৎসব। ২০১০ সালে দক্ষিণ আফ্রিকায় প্রথমবার বিশ্বজয়ের পর দীর্ঘ প্রতীক্ষা শেষে আবারও ফুটবল বিশ্বের সর্বোচ্চ মঞ্চে উঠল স্পেন। মার্তিনেজের অতিমানবীয় নৈপুণ্যকে ছাপিয়ে শেষ পর্যন্ত ইতিহাসের পাতায় নাম লেখালেন ফেরান তোরেস আর তার সতীর্থরা।
শিরোনাম :
আর্জেন্টিনার স্বপ্ন ভেঙে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন স্পেন
-
চলমান বার্তা ডেস্ক : - আপডেট সময় ০৪:২৫:৪২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬
- 15
জনপ্রিয় সংবাদ





















