শেষ ওভারের নাটকীয়তা যেন ম্যাচটিকে ভিন্ন এক উচ্চতায় নিয়ে গেল। অথচ পুরো ম্যাচেই সহজ জয়ের পথে ছিল বাংলাদেশ। পাঁচ বলে প্রয়োজন ছিল মাত্র চার রান, কিন্তু ব্র্যাড ইভান্সের ফুল টসে বোল্ড হয়ে যান মোসাদ্দেক হোসেন। এরপর ছক্কায় ম্যাচ শেষ করার খায়েশ নিয়ে নেমে প্রথম বলেই আউট হন নতুন ব্যাটসম্যান মোহাম্মদ সাইফ উদ্দিন। ধারাভাষ্যকক্ষে তখন এড রাইন্সফোর্ডের চিৎকার, ‘ইজ দেয়ার আ টুইস্ট ইন দা টেইল?’ হ্যাটট্রিক ডেলিভারিতে ফুল টস বল সোজা গিয়ে লাগে শেখ মেহেদি হাসানের প্যাডে, নিশ্চিত মনে হচ্ছিল এলবিডব্লিউ। কিন্তু আম্পায়ার সংকেত দেন ডেড বলের, কারণ এক ফিল্ডার তখন নড়াচড়া করছিলেন। বড় এক বিপদ থেকে বেঁচে যায় বাংলাদেশ। পরের বলটিও ফুল টস পেয়ে এক্সট্রা কাভার দিয়ে চার মেরে গর্জে ওঠেন মেহেদি, আর তাতেই মিশে ছিল স্বস্তির নিঃশ্বাস।
তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজের শেষ লড়াইয়ে শেষ পর্যন্ত ৪ উইকেটে জিতেছে বাংলাদেশ। পিছিয়ে পড়েও সিরিজ জিতে নিয়েছে তারা ২-১ ব্যবধানে। আগের সিরিজে অস্ট্রেলিয়ার কাছে হোয়াইটওয়াশড হওয়ার পর ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক তাওহিদ হৃদয়ের নেতৃত্বে এটিই প্রথম সিরিজ জয়।
ম্যাচের জয়ের ভিত গড়া হয়ে যায় প্রথম ভাগেই। এক পর্যায়ে মনে হচ্ছিল, জিম্বাবুয়ে হয়তো ১৬০-১৭০ রানের সংগ্রহ পেয়ে যাবে। কিন্তু শেষ দিকের দুর্দান্ত বোলিং ও ফিল্ডিংয়ে তাদের ১৪৩ রানেই আটকে রাখে বাংলাদেশ। ওপেনিংয়ে ব্রায়ান বেনেট করেন ৪৭ রান, তিনে নেমে ডিওন মায়ার্স খেলেন ৭৩ রানের ইনিংস। বাকি সাত ব্যাটসম্যান আর অতিরিক্ত মিলিয়ে আসে মোটে ২৩ রান।
রান তাড়ায় ঝড়ের গতিতে ছুটতে না পারলেও শেষ ওভারের আগ পর্যন্ত পুরো ইনিংসই ছিল নিয়ন্ত্রণে। এক প্রান্ত আগলে দলকে জয়ের দিকে নিয়ে যান তানজিদ হাসান। শেষে নাটক জমিয়ে দুই বল বাকি থাকতেই আসে জয়। চার ছক্কায় ৫৮ বলে অপরাজিত ৬৬ রানের ইনিংস খেলে ম্যাচসেরা হন তানজিদ। টানা দুই ফিফটিতে সিরিজসেরাও হয়েছেন এই ওপেনার।
ম্যাচের শুরুতে অশুভ ইঙ্গিত ছিল বাংলাদেশের জন্য। প্রথম ওভারেই তাসকিন আহমেদের বলে বেনেটের সহজ ক্যাচ ফেলেন তানজিদ। তবে পরের ওভারেই টাডিওয়ানাশে মারুমানিকে ফিরিয়ে প্রথম সাফল্য এনে দেন শেখ মেহেদি হাসান। পাওয়ার প্লেতে জিম্বাবুয়ে তোলে ৪০ রান। এরপর বেনেট ও মায়ার্সের ৯১ রানের জুটি ভাঙেন মোহাম্মদ সাইফ উদ্দিন। পরবর্তীতে হ্যামিল্টন মাসাকাদজার রেকর্ড ছাড়িয়ে জিম্বাবুয়ের হয়ে সর্বোচ্চ আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলার দিনে মাত্র ৩ রানে ফেরেন সিকান্দার রাজা। শেষ পাঁচ ওভারে মাত্র ৩৪ রান তুলতে পারে জিম্বাবুয়ে।
জবাব দিতে নেমে শুরুতেই বিপদে পড়ে বাংলাদেশ। হেলমেটে বল লাগার পরের বলেই উইকেট বিলিয়ে দেন সাইফ হাসান। এরপর তানজিদ ও পারভেজের ৫৫ রানের জুটি এবং তানজিদ-হৃদয়ের ৬৩ রানের জুটিতে ঘুরে দাঁড়ায় বাংলাদেশ। তবে শেষ ওভারে ছয় রানের সমীকরণ মেলাতে গিয়েই তৈরি হয় সেই রুদ্ধশ্বাস মুহূর্ত, যা শেষ পর্যন্ত জয়ে রূপ নেয় তানজিদের অবিচল ব্যাটিংয়ে।
এই সফরে একমাত্র টেস্টে ইনিংস ব্যবধানে হার এবং ওয়ানডে সিরিজ হারের পর টি-টোয়েন্টি সিরিজ জয়ে স্বস্তির সমাপ্তি টানল বাংলাদেশ।
সংক্ষিপ্ত স্কোর: জিম্বাবুয়ে ২০ ওভারে ১৪৩/৭, বাংলাদেশ ১৯.৪ ওভারে ১৪৪/৬। ফল: বাংলাদেশ ৪ উইকেটে জয়ী। সিরিজ: বাংলাদেশ ২-১ ব্যবধানে জয়ী। ম্যান অব দা ম্যাচ ও ম্যান অব দা সিরিজ: তানজিদ হাসান।
চলমান বার্তা ডেস্ক : 




















