ডারউইন টেস্টে হাসানের ফাইফারে বিপর্যস্ত অস্ট্রেলিয়া

দীর্ঘ তেইশ বছর পর অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট ক্রিকেটে ফিরেই বল হাতে ইতিহাস গড়লেন হাসান মাহমুদ। ডারউইনে শুরু হওয়া দুই ম্যাচের সিরিজের প্রথম টেস্টে টস জিতে ব্যাটিং নেওয়া অস্ট্রেলিয়া গুটিয়ে গেছে মাত্র ১৯৮ রানে, ৫৩ ওভার ব্যাট করে। এদিন বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই বাংলাদেশের পেস আক্রমণের সামনে খেই হারিয়ে ফেলে স্বাগতিকরা।
ইনিংসের শুরুটা অবশ্য মন্দ করেননি অস্ট্রেলিয়ার দুই ওপেনার ট্রাভিস হেড ও জ্যাক ওয়েদারাল্ড। উদ্বোধনী জুটিতে প্রায় পঞ্চাশ ছুঁইছুঁই রান তুলে ফেলেছিলেন তারা। তবে ১২তম ওভারে সেই জুটি ভাঙেন হাসান, উইকেটকিপারের হাতে ক্যাচ তুলে দিয়ে বিদায় নেন ওয়েদারাল্ড, ৩৭ বলে করেন ২৩ রান। পরের ওভারেই স্ট্যাম্প উপড়ে হেডকেও (৩৯ বলে ২২) সাজঘরে ফেরান তিনি।
এরপর মার্নাস লাবুশেন ও স্টিভেন স্মিথের জুটি গড়ার চেষ্টা ব্যর্থ করে দেন ইবাদত হোসেন। ১৯তম ওভারে দ্বিতীয় স্লিপে ক্যাচ দিয়ে মাত্র ১ রানে ফেরেন লাবুশেন। মধ্যাহ্ন বিরতির ঠিক আগে নতুন নামা ক্যামেরন গ্রিনকেও (১৩ বলে ১৩) সাজঘরের পথ দেখান তাসকিন আহমেদ। বিরতিতে যাওয়ার আগেই কোনো উইকেট না হারিয়ে ৪৫ রান তোলা অস্ট্রেলিয়া পরের ষোলো রানের মধ্যেই হারিয়ে ফেলে তিন উইকেট।
বিরতির পর কিছুটা প্রতিরোধ গড়ে তোলেন স্মিথ ও অ্যালেক্স ক্যারি। চতুর্থ উইকেট জুটিতে পঞ্চাশ রান যোগ করে ম্যাচে ফেরার আভাস দিচ্ছিলেন দুজন। তবে ৩৭তম ওভারে ক্যারিকে (৪৩ বলে ১৯) বোল্ড করে সেই জুটি ভাঙেন ইবাদত, উদযাপনে মেলে ধরেন নিজের ট্রেডমার্ক স্যালুট।
এরপর উইকেটে এসে হাত খুলে খেলার চেষ্টা করেছিলেন বেউ ওয়েবস্টার, দুটি বাউন্ডারিও হাঁকান। কিন্তু তাসকিনের গতিময় এক ডেলিভারিতে ৩৯তম ওভারে স্ট্যাম্প হারিয়ে ফেরেন তিনি, ১০ বলে করেন ১২ রান।
চা বিরতির আগে একমাত্র টিকে থাকা ব্যাটার হিসেবে অর্ধশতক পূর্ণ করেন স্মিথ, লক্ষ্য ছিল শতকের দিকে ছোটা। কিন্তু বিরতি থেকে ফিরে বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি সাবেক এই অধিনায়ক। তৃতীয় ওভারেই হাসানের বলে পুল করতে গিয়ে উইকেটকিপারের হাতে ক্যাচ দেন তিনি, ১০৯ বলে থামে তার ৭১ রানের ইনিংস।
চোট কাটিয়ে দলে ফেরা অধিনায়ক প্যাট কামিন্স বড় দায়িত্ব নিয়ে নামলেও বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি। হাসানের বলে কিপারের হাতে ক্যাচ দিয়ে ১৯ বলে ৯ রানে ফেরেন তিনি। এরপর মিচেল স্টার্ককেও (৮ বলে ১) নিজের পরের ওভারেই ফিরিয়ে দেন হাসান। স্মিথকে আউট করার মধ্য দিয়েই অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে প্রথমবার খেলতে নেমে ফাইফারের স্বাদ পান এই পেসার। শেষ পর্যন্ত নাথান লায়নকে (১৩ বলে ৭) ফিরিয়ে ইনিংস গুটিয়ে দেন তিনি, ১৭ ওভারে ৫৬ রান দিয়ে ঝুলিতে পোরেন ছয় উইকেট।
সব মিলিয়ে চেনা কন্ডিশনেও নিজেদের মাঠে অচেনা এক দিন কাটাল অস্ট্রেলিয়া। প্রথম দুই সেশন শেষ হওয়ার আগেই সাত উইকেট হারিয়ে বিপাকে পড়ে স্বাগতিকরা, আর দিনের শেষভাগে হাসানের ধারাবাহিক আঘাতে পুরো ইনিংসই গুটিয়ে যায় দুইশর নিচে। প্রথম দিনের এই পারফরম্যান্স নিঃসন্দেহে সফরকারীদের জন্য বড় স্বস্তির বার্তা।

Share this news as a Photo Card

© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

সম্পাদক ও প্রকাশক

মোঃ মাহমুদুন্নবী জ্যোতি

অফিসঃ ২/২ আরকে মিশন রোড , ঢাকা।

ইমেলঃ chalomanbarta@yahoo.com, chalomanbarta@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১০৫৬৮৬৬, ০১৬৮১৯২৪০০০

দেশকে অর্থনৈতিক-সামাজিকভাবে শক্তিশালী অবস্থান করা সরকারের লক্ষ্য

১১ আগস্ট ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
facebook.com/dailycholomanbarta
www.cholomanbarta.com

ডারউইন টেস্টে হাসানের ফাইফারে বিপর্যস্ত অস্ট্রেলিয়া

আপডেট সময় ১২:২৯:৪০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬

দীর্ঘ তেইশ বছর পর অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট ক্রিকেটে ফিরেই বল হাতে ইতিহাস গড়লেন হাসান মাহমুদ। ডারউইনে শুরু হওয়া দুই ম্যাচের সিরিজের প্রথম টেস্টে টস জিতে ব্যাটিং নেওয়া অস্ট্রেলিয়া গুটিয়ে গেছে মাত্র ১৯৮ রানে, ৫৩ ওভার ব্যাট করে। এদিন বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই বাংলাদেশের পেস আক্রমণের সামনে খেই হারিয়ে ফেলে স্বাগতিকরা।
ইনিংসের শুরুটা অবশ্য মন্দ করেননি অস্ট্রেলিয়ার দুই ওপেনার ট্রাভিস হেড ও জ্যাক ওয়েদারাল্ড। উদ্বোধনী জুটিতে প্রায় পঞ্চাশ ছুঁইছুঁই রান তুলে ফেলেছিলেন তারা। তবে ১২তম ওভারে সেই জুটি ভাঙেন হাসান, উইকেটকিপারের হাতে ক্যাচ তুলে দিয়ে বিদায় নেন ওয়েদারাল্ড, ৩৭ বলে করেন ২৩ রান। পরের ওভারেই স্ট্যাম্প উপড়ে হেডকেও (৩৯ বলে ২২) সাজঘরে ফেরান তিনি।
এরপর মার্নাস লাবুশেন ও স্টিভেন স্মিথের জুটি গড়ার চেষ্টা ব্যর্থ করে দেন ইবাদত হোসেন। ১৯তম ওভারে দ্বিতীয় স্লিপে ক্যাচ দিয়ে মাত্র ১ রানে ফেরেন লাবুশেন। মধ্যাহ্ন বিরতির ঠিক আগে নতুন নামা ক্যামেরন গ্রিনকেও (১৩ বলে ১৩) সাজঘরের পথ দেখান তাসকিন আহমেদ। বিরতিতে যাওয়ার আগেই কোনো উইকেট না হারিয়ে ৪৫ রান তোলা অস্ট্রেলিয়া পরের ষোলো রানের মধ্যেই হারিয়ে ফেলে তিন উইকেট।
বিরতির পর কিছুটা প্রতিরোধ গড়ে তোলেন স্মিথ ও অ্যালেক্স ক্যারি। চতুর্থ উইকেট জুটিতে পঞ্চাশ রান যোগ করে ম্যাচে ফেরার আভাস দিচ্ছিলেন দুজন। তবে ৩৭তম ওভারে ক্যারিকে (৪৩ বলে ১৯) বোল্ড করে সেই জুটি ভাঙেন ইবাদত, উদযাপনে মেলে ধরেন নিজের ট্রেডমার্ক স্যালুট।
এরপর উইকেটে এসে হাত খুলে খেলার চেষ্টা করেছিলেন বেউ ওয়েবস্টার, দুটি বাউন্ডারিও হাঁকান। কিন্তু তাসকিনের গতিময় এক ডেলিভারিতে ৩৯তম ওভারে স্ট্যাম্প হারিয়ে ফেরেন তিনি, ১০ বলে করেন ১২ রান।
চা বিরতির আগে একমাত্র টিকে থাকা ব্যাটার হিসেবে অর্ধশতক পূর্ণ করেন স্মিথ, লক্ষ্য ছিল শতকের দিকে ছোটা। কিন্তু বিরতি থেকে ফিরে বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি সাবেক এই অধিনায়ক। তৃতীয় ওভারেই হাসানের বলে পুল করতে গিয়ে উইকেটকিপারের হাতে ক্যাচ দেন তিনি, ১০৯ বলে থামে তার ৭১ রানের ইনিংস।
চোট কাটিয়ে দলে ফেরা অধিনায়ক প্যাট কামিন্স বড় দায়িত্ব নিয়ে নামলেও বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি। হাসানের বলে কিপারের হাতে ক্যাচ দিয়ে ১৯ বলে ৯ রানে ফেরেন তিনি। এরপর মিচেল স্টার্ককেও (৮ বলে ১) নিজের পরের ওভারেই ফিরিয়ে দেন হাসান। স্মিথকে আউট করার মধ্য দিয়েই অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে প্রথমবার খেলতে নেমে ফাইফারের স্বাদ পান এই পেসার। শেষ পর্যন্ত নাথান লায়নকে (১৩ বলে ৭) ফিরিয়ে ইনিংস গুটিয়ে দেন তিনি, ১৭ ওভারে ৫৬ রান দিয়ে ঝুলিতে পোরেন ছয় উইকেট।
সব মিলিয়ে চেনা কন্ডিশনেও নিজেদের মাঠে অচেনা এক দিন কাটাল অস্ট্রেলিয়া। প্রথম দুই সেশন শেষ হওয়ার আগেই সাত উইকেট হারিয়ে বিপাকে পড়ে স্বাগতিকরা, আর দিনের শেষভাগে হাসানের ধারাবাহিক আঘাতে পুরো ইনিংসই গুটিয়ে যায় দুইশর নিচে। প্রথম দিনের এই পারফরম্যান্স নিঃসন্দেহে সফরকারীদের জন্য বড় স্বস্তির বার্তা।

Share this news as a Photo Card