রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল স্থগিতে হাইকোর্টে রিট দায়ের

সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদের বৈধতা প্রশ্নে এবং রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ঘোষিত তফসিল স্থগিত করার আবেদন জানিয়ে হাইকোর্টে একটি রিট আবেদন দায়ের করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্টের একজন আইনজীবী, অ্যাডভোকেট ইউনুছ আলী আকন্দ, এই রিটটি দাখিল করেন। আদালত সূত্রে জানা গেছে, আগামী রোববার এই রিট আবেদনের ওপর শুনানি অনুষ্ঠিত হতে পারে।
রিট আবেদনে বিবাদী হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে, জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সচিবকে এবং এই বিষয়ের সঙ্গে জড়িত অন্যান্য কর্মকর্তাদের। মূলত সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ কতটা আইনসম্মত, সেই প্রশ্ন তুলেই আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন রিটকারী, পাশাপাশি নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত সময়সূচি বাতিল বা স্থগিত করার আরজি জানিয়েছেন তিনি।
উল্লেখ্য, গত ৬ আগস্ট নির্বাচন কমিশন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের পূর্ণাঙ্গ তফসিল প্রকাশ করে। কমিশনের ঘোষণা অনুযায়ী, আগামী ২০ আগস্ট এই নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। যদি একাধিক প্রার্থী নির্বাচনী মাঠে থাকেন, তাহলে সেদিন দুপুর ২টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত জাতীয় সংসদ ভবনের অধিবেশনকক্ষে ভোট নেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।
নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদ এই তফসিল আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেন। এই নির্বাচন প্রক্রিয়ায় নির্বাচনি কর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন।
কমিশনের ঘোষিত সময়সূচি অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি পদের জন্য মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে ১৩ আগস্ট, সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত। এরপর ১৬ আগস্ট মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ের কাজ সম্পন্ন হওয়ার কথা। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের জন্য সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে ১৮ আগস্ট পর্যন্ত। সবশেষে ২০ আগস্ট নির্ধারিত হয়েছে চূড়ান্ত ভোটগ্রহণের দিন হিসেবে।
এই রিট আবেদন দায়েরের মধ্য দিয়ে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন ঘিরে নতুন এক আইনি জটিলতা তৈরি হলো। সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ মূলত সংসদ সদস্যদের দলীয় সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ভোট দেওয়া বা দলত্যাগ সংক্রান্ত বিধান নিয়ে আলোচিত একটি অনুচ্ছেদ, যা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই রাজনৈতিক ও আইনি অঙ্গনে বিতর্ক চলে আসছে। এবার সেই অনুচ্ছেদের বৈধতা প্রশ্নবিদ্ধ করেই আদালতে গড়াল রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রক্রিয়া।
রোববারের শুনানিতে আদালত কী নির্দেশনা দেয়, তার ওপর নির্ভর করছে ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী নির্বাচন প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে কিনা। মনোনয়নপত্র দাখিলের প্রক্রিয়া ইতিমধ্যে শুরু হয়ে গেছে বলে জানা গেছে, ফলে রিটের ফলাফল গোটা নির্বাচনী কার্যক্রমের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
আইনি বিশেষজ্ঞদের মতে, সাংবিধানিক অনুচ্ছেদের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা একটি স্পর্শকাতর বিষয়, যার নিষ্পত্তি সাধারণত দ্রুত হয় না। ফলে রিটের চূড়ান্ত ফলাফল আসতে কিছুটা সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে আপাতত সবার নজর আগামী রোববারের শুনানির দিকে, যেখানে আদালত সাময়িক কোনো নির্দেশনা দেয় কিনা, তা স্পষ্ট হবে।

Share this news as a Photo Card

© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

সম্পাদক ও প্রকাশক

মোঃ মাহমুদুন্নবী জ্যোতি

অফিসঃ ২/২ আরকে মিশন রোড , ঢাকা।

ইমেলঃ chalomanbarta@yahoo.com, chalomanbarta@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১০৫৬৮৬৬, ০১৬৮১৯২৪০০০

দেশকে অর্থনৈতিক-সামাজিকভাবে শক্তিশালী অবস্থান করা সরকারের লক্ষ্য

১১ আগস্ট ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
facebook.com/dailycholomanbarta
www.cholomanbarta.com

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল স্থগিতে হাইকোর্টে রিট দায়ের

আপডেট সময় ১২:৩৭:৩৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬

সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদের বৈধতা প্রশ্নে এবং রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ঘোষিত তফসিল স্থগিত করার আবেদন জানিয়ে হাইকোর্টে একটি রিট আবেদন দায়ের করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্টের একজন আইনজীবী, অ্যাডভোকেট ইউনুছ আলী আকন্দ, এই রিটটি দাখিল করেন। আদালত সূত্রে জানা গেছে, আগামী রোববার এই রিট আবেদনের ওপর শুনানি অনুষ্ঠিত হতে পারে।
রিট আবেদনে বিবাদী হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে, জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সচিবকে এবং এই বিষয়ের সঙ্গে জড়িত অন্যান্য কর্মকর্তাদের। মূলত সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ কতটা আইনসম্মত, সেই প্রশ্ন তুলেই আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন রিটকারী, পাশাপাশি নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত সময়সূচি বাতিল বা স্থগিত করার আরজি জানিয়েছেন তিনি।
উল্লেখ্য, গত ৬ আগস্ট নির্বাচন কমিশন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের পূর্ণাঙ্গ তফসিল প্রকাশ করে। কমিশনের ঘোষণা অনুযায়ী, আগামী ২০ আগস্ট এই নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। যদি একাধিক প্রার্থী নির্বাচনী মাঠে থাকেন, তাহলে সেদিন দুপুর ২টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত জাতীয় সংসদ ভবনের অধিবেশনকক্ষে ভোট নেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।
নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদ এই তফসিল আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেন। এই নির্বাচন প্রক্রিয়ায় নির্বাচনি কর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন।
কমিশনের ঘোষিত সময়সূচি অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি পদের জন্য মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে ১৩ আগস্ট, সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত। এরপর ১৬ আগস্ট মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ের কাজ সম্পন্ন হওয়ার কথা। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের জন্য সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে ১৮ আগস্ট পর্যন্ত। সবশেষে ২০ আগস্ট নির্ধারিত হয়েছে চূড়ান্ত ভোটগ্রহণের দিন হিসেবে।
এই রিট আবেদন দায়েরের মধ্য দিয়ে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন ঘিরে নতুন এক আইনি জটিলতা তৈরি হলো। সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ মূলত সংসদ সদস্যদের দলীয় সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ভোট দেওয়া বা দলত্যাগ সংক্রান্ত বিধান নিয়ে আলোচিত একটি অনুচ্ছেদ, যা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই রাজনৈতিক ও আইনি অঙ্গনে বিতর্ক চলে আসছে। এবার সেই অনুচ্ছেদের বৈধতা প্রশ্নবিদ্ধ করেই আদালতে গড়াল রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রক্রিয়া।
রোববারের শুনানিতে আদালত কী নির্দেশনা দেয়, তার ওপর নির্ভর করছে ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী নির্বাচন প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে কিনা। মনোনয়নপত্র দাখিলের প্রক্রিয়া ইতিমধ্যে শুরু হয়ে গেছে বলে জানা গেছে, ফলে রিটের ফলাফল গোটা নির্বাচনী কার্যক্রমের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
আইনি বিশেষজ্ঞদের মতে, সাংবিধানিক অনুচ্ছেদের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা একটি স্পর্শকাতর বিষয়, যার নিষ্পত্তি সাধারণত দ্রুত হয় না। ফলে রিটের চূড়ান্ত ফলাফল আসতে কিছুটা সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে আপাতত সবার নজর আগামী রোববারের শুনানির দিকে, যেখানে আদালত সাময়িক কোনো নির্দেশনা দেয় কিনা, তা স্পষ্ট হবে।

Share this news as a Photo Card