একদিকে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা, অন্যদিকে ইউরোপসেরা স্পেন। ফাইনালের মঞ্চে মুখোমুখি হতে যাচ্ছে ফুটবল বিশ্বের দুই ভিন্ন ধারার প্রতিনিধি। এক দল ফাইনালে পা রেখেছে সাত ম্যাচের সবগুলো জিতে, অন্য দল আবার নির্ধারিত ও অতিরিক্ত সময় মিলিয়ে টানা ৩৭ ম্যাচ ধরে অপরাজিত। একদিকে লিওনেল মেসির পোড় খাওয়া অভিজ্ঞতা, অন্যদিকে লামিনে ইয়ামালদের নির্ভার তারুণ্য। একদিকে টুর্নামেন্টের সবচেয়ে ধারালো আক্রমণ, অন্যদিকে সবচেয়ে দুর্ভেদ্য রক্ষণ। এমন সমানে-সমানে লড়াইয়ে কাকে এগিয়ে রাখা যায়, তার সহজ কোনো উত্তর নেই।
সাবেক ফুটবলার থেকে শুরু করে বিশ্লেষক কিংবা সমর্থক— সবার ভবিষ্যদ্বাণীতেই স্পষ্ট বিভক্তি। তবে আবেগের বদলে দলগুলোর সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স এবং বিপুল পরিমাণ পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে একটি দলকেই এগিয়ে রেখেছে অপ্টার সুপারকম্পিউটার। পরিসংখ্যানভিত্তিক এই মডেলের হিসাবে, নির্ধারিত ৯০ মিনিটে স্পেনের জয়ের সম্ভাবনা ৪৫ শতাংশ, আর্জেন্টিনার সম্ভাবনা ২৬ শতাংশ। বাকি ২৯ শতাংশ সম্ভাবনা রয়েছে ম্যাচ ড্র হয়ে অতিরিক্ত সময়ে গড়ানোর। অর্থাৎ নির্ধারিত সময়ে ফয়সালা না হলে ফাইনাল গড়াতে পারে অতিরিক্ত সময়, প্রয়োজনে টাইব্রেকারেও। তবে এই হিসাব কেবল ৯০ মিনিটের ফলাফলের জন্য প্রযোজ্য— শেষ পর্যন্ত কার হাতে শিরোপা উঠবে, তার নিশ্চয়তা দেয় না।
স্পেনকে এগিয়ে রাখার সবচেয়ে বড় কারণ হিসেবে উঠে এসেছে তাদের রক্ষণভাগের দৃঢ়তা। চলতি বিশ্বকাপে সাত ম্যাচ খেলে মাত্র একটি গোল হজম করেছে লুইস দে লা ফুয়েন্তের শিষ্যরা। এর মধ্যে ছয় ম্যাচেই জাল অক্ষত রেখেছে তারা, প্রতিপক্ষকে দেয়নি পরিষ্কার সুযোগও। পুরো টুর্নামেন্টে স্পেনের বিপক্ষে প্রতিপক্ষের সম্মিলিত প্রত্যাশিত গোলের (এক্সপেক্টেড গোল) পরিমাণ মাত্র ২.১৫, অর্থাৎ ম্যাচপ্রতি গড়ে মাত্র ০.৩১। সেমিফাইনালে কিলিয়ান এমবাপ্পের মতো তারকাকে নিয়েও কোনো গোলের দেখা পায়নি ফ্রান্স। এমন নিñিদ্র রক্ষণ নিয়েই স্পেন এখন টানা ৩৭ ম্যাচ ধরে অপরাজিত, নির্ধারিত ও অতিরিক্ত সময় মিলিয়ে। বলের দখল ধরে রাখার সামর্থ্য, মাঝমাঠে আধিপত্য এবং প্রতিপক্ষের আক্রমণের পথ বন্ধ করে দেওয়ার সক্ষমতা— সব মিলিয়ে দলটির সম্ভাবনাকে আরও উজ্জ্বল করে তুলেছে।
তবে আর্জেন্টিনাকেও খাটো করে দেখার কোনো সুযোগ নেই। এবারের বিশ্বকাপে সাত ম্যাচের সবকটি জিতেই ফাইনালে পা রেখেছে বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা। প্রতিযোগিতায় সর্বোচ্চ ১৯ গোল করে আক্রমণভাগের ধারও প্রমাণ করেছে লিওনেল স্কালোনির শিষ্যরা। সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে টানা ১৪ ম্যাচ জয়ের ধারায় রয়েছে তারা, যা তাদের আত্মবিশ্বাসের বড় ভিত্তি। আর্জেন্টিনার আরেকটি বড় শক্তি হলো, কঠিন পরিস্থিতি থেকে ম্যাচ ঘুরিয়ে আনার ক্ষমতা। সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে পিছিয়ে পড়েও শেষদিকে দুই গোল করে জয় ছিনিয়ে এনেছে তারা। নকআউট পর্বের চাপ সামলে খেলার ক্ষেত্রে লিওনেল মেসি, এমিলিয়ানো মার্তিনেজ কিংবা রদ্রিগো দে পলদের মতো অভিজ্ঞ ফুটবলারদের ভূমিকা কোনো পরিসংখ্যান দিয়ে পুরোপুরি মাপা সম্ভব নয়।
তাই সুপারকম্পিউটারের হিসাবে স্পেন এগিয়ে থাকলেও, ৪৫ শতাংশ সম্ভাবনা তাদের জয় নিশ্চিত করে না। বরং ড্র ও আর্জেন্টিনার সম্ভাবনা যোগ করলে দেখা যায়, নির্ধারিত ৯০ মিনিটে স্পেনের না জেতার সম্ভাবনাই বেশি, প্রায় ৫৫ শতাংশ। অর্থাৎ পরিসংখ্যানের বিচারে স্পেন কিছুটা এগিয়ে থাকলেও, ব্যবধান এমন নয় যে ফাইনালের ফলাফল আগেভাগেই লিখে রাখা যায়। মাঠের লড়াইয়ে শেষ পর্যন্ত কে হাসবে, তার জবাব মিলবে খেলা শেষেই।
চলমান বার্তা ডেস্ক : 




















