নিজস্ব প্রতিবেদক
ঢাকা, ২৩ জুন ২০২৬
ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) দাবি করেছে, দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীকে কেন্দ্র করে নিষিদ্ধঘোষিত রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের বড় ধরনের নাশকতার পরিকল্পনা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতায় ভেস্তে গেছে। আজ মঙ্গলবার সকালে পুরান ঢাকার হোসেনি দালান ইমামবারায় পবিত্র আশুরা উপলক্ষে তাজিয়া মিছিলের নিরাপত্তা ব্যবস্থা পরিদর্শন শেষে এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে এ কথা জানান ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমদ।
ডিএমপি প্রধান জানান, দুই বছর আগে ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতাচ্যুত এবং পরবর্তীতে কার্যক্রম নিষিদ্ধ হওয়া আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতারা বর্তমানে আত্মগোপনে রয়েছেন। সেখান থেকেই তারা আজ দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে দেশব্যাপী আকস্মিক মিছিল ও সমাবেশের ডাক দিয়েছিল। এই কর্মসূচির আড়ালে রাজধানীতে একটি অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি করার সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্য পুলিশের কাছে ছিল।
কড়া নজরদারিতে রাজধানী, প্রবেশপথে তল্লাশি
ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমদ বলেন, “আওয়ামী লীগ আজকের এই পরিকল্পিত জমায়েত বা মিছিলের মাধ্যমে মূলত অন্তর্বর্তী সরকারকে একটি বিব্রতকর পরিস্থিতিতে ফেলতে চেয়েছিল। একই সাথে তাদের উদ্দেশ্য ছিল ঢাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটানো। তবে আমাদের দূরদর্শী ও সমন্বিত নিরাপত্তা ব্যবস্থার কারণে তাদের সেই পরিকল্পনা আমরা এখন পর্যন্ত সম্পূর্ণ নস্যাৎ করে দিতে পেরেছি।”
তিনি আরও আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, দিনের বাকি সময়টাতেও নিষিদ্ধ এই সংগঠনের কর্মীরা যাতে কোথাও কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা বা অবৈধ জমায়েত করতে না পারে, সেজন্য পুলিশ সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
গোয়েন্দা তথ্যের বরাত দিয়ে ডিএমপি কমিশনার জানান, কেবল ঢাকার অভ্যন্তরীণ কর্মীই নয়, বরং ঢাকার বাইরের বিভিন্ন জেলা থেকেও গণপরিবহন ও বিকল্প উপায়ে আওয়ামী লীগের বিপুল সংখ্যক সমর্থককে রাজধানীতে জড়ো করার একটি সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা ছিল। এই তথ্য আগাম জানতে পেরে গত তিন দিন ধরে ঢাকা শহরের প্রবেশমুখ, সীমান্ত এলাকা, ট্রেন ও বাস স্টেশনগুলোতে কড়া পাহারা বসানো হয়েছে। বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে অতিরিক্ত চেকপোস্ট বসিয়ে সন্দেহভাজনদের তল্লাশি করা হচ্ছে। এছাড়া মহানগরের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মোবাইল প্যাট্রোল ও সাদাপোশাকে গোয়েন্দা নজরদারি বহুগুণ বাড়ানো হয়েছে।
গ্রেপ্তার ২৬, ককটেল বিস্ফোরণের সূত্র ধরে তদন্ত
পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নাশকতা ঠেকাতে গত রাত থেকে রাজধানীর বিভিন্ন আবাসিক হোটেল, মেস এবং সন্দেহভাজন আস্তানাগুলোতে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের ২৬ জন নেতা-কর্মীকে গ্রেপ্তার করার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে ডিএমপি।
সংবাদ ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ডিএমপি কমিশনার বলেন, “ইতিমধ্যে দলটির ঝটিকা মিছিল থেকে ককটেল বা হাতবোমা বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনা থেকে এটি অত্যন্ত স্পষ্ট যে, সুযোগ পেলে তারা বড় ধরনের কোনো নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড ঘটাত। তবে তাদের মূল ছকটি ঠিক কী ছিল, তা পুরোপুরি উদঘাটন করতে গ্রেপ্তারকৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।”
আশুরার নিরাপত্তা ও কারামুক্ত আসামিদের প্রসঙ্গ
এদিন পবিত্র আশুরা ও তাজিয়া মিছিলের নিরাপত্তা নিয়ে বিশদ তথ্য তুলে ধরেন মোসলেহ উদ্দিন আহমদ। তিনি জানান, এবার রাজধানীজুড়ে ছোট-বড় মিলিয়ে মোট ৬৩টি তাজিয়া মিছিল বের হবে। লালবাগ, ওয়ারী, রমনা, তেজগাঁও, মতিঝিল ও মিরপুরসহ মোট ২৮টি ইমামবাড়ার উদ্যোগে ১ মহররম থেকে ১০ মহররম পর্যন্ত বিভিন্ন ধাপে এই মিছিলগুলো অনুষ্ঠিত হবে। প্রতিটি মিছিলের রুট ও সময় আগে থেকেই সুনির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়েছে এবং সেখানে পর্যাপ্ত পুলিশ মোতায়েন থাকবে।
ব্রিফিংয়ের শেষভাগে সাংবাদিকরা জানতে চান, অতীতে তাজিয়া মিছিলে যারা জঙ্গি বা সন্ত্রাসী হামলা চালিয়েছিল, তাদের কয়েকজন ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর কারামুক্ত হয়েছে; এতে এবার কোনো নিরাপত্তা ঝুঁকি রয়েছে কি না?
জবাবে ডিএমপি কমিশনার আশ্বস্ত করে বলেন, “এখন পর্যন্ত আমাদের কাছে সুনির্দিষ্ট কোনো হামলার আলামত বা হুমকি নেই। তা সত্ত্বেও, অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে আমরা এবার সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় আছি। যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি বা নাশকতার চেষ্টা কঠোর হস্তে দমন করতে বাংলাদেশ পুলিশ সম্পূর্ণ প্রস্তুত।”
চলমান বার্তা ডেস্ক : 



















