মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ ৭ জনের মৃত্যুদণ্ডের রায়কে ‘ক্যাঙারু কোর্টের রায়’ বলে মন্তব্য করেছিলেন দুই আওয়ামীপন্থি আইনজীবী। সেই মন্তব্যের জেরে আদালত অবমাননার অভিযোগে অভিযুক্ত হয়ে অবশেষে ট্রাইব্যুনালে হাজির হলেন তাঁরা, আর চাইলেন নিঃশর্ত ক্ষমা।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) সকালে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এ সশরীরে উপস্থিত হয়ে ক্ষমা প্রার্থনা করেন হাসানুজ্জামান তুষার ও হাসান চৌধুরী। শুনানি শেষে তাঁদের আদালত অবমাননা কতটা গুরুতর ছিল, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানাবেন ট্রাইব্যুনাল।
এই মামলাকে ঘিরে ট্রাইব্যুনালের নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। ট্রাইব্যুনাল-২-এর অন্য সব মামলার শুনানি বাতিল রাখা হয়েছে। পাশাপাশি আইনজীবীদের প্রবেশের ক্ষেত্রেও আরোপ করা হয়েছে কড়াকড়ি।
ঘটনার সূত্রপাত গত ১৫ সেপ্টেম্বর। ওই দিন ওবায়দুল কাদের, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম ও মোহাম্মদ আলী আরাফাতসহ ৭ জনকে মৃত্যুদণ্ডের রায় দেওয়া হয়। এই রায়কে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিরূপ মন্তব্য করার অভিযোগ ওঠে দুই আইনজীবীর বিরুদ্ধে। পরদিন ১৬ সেপ্টেম্বর তাঁদের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার অভিযোগ আনে প্রসিকিউশন।
সেদিন প্রসিকিউশন জানায়, মন্তব্যকারী দুজন পেশায় আইনজীবী। ফলে তাঁদের কথায় আদালত সম্পর্কে সাধারণ মানুষের মনে বিভ্রান্তিকর ধারণা তৈরি হতে পারে। এই কারণেই তাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে বলে জানায় পক্ষটি।
এ মামলার শুনানি গত ২৩ সেপ্টেম্বর হওয়ার কথা থাকলেও একজন বিচারক অসুস্থ থাকায় তা পিছিয়ে যায়। সেদিনও অভিযুক্ত দুই আইনজীবী ব্যাখ্যা দিতে ট্রাইব্যুনালে এসেছিলেন। তাঁদের সঙ্গে আওয়ামীপন্থি আরও কয়েকজন আইনজীবী এলেও নিরাপত্তার স্বার্থে কাউকেই ভেতরে ঢুকতে দেওয়া হয়নি।
নিজস্ব প্রতিবেদক 



















