শিরোনাম :
আগস্টে শুরু হচ্ছে ঢাকা-পাবনা সরাসরি ট্রেন চলাচল, ঘোষণা রেলমন্ত্রীর পেলের ব্রাজিলের বিশ্বরেকর্ড ভাঙল ডাচরা, সুইডেনকে ৫-১ গোলে ওড়াল নেদারল্যান্ডস আওয়ামী লীগের মূল টার্গেট কেন ড. ইউনূস? যাহের আলভীর কারাদণ্ড: মৃত্যুর আগে বন্ধুদের কী বলেছিলেন স্ত্রী ইকরা? মেসি কি আর্জেন্টিনার জার্সি ছেড়ে ব্রাজিলে খেলবেন? লুলার মন্তব্যে শোরগোল বিশ্বকাপ ২০২৬: প্রথম রাউন্ড শেষে নকআউটের দৌড়ে কারা এগিয়ে? রাত পোহালেই আলজেরিয়া বধের মিশন: বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার উদ্বোধনী ম্যাচের ইতিহাস কী বলছে? ঢাকার ভেতর আর থাকবে না দূরপাল্লার বাস: চার টার্মিনাল সরানোর মাস্টারপ্ল্যান, কোনটি যাচ্ছে কোথায়? মিরপুরে শেষ বলের নাটকীয়তা: বাংলাদেশকে ১ উইকেটে হারিয়ে অস্ট্রেলিয়ার সান্ত্বনার জয় দুবাইয়ে গ্রেপ্তার সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ

যাহের আলভীর কারাদণ্ড: মৃত্যুর আগে বন্ধুদের কী বলেছিলেন স্ত্রী ইকরা?

ঢাকা, ১৯ জুন ২০২৬

টেলিভিশন নাটকের পরিচিত মুখ যাহের আলভী এখন শ্রীঘরে। স্ত্রী আফরা ইভনাথ খান ইকরাকে আত্মহত্যায় প্ররোচনা দেওয়ার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় ঢাকার একটি আদালত তাঁর জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন। গত বৃহস্পতিবার আদালতের এই আদেশের পর শোবিজ অঙ্গনসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে নতুন করে চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে।

​তবে এই আইনি প্রক্রিয়ার সমান্তরালে এখন সবচেয়ে বেশি আলোচনায় উঠে এসেছে ইকরার মৃত্যুর ঠিক আগের কয়েক ঘণ্টার ঘটনা। মৃত্যুর পূর্বে বন্ধুদের সঙ্গে ইকরার শেষ কথোপকথন, তাঁর মানসিক অবস্থা এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে একের পর এক যেসব তথ্য সামনে আসছে, তা এই মৃত্যুকে ঘিরে তৈরি করেছে গভীর এক রহস্যের জাল।

​ইকরার পরিবার এবং ঘনিষ্ঠ বন্ধুদের দাবি—যিনি জীবনের নতুন অধ্যায় শুরুর পরিকল্পনা করছিলেন, তিনি হঠাৎ কেন আত্মহননের পথ বেছে নেবেন?

​সেই শেষ সকাল: নেপাল যাওয়ার বার্তা ও ইফতারের নিমন্ত্রণ

​চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর মিরপুর ডিওএইচএস এলাকার একটি বাসা থেকে ইকরার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। প্রাথমিকভাবে ঘটনাটিকে আত্মহত্যা বলে ধারণা করা হলেও, শুরু থেকেই তা মেনে নিতে নারাজ ইকরার পরিবার ও বন্ধুরা।

​ইকরার দীর্ঘদিনের দুই বান্ধবী সামিয়া আলম ও খাদিজা লুপিনের দেওয়া বিবরণ অনুযায়ী, ঘটনার দিন সকালেও ইকরাকে ভীষণ স্বাভাবিক এবং সক্রিয় দেখা গেছে। তিন বন্ধুর যোগাযোগের প্রধান মাধ্যম ছিল ফেসবুকের একটি ব্যক্তিগত চ্যাট গ্রুপ। সেখানে প্রতিদিনের মতো সেদিন সকালেও কথা বলেন ইকরা।

​সামিয়া আলমের ভাষ্যমতে, সেদিন সকাল ১০টা ৪৬ মিনিটে ইকরা ওই গ্রুপে একটি বার্তা পাঠান। সেখানে তিনি হঠাৎ করেই ‘নেপালে চলে যাওয়ার’ কথা উল্লেখ করেন।

​সামিয়া বলেন,

​”আমরা ভেবেছিলাম ও হয়তো কিছুটা মানসিকভাবে বিপর্যস্ত বা স্বামীর ওপর অভিমান করে কথাটা বলেছে। কারণ, ওই দিন সন্ধ্যায় ইকরার বাসাতেই আমাদের সবার একসঙ্গে ইফতার করার কথা ছিল। আমরা ওক শান্ত করার জন্য বলেছিলাম—আগে ইফতারটা করি, সবাই একসাথে বসি, তারপর যা সিদ্ধান্ত নেওয়ার নিও।”

 

​কিন্তু সেই বার্তার পর ইকরা আর কোনো উত্তর দেননি। দুপুরের দিকে বন্ধুরা বারবার যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তাঁর ফোন আর বাজেনি। এর কিছু সময় পরই আসে সেই স্তব্ধ করে দেওয়া খবর—ইকরা আর নেই।

​বিচ্ছেদের প্রস্তুতি ও নতুন ব্যবসার পরিকল্পনা

​বন্ধুদের দাবি, ইকরা কোনোভাবেই আত্মহত্যার মতো চরম সিদ্ধান্ত নেওয়ার মতো মানুষ ছিলেন না। বরং তিনি তাঁর বৈবাহিক জীবনের টানাপোড়েন চুকিয়ে ফেলে জীবনের একটি নতুন খসড়া তৈরি করছিলেন।

​সামিয়া আলম জানান, স্বামী যাহের আলভীর সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে চলা দাম্পত্য কলহের একটি স্থায়ী সমাধান চাইছিলেন ইকরা। আলভী বিদেশ থেকে দেশে ফেরার পর তিনি চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার অপেক্ষায় ছিলেন। এমনকি বন্ধুদের সঙ্গে বিচ্ছেদ বা ডিভোর্সের সম্ভাবনা নিয়েও স্পষ্ট কথা বলেছিলেন তিনি।

​”ইকরা আমাদের বলেছিল, আলভী দেশে ফিরলে সে একটা চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে। সে ডিভোর্স দেওয়ার কথাও ভাবছিল। একই সাথে সে নিজে স্বাবলম্বী হওয়ার জন্য নতুন করে একটা ব্যবসা শুরু করার পরিকল্পনাও করছিল,” বলেন সামিয়া।

​ইকরার চিন্তাভাবনার বড় অংশজুড়ে ছিল তাঁর একমাত্র সন্তান ‘রিজিক’। সন্তানকে কীভাবে বড় করবেন, কোন স্কুলে পড়াবেন এবং নিজের নতুন কর্মজীবন কীভাবে সাজাবেন—তা নিয়ে মৃত্যুর কয়েক দিন আগেও বন্ধুদের সঙ্গে বিশদ আলোচনা করেছেন তিনি। ফলে বন্ধুদের মনে গভীর প্রশ্ন জেগেছে, যে নারী সন্তান ও নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে এত আশাবাদী ছিলেন, তিনি কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে কেন এমন পথ বেছে নিলেন?

​’ফোনে আলভী কী বলেছিল?’ — প্রশ্ন বন্ধুদের

​সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইকরার বন্ধুদের দেওয়া বক্তব্য এখন এই মামলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মনস্তাত্ত্বিক উপাদান হয়ে দাঁড়িয়েছে। মৃত্যুর ঠিক আগের মুহূর্তে স্বামীর সঙ্গে ইকরার কোনো উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় হয়েছিল কি না, তা নিয়ে সন্দিহান তাঁরা।

​সামিয়া আলম সামাজিক মাধ্যমে প্রশ্ন তুলেছেন,

​”ঠিক ওই সময়টাতে ফোনে আলভী ইকরাকে কী এমন বলেছিল যা ও আর সহ্য করতে পারেনি? আমরা কেউ সেটা জানি না। কিন্তু এই রহস্যের জট খোলা প্রয়োজন। পুলিশ ও আদালতের উচিত ফোনের কল রেকর্ড ও বার্তাগুলো খতিয়ে দেখা।”

 

​মামলা, পরকীয়া ও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ

​আদালত সূত্রে জানা গেছে, ইকরার মৃত্যুর পর তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকে যাহের আলভীর বিরুদ্ধে আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলা দায়ের করা হয়। মামলার এজাহারে ইকরার ওপর দীর্ঘদিনের পারিবারিক কলহ এবং তীব্র মানসিক নির্যাতনের বিবরণ দেওয়া হয়েছে।

​অভিযোগে বলা হয়েছে, বিগত প্রায় দুই বছর আগে ইকরা জানতে পারেন যে যাহের আলভী এক বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েছেন। এই পরকীয়ার বিষয়টিকে কেন্দ্র করে তাঁদের দাম্পত্য জীবনে বিরোধ চরম আকার ধারণ করে। দিনের পর দিন আলভীর অবহেলা এবং মানসিক চাপ সহ্য করতে না পেরেই ইকরা চরম সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হন বলে পরিবারের দাবি।

​ইকরার বাবাও সম্প্রতি গণমাধ্যমের সামনে এসে অভিনেতা যাহের আলভীর সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করেছেন।

​আলভীর আচরণ ও রহস্যময় অবস্থান

​ইকরার মৃত্যুর পরপরই অভিনেতা যাহের আলভীর ভূমিকা নিয়েও নানা প্রশ্ন উঠেছে। ঘটনার পর প্রথম দিকে তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অত্যন্ত আবেগঘন পোস্ট এবং ফেসবুক লাইভে এসে শোক প্রকাশ করেন। নিজেকে নির্দোষ দাবি করে কান্নায় ভেঙে পড়তেও দেখা যায় তাঁকে।

​তবে সময়ের সাথে সাথে আলভীর সামাজিক মাধ্যমের ভাষা বদলে যেতে শুরু করে। তাঁর একাধিক পরবর্তী পোস্ট ও মন্তব্য নেটিজেনদের মধ্যে নতুন বিতর্কের জন্ম দেয়। নেটিজেনদের একাংশের মতে, আলভীর এই ভিন্নধর্মী অবস্থান ও বক্তব্য তাঁর অপরাধবোধ কিংবা ঘটনা আড়ালের চেষ্টারই বহিঃপ্রকাশ।

​আদালত আপাতত জামিন নামঞ্জুর করে যাহের আলভীকে কারাগারে পাঠালেও, তদন্তকারী কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ইকরার মৃত্যুর পেছনের প্রকৃত কারণ, ডিজিটাল ফরেনসিক তথ্য এবং কল রেকর্ড পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে বিশ্লেষণ করা হচ্ছে।

​ভবিষ্যতের স্বপ্ন বুনতে বুনতে একটি জীবনের এমন আকস্মিক ও করুণ অবসান কেবল একটি পরিবারকেই ধ্বংস করেনি, বরং বিনোদন অঙ্গনজুড়ে রেখে গেছে এক বিশাল প্রশ্নবোধক চিহ্ন। ইকরার বন্ধুদের তোলা প্রশ্নগুলোর উত্তর মিলবে কি না, তা এখন আদালতের আইনি প্রক্রিয়ার ওপরই নির্ভর করছে।

© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

আগস্টে শুরু হচ্ছে ঢাকা-পাবনা সরাসরি ট্রেন চলাচল, ঘোষণা রেলমন্ত্রীর

সম্পাদক ও প্রকাশক

মোঃ মাহমুদুন্নবী জ্যোতি

অফিসঃ ২/২ আরকে মিশন রোড , ঢাকা।

ইমেলঃ chalomanbarta@yahoo.com, chalomanbarta@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১০৫৬৮৬৬, ০১৬৮১৯২৪০০০

যাহের আলভীর কারাদণ্ড: মৃত্যুর আগে বন্ধুদের কী বলেছিলেন স্ত্রী ইকরা?

আপডেট সময় ১০:০৭:৪৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬

ঢাকা, ১৯ জুন ২০২৬

টেলিভিশন নাটকের পরিচিত মুখ যাহের আলভী এখন শ্রীঘরে। স্ত্রী আফরা ইভনাথ খান ইকরাকে আত্মহত্যায় প্ররোচনা দেওয়ার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় ঢাকার একটি আদালত তাঁর জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন। গত বৃহস্পতিবার আদালতের এই আদেশের পর শোবিজ অঙ্গনসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে নতুন করে চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে।

​তবে এই আইনি প্রক্রিয়ার সমান্তরালে এখন সবচেয়ে বেশি আলোচনায় উঠে এসেছে ইকরার মৃত্যুর ঠিক আগের কয়েক ঘণ্টার ঘটনা। মৃত্যুর পূর্বে বন্ধুদের সঙ্গে ইকরার শেষ কথোপকথন, তাঁর মানসিক অবস্থা এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে একের পর এক যেসব তথ্য সামনে আসছে, তা এই মৃত্যুকে ঘিরে তৈরি করেছে গভীর এক রহস্যের জাল।

​ইকরার পরিবার এবং ঘনিষ্ঠ বন্ধুদের দাবি—যিনি জীবনের নতুন অধ্যায় শুরুর পরিকল্পনা করছিলেন, তিনি হঠাৎ কেন আত্মহননের পথ বেছে নেবেন?

​সেই শেষ সকাল: নেপাল যাওয়ার বার্তা ও ইফতারের নিমন্ত্রণ

​চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর মিরপুর ডিওএইচএস এলাকার একটি বাসা থেকে ইকরার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। প্রাথমিকভাবে ঘটনাটিকে আত্মহত্যা বলে ধারণা করা হলেও, শুরু থেকেই তা মেনে নিতে নারাজ ইকরার পরিবার ও বন্ধুরা।

​ইকরার দীর্ঘদিনের দুই বান্ধবী সামিয়া আলম ও খাদিজা লুপিনের দেওয়া বিবরণ অনুযায়ী, ঘটনার দিন সকালেও ইকরাকে ভীষণ স্বাভাবিক এবং সক্রিয় দেখা গেছে। তিন বন্ধুর যোগাযোগের প্রধান মাধ্যম ছিল ফেসবুকের একটি ব্যক্তিগত চ্যাট গ্রুপ। সেখানে প্রতিদিনের মতো সেদিন সকালেও কথা বলেন ইকরা।

​সামিয়া আলমের ভাষ্যমতে, সেদিন সকাল ১০টা ৪৬ মিনিটে ইকরা ওই গ্রুপে একটি বার্তা পাঠান। সেখানে তিনি হঠাৎ করেই ‘নেপালে চলে যাওয়ার’ কথা উল্লেখ করেন।

​সামিয়া বলেন,

​”আমরা ভেবেছিলাম ও হয়তো কিছুটা মানসিকভাবে বিপর্যস্ত বা স্বামীর ওপর অভিমান করে কথাটা বলেছে। কারণ, ওই দিন সন্ধ্যায় ইকরার বাসাতেই আমাদের সবার একসঙ্গে ইফতার করার কথা ছিল। আমরা ওক শান্ত করার জন্য বলেছিলাম—আগে ইফতারটা করি, সবাই একসাথে বসি, তারপর যা সিদ্ধান্ত নেওয়ার নিও।”

 

​কিন্তু সেই বার্তার পর ইকরা আর কোনো উত্তর দেননি। দুপুরের দিকে বন্ধুরা বারবার যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তাঁর ফোন আর বাজেনি। এর কিছু সময় পরই আসে সেই স্তব্ধ করে দেওয়া খবর—ইকরা আর নেই।

​বিচ্ছেদের প্রস্তুতি ও নতুন ব্যবসার পরিকল্পনা

​বন্ধুদের দাবি, ইকরা কোনোভাবেই আত্মহত্যার মতো চরম সিদ্ধান্ত নেওয়ার মতো মানুষ ছিলেন না। বরং তিনি তাঁর বৈবাহিক জীবনের টানাপোড়েন চুকিয়ে ফেলে জীবনের একটি নতুন খসড়া তৈরি করছিলেন।

​সামিয়া আলম জানান, স্বামী যাহের আলভীর সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে চলা দাম্পত্য কলহের একটি স্থায়ী সমাধান চাইছিলেন ইকরা। আলভী বিদেশ থেকে দেশে ফেরার পর তিনি চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার অপেক্ষায় ছিলেন। এমনকি বন্ধুদের সঙ্গে বিচ্ছেদ বা ডিভোর্সের সম্ভাবনা নিয়েও স্পষ্ট কথা বলেছিলেন তিনি।

​”ইকরা আমাদের বলেছিল, আলভী দেশে ফিরলে সে একটা চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে। সে ডিভোর্স দেওয়ার কথাও ভাবছিল। একই সাথে সে নিজে স্বাবলম্বী হওয়ার জন্য নতুন করে একটা ব্যবসা শুরু করার পরিকল্পনাও করছিল,” বলেন সামিয়া।

​ইকরার চিন্তাভাবনার বড় অংশজুড়ে ছিল তাঁর একমাত্র সন্তান ‘রিজিক’। সন্তানকে কীভাবে বড় করবেন, কোন স্কুলে পড়াবেন এবং নিজের নতুন কর্মজীবন কীভাবে সাজাবেন—তা নিয়ে মৃত্যুর কয়েক দিন আগেও বন্ধুদের সঙ্গে বিশদ আলোচনা করেছেন তিনি। ফলে বন্ধুদের মনে গভীর প্রশ্ন জেগেছে, যে নারী সন্তান ও নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে এত আশাবাদী ছিলেন, তিনি কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে কেন এমন পথ বেছে নিলেন?

​’ফোনে আলভী কী বলেছিল?’ — প্রশ্ন বন্ধুদের

​সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইকরার বন্ধুদের দেওয়া বক্তব্য এখন এই মামলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মনস্তাত্ত্বিক উপাদান হয়ে দাঁড়িয়েছে। মৃত্যুর ঠিক আগের মুহূর্তে স্বামীর সঙ্গে ইকরার কোনো উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় হয়েছিল কি না, তা নিয়ে সন্দিহান তাঁরা।

​সামিয়া আলম সামাজিক মাধ্যমে প্রশ্ন তুলেছেন,

​”ঠিক ওই সময়টাতে ফোনে আলভী ইকরাকে কী এমন বলেছিল যা ও আর সহ্য করতে পারেনি? আমরা কেউ সেটা জানি না। কিন্তু এই রহস্যের জট খোলা প্রয়োজন। পুলিশ ও আদালতের উচিত ফোনের কল রেকর্ড ও বার্তাগুলো খতিয়ে দেখা।”

 

​মামলা, পরকীয়া ও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ

​আদালত সূত্রে জানা গেছে, ইকরার মৃত্যুর পর তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকে যাহের আলভীর বিরুদ্ধে আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলা দায়ের করা হয়। মামলার এজাহারে ইকরার ওপর দীর্ঘদিনের পারিবারিক কলহ এবং তীব্র মানসিক নির্যাতনের বিবরণ দেওয়া হয়েছে।

​অভিযোগে বলা হয়েছে, বিগত প্রায় দুই বছর আগে ইকরা জানতে পারেন যে যাহের আলভী এক বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েছেন। এই পরকীয়ার বিষয়টিকে কেন্দ্র করে তাঁদের দাম্পত্য জীবনে বিরোধ চরম আকার ধারণ করে। দিনের পর দিন আলভীর অবহেলা এবং মানসিক চাপ সহ্য করতে না পেরেই ইকরা চরম সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হন বলে পরিবারের দাবি।

​ইকরার বাবাও সম্প্রতি গণমাধ্যমের সামনে এসে অভিনেতা যাহের আলভীর সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করেছেন।

​আলভীর আচরণ ও রহস্যময় অবস্থান

​ইকরার মৃত্যুর পরপরই অভিনেতা যাহের আলভীর ভূমিকা নিয়েও নানা প্রশ্ন উঠেছে। ঘটনার পর প্রথম দিকে তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অত্যন্ত আবেগঘন পোস্ট এবং ফেসবুক লাইভে এসে শোক প্রকাশ করেন। নিজেকে নির্দোষ দাবি করে কান্নায় ভেঙে পড়তেও দেখা যায় তাঁকে।

​তবে সময়ের সাথে সাথে আলভীর সামাজিক মাধ্যমের ভাষা বদলে যেতে শুরু করে। তাঁর একাধিক পরবর্তী পোস্ট ও মন্তব্য নেটিজেনদের মধ্যে নতুন বিতর্কের জন্ম দেয়। নেটিজেনদের একাংশের মতে, আলভীর এই ভিন্নধর্মী অবস্থান ও বক্তব্য তাঁর অপরাধবোধ কিংবা ঘটনা আড়ালের চেষ্টারই বহিঃপ্রকাশ।

​আদালত আপাতত জামিন নামঞ্জুর করে যাহের আলভীকে কারাগারে পাঠালেও, তদন্তকারী কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ইকরার মৃত্যুর পেছনের প্রকৃত কারণ, ডিজিটাল ফরেনসিক তথ্য এবং কল রেকর্ড পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে বিশ্লেষণ করা হচ্ছে।

​ভবিষ্যতের স্বপ্ন বুনতে বুনতে একটি জীবনের এমন আকস্মিক ও করুণ অবসান কেবল একটি পরিবারকেই ধ্বংস করেনি, বরং বিনোদন অঙ্গনজুড়ে রেখে গেছে এক বিশাল প্রশ্নবোধক চিহ্ন। ইকরার বন্ধুদের তোলা প্রশ্নগুলোর উত্তর মিলবে কি না, তা এখন আদালতের আইনি প্রক্রিয়ার ওপরই নির্ভর করছে।