শিরোনাম :
ত্রিপক্ষীয় শান্তি আলোচনায় রাশিয়া, ইউক্রেন,যুক্তরাষ্ট্র মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরানে নতুন হামলার ছক কষছে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল ব্যাটিং ব্যর্থতায় ফাইনালের স্বপ্ন শেষ, দায় স্বীকার করলেন হৃদয় ১৩ বছর বয়সী মাদ্রাসাছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ শিক্ষকের বিরুদ্ধে ঢাকার যানজট কমাতে পুরোনো বাস সরানোসহ সরকারের চার উদ্যোগ সাজেক ভ্যালি সাময়িক বন্ধ ঘোষণা প্রশাসনের দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারে তারেক রহমানের আপোষ নেই ধর্মপালনে কারও হৃদয়ে আর রক্তক্ষরণ হবে না: শিক্ষামন্ত্রী ‘বদর সমঝোতা স্মারকে’ সই করল পাকিস্তানসহ চার দেশ হুথি হামলার মুখে সৌদি আরব থেকে কূটনীতিকদের সরাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

ঢাকার যানজট কমাতে পুরোনো বাস সরানোসহ সরকারের চার উদ্যোগ

রাজধানীর যানজট কমানো, গণপরিবহনে শৃঙ্খলা ফেরানো এবং যাত্রীসেবার মান বাড়াতে চারটি উদ্যোগ বাস্তবায়নের পরিকল্পনা করছে সরকার। এর মধ্যে রয়েছে ২০ বছরের বেশি পুরোনো বাস সড়ক থেকে সরিয়ে নেওয়া, গুরুত্বপূর্ণ এলাকার বাস টার্মিনাল স্থানান্তর, পুরোনো ৩১টি সড়ক রুট সংস্কার এবং অটোরিকশার চলাচল নিয়ন্ত্রণে নীতিমালা প্রণয়ন।

সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা এবং বাস মালিক সমিতির প্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বলে এসব উদ্যোগের বিষয়ে জানা গেছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, উদ্যোগগুলো সমন্বিতভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে সড়কে যানবাহনের চাপ কমবে, গণপরিবহনের চলাচল ব্যবস্থাপনা উন্নত হবে এবং সড়ক নিরাপত্তা জোরদারের সুযোগ তৈরি হবে। তবে এর সুফল পেতে সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা, সময়সীমা, বিকল্প পরিবহন এবং সংস্থাগুলোর মধ্যে কার্যকর সমন্বয় জরুরি।

সড়ক পরিবহন ও সেতু এবং রেলপথ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব বলেন, বিচ্ছিন্নভাবে কোনো পদক্ষেপ নিলে কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া কঠিন। চারটি উদ্যোগকেই একটি সমন্বিত পরিকল্পনার আওতায় বাস্তবায়নের বিষয়টি সরকার গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে। যাত্রীদের ভোগান্তি কমানো, সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং গণপরিবহণ ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করাই প্রধান লক্ষ্য হবে বলে জানান তিনি।

রাজধানীর যানজট এখন শুধু যাতায়াতের দুর্ভোগ নয়। এটি নগর অর্থনীতি, কর্মঘণ্টা, জ্বালানি ব্যয়, জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশের ওপরও চাপ ফেলছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু নতুন সড়ক ও উড়ালসড়ক নির্মাণ করে ঢাকার যানজটের টেকসই সমাধান সম্ভব নয়। বিদ্যমান সড়কের কার্যকর ব্যবহার, বাসের রুট ও চলাচল ব্যবস্থাপনা, যানবাহনের মান নিয়ন্ত্রণ এবং বিভিন্ন গণপরিবহনের মধ্যে সমন্বয়ও দরকার।

পুরোনো ও ফিটনেসবিহীন বাসের একটি অংশ যান্ত্রিক ত্রুটি, রক্ষণাবেক্ষণের অভাব ও অতিরিক্ত ধোঁয়ার কারণে সড়ক নিরাপত্তা ও পরিবেশের জন্য ঝুঁকি তৈরি করছে। এ প্রেক্ষাপটে ২০ বছরের বেশি পুরোনো বাস সরানোর উদ্যোগ মান উন্নয়নের একটি পদক্ষেপ হতে পারে। তবে এতে সরবরাহে ঘাটতি দেখা দিলে যাত্রীদের ভোগান্তি বাড়তে পারে। তাই বিকল্প বাসের ব্যবস্থা, যানবাহনের প্রকৃত সংখ্যা যাচাই এবং পর্যায়ক্রমে সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি চালকদের প্রশিক্ষণ, নির্ধারিত কর্মঘণ্টা ও নিয়মিত ফিটনেস পরীক্ষায় নজরদারি নিশ্চিত করতে হবে।

সায়েদাবাদ, গাবতলী, মহাখালী ও গুলিস্তানসহ গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় বাসের চাপ, যাত্রী ওঠানামা, পার্কিং এবং আন্তঃজেলা বাসের প্রবেশ-বহির্গমন নগর চলাচলে প্রভাব ফেলে। এসব এলাকার টার্মিনাল স্থানান্তর বা ব্যবস্থাপনা উন্নত করা হলে কেন্দ্রীয় সড়কে চাপ কমার সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে এটি শুধু বাস রাখার জায়গা বদলের বিষয় নয়। নতুন টার্মিনালের অবস্থান, সড়ক যোগাযোগ, যাত্রীর যাতায়াত সময়, ভাড়া, নিরাপত্তা ও অন্যান্য গণপরিবহনের সঙ্গে সংযোগও বিবেচনায় নিতে হবে। শহরের প্রান্তে টার্মিনাল গেলে সেখান থেকে গন্তব্যে যেতে পর্যাপ্ত বাস, মেট্রোরেল বা অন্য সংযোগ না থাকলে ভোগান্তি বাড়তে পারে।

পুরোনো ৩১টি সড়ক রুট সংস্কারের উদ্যোগ গণপরিবহন ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তনের সুযোগ তৈরি করতে পারে। তবে কোন কোন রুট এর আওতায় থাকছে এবং কী ধরনের পরিবর্তন আসবে, তা সুনির্দিষ্টভাবে নির্ধারণ করা প্রয়োজন। রুট সংস্কার মানে কেবল সড়কের উপরিতল মেরামত নয়। স্টপেজের অবস্থান, যাত্রী ওঠানামার স্থান, সংযোগ সড়ক ও যানবাহনের প্রবেশ-বহির্গমনের ব্যবস্থাও এর অংশ। একই পথে একাধিক কোম্পানির প্রতিযোগিতা, নির্ধারিত স্টপেজের বাইরে বাস থামানো এবং যাত্রী তুলতে হঠাৎ লেন বদলের কারণে চলাচল ব্যাহত হয়। রুট পরিবর্তনে কোনো এলাকার যাত্রী যেন সরাসরি পরিবহণসেবা থেকে বঞ্চিত না হন, সেটিও নিশ্চিত করা দরকার।

অটোরিকশার চলাচল নিয়ন্ত্রণে নীতিমালা প্রণয়নও পরিকল্পনার অংশ। বিশেষ করে ব্যাটারিচালিত তিন চাকার যান নিয়ে যানজট ও সড়ক নিরাপত্তার প্রশ্নে দীর্ঘদিন ধরে উদ্বেগ রয়েছে। নীতিমালায় নিবন্ধন, চালকের যোগ্যতা, নিরাপত্তার মান, অনুমোদিত চলাচল এলাকা, পার্কিং ও আইন লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে ব্যবস্থার বিষয় থাকতে পারে। তবে শুধু নিষেধাজ্ঞায় টেকসই সমাধান আসবে না। বিকল্প যাতায়াত, নির্ধারিত স্ট্যান্ড ও বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা থাকা চাই। চালক, মালিক, যাত্রী ও স্থানীয় প্রতিনিধিদের মতামত নিলে বাস্তবায়ন সহজ হতে পারে।

সড়ক পরিবহন ও সেতু বিভাগের সচিব ড. মোহাম্মদ জিয়াউল হক বলেন, পরিকল্পনার পাশাপাশি বাস্তবায়নযোগ্য কর্মপরিকল্পনা, দায়িত্ব বণ্টন ও নিয়মিত অগ্রগতি মূল্যায়ন করা হবে। সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় রেখে এগোতে পারলে সড়কে শৃঙ্খলা ও যাত্রীসেবায় ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব। জনস্বার্থ, সড়ক নিরাপত্তা ও গণপরিবহনের সহজলভ্যতাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

এ জন্য সড়ক পরিবহণ ও সেতু মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহণ কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ), ঢাকা পরিবহণ সমন্বয় কর্তৃপক্ষ (ডিটিসিএ), ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন, ট্র্যাফিক পুলিশ ও পরিবহণমালিকদের মধ্যে কার্যকর সমন্বয় প্রয়োজন। কোন সংস্থা কী করবে, কত সময়ের মধ্যে করবে এবং অগ্রগতি কীভাবে মাপা হবে, তা স্পষ্ট করতে হবে। সংশ্লিষ্টদের মতে, কার্যকারিতা যাচাইয়ে বাসের গড় যাত্রাসময়, স্টপেজে অপেক্ষার সময়, যানজটের স্থায়িত্ব, সড়ক দুর্ঘটনার হার ও যাত্রীসংখ্যাকে সূচক হিসেবে ব্যবহার করা যেতে পারে। যাত্রীদের অভিযোগ জানানোর সুযোগ এবং তা নিষ্পত্তির কার্যকর ব্যবস্থাও গড়ে তুলতে হবে।

Share this news as a Photo Card

© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

জনপ্রিয় সংবাদ

ত্রিপক্ষীয় শান্তি আলোচনায় রাশিয়া, ইউক্রেন,যুক্তরাষ্ট্র

সম্পাদক ও প্রকাশক

মোঃ মাহমুদুন্নবী জ্যোতি

অফিসঃ ২/২ আরকে মিশন রোড , ঢাকা।

ইমেলঃ chalomanbarta@yahoo.com, chalomanbarta@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১০৫৬৮৬৬, ০১৬৮১৯২৪০০০

হুথি হামলার মুখে সৌদি আরব থেকে কূটনীতিকদের সরাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

২২ অক্টোবর ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
facebook.com/dailycholomanbarta
www.cholomanbarta.com

ঢাকার যানজট কমাতে পুরোনো বাস সরানোসহ সরকারের চার উদ্যোগ

আপডেট সময় ০২:৫৩:৪২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬

রাজধানীর যানজট কমানো, গণপরিবহনে শৃঙ্খলা ফেরানো এবং যাত্রীসেবার মান বাড়াতে চারটি উদ্যোগ বাস্তবায়নের পরিকল্পনা করছে সরকার। এর মধ্যে রয়েছে ২০ বছরের বেশি পুরোনো বাস সড়ক থেকে সরিয়ে নেওয়া, গুরুত্বপূর্ণ এলাকার বাস টার্মিনাল স্থানান্তর, পুরোনো ৩১টি সড়ক রুট সংস্কার এবং অটোরিকশার চলাচল নিয়ন্ত্রণে নীতিমালা প্রণয়ন।

সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা এবং বাস মালিক সমিতির প্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বলে এসব উদ্যোগের বিষয়ে জানা গেছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, উদ্যোগগুলো সমন্বিতভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে সড়কে যানবাহনের চাপ কমবে, গণপরিবহনের চলাচল ব্যবস্থাপনা উন্নত হবে এবং সড়ক নিরাপত্তা জোরদারের সুযোগ তৈরি হবে। তবে এর সুফল পেতে সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা, সময়সীমা, বিকল্প পরিবহন এবং সংস্থাগুলোর মধ্যে কার্যকর সমন্বয় জরুরি।

সড়ক পরিবহন ও সেতু এবং রেলপথ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব বলেন, বিচ্ছিন্নভাবে কোনো পদক্ষেপ নিলে কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া কঠিন। চারটি উদ্যোগকেই একটি সমন্বিত পরিকল্পনার আওতায় বাস্তবায়নের বিষয়টি সরকার গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে। যাত্রীদের ভোগান্তি কমানো, সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং গণপরিবহণ ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করাই প্রধান লক্ষ্য হবে বলে জানান তিনি।

রাজধানীর যানজট এখন শুধু যাতায়াতের দুর্ভোগ নয়। এটি নগর অর্থনীতি, কর্মঘণ্টা, জ্বালানি ব্যয়, জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশের ওপরও চাপ ফেলছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু নতুন সড়ক ও উড়ালসড়ক নির্মাণ করে ঢাকার যানজটের টেকসই সমাধান সম্ভব নয়। বিদ্যমান সড়কের কার্যকর ব্যবহার, বাসের রুট ও চলাচল ব্যবস্থাপনা, যানবাহনের মান নিয়ন্ত্রণ এবং বিভিন্ন গণপরিবহনের মধ্যে সমন্বয়ও দরকার।

পুরোনো ও ফিটনেসবিহীন বাসের একটি অংশ যান্ত্রিক ত্রুটি, রক্ষণাবেক্ষণের অভাব ও অতিরিক্ত ধোঁয়ার কারণে সড়ক নিরাপত্তা ও পরিবেশের জন্য ঝুঁকি তৈরি করছে। এ প্রেক্ষাপটে ২০ বছরের বেশি পুরোনো বাস সরানোর উদ্যোগ মান উন্নয়নের একটি পদক্ষেপ হতে পারে। তবে এতে সরবরাহে ঘাটতি দেখা দিলে যাত্রীদের ভোগান্তি বাড়তে পারে। তাই বিকল্প বাসের ব্যবস্থা, যানবাহনের প্রকৃত সংখ্যা যাচাই এবং পর্যায়ক্রমে সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি চালকদের প্রশিক্ষণ, নির্ধারিত কর্মঘণ্টা ও নিয়মিত ফিটনেস পরীক্ষায় নজরদারি নিশ্চিত করতে হবে।

সায়েদাবাদ, গাবতলী, মহাখালী ও গুলিস্তানসহ গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় বাসের চাপ, যাত্রী ওঠানামা, পার্কিং এবং আন্তঃজেলা বাসের প্রবেশ-বহির্গমন নগর চলাচলে প্রভাব ফেলে। এসব এলাকার টার্মিনাল স্থানান্তর বা ব্যবস্থাপনা উন্নত করা হলে কেন্দ্রীয় সড়কে চাপ কমার সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে এটি শুধু বাস রাখার জায়গা বদলের বিষয় নয়। নতুন টার্মিনালের অবস্থান, সড়ক যোগাযোগ, যাত্রীর যাতায়াত সময়, ভাড়া, নিরাপত্তা ও অন্যান্য গণপরিবহনের সঙ্গে সংযোগও বিবেচনায় নিতে হবে। শহরের প্রান্তে টার্মিনাল গেলে সেখান থেকে গন্তব্যে যেতে পর্যাপ্ত বাস, মেট্রোরেল বা অন্য সংযোগ না থাকলে ভোগান্তি বাড়তে পারে।

পুরোনো ৩১টি সড়ক রুট সংস্কারের উদ্যোগ গণপরিবহন ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তনের সুযোগ তৈরি করতে পারে। তবে কোন কোন রুট এর আওতায় থাকছে এবং কী ধরনের পরিবর্তন আসবে, তা সুনির্দিষ্টভাবে নির্ধারণ করা প্রয়োজন। রুট সংস্কার মানে কেবল সড়কের উপরিতল মেরামত নয়। স্টপেজের অবস্থান, যাত্রী ওঠানামার স্থান, সংযোগ সড়ক ও যানবাহনের প্রবেশ-বহির্গমনের ব্যবস্থাও এর অংশ। একই পথে একাধিক কোম্পানির প্রতিযোগিতা, নির্ধারিত স্টপেজের বাইরে বাস থামানো এবং যাত্রী তুলতে হঠাৎ লেন বদলের কারণে চলাচল ব্যাহত হয়। রুট পরিবর্তনে কোনো এলাকার যাত্রী যেন সরাসরি পরিবহণসেবা থেকে বঞ্চিত না হন, সেটিও নিশ্চিত করা দরকার।

অটোরিকশার চলাচল নিয়ন্ত্রণে নীতিমালা প্রণয়নও পরিকল্পনার অংশ। বিশেষ করে ব্যাটারিচালিত তিন চাকার যান নিয়ে যানজট ও সড়ক নিরাপত্তার প্রশ্নে দীর্ঘদিন ধরে উদ্বেগ রয়েছে। নীতিমালায় নিবন্ধন, চালকের যোগ্যতা, নিরাপত্তার মান, অনুমোদিত চলাচল এলাকা, পার্কিং ও আইন লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে ব্যবস্থার বিষয় থাকতে পারে। তবে শুধু নিষেধাজ্ঞায় টেকসই সমাধান আসবে না। বিকল্প যাতায়াত, নির্ধারিত স্ট্যান্ড ও বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা থাকা চাই। চালক, মালিক, যাত্রী ও স্থানীয় প্রতিনিধিদের মতামত নিলে বাস্তবায়ন সহজ হতে পারে।

সড়ক পরিবহন ও সেতু বিভাগের সচিব ড. মোহাম্মদ জিয়াউল হক বলেন, পরিকল্পনার পাশাপাশি বাস্তবায়নযোগ্য কর্মপরিকল্পনা, দায়িত্ব বণ্টন ও নিয়মিত অগ্রগতি মূল্যায়ন করা হবে। সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় রেখে এগোতে পারলে সড়কে শৃঙ্খলা ও যাত্রীসেবায় ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব। জনস্বার্থ, সড়ক নিরাপত্তা ও গণপরিবহনের সহজলভ্যতাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

এ জন্য সড়ক পরিবহণ ও সেতু মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহণ কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ), ঢাকা পরিবহণ সমন্বয় কর্তৃপক্ষ (ডিটিসিএ), ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন, ট্র্যাফিক পুলিশ ও পরিবহণমালিকদের মধ্যে কার্যকর সমন্বয় প্রয়োজন। কোন সংস্থা কী করবে, কত সময়ের মধ্যে করবে এবং অগ্রগতি কীভাবে মাপা হবে, তা স্পষ্ট করতে হবে। সংশ্লিষ্টদের মতে, কার্যকারিতা যাচাইয়ে বাসের গড় যাত্রাসময়, স্টপেজে অপেক্ষার সময়, যানজটের স্থায়িত্ব, সড়ক দুর্ঘটনার হার ও যাত্রীসংখ্যাকে সূচক হিসেবে ব্যবহার করা যেতে পারে। যাত্রীদের অভিযোগ জানানোর সুযোগ এবং তা নিষ্পত্তির কার্যকর ব্যবস্থাও গড়ে তুলতে হবে।

Share this news as a Photo Card