উলিপুরে ঘরের ভেতর বৃদ্ধকে নৃশংসভাবে হত্যার অভিযোগ, অভিযুক্ত নাতি আটক

কুড়িগ্রামের উলিপুরে ঘরের ভেতর ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে এবং হাত-পা বিচ্ছিন্ন করে বাচ্চু মিয়া (৭০) নামে এক বৃদ্ধকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তাঁর নাতি রাব্বি (২২)-এর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত রাব্বিকে আটক করেছে পুলিশ।
সোমবার (২০ অক্টোবর) দিবাগত রাত ১টার দিকে উপজেলার ধরনীবাড়ি ইউনিয়নের পণ্ডিতপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, নিহত বাচ্চু মিয়া প্রায় ৫০ বছর ধরে পরিবার নিয়ে রংপুর শহরে বসবাস করতেন। ঘটনার দুদিন আগে তিনি উলিপুর উপজেলার পণ্ডিতপাড়া গ্রামে তাঁর বড় ভাই এক্কাবর আলীর বাড়িতে বেড়াতে আসেন।
অন্যদিকে, এক্কাবর আলীর ছেলে মিঠু মিয়া অভিযুক্ত রাব্বির বাবা। তিনি গাজীপুরের মনিপুর এলাকায় একটি পোশাক কারখানায় চাকরির সুবাদে পরিবার নিয়ে সেখানে বসবাস করেন। ঘটনার দিন নাতি রাব্বি ঢাকা থেকে গ্রামের বাড়িতে আসে। রাতে সে তার ছোট দাদা বাচ্চু মিয়ার সঙ্গে একই কক্ষে ঘুমাতে যায়।
পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, রাত আনুমানিক ১টার দিকে রাব্বি তার দাদা এক্কাবর আলী ও দাদিকে ডেকে তোলে। এ সময় সে একটি ‘দুর্ঘটনা’ ঘটিয়েছে বলে জানায়।
এক্কাবর আলী বলেন, “নাতির ডাক শুনে ঘুম থেকে উঠে তার হাতে রক্তমাখা ছোরা দেখতে পাই। এতে আমরা আতঙ্কিত হয়ে পড়ি। পরে সে ছোরাটি মাটিতে ফেলে দেয়। ঘরের ভেতরে গিয়ে দেখি, আমার ছোট ভাই বাচ্চুর হাত-পা বিচ্ছিন্ন ও ক্ষতবিক্ষত মরদেহ বিছানায় পড়ে আছে।”
এ সময় স্বজনদের চিৎকার শুনে প্রতিবেশীরা এগিয়ে আসার আগেই রাব্বি ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায় বলে জানা গেছে।
খবর পেয়ে উলিপুর থানা-পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে। পরে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়।
উলিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শওকত আলী সরকার জানান, ঘটনার পরপরই পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত রাব্বিকে তবকপুর এলাকায় তার নানার বাড়ি থেকে আটক করা হয়েছে।
হত্যাকাণ্ডের কারণ উদ্‌ঘাটনে পুলিশ তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে।

Share this news as a Photo Card

ট্যাগস

© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

জনপ্রিয় সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক

মোঃ মাহমুদুন্নবী জ্যোতি

অফিসঃ ২/২ আরকে মিশন রোড , ঢাকা।

ইমেলঃ chalomanbarta@yahoo.com, chalomanbarta@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১০৫৬৮৬৬, ০১৬৮১৯২৪০০০

সব ধর্মের মানুষকে নিয়ে প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়তে চাই: প্রধানমন্ত্রী

২০ অক্টোবর ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
facebook.com/dailycholomanbarta
www.cholomanbarta.com

উলিপুরে ঘরের ভেতর বৃদ্ধকে নৃশংসভাবে হত্যার অভিযোগ, অভিযুক্ত নাতি আটক

আপডেট সময় ১২:৪৫:০০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬
কুড়িগ্রামের উলিপুরে ঘরের ভেতর ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে এবং হাত-পা বিচ্ছিন্ন করে বাচ্চু মিয়া (৭০) নামে এক বৃদ্ধকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তাঁর নাতি রাব্বি (২২)-এর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত রাব্বিকে আটক করেছে পুলিশ।
সোমবার (২০ অক্টোবর) দিবাগত রাত ১টার দিকে উপজেলার ধরনীবাড়ি ইউনিয়নের পণ্ডিতপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, নিহত বাচ্চু মিয়া প্রায় ৫০ বছর ধরে পরিবার নিয়ে রংপুর শহরে বসবাস করতেন। ঘটনার দুদিন আগে তিনি উলিপুর উপজেলার পণ্ডিতপাড়া গ্রামে তাঁর বড় ভাই এক্কাবর আলীর বাড়িতে বেড়াতে আসেন।
অন্যদিকে, এক্কাবর আলীর ছেলে মিঠু মিয়া অভিযুক্ত রাব্বির বাবা। তিনি গাজীপুরের মনিপুর এলাকায় একটি পোশাক কারখানায় চাকরির সুবাদে পরিবার নিয়ে সেখানে বসবাস করেন। ঘটনার দিন নাতি রাব্বি ঢাকা থেকে গ্রামের বাড়িতে আসে। রাতে সে তার ছোট দাদা বাচ্চু মিয়ার সঙ্গে একই কক্ষে ঘুমাতে যায়।
পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, রাত আনুমানিক ১টার দিকে রাব্বি তার দাদা এক্কাবর আলী ও দাদিকে ডেকে তোলে। এ সময় সে একটি ‘দুর্ঘটনা’ ঘটিয়েছে বলে জানায়।
এক্কাবর আলী বলেন, “নাতির ডাক শুনে ঘুম থেকে উঠে তার হাতে রক্তমাখা ছোরা দেখতে পাই। এতে আমরা আতঙ্কিত হয়ে পড়ি। পরে সে ছোরাটি মাটিতে ফেলে দেয়। ঘরের ভেতরে গিয়ে দেখি, আমার ছোট ভাই বাচ্চুর হাত-পা বিচ্ছিন্ন ও ক্ষতবিক্ষত মরদেহ বিছানায় পড়ে আছে।”
এ সময় স্বজনদের চিৎকার শুনে প্রতিবেশীরা এগিয়ে আসার আগেই রাব্বি ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায় বলে জানা গেছে।
খবর পেয়ে উলিপুর থানা-পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে। পরে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়।
উলিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শওকত আলী সরকার জানান, ঘটনার পরপরই পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত রাব্বিকে তবকপুর এলাকায় তার নানার বাড়ি থেকে আটক করা হয়েছে।
হত্যাকাণ্ডের কারণ উদ্‌ঘাটনে পুলিশ তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে।

Share this news as a Photo Card