শিরোনাম :
সন্তানের ভবিষ্যতের কথা মনে করে ঢাকাকে পরিচ্ছন্ন রাখুন: প্রধানমন্ত্রী ব্যালন ডি’অরের সেরা মৌসুমের ভোটে মেসিকে ছাড়িয়ে ২০০৮ সালের রোনালদো ফ্রান্সজুড়ে সহিংসতা ও লুটপাট, চাপে ম্যাক্রোঁ, জরুরি বৈঠক ডাকলেন প্রধানমন্ত্রী প্রতিমন্ত্রীর পদ ছাড়ার ঘোষণা ইশরাকের শহীদদের নামে জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ উদ্বোধন, নতুন রূপে ওসমানী উদ্যান জাপানে বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগ শুরু ১ এপ্রিল, স্বাক্ষরিত ‘ইএসডিপি-এমওসি’ চুক্তি মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রীর পদ ছাড়ছেন ইশরাক হোসেন, আজ দুপুরে চূড়ান্ত ঘোষণা মহাষ্টমীতে কুমারী পূজা, মণ্ডপে মণ্ডপে ভক্তি আর তারুণ্যের ঢল সিজেপির বিক্ষোভের পাল্টা দিল্লিতে ‘লাল হিট জনতা পার্টি’র যাত্রা সাবেক বিমানবাহিনী প্রধান আব্দুল হান্নান কাতারে গ্রেপ্তার

পিস্তল হাতে মাদকবিরোধী অভিযানে প্রতিমন্ত্রী ইশরাক

ঢাকার গেন্ডারিয়ায় হাতে আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে মাদকবিরোধী অভিযানে অংশ নেওয়ার ভিডিও প্রকাশ করেছেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন। শনিবার (১৭ অক্টোবর) বিকেলে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে ভিডিওটি দেওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা ও প্রশ্ন শুরু হয়েছে।
ভিডিওতে যা দেখা গেছে
ভিডিওতে দেখা যায়, ঢাকা-৬ আসনের অন্তর্ভুক্ত গেন্ডারিয়া থানার ৪৫ নম্বর ওয়ার্ডে রেললাইন-সংলগ্ন একটি বস্তিতে হঠাৎ উপস্থিত হন প্রতিমন্ত্রী। গাড়ি থেকে নেমে তাঁর হাতে আগ্নেয়াস্ত্র দেখা যায়। তিনি উচ্চস্বরে ‘ধর, ধর’ বলছিলেন। পাশ থেকে একজনকে বলতে শোনা যায়, গুলি করে দেওয়ার কথা। এ সময় প্রতিমন্ত্রীর দেহরক্ষীরা কয়েকজনকে ধরতে ছুটে যান। এক দেহরক্ষীকে একজনের গায়ে লাথি মারতেও দেখা গেছে।
পুলিশ যা জানিয়েছে
গেন্ডারিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুজ্জামান মনির জানান, প্রতিমন্ত্রী ছয়জনকে আটক করে থানায় খবর দেন। পরে পুলিশ গিয়ে তাঁদের থানায় নিয়ে আসে। ওসির ভাষ্য, আটকদের কাছে সাদা পাউডারজাতীয় পদার্থ পাওয়া গেছে। সেগুলো হেরোইন কি না, তা পরীক্ষার পরই নিশ্চিত হওয়া যাবে।
অস্ত্রের লাইসেন্স নিয়ে প্রশ্ন
ভিডিওতে দেখানো পিস্তলের লাইসেন্স আছে কি না, জানতে চাইলে প্রতিমন্ত্রীর এপিএস আরিফুল ইসলাম বলেন, প্রতিমন্ত্রী পিস্তল নয়, লাঠি নিয়ে অভিযানে গিয়েছিলেন। তবে প্রকাশিত ভিডিওর দৃশ্যে তাঁর হাতে আগ্নেয়াস্ত্র দেখা গেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এ বিষয়ে প্রতিমন্ত্রীর নিজের বক্তব্য জানতে ফোন ও হোয়াটসঅ্যাপে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সাড়া মেলেনি।
আইনজ্ঞ ও সাবেক পুলিশ কর্মকর্তার মত
আইনজ্ঞরা বলছেন, মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রী নির্বাহী বিভাগের নীতিনির্ধারক। মাঠপর্যায়ে সরাসরি অভিযান চালানোর বিশেষ ক্ষমতা সংবিধান বা ফৌজদারি কার্যবিধিতে নেই। তাঁদের মতে, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নীতিমালা অনুযায়ী বৈধ অস্ত্র দিয়েও কাউকে ভয় দেখানো বা হয়রানি করা নিষিদ্ধ।
হাইকোর্টের আইনজীবী তাওহীদুল ইসলাম জানান, ‘আগ্নেয়াস্ত্র লাইসেন্স প্রদান, নবায়ন ও ব্যবহার নীতিমালা-২০২৫’-এর ২৫(ক) ধারায় লাইসেন্সধারী কেবল আত্মরক্ষার জন্য অস্ত্র বহন ও ব্যবহার করতে পারেন। অন্যের মনে ভীতি বা বিরক্তি তৈরি হতে পারে, এমন ক্ষেত্রে অস্ত্র দেখানোর সুযোগ নেই। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ১৮৭৮ সালের অস্ত্র আইনের ২১ ধারায় লাইসেন্সের শর্ত ভাঙলে সর্বোচ্চ ছয় মাসের কারাদণ্ড, ৫০০ টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ডের বিধান আছে।
সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মুহাম্মদ নুরুল হুদা বলেন, আত্মরক্ষার প্রয়োজনে বৈধ অস্ত্র দেখানো যেতে পারে। কিন্তু অভিযানে গিয়ে প্রতিমন্ত্রীর অস্ত্র দেখানো না-ই ভালো, কারণ তাঁর নিরাপত্তার দায়িত্ব পুলিশের। তাই তিনি এর প্রয়োজন দেখছেন না।
প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্য
ফেসবুক পেজে দেওয়া ভিডিওতে ইশরাক হোসেনকে বলতে শোনা যায়, ঢাকা-৬ আসন মাদকমুক্ত না হওয়া পর্যন্ত অভিযান চলবে। মাদক কারবারি যে দলেরই হোন, ছাড় দেওয়া হবে না। নিজ দলের কেউ জড়িত থাকলে তাঁর শাস্তি আরও কঠোর হবে বলেও তিনি জানান। তাঁর ভাষ্য, এই এলাকা থেকে শুরু হওয়া অভিযান সারা দেশে চলবে। অভিযান চালিয়ে যেতে তিনি এলাকাবাসীর সহযোগিতাও চেয়েছেন।

Share this news as a Photo Card

© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

জনপ্রিয় সংবাদ

সিরাজগঞ্জে শব্দদূষণবিরোধী অভিযান, তিন বাসচালককে ১৫ হাজার টাকা জরিমানা

সম্পাদক ও প্রকাশক

মোঃ মাহমুদুন্নবী জ্যোতি

অফিসঃ ২/২ আরকে মিশন রোড , ঢাকা।

ইমেলঃ chalomanbarta@yahoo.com, chalomanbarta@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১০৫৬৮৬৬, ০১৬৮১৯২৪০০০

সাবেক বিমানবাহিনী প্রধান আব্দুল হান্নান কাতারে গ্রেপ্তার

১৮ অক্টোবর ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
facebook.com/dailycholomanbarta
www.cholomanbarta.com

পিস্তল হাতে মাদকবিরোধী অভিযানে প্রতিমন্ত্রী ইশরাক

আপডেট সময় ০৭:৫২:৪৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬

ঢাকার গেন্ডারিয়ায় হাতে আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে মাদকবিরোধী অভিযানে অংশ নেওয়ার ভিডিও প্রকাশ করেছেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন। শনিবার (১৭ অক্টোবর) বিকেলে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে ভিডিওটি দেওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা ও প্রশ্ন শুরু হয়েছে।
ভিডিওতে যা দেখা গেছে
ভিডিওতে দেখা যায়, ঢাকা-৬ আসনের অন্তর্ভুক্ত গেন্ডারিয়া থানার ৪৫ নম্বর ওয়ার্ডে রেললাইন-সংলগ্ন একটি বস্তিতে হঠাৎ উপস্থিত হন প্রতিমন্ত্রী। গাড়ি থেকে নেমে তাঁর হাতে আগ্নেয়াস্ত্র দেখা যায়। তিনি উচ্চস্বরে ‘ধর, ধর’ বলছিলেন। পাশ থেকে একজনকে বলতে শোনা যায়, গুলি করে দেওয়ার কথা। এ সময় প্রতিমন্ত্রীর দেহরক্ষীরা কয়েকজনকে ধরতে ছুটে যান। এক দেহরক্ষীকে একজনের গায়ে লাথি মারতেও দেখা গেছে।
পুলিশ যা জানিয়েছে
গেন্ডারিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুজ্জামান মনির জানান, প্রতিমন্ত্রী ছয়জনকে আটক করে থানায় খবর দেন। পরে পুলিশ গিয়ে তাঁদের থানায় নিয়ে আসে। ওসির ভাষ্য, আটকদের কাছে সাদা পাউডারজাতীয় পদার্থ পাওয়া গেছে। সেগুলো হেরোইন কি না, তা পরীক্ষার পরই নিশ্চিত হওয়া যাবে।
অস্ত্রের লাইসেন্স নিয়ে প্রশ্ন
ভিডিওতে দেখানো পিস্তলের লাইসেন্স আছে কি না, জানতে চাইলে প্রতিমন্ত্রীর এপিএস আরিফুল ইসলাম বলেন, প্রতিমন্ত্রী পিস্তল নয়, লাঠি নিয়ে অভিযানে গিয়েছিলেন। তবে প্রকাশিত ভিডিওর দৃশ্যে তাঁর হাতে আগ্নেয়াস্ত্র দেখা গেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এ বিষয়ে প্রতিমন্ত্রীর নিজের বক্তব্য জানতে ফোন ও হোয়াটসঅ্যাপে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সাড়া মেলেনি।
আইনজ্ঞ ও সাবেক পুলিশ কর্মকর্তার মত
আইনজ্ঞরা বলছেন, মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রী নির্বাহী বিভাগের নীতিনির্ধারক। মাঠপর্যায়ে সরাসরি অভিযান চালানোর বিশেষ ক্ষমতা সংবিধান বা ফৌজদারি কার্যবিধিতে নেই। তাঁদের মতে, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নীতিমালা অনুযায়ী বৈধ অস্ত্র দিয়েও কাউকে ভয় দেখানো বা হয়রানি করা নিষিদ্ধ।
হাইকোর্টের আইনজীবী তাওহীদুল ইসলাম জানান, ‘আগ্নেয়াস্ত্র লাইসেন্স প্রদান, নবায়ন ও ব্যবহার নীতিমালা-২০২৫’-এর ২৫(ক) ধারায় লাইসেন্সধারী কেবল আত্মরক্ষার জন্য অস্ত্র বহন ও ব্যবহার করতে পারেন। অন্যের মনে ভীতি বা বিরক্তি তৈরি হতে পারে, এমন ক্ষেত্রে অস্ত্র দেখানোর সুযোগ নেই। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ১৮৭৮ সালের অস্ত্র আইনের ২১ ধারায় লাইসেন্সের শর্ত ভাঙলে সর্বোচ্চ ছয় মাসের কারাদণ্ড, ৫০০ টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ডের বিধান আছে।
সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মুহাম্মদ নুরুল হুদা বলেন, আত্মরক্ষার প্রয়োজনে বৈধ অস্ত্র দেখানো যেতে পারে। কিন্তু অভিযানে গিয়ে প্রতিমন্ত্রীর অস্ত্র দেখানো না-ই ভালো, কারণ তাঁর নিরাপত্তার দায়িত্ব পুলিশের। তাই তিনি এর প্রয়োজন দেখছেন না।
প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্য
ফেসবুক পেজে দেওয়া ভিডিওতে ইশরাক হোসেনকে বলতে শোনা যায়, ঢাকা-৬ আসন মাদকমুক্ত না হওয়া পর্যন্ত অভিযান চলবে। মাদক কারবারি যে দলেরই হোন, ছাড় দেওয়া হবে না। নিজ দলের কেউ জড়িত থাকলে তাঁর শাস্তি আরও কঠোর হবে বলেও তিনি জানান। তাঁর ভাষ্য, এই এলাকা থেকে শুরু হওয়া অভিযান সারা দেশে চলবে। অভিযান চালিয়ে যেতে তিনি এলাকাবাসীর সহযোগিতাও চেয়েছেন।

Share this news as a Photo Card