সমাজে নিরক্ষরতা কমিয়ে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দেওয়া এবং এতিম, অসহায় ও দুস্থ শিশুদের শিক্ষা ও নৈতিক বিকাশ নিশ্চিত করার লক্ষ্য নিয়ে একাধিক সামাজিক উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন শাফওয়ান স্বপ্নযাত্রা সংস্থা (এসএসএস)। সংস্থাটির পক্ষ থেকে প্রাপ্তবয়স্ক নিরক্ষর মানুষের জন্য একটি গণশিক্ষা বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি দীর্ঘদিন ধরে এতিম শিশুদের জন্য আবাসন, দ্বীনি শিক্ষা ও মানবিক পরিচর্যার কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।
সংস্থার উদ্যোগে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে ‘শাফওয়ান গণশিক্ষা বিদ্যালয়’, যেখানে নিরক্ষর ও শিক্ষাবঞ্চিত প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য মৌলিক শিক্ষা, স্বাক্ষরজ্ঞান এবং দৈনন্দিন জীবন পরিচালনায় প্রয়োজনীয় ব্যবহারিক শিক্ষার ব্যবস্থা করা হবে। আয়োজকদের ভাষ্য, শুধু অক্ষরজ্ঞান নয়, বরং নাগরিক জীবনের প্রয়োজনীয় বিভিন্ন বিষয়ে সচেতনতা তৈরিও এই বিদ্যালয়ের অন্যতম লক্ষ্য।
অন্যদিকে, এতিম, অসহায় ও দুস্থ শিশুদের জন্য পরিচালিত হচ্ছে ‘জয়রাম তালেব হাজী নুরানী হাফিজিয়া মাদ্রাসা, লিল্লাহ বোর্ডিং ও এতিমখানা’। সংস্থার তথ্যমতে, ২০২০ সাল থেকে প্রতিষ্ঠানটি সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের কোরআন-হাদিসভিত্তিক শিক্ষা, নৈতিক মূল্যবোধের বিকাশ, নিরাপদ আবাসন এবং মানবিক পরিবেশে বেড়ে ওঠার সুযোগ নিশ্চিত করে আসছে। শিক্ষা ও লালন-পালনের সমন্বিত এই উদ্যোগ শিশুদের ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
শাফওয়ান স্বপ্নযাত্রা সংস্থার চেয়ারম্যান ও সভাপতি, সাংবাদিক ও সংগঠক মো. হামিদুর রহমান লিমন বলেন, মাঠপর্যায়ে সাংবাদিকতা করতে গিয়ে তিনি নিরক্ষরতার নানা নেতিবাচক প্রভাব কাছ থেকে দেখেছেন।
তার ভাষায়, “সাংবাদিকতা পেশায় কাজ করতে গিয়ে দেখেছি, নিরক্ষরতার কারণে অনেক মানুষ জমিজমা, ব্যাংকিং, আইনি কাগজপত্র এবং বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি সেবা গ্রহণের ক্ষেত্রে প্রতারণার শিকার হচ্ছেন। এই বাস্তবতা আমাকে গভীরভাবে নাড়া দিয়েছে। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই সমাজ থেকে নিরক্ষরতা দূর করতে বড়দের জন্য ‘শাফওয়ান গণশিক্ষা বিদ্যালয়’ প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিয়েছি।”
তিনি বলেন, শিক্ষা কেবল ব্যক্তিগত উন্নয়নের পথ নয়, এটি একটি সমাজকে সচেতন, আত্মনির্ভর ও বৈষম্যহীন করে গড়ে তোলার অন্যতম ভিত্তি।
মো. হামিদুর রহমান লিমন আরও বলেন, “একটি শিক্ষিত সমাজই পারে দারিদ্র্য, বৈষম্য ও প্রতারণার বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থান গড়ে তুলতে। একই সঙ্গে ২০২০ সাল থেকে এতিম, অসহায় ও দুস্থ শিশুদের জন্য ‘জয়রাম তালেব হাজী নুরানী হাফিজিয়া মাদ্রাসা, লিল্লাহ বোর্ডিং ও এতিমখানা’র কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছি। ভবিষ্যতেও শিক্ষা, মানবসেবা ও সমাজকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ড আরও বিস্তৃত পরিসরে পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে।”
তিনি সমাজের বিত্তবান, শিক্ষানুরাগী, দাতা ব্যক্তি ও মানবিক সংগঠনগুলোর প্রতি এসব উদ্যোগে সহযোগিতার আহ্বান জানান। তার মতে, শিক্ষা ও মানবসেবায় সম্মিলিত অংশগ্রহণই একটি সচেতন, মানবিক ও বৈষম্যহীন সমাজ গঠনের সবচেয়ে কার্যকর পথ।
স্থানীয় সচেতন মহলের অভিমত, নিরক্ষরতা দূরীকরণ, এতিম শিশুদের শিক্ষা এবং সামাজিক উন্নয়নে শাফওয়ান স্বপ্নযাত্রা সংস্থার এ ধরনের উদ্যোগ সময়োপযোগী ও প্রশংসনীয়। তাদের মতে, সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি বেসরকারি ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলো এভাবে এগিয়ে এলে শিক্ষাবঞ্চিত মানুষের সংখ্যা কমবে, সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি পাবে এবং মানবিক মূল্যবোধসম্পন্ন নতুন প্রজন্ম গড়ে তোলা আরও সহজ হবে। সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সম্মিলিত সহযোগিতা পেলে এ ধরনের উদ্যোগ ভবিষ্যতে আরও বিস্তৃত পরিসরে ইতিবাচক পরিবর্তনের ভিত্তি তৈরি করতে সক্ষম হবে।
রংপুর প্রতিনিধি: 

























