হিট স্ট্রোকের লক্ষণ ও করণীয়

হিট স্ট্রোক একটি জরুরি ও প্রাণঘাতী অবস্থা, দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে জীবনঝুঁকি হতে পারে। শরীরের তাপমাত্রা সাধারণত ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা তার বেশি হয়ে যায় এবং শরীরের কুলিং সিস্টেম ব্যর্থ হয়ে পড়ে। বাংলাদেশে গত কয়েকদিন ধরে তীব্র গরম চলছে। এরকম তীব্র গরমের সময় সতর্ক না থাকলে শারীরিক নানা সমস্যার পাশাপাশি হিট স্ট্রোকে মৃত্যুর আশঙ্কা অনেক বেড়ে যায়।

রয়টার্সের একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তীব্র গরমের কারণে শুধুমাত্র ২০২২ সালে ইউরোপে ৬২ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে। এসব মৃত্যুর বেশিরভাগই ঘটে গরমজনিত হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোকের কারণে। বেশিরভাগ সময় শরীরের তাপমাত্রা স্থিতিশীল রাখার চেষ্টা করতে গিয়েই এসব ঘটে থাকে।

তীব্র গরমে মানুষের শরীরে তাপমাত্রা বেড়ে যায়। বায়ুমণ্ডলের তাপমাত্রা বেড়ে যাওয়ার কারণে মানুষের শরীরও গরম হয়ে যায়। এর ফলে রক্তনালীগুলো খুলে যায়। এর জের ধরে রক্ত চাপ কমে যায় যে কারণে সারা শরীরে রক্ত সঞ্চালন করা হৃদপিণ্ডের জন্য কঠিন হয়ে পড়ে।

এসব কারণে মৃদু কিছু উপসর্গ দেখা দিতে পারে যার মধ্যে রয়েছে ত্বকে ফুসকুড়ি পড়া, চুলকানি এবং পা ফুলে যাওয়া যা রক্তনালী উন্মুক্ত হয়ে যাওয়ার কারণে হয়ে থাকে। এ ছাড়াও প্রচুর ঘাম হওয়ার কারণে শরীরে তরল পদার্থ ও লবণের পরিমাণ কমে যায়, গুরুতর ক্ষেত্রে দেহে এ-দুটো জিনিসের মধ্যে যে ভারসাম্য আছে তাতেও পরিবর্তন ঘটে।

হিট স্ট্রোকের লক্ষণ

– শরীর খুব গরম ও শুষ্ক (ঘাম নাও থাকতে পারে)

– মাথা ঘোরা বা অজ্ঞান হয়ে যাওয়া

– বিভ্রান্তি, কথা জড়িয়ে যাওয়া

– দ্রুত নাড়ি ও শ্বাস

– বমি বা খিঁচুনি

হিট স্ট্রোক হলে যা করবেন (তাৎক্ষণিক করণীয়)

১. ঠান্ডা স্থানে নিয়ে যান : রোগীকে রোদ বা গরম পরিবেশ থেকে সরিয়ে ছায়া বা শীতল জায়গায় রাখুন।

২. কাপড় ঢিলা করুন : অতিরিক্ত কাপড় খুলে দিন, শরীরকে বাতাস লাগতে দিন।

৩. শরীর ঠান্ডা করুন

* ঠান্ডা পানি দিয়ে শরীর মুছুন বা স্পঞ্জ করুন।

* বরফ/ঠান্ডা পানির কাপড় মাথা, বগল, ঘাড়, কুঁচকিতে দিন।

* সম্ভব হলে ফ্যান বা বাতাস দিন।

৪. পানি দিন (যদি সচেতন থাকে)

* ঠান্ডা পানি বা ওআরএস দিন।

* অচেতন থাকলে মুখে কিছু দেবেন না।

৫. দ্রুত হাসপাতালে নিন

এটি মেডিকেল ইমার্জেন্সি—অবিলম্বে নিকটস্থ হাসপাতালে নিয়ে যান

যা করবেন না

* জোর করে পানি খাওয়াবেন না (অচেতন হলে)।

* শুধুমাত্র বাসায় রেখে দেরি করবেন না।

* অতিরিক্ত বরফ সরাসরি পুরো শরীরে ব্যবহার করবেন না (শক হতে পারে)।

Share this news as a Photo Card

ট্যাগস

© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

জিভেরও পেসমেকার হয়? নাক ডাকা ও স্লিপ অ্যাপনিয়া দূর করবে নতুন যন্ত্র

সম্পাদক ও প্রকাশক

মোঃ মাহমুদুন্নবী জ্যোতি

অফিসঃ ২/২ আরকে মিশন রোড , ঢাকা।

ইমেলঃ chalomanbarta@yahoo.com, chalomanbarta@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১০৫৬৮৬৬, ০১৬৮১৯২৪০০০

জ্বালানি তেলের নতুন দাম নির্ধারণ

৩১ জুলাই ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
facebook.com/dailycholomanbarta
www.cholomanbarta.com

হিট স্ট্রোকের লক্ষণ ও করণীয়

আপডেট সময় ১১:৪৭:২৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬

হিট স্ট্রোক একটি জরুরি ও প্রাণঘাতী অবস্থা, দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে জীবনঝুঁকি হতে পারে। শরীরের তাপমাত্রা সাধারণত ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা তার বেশি হয়ে যায় এবং শরীরের কুলিং সিস্টেম ব্যর্থ হয়ে পড়ে। বাংলাদেশে গত কয়েকদিন ধরে তীব্র গরম চলছে। এরকম তীব্র গরমের সময় সতর্ক না থাকলে শারীরিক নানা সমস্যার পাশাপাশি হিট স্ট্রোকে মৃত্যুর আশঙ্কা অনেক বেড়ে যায়।

রয়টার্সের একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তীব্র গরমের কারণে শুধুমাত্র ২০২২ সালে ইউরোপে ৬২ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে। এসব মৃত্যুর বেশিরভাগই ঘটে গরমজনিত হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোকের কারণে। বেশিরভাগ সময় শরীরের তাপমাত্রা স্থিতিশীল রাখার চেষ্টা করতে গিয়েই এসব ঘটে থাকে।

তীব্র গরমে মানুষের শরীরে তাপমাত্রা বেড়ে যায়। বায়ুমণ্ডলের তাপমাত্রা বেড়ে যাওয়ার কারণে মানুষের শরীরও গরম হয়ে যায়। এর ফলে রক্তনালীগুলো খুলে যায়। এর জের ধরে রক্ত চাপ কমে যায় যে কারণে সারা শরীরে রক্ত সঞ্চালন করা হৃদপিণ্ডের জন্য কঠিন হয়ে পড়ে।

এসব কারণে মৃদু কিছু উপসর্গ দেখা দিতে পারে যার মধ্যে রয়েছে ত্বকে ফুসকুড়ি পড়া, চুলকানি এবং পা ফুলে যাওয়া যা রক্তনালী উন্মুক্ত হয়ে যাওয়ার কারণে হয়ে থাকে। এ ছাড়াও প্রচুর ঘাম হওয়ার কারণে শরীরে তরল পদার্থ ও লবণের পরিমাণ কমে যায়, গুরুতর ক্ষেত্রে দেহে এ-দুটো জিনিসের মধ্যে যে ভারসাম্য আছে তাতেও পরিবর্তন ঘটে।

হিট স্ট্রোকের লক্ষণ

– শরীর খুব গরম ও শুষ্ক (ঘাম নাও থাকতে পারে)

– মাথা ঘোরা বা অজ্ঞান হয়ে যাওয়া

– বিভ্রান্তি, কথা জড়িয়ে যাওয়া

– দ্রুত নাড়ি ও শ্বাস

– বমি বা খিঁচুনি

হিট স্ট্রোক হলে যা করবেন (তাৎক্ষণিক করণীয়)

১. ঠান্ডা স্থানে নিয়ে যান : রোগীকে রোদ বা গরম পরিবেশ থেকে সরিয়ে ছায়া বা শীতল জায়গায় রাখুন।

২. কাপড় ঢিলা করুন : অতিরিক্ত কাপড় খুলে দিন, শরীরকে বাতাস লাগতে দিন।

৩. শরীর ঠান্ডা করুন

* ঠান্ডা পানি দিয়ে শরীর মুছুন বা স্পঞ্জ করুন।

* বরফ/ঠান্ডা পানির কাপড় মাথা, বগল, ঘাড়, কুঁচকিতে দিন।

* সম্ভব হলে ফ্যান বা বাতাস দিন।

৪. পানি দিন (যদি সচেতন থাকে)

* ঠান্ডা পানি বা ওআরএস দিন।

* অচেতন থাকলে মুখে কিছু দেবেন না।

৫. দ্রুত হাসপাতালে নিন

এটি মেডিকেল ইমার্জেন্সি—অবিলম্বে নিকটস্থ হাসপাতালে নিয়ে যান

যা করবেন না

* জোর করে পানি খাওয়াবেন না (অচেতন হলে)।

* শুধুমাত্র বাসায় রেখে দেরি করবেন না।

* অতিরিক্ত বরফ সরাসরি পুরো শরীরে ব্যবহার করবেন না (শক হতে পারে)।

Share this news as a Photo Card