ক্রীড়া প্রতিবেদক
ঢাকা, ১৩ জুন ২০২৬
বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের অফস্পিনার নাঈম হাসানকে মাঝরাস্তায় গাড়ি থেকে নামিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের বিরুদ্ধে মারধর ও হেনস্তার অভিযোগ উঠেছে। একজন জাতীয় ক্রিকেটারের সঙ্গে এমন আচরণে দেশের ক্রীড়াঙ্গনসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দার ঝড় বইছে।
এ ঘটনায় ইতিমধ্যেই গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে দেশের ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) এবং ক্রিকেটারদের সংগঠন কোয়াব (কোয়াব)। এবার এই ন্যক্কারজনক ঘটনার বিরুদ্ধে সরাসরি মুখ খুলেছেন নাঈমের জাতীয় দলের সতীর্থ মুশফিকুর রহিম, লিটন দাস এবং তাসকিন আহমেদ। তাঁরা এই ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেছেন।
যেভাবে ঘটনার সূত্রপাত
পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্র থেকে জানা গেছে, শুক্রবার রাতে ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের (ডিপিএল) ম্যাচ খেলে নিজের শহর চট্টগ্রামে ফিরেছিলেন ২৫ বছর বয়সী এই ক্রিকেটার। চট্টগ্রাম পৌঁছানোর পর বাসায় ফেরার পথে রাস্তায় তাঁর গাড়ি থামায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা।
অভিযোগ উঠেছে, কোনো সুনির্দিষ্ট কারণ ছাড়াই নাঈমকে গাড়ি থেকে নামিয়ে শারীরিক ও মানসিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয়। এরপর তাঁকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যাওয়া হয় নগরীর খুলশী থানায়। নাঈমের অভিযোগ, থানায় নিয়ে যাওয়ার পর সেখানেও কর্তব্যরত পুলিশ সদস্যদের হাতে চরম হেনস্তা ও দুর্ব্যবহারের শিকার হতে হয়েছে তাঁকে।
‘আমি লজ্জিত ও ব্যথিত’: মুশফিকুর রহিম
জাতীয় দলের অভিজ্ঞ ও সিনিয়র ক্রিকেটার মুশফিকুর রহিম এই ঘটনায় নিজের ক্ষোভ চেপে রাখতে পারেননি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক আবেগঘন পোস্টে তিনি দেশের একজন নাগরিক হিসেবে নিজের লজ্জার কথা প্রকাশ করেছেন।
মুশফিক লিখেছেন:
“নাঈমের সঙ্গে যা ঘটেছে, তা একেবারেই অগ্রহণযোগ্য। আমি এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই। যা ঘটেছে, তা আমাকে ব্যথিত ও লজ্জিত করেছে। একজন নাগরিক হিসেবে, একজন বাংলাদেশি হিসেবে আমি এর তীব্র প্রতিবাদ জানাই। নাঈম, আমরা তোমার পাশে আছি।”
‘মাথা উঁচু রাখো’— সতীর্থকে লিটনের সান্ত্বনা
বাংলাদেশ টি-টোয়েন্টি দলের অধিনায়ক লিটন দাস সতীর্থ নাঈমকে এই কঠিন পরিস্থিতিতে ভেঙে না পড়ার আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে একজন জাতীয় ক্রিকেটারের সঙ্গে রাষ্ট্রের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর এমন অপেশাদার আচরণ নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তিনি।
লিটন তাঁর পোস্টে লিখেছেন, “মাথা উঁচু রাখো নাঈম। তুমি একজন চমৎকার মানুষ। নাঈম হাসানের সাথে যা ঘটেছে, তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক এবং সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য। তাকে এমন কঠিন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে দেখাটা হৃদয়বিদারক। একজন সহকর্মী এবং সতীর্থ হিসেবে এই ঘটনায় আমি সত্যিই মর্মাহত।”
তিনি আরও যোগ করেন, “এই দেশের কোনো নাগরিকেরই এমন আচরণ প্রাপ্য নয়, বিশেষ করে একজন জাতীয় ক্রিকেটার যিনি গর্বের সাথে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এই ঘটনায় সুষ্ঠু ও যথাযথ তদন্তের আশা করছি এবং যেন দ্রুততম সময়ের মধ্যে বিচার সম্পন্ন হয়।”
তদন্ত ও যথাযথ ব্যবস্থার দাবি তাসকিনের
জাতীয় দলের গতি তারকা তাসকিন আহমেদও সতীর্থের ওপর এমন অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছেন। তিনি নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে লিখেছেন, “জাতীয় দলের ক্রিকেটার নাইম হাসানের সাথে পুলিশের এমন ন্যক্কারজনক ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাই। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাই।”
৩ পুলিশ সদস্য প্রত্যাহার
ক্রিকেটার নাঈম হাসানের ওপর হামলার এই ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর টনক নড়েছে পুলিশ প্রশাসনের। চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) পক্ষ থেকে প্রাথমিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
খুলশী থানা পুলিশ সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, ঘটনার প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার পর জড়িত থাকার অভিযোগে এক উপপরিদর্শকসহ (এসআই) মোট তিন পুলিশ সদস্যকে খুলশী থানা থেকে তাৎক্ষণিকভাবে প্রত্যাহার (ক্লোজড) করা হয়েছে। তাঁদের সবাইকে চট্টগ্রাম পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়েছে এবং ঘটনার অধিকতর তদন্তের জন্য একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।
চলমান বার্তা ডেস্ক : 




















