শিরোনাম :
বিশ্ববাজারে তেলের দরপতন , দেশে বাড়ল লিটারে ২০ টাকা দ্বিতীয় স্ত্রীর মৃত্যু, জামাত এমপি নজরুলের চার দিনের রিমান্ড ট্রাম্পের আমন্ত্রণে ২৩-২৫ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্র সফরে শি জিনপিং স্থানীয় নির্বাচনের আগে সম্ভাব্য প্রার্থীদের ২১ ধরনের তথ্য সংগ্রহে নেমেছে পুলিশ বাস সিন্ডিকেটের কবলে ৫২ কোটির হাইটেক সিটি রেলস্টেশন কমলাপুর স্টেশনে যাত্রীবাহী ট্রেনের কোচে আগুন পশ্চিমাঞ্চলের ৪ ট্রেন এবার বেসরকারি ব্যবস্থাপনায়, দরপত্র আহ্বান অপ্রতিম কে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে : পুলিশ সুপার সিরাজগঞ্জে ছোটভাইয়ের জমি জোরপূর্বক দখলের চেষ্টা লতিফের, করেছে হামলা, দিয়েছে মামলা চিকিৎসকের গায়ে হাত নিয়ে ধর্মঘট, অবাবস্থাপনায় বাড়ছে মৃতের সংখ্যা

ফাইনাল হেরে স্পেনের খেলোয়াড়কে মারলেন পারদেস

বিশ্বকাপ ফাইনাল: হারের তেতো স্বাদে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মাঠে মারামারি আর্জেন্টাইন মিডফিল্ডারের

খেলাDesk | অনলাইন সংস্করণ

​বিশ্বকাপের ফাইনাল বাঁশি বাজার পর মাঠজুড়ে তখন স্প্যানিশদের বাঁধভাঙা উল্লাস। বিশ্বজয়ের আনন্দ ভাসিয়ে নিয়ে যাচ্ছিল পুরো স্টেডিয়ামকে। কিন্তু ঠিক সেই পরম আনন্দের মুহূর্তেই এক অনাকাঙ্ক্ষিত ও নজিরবিহীন দৃশ্য দেখল ফুটবলবিশ্ব। হারের তীব্র যন্ত্রণা আর মেজাজ হারিয়ে সরাসরি সংঘাতের পথ বেছে নেন আর্জেন্টিনার ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার লিয়ান্দ্রো পারদেস।

​রেফারি শেষ বাঁশি বাজানোর পরপরই মাঠের একপাশে স্প্যানিশ ডিফেন্ডার এরিক গার্সিয়ার দিকে ধেয়ে যান পারদেস। দুজনের মধ্যে কয়েক সেকেন্ডের তীব্র বাগ্‌বিতণ্ডা চলে। ঠিক এর পর মুহূর্তেই হঠাৎই গার্সিয়াকে সোজা ঘুষি মেরে বসেন আর্জেন্টাইন এই ফুটবলার। অকস্মাৎ এমন হামলায় মুহূর্তের মধ্যে রণক্ষেত্রে রূপ নেয় মাঠের পরিবেশ।

​গাভির ওপর চড়াও ও লাল কার্ড

​সতীর্থকে চরম হেনস্তার শিকার হতে দেখে দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন স্প্যানিশ তরুণ ফুটবলার গাভি। সংঘাত থামিয়ে পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত করার চেষ্টা করেছিলেন তিনি। কিন্তু উত্তপ্ত পারদেসের সামনে তাঁর সেই প্রচেষ্টা কোনো কাজে আসেনি। উল্টো আর্জেন্টিনার থিয়াগো আলমাদা এসে গাভিকে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন।

​ঠিক তখনই পারদেস আবার হাত তোলেন এবং গাভির মুখে আঘাত করেন। জোরালো আঘাতেই সঙ্গে সঙ্গে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন গাভি। অনাকাঙ্ক্ষিত এই হট্টগোল আরও বড় রূপ নেওয়ার আগেই দ্রুত দৌড়ে যান আর্জেন্টিনার কোচ লিওনেল স্কালোনি। নিজের খেলোয়াড়দের হাত থেকে স্প্যানিশদের বাঁচাতে পারদেসকে শক্ত হাতে টেনে সরিয়ে নেন তিনি। স্কালোনির দূরদর্শী পদক্ষেপে পরিস্থিতি শেষ পর্যন্ত বড় ধরনের হাতাহাতি থেকে রক্ষা পায়।

​তখনো সহ-রেফারি কেবল নির্বাক দর্শকের মতো দাঁড়িয়ে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছিলেন। তবে পরবর্তীতে ঘটনার সার্বিক চিত্র বিবেচনা করে মূল রেফারি এসে সরাসরি লাল কার্ড দেখান লিয়ান্দ্রো পারদেসকে।

​বোবা আর্জেন্টিনা ও বোদ্ধাদের তোপ

​ম্যাচ শেষে স্টেডিয়ামজুড়ে যখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু পারদেসের এই অনভিপ্রেত আচরণ, তখন আর্জেন্টিনার পক্ষ থেকে কোনো সুস্পষ্ট বক্তব্য পাওয়া যায়নি। কোচ লিওনেল স্কালোনি ছাড়া দলের অন্য কোনো খেলোয়াড় বা কর্মকর্তা এই প্রসঙ্গে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হননি। ঠিক কী কারণে এমন উগ্র আচরণ করেছিলেন পারদেস, তা এখনও রহস্যই থেকে গেছে।

​তবে মাঠের এই ঘটনাকে তীব্র ভাষায় সমালোচনা করেছেন বিশ্ব ফুটবলের প্রাক্তন তারকা ও বিশ্লেষকেরা। ব্রিটিশ টিভি চ্যানেল আইটিভিতে সাবেক ইংলিশ ডিফেন্ডার গ্যারি নেভিল অসন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, “বিষয়টি অত্যন্ত লজ্জাজনক। আর্জেন্টাইনদের অদম্য লড়াই করার মানসিকতা আমি সব সময় পছন্দ করি, কিন্তু শেষ কয়েকটি ম্যাচে তাদের মেজাজ ধরে রাখতে না পারার আচরণ সবাইকে হতাশ করেছে।”

​একই সুর ফুটে উঠেছে বিবিসি ডটকমের বিশ্লেষণে অ্যালান শিয়ারারের কণ্ঠে। তিনি বলেন, “পারদেস যেভাবে একই মানুষের মুখে বারবার আঘাত করল, ফুটবলের মতো খেলাতে এর কোনো জায়গা হতে পারে না। ফাইনালে হেরে যাওয়ার কষ্ট কতটা গভীর হতে পারে তা আমরা সবাই জানি, কিন্তু হার মেনে নেওয়ারও একটা মার্জিত উপায়ে থাকে।”

​অন্যদিকে সাবেক গোলরক্ষক জো হার্ট ট্রফি প্রদান মঞ্চের শালীনতার বিষয়টি টেনে মন্তব্য করেন, “ম্যাচ শেষে আর্জেন্টিনার একজন মানুষের মধ্যেই ন্যূনতম ভদ্রতা ও সৌজন্য ছিল—তিনি লিওনেল মেসি। পরাজয় নিশ্চিত হওয়ার পরও তিনি শান্তভাবে স্পেনের প্রতিটা ফুটবলারের সঙ্গে হাত মিলিয়েছেন।”

​বিশ্বকাপ ফাইনালের মতো বিশ্বমঞ্চে পারদেসের এমন জঘন্য আচরণের বিচার শেষ পর্যন্ত কীভাবে হবে, এখন সেটিই দেখার বিষয়।

Share this news as a Photo Card

© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

জনপ্রিয় সংবাদ

নতুন রূপে শরৎচন্দ্রের চন্দ্রমুখী,

সম্পাদক ও প্রকাশক

মোঃ মাহমুদুন্নবী জ্যোতি

অফিসঃ ২/২ আরকে মিশন রোড , ঢাকা।

ইমেলঃ chalomanbarta@yahoo.com, chalomanbarta@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১০৫৬৮৬৬, ০১৬৮১৯২৪০০০

চিকিৎসকের গায়ে হাত নিয়ে ধর্মঘট, অবাবস্থাপনায় বাড়ছে মৃতের সংখ্যা

২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
facebook.com/dailycholomanbarta
www.cholomanbarta.com

ফাইনাল হেরে স্পেনের খেলোয়াড়কে মারলেন পারদেস

আপডেট সময় ০২:২৬:১৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬

বিশ্বকাপ ফাইনাল: হারের তেতো স্বাদে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মাঠে মারামারি আর্জেন্টাইন মিডফিল্ডারের

খেলাDesk | অনলাইন সংস্করণ

​বিশ্বকাপের ফাইনাল বাঁশি বাজার পর মাঠজুড়ে তখন স্প্যানিশদের বাঁধভাঙা উল্লাস। বিশ্বজয়ের আনন্দ ভাসিয়ে নিয়ে যাচ্ছিল পুরো স্টেডিয়ামকে। কিন্তু ঠিক সেই পরম আনন্দের মুহূর্তেই এক অনাকাঙ্ক্ষিত ও নজিরবিহীন দৃশ্য দেখল ফুটবলবিশ্ব। হারের তীব্র যন্ত্রণা আর মেজাজ হারিয়ে সরাসরি সংঘাতের পথ বেছে নেন আর্জেন্টিনার ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার লিয়ান্দ্রো পারদেস।

​রেফারি শেষ বাঁশি বাজানোর পরপরই মাঠের একপাশে স্প্যানিশ ডিফেন্ডার এরিক গার্সিয়ার দিকে ধেয়ে যান পারদেস। দুজনের মধ্যে কয়েক সেকেন্ডের তীব্র বাগ্‌বিতণ্ডা চলে। ঠিক এর পর মুহূর্তেই হঠাৎই গার্সিয়াকে সোজা ঘুষি মেরে বসেন আর্জেন্টাইন এই ফুটবলার। অকস্মাৎ এমন হামলায় মুহূর্তের মধ্যে রণক্ষেত্রে রূপ নেয় মাঠের পরিবেশ।

​গাভির ওপর চড়াও ও লাল কার্ড

​সতীর্থকে চরম হেনস্তার শিকার হতে দেখে দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন স্প্যানিশ তরুণ ফুটবলার গাভি। সংঘাত থামিয়ে পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত করার চেষ্টা করেছিলেন তিনি। কিন্তু উত্তপ্ত পারদেসের সামনে তাঁর সেই প্রচেষ্টা কোনো কাজে আসেনি। উল্টো আর্জেন্টিনার থিয়াগো আলমাদা এসে গাভিকে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন।

​ঠিক তখনই পারদেস আবার হাত তোলেন এবং গাভির মুখে আঘাত করেন। জোরালো আঘাতেই সঙ্গে সঙ্গে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন গাভি। অনাকাঙ্ক্ষিত এই হট্টগোল আরও বড় রূপ নেওয়ার আগেই দ্রুত দৌড়ে যান আর্জেন্টিনার কোচ লিওনেল স্কালোনি। নিজের খেলোয়াড়দের হাত থেকে স্প্যানিশদের বাঁচাতে পারদেসকে শক্ত হাতে টেনে সরিয়ে নেন তিনি। স্কালোনির দূরদর্শী পদক্ষেপে পরিস্থিতি শেষ পর্যন্ত বড় ধরনের হাতাহাতি থেকে রক্ষা পায়।

​তখনো সহ-রেফারি কেবল নির্বাক দর্শকের মতো দাঁড়িয়ে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছিলেন। তবে পরবর্তীতে ঘটনার সার্বিক চিত্র বিবেচনা করে মূল রেফারি এসে সরাসরি লাল কার্ড দেখান লিয়ান্দ্রো পারদেসকে।

​বোবা আর্জেন্টিনা ও বোদ্ধাদের তোপ

​ম্যাচ শেষে স্টেডিয়ামজুড়ে যখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু পারদেসের এই অনভিপ্রেত আচরণ, তখন আর্জেন্টিনার পক্ষ থেকে কোনো সুস্পষ্ট বক্তব্য পাওয়া যায়নি। কোচ লিওনেল স্কালোনি ছাড়া দলের অন্য কোনো খেলোয়াড় বা কর্মকর্তা এই প্রসঙ্গে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হননি। ঠিক কী কারণে এমন উগ্র আচরণ করেছিলেন পারদেস, তা এখনও রহস্যই থেকে গেছে।

​তবে মাঠের এই ঘটনাকে তীব্র ভাষায় সমালোচনা করেছেন বিশ্ব ফুটবলের প্রাক্তন তারকা ও বিশ্লেষকেরা। ব্রিটিশ টিভি চ্যানেল আইটিভিতে সাবেক ইংলিশ ডিফেন্ডার গ্যারি নেভিল অসন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, “বিষয়টি অত্যন্ত লজ্জাজনক। আর্জেন্টাইনদের অদম্য লড়াই করার মানসিকতা আমি সব সময় পছন্দ করি, কিন্তু শেষ কয়েকটি ম্যাচে তাদের মেজাজ ধরে রাখতে না পারার আচরণ সবাইকে হতাশ করেছে।”

​একই সুর ফুটে উঠেছে বিবিসি ডটকমের বিশ্লেষণে অ্যালান শিয়ারারের কণ্ঠে। তিনি বলেন, “পারদেস যেভাবে একই মানুষের মুখে বারবার আঘাত করল, ফুটবলের মতো খেলাতে এর কোনো জায়গা হতে পারে না। ফাইনালে হেরে যাওয়ার কষ্ট কতটা গভীর হতে পারে তা আমরা সবাই জানি, কিন্তু হার মেনে নেওয়ারও একটা মার্জিত উপায়ে থাকে।”

​অন্যদিকে সাবেক গোলরক্ষক জো হার্ট ট্রফি প্রদান মঞ্চের শালীনতার বিষয়টি টেনে মন্তব্য করেন, “ম্যাচ শেষে আর্জেন্টিনার একজন মানুষের মধ্যেই ন্যূনতম ভদ্রতা ও সৌজন্য ছিল—তিনি লিওনেল মেসি। পরাজয় নিশ্চিত হওয়ার পরও তিনি শান্তভাবে স্পেনের প্রতিটা ফুটবলারের সঙ্গে হাত মিলিয়েছেন।”

​বিশ্বকাপ ফাইনালের মতো বিশ্বমঞ্চে পারদেসের এমন জঘন্য আচরণের বিচার শেষ পর্যন্ত কীভাবে হবে, এখন সেটিই দেখার বিষয়।

Share this news as a Photo Card