হাই তোলা কেন এত ছোঁয়াচে? মস্তিষ্কের রহস্য যা বলছে বিজ্ঞান

কর্মস্থলে মিটিংয়ের মাঝে হঠাৎ পাশের সহকর্মী বড় করে হাই তুললেন। মুহূর্তেই আপনারও চোখ ছোট হয়ে এলো, মুখ খুলে গেল আপনা-আপনি, আর টেনে নিলেন বড় একটা নিশ্বাস। এমন অভিজ্ঞতা প্রায় সবার জীবনেই ঘটে। এমনকি কেউ “হাই তোলা” শব্দটা উচ্চারণ করলেও হাই উঠে যায় অনেকের। প্রশ্ন হলো, হাই তো কোনো ভাইরাস বা ব্যাকটেরিয়াজনিত অসুখ নয়, তাহলে এটি এত সংক্রামক বা ছোঁয়াচে হয় কীভাবে?
হাই তোলার পেছনে আসল কারণ
দীর্ঘদিন ধরে ধারণা প্রচলিত ছিল, রক্তে অক্সিজেনের ঘাটতি হলে মানুষ হাই তোলে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা এই ধারণা নাকচ করে দিয়েছেন। তাঁদের মতে, রক্তে অক্সিজেন বা কার্বন ডাই-অক্সাইডের মাত্রার সঙ্গে হাই তোলার কোনো সম্পর্ক নেই। বরং হাই তোলা হলো মস্তিষ্কের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণের একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া—অনেকটা মস্তিষ্কের নিজস্ব শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্রের মতো। মুখ বড় করে হাই তোলার সময় বাইরের ঠান্ডা বাতাস সরাসরি মুখগহ্বর হয়ে মস্তিষ্কে পৌঁছায়, একই সঙ্গে চোখ ও গালের পেশি সংকুচিত হয়ে মস্তিষ্কে রক্ত সঞ্চালন বাড়িয়ে দেয়। দিনভর কাজ, দুশ্চিন্তা বা মানসিক চাপে গরম হয়ে ওঠা মস্তিষ্ক এভাবেই নিজেকে ঠান্ডা রাখে।
ঘুমের লক্ষণ নয়, বরং সতর্কতার সংকেত
অনেকে মনে করেন হাই তোলা মানেই ঘুম পাওয়া। কিন্তু গবেষকরা বলছেন, ঘুম ও জাগরণের মাঝামাঝি অবস্থায়, যখন শরীর সজাগ থাকার সংকেত পাঠায়, তখনও হাই ওঠে। হাই তোলার সময় বুকের পেশি প্রসারিত হয় ও হৃৎস্পন্দন কিছুক্ষণের জন্য বেড়ে যায়, যা মস্তিষ্ককে এক ধরনের ঝাঁকুনি দিয়ে সজাগ রাখতে সাহায্য করে।
তাহলে ছোঁয়াচে কেন?
মনোবিজ্ঞানের ভাষায় এই ঘটনাকে বলা হয় “ক্যামেলিয়ন এফেক্ট”—আশপাশের মানুষের অঙ্গভঙ্গি, মুখভাব বা কথা বলার ধরন অজান্তেই অনুকরণ করার প্রবণতা। এর সঙ্গে জড়িত রয়েছে মস্তিষ্কের “মিরর নিউরন”, যা অন্যের আচরণ দেখে তা নকল করতে সাহায্য করে। এছাড়া রয়েছে “এমপ্যাথি” বা সহমর্মিতার ভূমিকা—অন্যের অনুভূতি বোঝার সময় মস্তিষ্কের আবেগ নিয়ন্ত্রণকারী অংশ সক্রিয় হয়ে ওঠে, ফলে অন্যের হাই তোলা দেখেও নিজের হাই ওঠে। গবেষণায় দেখা গেছে, পোষা কুকুর-বিড়ালও মালিকের হাই তোলা দেখে সাড়া দেয়, যদিও এ নিয়ে বিতর্ক এখনও চলছে।
তবে অটিজম বা স্কিৎজোফ্রেনিয়ায় আক্রান্তদের ক্ষেত্রে এই সংক্রামক প্রতিক্রিয়া কম দেখা যায়, কারণ তাঁদের মধ্যে সামাজিক সহমর্মিতার ঘাটতি থাকে। এ থেকেই বোঝা যায়, হাই তোলা কেবল শারীরিক ক্লান্তির প্রকাশ নয়, এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে মানুষের আবেগ ও সংবেদনশীলতার গভীর সম্পর্কও।

Share this news as a Photo Card

© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

জনপ্রিয় সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক

মোঃ মাহমুদুন্নবী জ্যোতি

অফিসঃ ২/২ আরকে মিশন রোড , ঢাকা।

ইমেলঃ chalomanbarta@yahoo.com, chalomanbarta@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১০৫৬৮৬৬, ০১৬৮১৯২৪০০০

পলিথিন বন্ধে কঠোর হওয়ার হুঁশিয়ারি প্রতিমন্ত্রীর

২৭ জুলাই ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
facebook.com/dailycholomanbarta
www.cholomanbarta.com

হাই তোলা কেন এত ছোঁয়াচে? মস্তিষ্কের রহস্য যা বলছে বিজ্ঞান

আপডেট সময় ০২:৫৪:৫২ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬

কর্মস্থলে মিটিংয়ের মাঝে হঠাৎ পাশের সহকর্মী বড় করে হাই তুললেন। মুহূর্তেই আপনারও চোখ ছোট হয়ে এলো, মুখ খুলে গেল আপনা-আপনি, আর টেনে নিলেন বড় একটা নিশ্বাস। এমন অভিজ্ঞতা প্রায় সবার জীবনেই ঘটে। এমনকি কেউ “হাই তোলা” শব্দটা উচ্চারণ করলেও হাই উঠে যায় অনেকের। প্রশ্ন হলো, হাই তো কোনো ভাইরাস বা ব্যাকটেরিয়াজনিত অসুখ নয়, তাহলে এটি এত সংক্রামক বা ছোঁয়াচে হয় কীভাবে?
হাই তোলার পেছনে আসল কারণ
দীর্ঘদিন ধরে ধারণা প্রচলিত ছিল, রক্তে অক্সিজেনের ঘাটতি হলে মানুষ হাই তোলে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা এই ধারণা নাকচ করে দিয়েছেন। তাঁদের মতে, রক্তে অক্সিজেন বা কার্বন ডাই-অক্সাইডের মাত্রার সঙ্গে হাই তোলার কোনো সম্পর্ক নেই। বরং হাই তোলা হলো মস্তিষ্কের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণের একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া—অনেকটা মস্তিষ্কের নিজস্ব শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্রের মতো। মুখ বড় করে হাই তোলার সময় বাইরের ঠান্ডা বাতাস সরাসরি মুখগহ্বর হয়ে মস্তিষ্কে পৌঁছায়, একই সঙ্গে চোখ ও গালের পেশি সংকুচিত হয়ে মস্তিষ্কে রক্ত সঞ্চালন বাড়িয়ে দেয়। দিনভর কাজ, দুশ্চিন্তা বা মানসিক চাপে গরম হয়ে ওঠা মস্তিষ্ক এভাবেই নিজেকে ঠান্ডা রাখে।
ঘুমের লক্ষণ নয়, বরং সতর্কতার সংকেত
অনেকে মনে করেন হাই তোলা মানেই ঘুম পাওয়া। কিন্তু গবেষকরা বলছেন, ঘুম ও জাগরণের মাঝামাঝি অবস্থায়, যখন শরীর সজাগ থাকার সংকেত পাঠায়, তখনও হাই ওঠে। হাই তোলার সময় বুকের পেশি প্রসারিত হয় ও হৃৎস্পন্দন কিছুক্ষণের জন্য বেড়ে যায়, যা মস্তিষ্ককে এক ধরনের ঝাঁকুনি দিয়ে সজাগ রাখতে সাহায্য করে।
তাহলে ছোঁয়াচে কেন?
মনোবিজ্ঞানের ভাষায় এই ঘটনাকে বলা হয় “ক্যামেলিয়ন এফেক্ট”—আশপাশের মানুষের অঙ্গভঙ্গি, মুখভাব বা কথা বলার ধরন অজান্তেই অনুকরণ করার প্রবণতা। এর সঙ্গে জড়িত রয়েছে মস্তিষ্কের “মিরর নিউরন”, যা অন্যের আচরণ দেখে তা নকল করতে সাহায্য করে। এছাড়া রয়েছে “এমপ্যাথি” বা সহমর্মিতার ভূমিকা—অন্যের অনুভূতি বোঝার সময় মস্তিষ্কের আবেগ নিয়ন্ত্রণকারী অংশ সক্রিয় হয়ে ওঠে, ফলে অন্যের হাই তোলা দেখেও নিজের হাই ওঠে। গবেষণায় দেখা গেছে, পোষা কুকুর-বিড়ালও মালিকের হাই তোলা দেখে সাড়া দেয়, যদিও এ নিয়ে বিতর্ক এখনও চলছে।
তবে অটিজম বা স্কিৎজোফ্রেনিয়ায় আক্রান্তদের ক্ষেত্রে এই সংক্রামক প্রতিক্রিয়া কম দেখা যায়, কারণ তাঁদের মধ্যে সামাজিক সহমর্মিতার ঘাটতি থাকে। এ থেকেই বোঝা যায়, হাই তোলা কেবল শারীরিক ক্লান্তির প্রকাশ নয়, এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে মানুষের আবেগ ও সংবেদনশীলতার গভীর সম্পর্কও।

Share this news as a Photo Card