টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিক, তদন্তে হাইকোর্টে রিট

টুথপেস্টের মতো নিত্যব্যবহার্য একটি পণ্যেও যে মাইক্রোপ্লাস্টিকের মতো ক্ষতিকর উপাদান মিশে থাকতে পারে, এমন তথ্য সামনে আসার পর দেশের ভোক্তা মহলে উদ্বেগের ঢেউ উঠেছে। সাম্প্রতিক এক গবেষণা প্রতিবেদনের ভিত্তিতে বিষয়টি নিয়ে তদন্তের দাবিতে হাইকোর্টে একটি রিট আবেদন দাখিল করা হয়েছে। সোমবার সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. আবদুল্লাহ আল মামুন এই রিট দায়ের করেন, যেখানে স্বাস্থ্য সচিব, পরিবেশ সচিব, বাণিজ্য সচিব, বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই) এবং ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ পরিষদকে বিবাদী করা হয়েছে।

এই রিটের পেছনে যে গবেষণাটি রয়েছে, তা পরিচালনা করেছে এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (ইএসডিও)। ‘মাইক্রোপ্লাস্টিকস ইন টুথপেস্ট: সায়েন্টিফিক এভিডেন্স ফর পলিসি অ্যান্ড রেগুলেটরি অ্যাকশন ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক এই গবেষণাটি শনিবার রাজধানীর লালমাটিয়ায় ইএসডিওর কার্যালয়ে প্রকাশ করা হয়। ২০২৫ সালের জুলাই থেকে ২০২৬ সালের জুন—এই এক বছরে দেশের বাজারে প্রচলিত ১৯টি ব্র্যান্ডের ৩৪টি টুথপেস্টের নমুনা সংগ্রহ করে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ল্যাবরেটরি অব এনভায়রনমেন্টাল হেলথ অ্যান্ড ইকোটক্সিকোলজিতে পরীক্ষা করা হয়। খুচরা দোকান, সুপারমার্কেট ও পাইকারি বাজার থেকে সংগৃহীত এসব নমুনার মধ্যে ছিল বাংলাদেশ, ভারত, থাইল্যান্ড ও ভিয়েতনামে তৈরি পণ্য।

গবেষণার ফলাফল রীতিমতো উদ্বেগজনক। মোট ৩৪টি নমুনার মধ্যে ২৬টিতেই—অর্থাৎ প্রায় সাড়ে ৭৬ শতাংশে—মাইক্রোপ্লাস্টিকের অস্তিত্ব শনাক্ত হয়েছে। প্রতি ১০০ গ্রাম টুথপেস্টে এই ক্ষুদ্র প্লাস্টিক কণার পরিমাণ ছিল ২০ থেকে শুরু করে ৩২০টি পর্যন্ত, যা কোনোভাবেই উপেক্ষা করার মতো নয়। আরও উদ্বেগের বিষয়, শিশুদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি ছয়টি টুথপেস্টের মধ্যে চারটিতেও এই ক্ষতিকর কণা পাওয়া গেছে।

দেশে উৎপাদিত পণ্যের ক্ষেত্রে চিত্রটি আরও উদ্বেগজনক। দেশীয় ২৫টি নমুনার মধ্যে ২২টিতেই মাইক্রোপ্লাস্টিক ধরা পড়েছে, যা তুলনামূলকভাবে সর্বোচ্চ। এছাড়া ভারতের পাঁচটি নমুনার একটিতে, থাইল্যান্ডের দুটি নমুনার একটিতে এবং ভিয়েতনামে তৈরি দুটি নমুনার দুটিতেই মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া গেছে।

গবেষণার ফলাফল উপস্থাপন করে ইএসডিওর রিসার্চ অ্যান্ড পলিসি অ্যাসোসিয়েট ড. ফয়জুন নাহার জানান, পরীক্ষা করা টুথপেস্টের ৭৬ দশমিক ৫ শতাংশে মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া গেছে, আর আটটি নমুনায় শনাক্তযোগ্য মাত্রায় কোনো মাইক্রোপ্লাস্টিক মেলেনি।

সবচেয়ে বেশি মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া গেছে ‘মেডিপ্লাস ফ্লোরাইড জেলে’—প্রতি ১০০ গ্রামে ৩২০টি কণা। উদ্বেগের বিষয় হলো, জরিপে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে ৩৫ দশমিক ৬ শতাংশই জানিয়েছেন, তারা এই টুথপেস্ট ব্যবহার করেন, অর্থাৎ এটিই সবচেয়ে জনপ্রিয় ব্র্যান্ড হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। এরপরের অবস্থানে রয়েছে ‘ক্লোজ আপ রেড হট’ ও ‘ক্লোজআপ মেন্থল ফ্রেশ’, যেখানে প্রতি ১০০ গ্রামে ১৬০টি করে কণা মিলেছে। ‘কোডোমো আলট্রা শিল্ড ফর্মুলা’ (স্ট্রবেরি) থেকে পাওয়া গেছে ১৪০টি, ‘সিগন্যাল গ্রিন টি’ থেকে ১২০টি, এবং ‘পেপসোডেন্ট অ্যাডভান্স সল্ট’ ও ‘হিমালয়া কমপ্লিট কেয়ার’ থেকে ১০০টি করে কণা।

তালিকায় আরও রয়েছে ‘সেনসোডাইন ফ্রেশ মিন্ট’, যেখানে পাওয়া গেছে ৮০টি কণা। এরপর ৬০টি করে কণা মিলেছে ‘পেপসোডেন্ট সেনসিটিভ এক্সপার্ট’, ‘হোয়াইট প্লাস রেড’, ‘হোয়াইট প্লাস প্রো সেনসিটিভ জেল’, ‘সিগন্যাল হোয়াইটেনিং’, ‘মেরিল বেবি’ (স্ট্রবেরি) এবং ‘মেডিপ্লাস টিজিপি ফর্মুলা’-তে। ৪০টি করে কণা পাওয়া গেছে ‘এম.পি.এম. হারবাল’, ‘মেডিপ্লাস ডিএস’, ‘পেপসোডেন্ট জার্মিচেক’, ‘মেরিল বেবি’ (অরেঞ্জ), ‘ম্যাজিক হারবাল’, ‘মেসওয়াক’ এবং ‘ক্লোজআপ মেন্থল ফ্রেশ স্যাশে’-তে। আর সবচেয়ে কম মাত্রায়, অর্থাৎ প্রতি ১০০ গ্রামে ২০টি করে কণা পাওয়া গেছে ‘ডেন্টিন জেল’, ‘পেপসোডেন্ট কিডস’ (অরেঞ্জ), ‘ক্লোজআপ লেমন সি সল্ট’, ‘ব্রাশ আপ হোয়াইটেনিং জেল’ ও ‘হোয়াইট প্লাস প্রো সেনসিটিভ’-এ।

মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া পণ্যগুলোর মধ্যে চারটি শিশুদের জন্য তৈরি—‘কোডোমো আলট্রা শিল্ড ফর্মুলা’ (স্ট্রবেরি), ‘মেরিল বেবি’ (স্ট্রবেরি ও অরেঞ্জ) এবং ‘পেপসোডেন্ট কিডস অরেঞ্জ’। তবে স্বস্তির খবরও আছে। আটটি নমুনায় শনাক্তযোগ্য মাত্রায় মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া যায়নি—‘প্যারোডন্ট্যাক্স এক্সপার্ট গাম কেয়ার’, ‘জেনফ্রেশ’, ‘প্যারাস্যুট জাস্ট ফর বেবি’ (ম্যাঙ্গো), ‘সেনসোডাইন ফ্রেশ জেল’, ‘কোলগেট ম্যাক্সফ্রেশ’, ‘ক্লোজআপ রেড হট জিঙ্ক ফ্রেশ টেকনোলজি’, ‘কোডোমো’ (অরেঞ্জ) এবং ‘কোলগেট অ্যাকটিভ সল্ট’। এর মধ্যে ‘কোডোমো অরেঞ্জ’ ও ‘প্যারাস্যুট জাস্ট ফর বেবি’ (ম্যাঙ্গো) শিশুদের টুথপেস্ট, যা অভিভাবকদের জন্য কিছুটা স্বস্তির বার্তা বহন করে।

গবেষণা প্রতিবেদনে স্বাস্থ্যঝুঁকির বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরা হয়েছে। নতুন বৈজ্ঞানিক প্রমাণ অনুযায়ী, মাইক্রোপ্লাস্টিক মানবদেহের শ্বাসতন্ত্র, পরিপাকতন্ত্র, রোগ প্রতিরোধব্যবস্থা, হৃদ্‌রোগ-সংবহনতন্ত্র ও স্নায়ুতন্ত্রের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। এর সম্ভাব্য পরিণতির মধ্যে রয়েছে দেহের প্রদাহ, অঙ্গের ক্ষতিসাধন, হরমোনের ভারসাম্য বিনষ্ট হওয়া, প্রজননক্ষমতা হ্রাস এবং এমনকি ভ্রূণের বিকাশেও বিরূপ প্রভাব পড়ার আশঙ্কা।

গবেষণার অংশ হিসেবে পরিচালিত এক বিস্তৃত জরিপে অংশ নেন ২ হাজার ৭৬০ জন মানুষ। এতে দেখা যায়, উত্তরদাতাদের মধ্যে ৪২ শতাংশ জানিয়েছেন, তারা মাইক্রোপ্লাস্টিক সম্পর্কে জীবনেও শোনেননি। অন্যদিকে মাত্র ২৭ শতাংশ নিজেদের মাইক্রোপ্লাস্টিক সম্পর্কে সচেতন বলে দাবি করেছেন। এই পরিসংখ্যান স্পষ্ট করে দেয়, বিষয়টি নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতার ঘাটতি কতটা প্রকট।

ইএসডিওর মহাসচিব শাহরিয়ার হোসেন এ বিষয়ে গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন। তার ভাষ্যে, কাঁচামালের খরচ কমানোর উদ্দেশ্যেই ইচ্ছাকৃতভাবে টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিক ব্যবহার করা হয়। তিনি বলেন, ‘কাঁচামালের খরচ কমানোর জন্য এটি ইচ্ছাকৃতভাবে করা হয়। এটি অসদাচরণ এবং ভোক্তাদের সঙ্গে প্রতারণার শামিল। ভোক্তা অধিকার আইনে সাধারণত এ ধরনের কাজ শাস্তিযোগ্য অপরাধ।’ কোম্পানিগুলোর কাছে এ বিষয়ে ব্যাখ্যা জানতে চাইলে তারা জানিয়েছে, টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিক ব্যবহার নিষিদ্ধ করে দেশে এখনো কোনো সুনির্দিষ্ট বিধিবিধান নেই।

দন্ত চিকিৎসক এবং চিকিৎসা শিক্ষা অধিদপ্তরের সাবেক লাইন ডিরেক্টর অধ্যাপক মোশাররফ হোসেন খন্দকার জানান, দাঁত সাদা করার উদ্দেশ্যেও অনেক সময় টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিক ব্যবহার করা হয়, যদিও এ ধরনের পণ্য মানবস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। তিনি সতর্ক করে বলেন, ‘খাবার ও জীবাণু—দুটোরই প্রবেশদ্বার মুখ। দাঁত ক্ষতিগ্রস্ত হলে একজন মানুষের সামগ্রিক স্বাস্থ্যও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।’

নিয়ন্ত্রক সংস্থার অবস্থানও এই প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশনের (বিএসটিআই) উপপরিচালক মঞ্জুরুল করিম জানান, টুথপেস্টে কী কী উপাদান ব্যবহার করা যাবে তার একটি নির্দিষ্ট তালিকা রয়েছে, আর মাইক্রোপ্লাস্টিক সেই অনুমোদিত তালিকায় নেই। তিনি স্বীকার করেন, টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি সম্পর্কে কর্তৃপক্ষ আগে থেকে অবগত ছিল না, এবং এখন এ বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ তৈরি করতে আইন সংশোধনের প্রয়োজন রয়েছে।

বর্তমানে বাংলাদেশে টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিকের কোনো নির্দিষ্ট গ্রহণযোগ্য সীমা নির্ধারিত নেই বলে জানিয়েছে ইএসডিও। এ প্রেক্ষাপটে সংস্থাটি বেশ কিছু সুপারিশ তুলে ধরেছে—জাতীয় পর্যায়ে বিধিবিধান প্রণয়ন, মানসম্মত পরীক্ষা পদ্ধতি চালু করা এবং কোম্পানিগুলোর জন্য বাধ্যতামূলক কমপ্লায়েন্স ব্যবস্থা তৈরি করা। পাশাপাশি টুথপেস্টে ইচ্ছাকৃত মাইক্রোপ্লাস্টিকের ব্যবহার পর্যায়ক্রমে কমিয়ে শেষ পর্যন্ত সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করার এবং নিরাপদ, টেকসই বিকল্প ব্যবহারের পরামর্শও দিয়েছে সংস্থাটি।

ইএসডিওর চেয়ারপারসন সৈয়দ মার্গুব মুর্শেদ এই গবেষণাকে বাংলাদেশে প্রথম ‘বেসলাইন গবেষণা’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন, এই গবেষণার মাধ্যমে সংগৃহীত তথ্য ভবিষ্যতে মান নির্ধারণ, নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা শক্তিশালীকরণ এবং ভোক্তা ও পরিবেশ সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। একই সুরে কথা বলেন ইএসডিওর নির্বাহী পরিচালক সিদ্দিকা সুলতানাও। তার মতে, এই গবেষণা দেশে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈজ্ঞানিক তথ্যের ঘাটতি পূরণ করেছে, এবং তথ্য প্রকাশের পর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে বলে তিনি প্রত্যাশা প্রকাশ করেন।

গবেষণায় উল্লেখিত পণ্যগুলোর প্রস্তুতকারক কোম্পানিগুলোও নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে। পরীক্ষা করা নমুনাগুলোর মধ্যে নয়টি ছিল ইউনিলিভার বাংলাদেশের, যার আটটিতেই মাইক্রোপ্লাস্টিক শনাক্ত হয়েছে। লিখিত বক্তব্যে কোম্পানিটি জানিয়েছে, টুথপেস্টসহ তাদের সব পণ্য কঠোর বৈশ্বিক মান এবং স্থানীয় নিয়ন্ত্রক সংস্থার বিধিবিধান মেনে তৈরি ও উৎপাদন করা হয়, এবং সেগুলো ব্যবহারের জন্য নিরাপদ। ইএসডিওর প্রতিবেদন সম্পর্কে অবগত হওয়ার কথা জানিয়ে ইউনিলিভার বলেছে, তারা গবেষণার ফলাফল, পদ্ধতি ও পরীক্ষাপ্রক্রিয়া সম্পর্কে আরও বিস্তারিত তথ্য জানতে চাইছে।

স্কয়ার টয়লেট্রিজের ছয়টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছিল, যার সবগুলোতেই মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া গেছে। কোম্পানিটির হেড অব মার্কেটিং জেসমিন জামান বলেন, তাদের পণ্যে এ ধরনের উপাদান থাকার কোনো যৌক্তিক কারণ নেই। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের সব নির্দেশিকা ও নিয়ন্ত্রক সংস্থার শর্ত মেনেই আমরা পণ্য সরবরাহ করি। স্কয়ার সব সময় তার পণ্যের বিশ্বাসযোগ্যতা ও মান নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’ প্রতিবেদন প্রকাশের পর থেকে কোম্পানির কারিগরি দল নিজেদের পণ্য পরীক্ষা করছে বলে জানান তিনি, পাশাপাশি তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমেও যাচাই চলছে। তার ভাষায়, ‘এ ধরনের কিছু পাওয়া গেলে আমরা তাৎক্ষণিকভাবে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।’

গবেষণায় অন্তর্ভুক্ত চারটি নমুনা ছিল অ্যানফোর্ডস বাংলাদেশের—যে কোম্পানির পণ্যের মধ্যেই সর্বোচ্চ মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া মেডিপ্লাস ফ্লোরাইড জেলও রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির ফেসবুক পেজে দেওয়া একটি মোবাইল নম্বরে যোগাযোগ করা হলে একজন নারী নিজেকে প্রতিষ্ঠানের মানবসম্পদ বিভাগের কর্মকর্তা হিসেবে পরিচয় দেন। কোম্পানির বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি জানান, ব্যবস্থাপনা পরিচালক ব্যস্ত রয়েছেন এবং পরে যোগাযোগ করতে অনুরোধ জানান। পরবর্তীতে পুনরায় যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।

সব মিলিয়ে দেশের নিত্যব্যবহার্য এই পণ্যটি নিয়ে যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে, তা এখন গড়িয়েছে আদালত পর্যন্ত। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, দ্রুত নিয়ন্ত্রক পদক্ষেপ ও মান নির্ধারণ এখন সময়ের দাবি, যাতে ভবিষ্যতে বাজারজাত প্রতিটি পণ্য নিরাপদ মানদণ্ড মেনে তৈরি হয়। রিটের শুনানি শেষে আদালত এ বিষয়ে কী নির্দেশনা দেয়, সেদিকেই এখন সবার দৃষ্টি নিবদ্ধ।

Share this news as a Photo Card

© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

জনপ্রিয় সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক

মোঃ মাহমুদুন্নবী জ্যোতি

অফিসঃ ২/২ আরকে মিশন রোড , ঢাকা।

ইমেলঃ chalomanbarta@yahoo.com, chalomanbarta@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১০৫৬৮৬৬, ০১৬৮১৯২৪০০০

পলিথিন বন্ধে কঠোর হওয়ার হুঁশিয়ারি প্রতিমন্ত্রীর

২৭ জুলাই ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
facebook.com/dailycholomanbarta
www.cholomanbarta.com

টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিক, তদন্তে হাইকোর্টে রিট

আপডেট সময় ০৫:২৪:৫৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬

টুথপেস্টের মতো নিত্যব্যবহার্য একটি পণ্যেও যে মাইক্রোপ্লাস্টিকের মতো ক্ষতিকর উপাদান মিশে থাকতে পারে, এমন তথ্য সামনে আসার পর দেশের ভোক্তা মহলে উদ্বেগের ঢেউ উঠেছে। সাম্প্রতিক এক গবেষণা প্রতিবেদনের ভিত্তিতে বিষয়টি নিয়ে তদন্তের দাবিতে হাইকোর্টে একটি রিট আবেদন দাখিল করা হয়েছে। সোমবার সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. আবদুল্লাহ আল মামুন এই রিট দায়ের করেন, যেখানে স্বাস্থ্য সচিব, পরিবেশ সচিব, বাণিজ্য সচিব, বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই) এবং ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ পরিষদকে বিবাদী করা হয়েছে।

এই রিটের পেছনে যে গবেষণাটি রয়েছে, তা পরিচালনা করেছে এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (ইএসডিও)। ‘মাইক্রোপ্লাস্টিকস ইন টুথপেস্ট: সায়েন্টিফিক এভিডেন্স ফর পলিসি অ্যান্ড রেগুলেটরি অ্যাকশন ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক এই গবেষণাটি শনিবার রাজধানীর লালমাটিয়ায় ইএসডিওর কার্যালয়ে প্রকাশ করা হয়। ২০২৫ সালের জুলাই থেকে ২০২৬ সালের জুন—এই এক বছরে দেশের বাজারে প্রচলিত ১৯টি ব্র্যান্ডের ৩৪টি টুথপেস্টের নমুনা সংগ্রহ করে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ল্যাবরেটরি অব এনভায়রনমেন্টাল হেলথ অ্যান্ড ইকোটক্সিকোলজিতে পরীক্ষা করা হয়। খুচরা দোকান, সুপারমার্কেট ও পাইকারি বাজার থেকে সংগৃহীত এসব নমুনার মধ্যে ছিল বাংলাদেশ, ভারত, থাইল্যান্ড ও ভিয়েতনামে তৈরি পণ্য।

গবেষণার ফলাফল রীতিমতো উদ্বেগজনক। মোট ৩৪টি নমুনার মধ্যে ২৬টিতেই—অর্থাৎ প্রায় সাড়ে ৭৬ শতাংশে—মাইক্রোপ্লাস্টিকের অস্তিত্ব শনাক্ত হয়েছে। প্রতি ১০০ গ্রাম টুথপেস্টে এই ক্ষুদ্র প্লাস্টিক কণার পরিমাণ ছিল ২০ থেকে শুরু করে ৩২০টি পর্যন্ত, যা কোনোভাবেই উপেক্ষা করার মতো নয়। আরও উদ্বেগের বিষয়, শিশুদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি ছয়টি টুথপেস্টের মধ্যে চারটিতেও এই ক্ষতিকর কণা পাওয়া গেছে।

দেশে উৎপাদিত পণ্যের ক্ষেত্রে চিত্রটি আরও উদ্বেগজনক। দেশীয় ২৫টি নমুনার মধ্যে ২২টিতেই মাইক্রোপ্লাস্টিক ধরা পড়েছে, যা তুলনামূলকভাবে সর্বোচ্চ। এছাড়া ভারতের পাঁচটি নমুনার একটিতে, থাইল্যান্ডের দুটি নমুনার একটিতে এবং ভিয়েতনামে তৈরি দুটি নমুনার দুটিতেই মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া গেছে।

গবেষণার ফলাফল উপস্থাপন করে ইএসডিওর রিসার্চ অ্যান্ড পলিসি অ্যাসোসিয়েট ড. ফয়জুন নাহার জানান, পরীক্ষা করা টুথপেস্টের ৭৬ দশমিক ৫ শতাংশে মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া গেছে, আর আটটি নমুনায় শনাক্তযোগ্য মাত্রায় কোনো মাইক্রোপ্লাস্টিক মেলেনি।

সবচেয়ে বেশি মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া গেছে ‘মেডিপ্লাস ফ্লোরাইড জেলে’—প্রতি ১০০ গ্রামে ৩২০টি কণা। উদ্বেগের বিষয় হলো, জরিপে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে ৩৫ দশমিক ৬ শতাংশই জানিয়েছেন, তারা এই টুথপেস্ট ব্যবহার করেন, অর্থাৎ এটিই সবচেয়ে জনপ্রিয় ব্র্যান্ড হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। এরপরের অবস্থানে রয়েছে ‘ক্লোজ আপ রেড হট’ ও ‘ক্লোজআপ মেন্থল ফ্রেশ’, যেখানে প্রতি ১০০ গ্রামে ১৬০টি করে কণা মিলেছে। ‘কোডোমো আলট্রা শিল্ড ফর্মুলা’ (স্ট্রবেরি) থেকে পাওয়া গেছে ১৪০টি, ‘সিগন্যাল গ্রিন টি’ থেকে ১২০টি, এবং ‘পেপসোডেন্ট অ্যাডভান্স সল্ট’ ও ‘হিমালয়া কমপ্লিট কেয়ার’ থেকে ১০০টি করে কণা।

তালিকায় আরও রয়েছে ‘সেনসোডাইন ফ্রেশ মিন্ট’, যেখানে পাওয়া গেছে ৮০টি কণা। এরপর ৬০টি করে কণা মিলেছে ‘পেপসোডেন্ট সেনসিটিভ এক্সপার্ট’, ‘হোয়াইট প্লাস রেড’, ‘হোয়াইট প্লাস প্রো সেনসিটিভ জেল’, ‘সিগন্যাল হোয়াইটেনিং’, ‘মেরিল বেবি’ (স্ট্রবেরি) এবং ‘মেডিপ্লাস টিজিপি ফর্মুলা’-তে। ৪০টি করে কণা পাওয়া গেছে ‘এম.পি.এম. হারবাল’, ‘মেডিপ্লাস ডিএস’, ‘পেপসোডেন্ট জার্মিচেক’, ‘মেরিল বেবি’ (অরেঞ্জ), ‘ম্যাজিক হারবাল’, ‘মেসওয়াক’ এবং ‘ক্লোজআপ মেন্থল ফ্রেশ স্যাশে’-তে। আর সবচেয়ে কম মাত্রায়, অর্থাৎ প্রতি ১০০ গ্রামে ২০টি করে কণা পাওয়া গেছে ‘ডেন্টিন জেল’, ‘পেপসোডেন্ট কিডস’ (অরেঞ্জ), ‘ক্লোজআপ লেমন সি সল্ট’, ‘ব্রাশ আপ হোয়াইটেনিং জেল’ ও ‘হোয়াইট প্লাস প্রো সেনসিটিভ’-এ।

মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া পণ্যগুলোর মধ্যে চারটি শিশুদের জন্য তৈরি—‘কোডোমো আলট্রা শিল্ড ফর্মুলা’ (স্ট্রবেরি), ‘মেরিল বেবি’ (স্ট্রবেরি ও অরেঞ্জ) এবং ‘পেপসোডেন্ট কিডস অরেঞ্জ’। তবে স্বস্তির খবরও আছে। আটটি নমুনায় শনাক্তযোগ্য মাত্রায় মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া যায়নি—‘প্যারোডন্ট্যাক্স এক্সপার্ট গাম কেয়ার’, ‘জেনফ্রেশ’, ‘প্যারাস্যুট জাস্ট ফর বেবি’ (ম্যাঙ্গো), ‘সেনসোডাইন ফ্রেশ জেল’, ‘কোলগেট ম্যাক্সফ্রেশ’, ‘ক্লোজআপ রেড হট জিঙ্ক ফ্রেশ টেকনোলজি’, ‘কোডোমো’ (অরেঞ্জ) এবং ‘কোলগেট অ্যাকটিভ সল্ট’। এর মধ্যে ‘কোডোমো অরেঞ্জ’ ও ‘প্যারাস্যুট জাস্ট ফর বেবি’ (ম্যাঙ্গো) শিশুদের টুথপেস্ট, যা অভিভাবকদের জন্য কিছুটা স্বস্তির বার্তা বহন করে।

গবেষণা প্রতিবেদনে স্বাস্থ্যঝুঁকির বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরা হয়েছে। নতুন বৈজ্ঞানিক প্রমাণ অনুযায়ী, মাইক্রোপ্লাস্টিক মানবদেহের শ্বাসতন্ত্র, পরিপাকতন্ত্র, রোগ প্রতিরোধব্যবস্থা, হৃদ্‌রোগ-সংবহনতন্ত্র ও স্নায়ুতন্ত্রের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। এর সম্ভাব্য পরিণতির মধ্যে রয়েছে দেহের প্রদাহ, অঙ্গের ক্ষতিসাধন, হরমোনের ভারসাম্য বিনষ্ট হওয়া, প্রজননক্ষমতা হ্রাস এবং এমনকি ভ্রূণের বিকাশেও বিরূপ প্রভাব পড়ার আশঙ্কা।

গবেষণার অংশ হিসেবে পরিচালিত এক বিস্তৃত জরিপে অংশ নেন ২ হাজার ৭৬০ জন মানুষ। এতে দেখা যায়, উত্তরদাতাদের মধ্যে ৪২ শতাংশ জানিয়েছেন, তারা মাইক্রোপ্লাস্টিক সম্পর্কে জীবনেও শোনেননি। অন্যদিকে মাত্র ২৭ শতাংশ নিজেদের মাইক্রোপ্লাস্টিক সম্পর্কে সচেতন বলে দাবি করেছেন। এই পরিসংখ্যান স্পষ্ট করে দেয়, বিষয়টি নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতার ঘাটতি কতটা প্রকট।

ইএসডিওর মহাসচিব শাহরিয়ার হোসেন এ বিষয়ে গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন। তার ভাষ্যে, কাঁচামালের খরচ কমানোর উদ্দেশ্যেই ইচ্ছাকৃতভাবে টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিক ব্যবহার করা হয়। তিনি বলেন, ‘কাঁচামালের খরচ কমানোর জন্য এটি ইচ্ছাকৃতভাবে করা হয়। এটি অসদাচরণ এবং ভোক্তাদের সঙ্গে প্রতারণার শামিল। ভোক্তা অধিকার আইনে সাধারণত এ ধরনের কাজ শাস্তিযোগ্য অপরাধ।’ কোম্পানিগুলোর কাছে এ বিষয়ে ব্যাখ্যা জানতে চাইলে তারা জানিয়েছে, টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিক ব্যবহার নিষিদ্ধ করে দেশে এখনো কোনো সুনির্দিষ্ট বিধিবিধান নেই।

দন্ত চিকিৎসক এবং চিকিৎসা শিক্ষা অধিদপ্তরের সাবেক লাইন ডিরেক্টর অধ্যাপক মোশাররফ হোসেন খন্দকার জানান, দাঁত সাদা করার উদ্দেশ্যেও অনেক সময় টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিক ব্যবহার করা হয়, যদিও এ ধরনের পণ্য মানবস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। তিনি সতর্ক করে বলেন, ‘খাবার ও জীবাণু—দুটোরই প্রবেশদ্বার মুখ। দাঁত ক্ষতিগ্রস্ত হলে একজন মানুষের সামগ্রিক স্বাস্থ্যও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।’

নিয়ন্ত্রক সংস্থার অবস্থানও এই প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশনের (বিএসটিআই) উপপরিচালক মঞ্জুরুল করিম জানান, টুথপেস্টে কী কী উপাদান ব্যবহার করা যাবে তার একটি নির্দিষ্ট তালিকা রয়েছে, আর মাইক্রোপ্লাস্টিক সেই অনুমোদিত তালিকায় নেই। তিনি স্বীকার করেন, টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি সম্পর্কে কর্তৃপক্ষ আগে থেকে অবগত ছিল না, এবং এখন এ বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ তৈরি করতে আইন সংশোধনের প্রয়োজন রয়েছে।

বর্তমানে বাংলাদেশে টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিকের কোনো নির্দিষ্ট গ্রহণযোগ্য সীমা নির্ধারিত নেই বলে জানিয়েছে ইএসডিও। এ প্রেক্ষাপটে সংস্থাটি বেশ কিছু সুপারিশ তুলে ধরেছে—জাতীয় পর্যায়ে বিধিবিধান প্রণয়ন, মানসম্মত পরীক্ষা পদ্ধতি চালু করা এবং কোম্পানিগুলোর জন্য বাধ্যতামূলক কমপ্লায়েন্স ব্যবস্থা তৈরি করা। পাশাপাশি টুথপেস্টে ইচ্ছাকৃত মাইক্রোপ্লাস্টিকের ব্যবহার পর্যায়ক্রমে কমিয়ে শেষ পর্যন্ত সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করার এবং নিরাপদ, টেকসই বিকল্প ব্যবহারের পরামর্শও দিয়েছে সংস্থাটি।

ইএসডিওর চেয়ারপারসন সৈয়দ মার্গুব মুর্শেদ এই গবেষণাকে বাংলাদেশে প্রথম ‘বেসলাইন গবেষণা’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন, এই গবেষণার মাধ্যমে সংগৃহীত তথ্য ভবিষ্যতে মান নির্ধারণ, নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা শক্তিশালীকরণ এবং ভোক্তা ও পরিবেশ সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। একই সুরে কথা বলেন ইএসডিওর নির্বাহী পরিচালক সিদ্দিকা সুলতানাও। তার মতে, এই গবেষণা দেশে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈজ্ঞানিক তথ্যের ঘাটতি পূরণ করেছে, এবং তথ্য প্রকাশের পর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে বলে তিনি প্রত্যাশা প্রকাশ করেন।

গবেষণায় উল্লেখিত পণ্যগুলোর প্রস্তুতকারক কোম্পানিগুলোও নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে। পরীক্ষা করা নমুনাগুলোর মধ্যে নয়টি ছিল ইউনিলিভার বাংলাদেশের, যার আটটিতেই মাইক্রোপ্লাস্টিক শনাক্ত হয়েছে। লিখিত বক্তব্যে কোম্পানিটি জানিয়েছে, টুথপেস্টসহ তাদের সব পণ্য কঠোর বৈশ্বিক মান এবং স্থানীয় নিয়ন্ত্রক সংস্থার বিধিবিধান মেনে তৈরি ও উৎপাদন করা হয়, এবং সেগুলো ব্যবহারের জন্য নিরাপদ। ইএসডিওর প্রতিবেদন সম্পর্কে অবগত হওয়ার কথা জানিয়ে ইউনিলিভার বলেছে, তারা গবেষণার ফলাফল, পদ্ধতি ও পরীক্ষাপ্রক্রিয়া সম্পর্কে আরও বিস্তারিত তথ্য জানতে চাইছে।

স্কয়ার টয়লেট্রিজের ছয়টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছিল, যার সবগুলোতেই মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া গেছে। কোম্পানিটির হেড অব মার্কেটিং জেসমিন জামান বলেন, তাদের পণ্যে এ ধরনের উপাদান থাকার কোনো যৌক্তিক কারণ নেই। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের সব নির্দেশিকা ও নিয়ন্ত্রক সংস্থার শর্ত মেনেই আমরা পণ্য সরবরাহ করি। স্কয়ার সব সময় তার পণ্যের বিশ্বাসযোগ্যতা ও মান নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’ প্রতিবেদন প্রকাশের পর থেকে কোম্পানির কারিগরি দল নিজেদের পণ্য পরীক্ষা করছে বলে জানান তিনি, পাশাপাশি তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমেও যাচাই চলছে। তার ভাষায়, ‘এ ধরনের কিছু পাওয়া গেলে আমরা তাৎক্ষণিকভাবে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।’

গবেষণায় অন্তর্ভুক্ত চারটি নমুনা ছিল অ্যানফোর্ডস বাংলাদেশের—যে কোম্পানির পণ্যের মধ্যেই সর্বোচ্চ মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া মেডিপ্লাস ফ্লোরাইড জেলও রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির ফেসবুক পেজে দেওয়া একটি মোবাইল নম্বরে যোগাযোগ করা হলে একজন নারী নিজেকে প্রতিষ্ঠানের মানবসম্পদ বিভাগের কর্মকর্তা হিসেবে পরিচয় দেন। কোম্পানির বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি জানান, ব্যবস্থাপনা পরিচালক ব্যস্ত রয়েছেন এবং পরে যোগাযোগ করতে অনুরোধ জানান। পরবর্তীতে পুনরায় যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।

সব মিলিয়ে দেশের নিত্যব্যবহার্য এই পণ্যটি নিয়ে যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে, তা এখন গড়িয়েছে আদালত পর্যন্ত। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, দ্রুত নিয়ন্ত্রক পদক্ষেপ ও মান নির্ধারণ এখন সময়ের দাবি, যাতে ভবিষ্যতে বাজারজাত প্রতিটি পণ্য নিরাপদ মানদণ্ড মেনে তৈরি হয়। রিটের শুনানি শেষে আদালত এ বিষয়ে কী নির্দেশনা দেয়, সেদিকেই এখন সবার দৃষ্টি নিবদ্ধ।

Share this news as a Photo Card