ঠান্ডা লাগলেই আমরা অনেকে সবার আগে গরম জলের গ্লাস হাতে তুলে নিই। কারও ভরসা টগবগে গরম চা, কারও আবার ধোঁয়া-ওঠা স্যুপ। কিন্তু প্রশ্ন হলো, খুব গরম জল বা পানীয় কি সত্যিই সর্দি-কাশি বা গলা ব্যথা দ্রুত সারিয়ে তোলে, নাকি এটি নিছকই একটি প্রচলিত ধারণা?
চিকিৎসকদের মতে, ঠান্ডা লাগার পেছনে মূল কারণ শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার একটি স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া। সংক্রমণ ঘটলে গলা ও নাকের ভেতরের অংশে প্রদাহ তৈরি হয়, যার ফলে ব্যথা ও ফোলাভাব দেখা দেয়। একই সঙ্গে জীবাণু প্রতিরোধে শরীর বেশি পরিমাণে শ্লেষ্মা তৈরি করে, যা নাক বন্ধ হয়ে যাওয়া বা নাক দিয়ে জল পড়ার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। সংক্রমণের বিরুদ্ধে লড়তে গিয়ে শরীর অতিরিক্ত শক্তি ব্যয় করে বলেই ক্লান্তি ও জ্বরের মতো উপসর্গও দেখা যায়। পর্যাপ্ত তরল পান না করলে শ্লেষ্মা ঘন হয়ে অস্বস্তি আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।
তাহলে সমাধান কী? বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অতিরিক্ত গরম নয়, বরং কুসুম গরম বা ঈষদুষ্ণ জলই এক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি উপকারী। অনেকেই মনে করেন, জল যত গরম হবে, উপকারও তত বেশি হবে। কিন্তু বাস্তবে এই ধারণা ভুল, এমনকি ক্ষতিকরও বটে। খুব বেশি গরম জল গলার ভেতরের সংবেদনশীল টিস্যুতে জ্বালাপোড়া তৈরি করতে পারে, এমনকি সামান্য পুড়েও যেতে পারে। এতে খুসখুসে ভাব কমার বদলে উল্টে বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। অন্যদিকে ঈষদুষ্ণ জল গলার প্রদাহ ও অস্বস্তি প্রশমিত করতে সাহায্য করে, পাশাপাশি নাকে জমে থাকা শ্লেষ্মাও কিছুটা পাতলা হয়ে আসে, ফলে শ্বাস নিতে সুবিধা হয়।
তবে চিকিৎসকেরা স্পষ্ট করে বলছেন, উষ্ণ জল কোনও ওষুধের বিকল্প নয়। এটি সংক্রমণ নির্মূল করে না, বরং উপসর্গ কমিয়ে কিছুটা স্বস্তি দেয় মাত্র। সেরে ওঠার প্রক্রিয়াকে দ্রুত করতে শরীরে পর্যাপ্ত জলীয় উপাদান বজায় রাখা জরুরি। সারা দিন অল্প অল্প করে হালকা গরম জল পান, মধু মিশ্রিত পানীয়, ভেষজ চা কিংবা নুন-জলে গার্গল করলে আরাম মিলতে পারে। আবার অনেক ক্ষেত্রে জল পান করার চেয়ে জলীয় বাষ্প বা ভাপ নেওয়া বেশি কার্যকর হতে পারে, কারণ তা সরাসরি বন্ধ নাক খুলে দিতে সাহায্য করে।
খাদ্যাভ্যাসের দিকেও নজর দেওয়া জরুরি। এই সময়ে হালকা শাকসব্জি, মাছ বা মাংসের পাতলা ঝোল শরীরের জন্য উপকারী বলে মনে করেন পুষ্টিবিদরা। পাশাপাশি ভিটামিন সমৃদ্ধ খাবার বেশি খাওয়ার পরামর্শও দেওয়া হয়, যা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সহায়ক।
সব মিলিয়ে বলা যায়, ঠান্ডা লাগলে গরম জল একেবারে ফেলনা নয়, তবে তা হতে হবে পরিমিত ও ঈষদুষ্ণ। অতিরিক্ত উত্তাপ আরাম দেওয়ার বদলে সমস্যাই বাড়িয়ে তুলতে পারে।
শিরোনাম :
ঠান্ডা লাগলে গরম জল, না ঈষদুষ্ণ জল বেশি উপকারী?
-
চলমান বার্তা ডেস্ক : - আপডেট সময় ০৯:০৮:১৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬
- 6
জনপ্রিয় সংবাদ


























