ক্যামেরা নয়, মনের অ্যাঙ্গেল বদলান: প্রিয়াঙ্কা

ভারতের সংসদে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কড়া সমালোচনা করেছেন কংগ্রেস সংসদ সদস্য প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ভাদরা। তার মতে, বিরোধীদের ওপর দোষ চাপিয়ে বা প্রচারণামূলক ভিডিও তৈরি করে জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনা সম্ভব নয়। জনমনে বিশ্বাস পুনরুদ্ধার করতে প্রধানমন্ত্রীকে ক্যামেরার কোণ নয়, বরং নিজের মানসিকতার পরিবর্তন আনতে হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
সংসদের অধিবেশনে দেওয়া বক্তব্যে প্রিয়াঙ্কা বলেন, বর্তমান প্রজন্ম যথেষ্ট সচেতন এবং সহজেই সত্য-মিথ্যার পার্থক্য বুঝতে সক্ষম। তাই তরুণদের আস্থা অর্জন করতে হলে সরকারকে সত্যকে স্বীকার করে নিতে হবে। তার অভিযোগ, চলতি সরকারের সময়ে দেশের তরুণ সমাজ নানাভাবে অন্যায় ও নিপীড়নের শিকার হয়েছে, আর এই বাস্তবতা মেনে নেওয়াই এখন সবচেয়ে জরুরি।
দায়িত্ব এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই মন্তব্য করে কংগ্রেসনেত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর উচিত শিক্ষাবিদ, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের নিয়ে আলোচনার মাধ্যমে নতুন একটি শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া। জাতীয় শিক্ষা নীতি বা এনইপি নিয়েও কড়া সমালোচনা করেন তিনি। তার দাবি, বর্তমান কাঠামোয় বছরের প্রায় আট মাসই পরীক্ষাকেন্দ্রিক কার্যক্রমে ব্যয় হওয়ায় শিক্ষকরা পাঠদানের জন্য পর্যাপ্ত সময় পান না। পাশাপাশি নির্দিষ্ট মতাদর্শের অনুসারী নিয়োগের বদলে যোগ্য, উদার ও দক্ষ ব্যক্তিদের শিক্ষা খাতে দায়িত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে সরকারকে আরও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার তাগিদ দেন প্রিয়াঙ্কা গান্ধী। একই সঙ্গে চিকিৎসা শিক্ষার পরিধি বাড়াতে আরও মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠার দাবি জানান, যাতে কঠোর পরিশ্রম করেও ভবিষ্যৎ গড়তে ব্যর্থ তরুণরা নতুন করে স্বপ্ন দেখার সুযোগ পান।
শিক্ষার্থী আন্দোলনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের রাজপথ থেকে সরানো গেলেও তাদের প্রশ্নগুলো এড়ানো যাবে না। তার অভিযোগ, আন্দোলনকারীদের ওপর লাঠিচার্জের ঘটনায় সরকারের ভাবমূর্তিই সবচেয়ে বেশি ক্ষুণ্ণ হয়েছে। প্রিয়াঙ্কার ভাষায়, দেশের তরুণরা করুণা নয়, ন্যায়বিচার চায়। সরকার পতনের উদ্দেশ্যে নয়, বরং রাষ্ট্রের প্রতি নিজেদের আস্থা অক্ষুণ্ণ রাখতেই তারা পথে নেমেছে।
সরকারের প্রতি তার আহ্বান, নিজেদের ভাবমূর্তি রক্ষায় মানসিকতা বদলানো হোক, অহংকার পরিহার করা হোক এবং জনগণকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করা হোক।
বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে সরকারের বিরুদ্ধে একাধিক গুরুতর অভিযোগ তোলেন প্রিয়াঙ্কা গান্ধী। তার দাবি, চলতি সরকারের আমলে নির্বাচন, রামমন্দিরে অনুদান, রাষ্ট্রীয় সম্পদ ও কৃষিজমি সংক্রান্ত নানা অনিয়ম ঘটেছে। তবে সবচেয়ে বড় ক্ষতি হয়েছে বলে তিনি মনে করেন, যখন দেশের তরুণদের ভবিষ্যৎ ও স্বপ্নই কার্যত ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে।
সব মিলিয়ে সংসদের এই অধিবেশনে শিক্ষা, কর্মসংস্থান, তরুণ সমাজের প্রতি আচরণ এবং সরকারের নানা নীতিগত সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে তীব্র সমালোচনা তুলে ধরেন কংগ্রেস নেত্রী প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ভাদরা।

Share this news as a Photo Card

© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

জনপ্রিয় সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক

মোঃ মাহমুদুন্নবী জ্যোতি

অফিসঃ ২/২ আরকে মিশন রোড , ঢাকা।

ইমেলঃ chalomanbarta@yahoo.com, chalomanbarta@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১০৫৬৮৬৬, ০১৬৮১৯২৪০০০

শিশুদের সঠিক গড়ে ওঠার ওপর গুরুত্ব দিলেন প্রধানমন্ত্রী

২৮ জুলাই ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
facebook.com/dailycholomanbarta
www.cholomanbarta.com

ক্যামেরা নয়, মনের অ্যাঙ্গেল বদলান: প্রিয়াঙ্কা

আপডেট সময় ১২:১৩:৪৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬

ভারতের সংসদে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কড়া সমালোচনা করেছেন কংগ্রেস সংসদ সদস্য প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ভাদরা। তার মতে, বিরোধীদের ওপর দোষ চাপিয়ে বা প্রচারণামূলক ভিডিও তৈরি করে জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনা সম্ভব নয়। জনমনে বিশ্বাস পুনরুদ্ধার করতে প্রধানমন্ত্রীকে ক্যামেরার কোণ নয়, বরং নিজের মানসিকতার পরিবর্তন আনতে হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
সংসদের অধিবেশনে দেওয়া বক্তব্যে প্রিয়াঙ্কা বলেন, বর্তমান প্রজন্ম যথেষ্ট সচেতন এবং সহজেই সত্য-মিথ্যার পার্থক্য বুঝতে সক্ষম। তাই তরুণদের আস্থা অর্জন করতে হলে সরকারকে সত্যকে স্বীকার করে নিতে হবে। তার অভিযোগ, চলতি সরকারের সময়ে দেশের তরুণ সমাজ নানাভাবে অন্যায় ও নিপীড়নের শিকার হয়েছে, আর এই বাস্তবতা মেনে নেওয়াই এখন সবচেয়ে জরুরি।
দায়িত্ব এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই মন্তব্য করে কংগ্রেসনেত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর উচিত শিক্ষাবিদ, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের নিয়ে আলোচনার মাধ্যমে নতুন একটি শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া। জাতীয় শিক্ষা নীতি বা এনইপি নিয়েও কড়া সমালোচনা করেন তিনি। তার দাবি, বর্তমান কাঠামোয় বছরের প্রায় আট মাসই পরীক্ষাকেন্দ্রিক কার্যক্রমে ব্যয় হওয়ায় শিক্ষকরা পাঠদানের জন্য পর্যাপ্ত সময় পান না। পাশাপাশি নির্দিষ্ট মতাদর্শের অনুসারী নিয়োগের বদলে যোগ্য, উদার ও দক্ষ ব্যক্তিদের শিক্ষা খাতে দায়িত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে সরকারকে আরও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার তাগিদ দেন প্রিয়াঙ্কা গান্ধী। একই সঙ্গে চিকিৎসা শিক্ষার পরিধি বাড়াতে আরও মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠার দাবি জানান, যাতে কঠোর পরিশ্রম করেও ভবিষ্যৎ গড়তে ব্যর্থ তরুণরা নতুন করে স্বপ্ন দেখার সুযোগ পান।
শিক্ষার্থী আন্দোলনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের রাজপথ থেকে সরানো গেলেও তাদের প্রশ্নগুলো এড়ানো যাবে না। তার অভিযোগ, আন্দোলনকারীদের ওপর লাঠিচার্জের ঘটনায় সরকারের ভাবমূর্তিই সবচেয়ে বেশি ক্ষুণ্ণ হয়েছে। প্রিয়াঙ্কার ভাষায়, দেশের তরুণরা করুণা নয়, ন্যায়বিচার চায়। সরকার পতনের উদ্দেশ্যে নয়, বরং রাষ্ট্রের প্রতি নিজেদের আস্থা অক্ষুণ্ণ রাখতেই তারা পথে নেমেছে।
সরকারের প্রতি তার আহ্বান, নিজেদের ভাবমূর্তি রক্ষায় মানসিকতা বদলানো হোক, অহংকার পরিহার করা হোক এবং জনগণকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করা হোক।
বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে সরকারের বিরুদ্ধে একাধিক গুরুতর অভিযোগ তোলেন প্রিয়াঙ্কা গান্ধী। তার দাবি, চলতি সরকারের আমলে নির্বাচন, রামমন্দিরে অনুদান, রাষ্ট্রীয় সম্পদ ও কৃষিজমি সংক্রান্ত নানা অনিয়ম ঘটেছে। তবে সবচেয়ে বড় ক্ষতি হয়েছে বলে তিনি মনে করেন, যখন দেশের তরুণদের ভবিষ্যৎ ও স্বপ্নই কার্যত ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে।
সব মিলিয়ে সংসদের এই অধিবেশনে শিক্ষা, কর্মসংস্থান, তরুণ সমাজের প্রতি আচরণ এবং সরকারের নানা নীতিগত সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে তীব্র সমালোচনা তুলে ধরেন কংগ্রেস নেত্রী প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ভাদরা।

Share this news as a Photo Card