দায়িত্ব গ্রহণের এক মাসের মাথায় বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। বুধবার (২৯ জুলাই) তিনি বৈঠক করেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান এবং প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলামের সঙ্গে। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে দুই দেশের সম্পর্কের নানা দিক নিয়ে খোলামেলা কথা বলেন তিনি, উঠে আসে গঙ্গা পানিবণ্টন চুক্তি নবায়নের প্রসঙ্গও।
সাক্ষাৎকারে ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী আশাবাদের সুরে বলেন, প্রধান উপদেষ্টা তারেক রহমানের একটি ভারত সফর নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন। তার ভাষায়, “প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফর নিশ্চিত হোক, ওয়ার্কিং গ্রুপ তাদের কাগজপত্র নিয়ে বসুক, সবকিছু ইতিবাচক হবে।” তিনি মনে করিয়ে দেন, দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান কোনো সমস্যাই এমন নয় যা আলোচনার টেবিলে সমাধান করা সম্ভব নয়। তার কথায়, “এমন কোনও সমস্যা নেই যে যেটা সমাধান করা সম্ভব না, যাতে দুই দেশের পারস্পরিক সুবিধা হয়।”
বৈঠকে ইতিবাচক অনেক বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে জানিয়ে হাইকমিশনার বলেন, শেষ পর্যন্ত এই সম্পর্কের কেন্দ্রে রয়েছে দুই দেশের সাধারণ মানুষের স্বার্থ। তিনি বলেন, “দিন শেষে বিষয়টি দুই দেশের মানুষের। দুই দেশের গণতন্ত্রের জন্য যা কিছু প্রয়োজন সেই স্বার্থ দেখা হবে।” এই মন্তব্যের মধ্য দিয়ে তিনি ইঙ্গিত দেন, দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে জনস্বার্থ ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে ভারতের পক্ষ থেকে।
আলোচনার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ জুড়ে ছিল ১৯৯৬ সালে স্বাক্ষরিত গঙ্গা পানিবণ্টন চুক্তির নবায়ন প্রসঙ্গ, যে চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার পথে। এ বিষয়ে দীনেশ ত্রিবেদী জানান, দুই দেশের মধ্যে ইতিমধ্যে একটি যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপ কাজ করছে এবং তারা বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। তার ভাষায়, “দুই দেশের যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপ আছে, তারা বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করছে, আশা করি তাদের মেলামেশা হবে। এমন কোনও সমস্যা নেই, যা সমাধান করা যাবে না। দুই দেশের মানুষের স্বার্থে যা যা প্রয়োজন তা করা হবে।”
হাইকমিশনারের এই বক্তব্য এমন এক সময়ে এলো, যখন সীমান্ত এলাকার পানি সরবরাহ ও কৃষিকাজে গঙ্গার পানির ন্যায্য বণ্টন নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনা চলছে দুই দেশের মধ্যে। চুক্তির নবায়ন প্রক্রিয়া কতটা এগোয়, তা নিয়ে কূটনৈতিক মহলে আগ্রহ রয়েছে দীর্ঘদিন ধরেই। ত্রিবেদীর মন্তব্য থেকে স্পষ্ট, ভারতের পক্ষ থেকে এই আলোচনায় ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে এগোনোর বার্তা দেওয়া হয়েছে।
একই সঙ্গে প্রধান উপদেষ্টার সম্ভাব্য ভারত সফরের প্রসঙ্গ তুলে ধরে হাইকমিশনার বোঝাতে চেয়েছেন, উচ্চপর্যায়ের সফর বিনিময় হলে তা দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘদিনের ঝুলে থাকা ইস্যুগুলো নিষ্পত্তির পথ সুগম করতে পারে। কূটনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এ ধরনের সফর সাধারণত পূর্ববর্তী প্রস্তুতিমূলক আলোচনা ও কারিগরি পর্যায়ের বৈঠকের ওপর নির্ভর করে এগিয়ে যায়, আর ঠিক এই কারণেই ওয়ার্কিং গ্রুপের ভূমিকার কথা বারবার উল্লেখ করেছেন দীনেশ ত্রিবেদী।
দায়িত্ব গ্রহণের পর এই প্রথম পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সরাসরি বৈঠকে বসলেন ভারতীয় হাইকমিশনার, যা দুই দেশের কূটনৈতিক যোগাযোগ পুনরায় সক্রিয় হওয়ার একটি ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। বৈঠকে অংশ নেওয়া মন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান ও প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলামের সঙ্গে আলোচনায় দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের একাধিক ক্ষেত্র নিয়ে কথা হয়েছে বলে জানা গেছে, যদিও গঙ্গা চুক্তিই ছিল আলোচনার একটি উল্লেখযোগ্য কেন্দ্রবিন্দু।
সব মিলিয়ে দীনেশ ত্রিবেদীর মন্তব্যে ফুটে উঠেছে আশাবাদের সুর — জটিল ও দীর্ঘদিনের ইস্যুগুলোও আলোচনার মাধ্যমে সমাধানযোগ্য বলে মনে করছে ভারত। আগামী দিনগুলোতে ওয়ার্কিং গ্রুপের বৈঠক এবং সম্ভাব্য উচ্চপর্যায়ের সফর কতটা বাস্তবে রূপ নেয়, সেদিকেই এখন নজর থাকবে দুই দেশের কূটনৈতিক মহলের।
চলমান বার্তা ডেস্ক : 



















