ঢাকায় ট্রাম্পের দূত সার্জিও গোর, তিন দিনের গুরুত্বপূর্ণ সফর

তিন দিনের সফরে বৃহস্পতিবার দুপুরে ঢাকায় পৌঁছেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক বিশেষ দূত সার্জিও গোর। তিনি একই সঙ্গে ভারতে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তাকে স্বাগত জানান ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন।
বাংলাদেশে এটিই সার্জিও গোরের প্রথম সফর, আর সে কারণেই কূটনৈতিক পর্যবেক্ষকরা এই সফরের দিকে বাড়তি মনোযোগ দিচ্ছেন। তাদের ভাষ্য, এই সফরের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের বর্তমান পররাষ্ট্রনীতি কোন দিকে এগোচ্ছে, তা যাচাই করে দেখতে চাইছে ওয়াশিংটন।
রাষ্ট্রদূত ক্রিস্টেনসেন বিমানবন্দরে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে বলেন, তার বন্ধু সার্জিও গোরকে স্বাগত জানাতে পেরে তিনি আনন্দিত, এবং এই সফর দুই দেশের কৌশলগত সম্পর্ক, আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক সহযোগিতাকে আরও মজবুত করবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
তিন দিনের কর্মসূচি
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ঢাকায় পৌঁছানোর পরই বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের সঙ্গে বৈঠকে বসছেন সার্জিও গোর। এরপর রাতে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের বাসভবনে অর্থমন্ত্রীর সঙ্গেও তার আলাদা বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।
শুক্রবার সফরের দ্বিতীয় দিনে তিনি যাবেন কক্সবাজারে, সেখানে ঘুরে দেখবেন রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরের কয়েকটি ক্যাম্প। সফরের শেষ দিন শনিবার সকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে তার বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এই বৈঠক শেষে দুপুরেই ঢাকা ছাড়বেন মার্কিন এই দূত।
পররাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রতিক্রিয়া
সফরের আগের দিন সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান জানান, এর আগে ম্যানিলায় সার্জিও গোরের সঙ্গে তার সাক্ষাৎ হয়েছিল, যেখানে দুই দেশের সম্পর্ক নিয়ে পর্যালোচনা হয়েছে। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক নানামুখী এবং ওয়াশিংটনও এই সম্পর্ককে আরও এগিয়ে নিতে আগ্রহী।
মন্ত্রী আরও জানান, সার্জিও গোর কেবল ভারতে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত নন, বরং তিনি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক প্রতিনিধি হিসেবেও কাজ করছেন। বাংলাদেশ সফরে তিনি নানা পক্ষের সঙ্গে কথা বলে দেশের পরিস্থিতি বোঝার চেষ্টা করবেন বলে মন্ত্রী উল্লেখ করেন। রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে সার্জিও গোরের সম্যক ধারণা রয়েছে বলেও তিনি জানান।
চীন প্রসঙ্গ ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা
কূটনৈতিক সূত্রের বরাত দিয়ে জানা গেছে, চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের বর্তমান সম্পর্ক নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র প্রশ্ন তুলতে পারে এই সফরে। বিশেষত মিয়ানমার হয়ে চীনের প্রস্তাবিত অর্থনৈতিক করিডোর নিয়ে বাংলাদেশের অবস্থান সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা নিতে চাইবেন সার্জিও গোর। এ ছাড়া দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য চুক্তি এবং ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের নিরাপত্তা প্রসঙ্গেও আলোচনা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সব মিলিয়ে, নতুন মার্কিন প্রশাসনের সময়ে দক্ষিণ এশিয়া নীতির একজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির প্রথম ঢাকা সফর হিসেবে এটিকে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা। রোহিঙ্গা সংকট, আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং চীন-বাংলাদেশ সম্পর্কের মতো স্পর্শকাতর বিষয় নিয়ে এই সফরে ঢাকা ও ওয়াশিংটনের অবস্থান কতটা কাছাকাছি আসে, তা সামনের দিনগুলোয় স্পষ্ট হবে।

Share this news as a Photo Card

© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

জনপ্রিয় সংবাদ

অবশেষে খুলে গেছে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার

সম্পাদক ও প্রকাশক

মোঃ মাহমুদুন্নবী জ্যোতি

অফিসঃ ২/২ আরকে মিশন রোড , ঢাকা।

ইমেলঃ chalomanbarta@yahoo.com, chalomanbarta@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১০৫৬৮৬৬, ০১৬৮১৯২৪০০০

আইসিইউতে লাইফ সাপোর্টে থাকা আসামির হাতে হাতকড়া

২৯ জুলাই ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
facebook.com/dailycholomanbarta
www.cholomanbarta.com

ঢাকায় ট্রাম্পের দূত সার্জিও গোর, তিন দিনের গুরুত্বপূর্ণ সফর

আপডেট সময় ০৪:৫০:০০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬

তিন দিনের সফরে বৃহস্পতিবার দুপুরে ঢাকায় পৌঁছেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক বিশেষ দূত সার্জিও গোর। তিনি একই সঙ্গে ভারতে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তাকে স্বাগত জানান ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন।
বাংলাদেশে এটিই সার্জিও গোরের প্রথম সফর, আর সে কারণেই কূটনৈতিক পর্যবেক্ষকরা এই সফরের দিকে বাড়তি মনোযোগ দিচ্ছেন। তাদের ভাষ্য, এই সফরের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের বর্তমান পররাষ্ট্রনীতি কোন দিকে এগোচ্ছে, তা যাচাই করে দেখতে চাইছে ওয়াশিংটন।
রাষ্ট্রদূত ক্রিস্টেনসেন বিমানবন্দরে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে বলেন, তার বন্ধু সার্জিও গোরকে স্বাগত জানাতে পেরে তিনি আনন্দিত, এবং এই সফর দুই দেশের কৌশলগত সম্পর্ক, আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক সহযোগিতাকে আরও মজবুত করবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
তিন দিনের কর্মসূচি
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ঢাকায় পৌঁছানোর পরই বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের সঙ্গে বৈঠকে বসছেন সার্জিও গোর। এরপর রাতে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের বাসভবনে অর্থমন্ত্রীর সঙ্গেও তার আলাদা বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।
শুক্রবার সফরের দ্বিতীয় দিনে তিনি যাবেন কক্সবাজারে, সেখানে ঘুরে দেখবেন রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরের কয়েকটি ক্যাম্প। সফরের শেষ দিন শনিবার সকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে তার বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এই বৈঠক শেষে দুপুরেই ঢাকা ছাড়বেন মার্কিন এই দূত।
পররাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রতিক্রিয়া
সফরের আগের দিন সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান জানান, এর আগে ম্যানিলায় সার্জিও গোরের সঙ্গে তার সাক্ষাৎ হয়েছিল, যেখানে দুই দেশের সম্পর্ক নিয়ে পর্যালোচনা হয়েছে। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক নানামুখী এবং ওয়াশিংটনও এই সম্পর্ককে আরও এগিয়ে নিতে আগ্রহী।
মন্ত্রী আরও জানান, সার্জিও গোর কেবল ভারতে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত নন, বরং তিনি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক প্রতিনিধি হিসেবেও কাজ করছেন। বাংলাদেশ সফরে তিনি নানা পক্ষের সঙ্গে কথা বলে দেশের পরিস্থিতি বোঝার চেষ্টা করবেন বলে মন্ত্রী উল্লেখ করেন। রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে সার্জিও গোরের সম্যক ধারণা রয়েছে বলেও তিনি জানান।
চীন প্রসঙ্গ ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা
কূটনৈতিক সূত্রের বরাত দিয়ে জানা গেছে, চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের বর্তমান সম্পর্ক নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র প্রশ্ন তুলতে পারে এই সফরে। বিশেষত মিয়ানমার হয়ে চীনের প্রস্তাবিত অর্থনৈতিক করিডোর নিয়ে বাংলাদেশের অবস্থান সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা নিতে চাইবেন সার্জিও গোর। এ ছাড়া দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য চুক্তি এবং ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের নিরাপত্তা প্রসঙ্গেও আলোচনা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সব মিলিয়ে, নতুন মার্কিন প্রশাসনের সময়ে দক্ষিণ এশিয়া নীতির একজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির প্রথম ঢাকা সফর হিসেবে এটিকে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা। রোহিঙ্গা সংকট, আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং চীন-বাংলাদেশ সম্পর্কের মতো স্পর্শকাতর বিষয় নিয়ে এই সফরে ঢাকা ও ওয়াশিংটনের অবস্থান কতটা কাছাকাছি আসে, তা সামনের দিনগুলোয় স্পষ্ট হবে।

Share this news as a Photo Card