শিরোনাম :
নিত্যপণ্যের দাম আকাশছোয়া : বিপর্যস্ত নিম্ন আয়ের জীবনযাত্রা রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে সম্ভাব্য প্রার্থী নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে সিলেটে দুই বাসের সংঘর্ষে শিশুসহ নিহত ৮ হামে আরও ৬ শিশুর মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ৮১৮ ৪ বছরে ফ্যামিলি কার্ড পাবে ১ কোটি ৬০ লাখ পরিবার, আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ১৬ আগস্ট টেকনাফে দিনে দুপুরে বাস থামিয়ে ৫৭ লাখ টাকা লুট গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে ১১ দলের লংমার্চ রাষ্ট্রপতি নির্বাচন ২০ আগস্ট, ভোটগ্রহণের তারিখ আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হলো রাজধানীর নদী দূষণ রোধে কর্মপরিকল্পনার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর বিতর্কিত আয়ের পরিকল্পনা প্রত্যাহার করে ক্ষমা চাইলেন ফিফা প্রধান

সিলেটে দুই বাসের সংঘর্ষে শিশুসহ নিহত ৮

সিলেটের ওসমানীনগরে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে দুটি যাত্রীবাহী বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে একটি শিশুসহ আটজন নিহত হয়েছেন। দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও বেশ কয়েকজন যাত্রী, যাদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে

শুক্রবার সকাল সাতটার দিকে ওসমানীনগর থানার কাশিকাপন এলাকায় এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনাটি ঘটে। স্থানীয় সূত্র জানায়, ঢাকাগামী একটি বাস এবং সিলেটগামী আরেকটি স্লিপার কোচ বিপরীত দিক থেকে আসার সময় সজোরে মুখোমুখি ধাক্কা খায়। সংঘর্ষের প্রচণ্ডতায় ঢাকাগামী বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশের খাদে গিয়ে পড়ে। এতে ঘটনাস্থলেই ওই বাসের সাতজন যাত্রী প্রাণ হারান।

ওসমানীনগর থানার একজন তদন্তকারী কর্মকর্তা জানিয়েছেন, দুর্ঘটনার পরপরই স্থানীয় বাসিন্দা ও পথচারীরা ছুটে আসেন এবং আহতদের উদ্ধারে এগিয়ে যান। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছান শেরপুর হাইওয়ে পুলিশ, থানা পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা। তারা দ্রুত উদ্ধার তৎপরতা চালিয়ে দুমড়ে-মুচড়ে যাওয়া বাসের ভেতর থেকে আটকে পড়া যাত্রীদের বের করে আনেন।
গুরুতর আহত অবস্থায় তিন বছর বয়সী একটি শিশুকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। হাসপাতাল সূত্র জানায়, দুর্ঘটনায় নিহত ব্যক্তিদের প্রত্যেকেই খাদে পড়ে যাওয়া বাসটির যাত্রী ছিলেন। নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করে শেরপুর হাইওয়ে পুলিশের হেফাজতে নেওয়া হয়েছে এবং পরিচয় শনাক্তের কাজ চলছে।
স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, ভোররাতে কুয়াশা কম থাকলেও মহাসড়কের ওই অংশে যানবাহনের গতি নিয়ন্ত্রণ প্রায়ই শিথিল থাকে, যা এমন দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ হতে পারে। অতিরিক্ত গতি ও অনিয়ন্ত্রিত ওভারটেকিংয়ের কারণেই দুই বাস মুখোমুখি সংঘর্ষে জড়িয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। তবে প্রকৃত কারণ জানতে ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।
দুর্ঘটনার পর কিছু সময়ের জন্য মহাসড়কে যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটলেও উদ্ধার কাজ শেষে সড়ক পরিষ্কার করা হয়। বর্তমানে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের ওই অংশে যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে বলে পুলিশ নিশ্চিত করেছে। তবে দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শনে আসা স্থানীয় বাসিন্দারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলছেন, এই সড়কে বারবার প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা ঘটলেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না।
উল্লেখ্য, ঢাকা-সিলেট মহাসড়কটি দেশের অন্যতম ব্যস্ত ও দুর্ঘটনাপ্রবণ সড়ক হিসেবে পরিচিত। বিশেষজ্ঞরা দীর্ঘদিন ধরে বলে আসছেন, সড়কের নকশাগত ত্রুটি, বাসচালকদের বেপরোয়া মনোভাব এবং পর্যাপ্ত তদারকির অভাবেই এই মহাসড়কে বারবার প্রাণহানির ঘটনা ঘটছে। স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনো দুর্ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়নি।
নিহতদের পরিবারের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে শোকে ভেঙে পড়েছেন। অনেকেই স্বজনদের মরদেহ শনাক্ত করতে হাসপাতাল ও থানায় ভিড় করছেন। এলাকাজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

Share this news as a Photo Card

ট্যাগস

© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

সম্পাদক ও প্রকাশক

মোঃ মাহমুদুন্নবী জ্যোতি

অফিসঃ ২/২ আরকে মিশন রোড , ঢাকা।

ইমেলঃ chalomanbarta@yahoo.com, chalomanbarta@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১০৫৬৮৬৬, ০১৬৮১৯২৪০০০

বিতর্কিত আয়ের পরিকল্পনা প্রত্যাহার করে ক্ষমা চাইলেন ফিফা প্রধান

০৬ আগস্ট ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
facebook.com/dailycholomanbarta
www.cholomanbarta.com

সিলেটে দুই বাসের সংঘর্ষে শিশুসহ নিহত ৮

আপডেট সময় ১১:৩২:৫৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৭ অগাস্ট ২০২৬

সিলেটের ওসমানীনগরে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে দুটি যাত্রীবাহী বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে একটি শিশুসহ আটজন নিহত হয়েছেন। দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও বেশ কয়েকজন যাত্রী, যাদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে

শুক্রবার সকাল সাতটার দিকে ওসমানীনগর থানার কাশিকাপন এলাকায় এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনাটি ঘটে। স্থানীয় সূত্র জানায়, ঢাকাগামী একটি বাস এবং সিলেটগামী আরেকটি স্লিপার কোচ বিপরীত দিক থেকে আসার সময় সজোরে মুখোমুখি ধাক্কা খায়। সংঘর্ষের প্রচণ্ডতায় ঢাকাগামী বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশের খাদে গিয়ে পড়ে। এতে ঘটনাস্থলেই ওই বাসের সাতজন যাত্রী প্রাণ হারান।

ওসমানীনগর থানার একজন তদন্তকারী কর্মকর্তা জানিয়েছেন, দুর্ঘটনার পরপরই স্থানীয় বাসিন্দা ও পথচারীরা ছুটে আসেন এবং আহতদের উদ্ধারে এগিয়ে যান। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছান শেরপুর হাইওয়ে পুলিশ, থানা পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা। তারা দ্রুত উদ্ধার তৎপরতা চালিয়ে দুমড়ে-মুচড়ে যাওয়া বাসের ভেতর থেকে আটকে পড়া যাত্রীদের বের করে আনেন।
গুরুতর আহত অবস্থায় তিন বছর বয়সী একটি শিশুকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। হাসপাতাল সূত্র জানায়, দুর্ঘটনায় নিহত ব্যক্তিদের প্রত্যেকেই খাদে পড়ে যাওয়া বাসটির যাত্রী ছিলেন। নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করে শেরপুর হাইওয়ে পুলিশের হেফাজতে নেওয়া হয়েছে এবং পরিচয় শনাক্তের কাজ চলছে।
স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, ভোররাতে কুয়াশা কম থাকলেও মহাসড়কের ওই অংশে যানবাহনের গতি নিয়ন্ত্রণ প্রায়ই শিথিল থাকে, যা এমন দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ হতে পারে। অতিরিক্ত গতি ও অনিয়ন্ত্রিত ওভারটেকিংয়ের কারণেই দুই বাস মুখোমুখি সংঘর্ষে জড়িয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। তবে প্রকৃত কারণ জানতে ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।
দুর্ঘটনার পর কিছু সময়ের জন্য মহাসড়কে যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটলেও উদ্ধার কাজ শেষে সড়ক পরিষ্কার করা হয়। বর্তমানে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের ওই অংশে যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে বলে পুলিশ নিশ্চিত করেছে। তবে দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শনে আসা স্থানীয় বাসিন্দারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলছেন, এই সড়কে বারবার প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা ঘটলেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না।
উল্লেখ্য, ঢাকা-সিলেট মহাসড়কটি দেশের অন্যতম ব্যস্ত ও দুর্ঘটনাপ্রবণ সড়ক হিসেবে পরিচিত। বিশেষজ্ঞরা দীর্ঘদিন ধরে বলে আসছেন, সড়কের নকশাগত ত্রুটি, বাসচালকদের বেপরোয়া মনোভাব এবং পর্যাপ্ত তদারকির অভাবেই এই মহাসড়কে বারবার প্রাণহানির ঘটনা ঘটছে। স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনো দুর্ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়নি।
নিহতদের পরিবারের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে শোকে ভেঙে পড়েছেন। অনেকেই স্বজনদের মরদেহ শনাক্ত করতে হাসপাতাল ও থানায় ভিড় করছেন। এলাকাজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

Share this news as a Photo Card