দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি বেছে নেওয়ার প্রক্রিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়ে গেছে। নির্বাচন কমিশন গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে সংশ্লিষ্ট কার্যক্রমের সময়সূচি জানিয়ে দিয়েছে। কমিশনের জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদ নিজে উপস্থিত থেকে এই ঘোষণা দেন।
ঘোষিত সময়সূচি অনুযায়ী, আগামী ২০ আগস্ট নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হবেন। এর আগে ১৩ আগস্টের মধ্যে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছে। এরপর ১৬ আগস্ট চলবে মনোনয়ন যাচাই-বাছাইয়ের কাজ, আর প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সুযোগ থাকবে ১৮ আগস্ট পর্যন্ত। ইতিমধ্যে জাতীয় সংসদ সচিবালয় থেকে বর্তমান সংসদ সদস্যদের নামের তালিকা কমিশনে পাঠানো হয়ে গেছে, যা এই নির্বাচনে ভোটার তালিকা হিসেবে কাজ করবে।
সময়সূচি প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গেই রাজনৈতিক মহলে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে—শেষ পর্যন্ত কে বসছেন বঙ্গভবনের চেয়ারে? একাধিক নাম ঘুরেফিরে আলোচনায় এলেও এখন পর্যন্ত সবচেয়ে জোরালোভাবে যার নাম শোনা যাচ্ছে, তিনি বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
নির্বাচনের দিন যত ঘনিয়ে আসছে, দলের অভ্যন্তরেও ততই বাড়ছে সম্ভাব্য প্রার্থী নিয়ে কানাঘুষা। নেতাকর্মীদের একটি বড় অংশের প্রত্যাশার কেন্দ্রে রয়েছেন ফখরুল নিজেই। তবে একজন রাজনীতিবিদকে রাষ্ট্রপতির আসনে বসানো নিয়ে দলের ভেতরে সমর্থন থাকলেও শেষ পর্যন্ত কার নাম চূড়ান্ত হবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
দলীয় সূত্র বলছে, রাষ্ট্রপতি পদের জন্য একাধিক নাম বিবেচনায় রয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি শোনা যাচ্ছে মির্জা ফখরুলের নাম। পাশাপাশি আলোচনায় আছেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ড. আব্দুল মঈন খান এবং নজরুল ইসলাম খান। এ ছাড়া বর্তমানে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্বে থাকা মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ এবং সদ্য অবসরে যাওয়া প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদের নামও ভেসে বেড়াচ্ছে বিভিন্ন মহলে।
তবে এসব নাম নিয়ে যতই আলোচনা হোক না কেন, চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের ভার থাকছে প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের হাতে। দলের স্থায়ী কমিটির বৈঠকেই এই দায়িত্ব তারেক রহমান ও প্রধানমন্ত্রীর ওপর ন্যস্ত করার সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে জানা গেছে।
উল্লেখ্য, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর গত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে বিএনপির মহাসচিবের দায়িত্ব সামলে আসছেন। দলের সবচেয়ে কঠিন সময়গুলোতে নেতৃত্ব দেওয়া, বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রাম সংগঠিত করা, রাজনৈতিক সংলাপে অংশগ্রহণ এবং দেশে-বিদেশে দলের অবস্থান তুলে ধরার ক্ষেত্রে তার অবদান ব্যাপকভাবে স্বীকৃত। এ কারণেই রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশ মনে করছেন, রাষ্ট্রপতির মতো গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক পদের জন্য প্রয়োজনীয় অভিজ্ঞতা, প্রজ্ঞা ও গ্রহণযোগ্যতা তার রয়েছে।
সব মিলিয়ে আগামী কয়েক দিন রাজনৈতিক অঙ্গনে উত্তাপ ছড়াবে বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা। মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সময়সীমা যতই কাছে আসবে, প্রার্থিতা নিয়ে জল্পনা ততই তীব্র হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। শেষ পর্যন্ত দলীয় সিদ্ধান্তে কার নাম চূড়ান্ত হয়, সেদিকেই এখন সবার নজর।
চলমান বার্তা ডেস্ক : 





















