শিরোনাম :
হরমুজ প্রণালিকে নিজেদের ভূখণ্ড ঘোষণা ট্রাম্পের সামিট ও এক্সিলারেটের যৌথ সরবরাহে জাতীয় গ্রিডে বাড়ছে গ্যাস সরবরাহ নিউরোসায়েন্সেস হাসপাতালে ৫০০ শয্যার নতুন ভবন উদ্বোধন প্রধানমন্ত্রীর জয়ের পথে বাংলাদেশ, অস্ট্রেলিয়াকে ২২৮ রানের লিড তারেক রহমানের দিল্লি সফরের আমন্ত্রণ, এখনো কাটেনি অনিশ্চয়তার মেঘ মন্ত্রিসভায় নতুন চার মুখ যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা, চলছে আলোচনা ৮০ টাকার নিচে সবজি নেই, দেশি মাছের দাম আকাশছোঁয়া ব্যাটারিচালিত রিকশা নিয়ন্ত্রণে সরকারের নতুন উদ্যোগ চট্টগ্রামে শিপইয়ার্ডে গ্যাস দুর্ঘটনায় নিহত সাত শ্রমিক বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি পদ: ৫৫ বছরে ১৮ জন, নতুন মুখের অপেক্ষা

সামিট ও এক্সিলারেটের যৌথ সরবরাহে জাতীয় গ্রিডে বাড়ছে গ্যাস সরবরাহ

দীর্ঘদিনের গ্যাস সংকটের মধ্যে কিছুটা স্বস্তির খবর দিচ্ছে জাতীয় গ্রিড। মহেশখালীর সমুদ্রবক্ষে ভাসমান দুটি এলএনজি টার্মিনাল, সামিট ও এক্সিলারেট এনার্জি, একসঙ্গে সরবরাহ শুরু করায় শনিবার সকাল থেকে গ্যাসের প্রবাহ বাড়তে দেখা গেছে।

শনিবার (১৫ আগস্ট) সকালে দেশের মোট গ্যাস সরবরাহ গিয়ে ঠেকেছে প্রায় দুই হাজার চারশ মিলিয়ন ঘনফুটে। পেট্রোবাংলার সূত্র বলছে, এদিন সকালে সামিটের টার্মিনাল থেকে চারশ ষাট মিলিয়ন ঘনফুট এবং এক্সিলারেট থেকে তিনশ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হয়েছে। অর্থাৎ শুধু এলএনজিভিত্তিক দুই টার্মিনাল মিলিয়েই সরবরাহ দাঁড়িয়েছে প্রায় সাতশ ষাট মিলিয়ন ঘনফুটে।

তবে এই স্বস্তি এসেছে একটি ছোট বিপত্তি সামলে ওঠার পরই। শুক্রবার বিকেলে কারিগরি ত্রুটি দেখা দেয় এক্সিলারেটের টার্মিনালে, যার জেরে সেখান থেকে গ্যাস সরবরাহ সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায়। এই বিভ্রাটের প্রভাবে দেশের সামগ্রিক গ্যাস সরবরাহ এক পর্যায়ে নেমে আসে প্রায় এক হাজার সাতশ ত্রিশ মিলিয়ন ঘনফুটে, যা স্বাভাবিক সরবরাহের তুলনায় বেশ কম। প্রকৌশলীদের তৎপরতায় অবশ্য ত্রুটি দ্রুতই মেরামত করা হয় এবং শুক্রবার রাতের মধ্যেই ফের সরবরাহ চালু করা সম্ভব হয়।

এর আগে শুক্রবার সন্ধ্যা ছয়টা দশ মিনিটে সামিটের টার্মিনাল থেকেও আবার গ্যাস সরবরাহ শুরু হয়েছিল। প্রাথমিকভাবে সেই সরবরাহের পরিমাণ ছিল প্রায় একশ দশ মিলিয়ন ঘনফুট, যা রাত ও ভোরের মধ্য দিয়ে ধাপে ধাপে বাড়িয়ে নিয়ে যাওয়া হয় প্রায় চারশ ষাট মিলিয়ন ঘনফুট পর্যন্ত। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, আজ রাত দুইটার দিকে সামিট টার্মিনাল থেকে সরবরাহ আরও পাঁচশ পঞ্চাশ মিলিয়ন ঘনফুট পর্যন্ত বাড়ানো সম্ভব হতে পারে।

তবে সরবরাহ বাড়লেও চাহিদার তুলনায় ঘাটতি এখনও পুরোপুরি কাটেনি। দেশে দৈনিক গ্যাসের চাহিদা প্রায় তিন হাজার আটশ মিলিয়ন ঘনফুট, যেখানে স্বাভাবিক সময়ে সরবরাহ থাকে প্রায় দুই হাজার সাতশ মিলিয়ন ঘনফুটের আশপাশে। এর মধ্যে শুধু এলএনজি থেকেই সর্বোচ্চ পাওয়া যায় প্রায় এক হাজার পঞ্চাশ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস। ফলে সামিট ও এক্সিলারেটের যৌথ সরবরাহ বাড়লেও তা মোট চাহিদার তুলনায় এখনও যথেষ্ট নয় বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

গ্যাস সরবরাহে এই টানাপোড়েনের প্রভাব সরাসরি পড়ছে শিল্প-কারখানা, বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং আবাসিক গ্রাহকদের ওপর। বিশেষ করে শিল্পাঞ্চলগুলোতে চাপের ঘাটতির কারণে উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা থেকেই যাচ্ছে, যদিও দুই এলএনজি টার্মিনাল পুরোদমে সচল হলে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হবে বলে আশা করা হচ্ছে। পেট্রোবাংলা কর্মকর্তারা বলছেন, কারিগরি ত্রুটি পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে দুই টার্মিনালেই নিবিড় পর্যবেক্ষণ চালানো হচ্ছে, যাতে সরবরাহে আবারও কোনো বিঘ্ন না ঘটে।

Share this news as a Photo Card

© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

শাহজাদপুরে জন্মাষ্টমী উদযাপনে প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত

সম্পাদক ও প্রকাশক

মোঃ মাহমুদুন্নবী জ্যোতি

অফিসঃ ২/২ আরকে মিশন রোড , ঢাকা।

ইমেলঃ chalomanbarta@yahoo.com, chalomanbarta@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১০৫৬৮৬৬, ০১৬৮১৯২৪০০০

বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি পদ: ৫৫ বছরে ১৮ জন, নতুন মুখের অপেক্ষা

১৩ আগস্ট ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
facebook.com/dailycholomanbarta
www.cholomanbarta.com

সামিট ও এক্সিলারেটের যৌথ সরবরাহে জাতীয় গ্রিডে বাড়ছে গ্যাস সরবরাহ

আপডেট সময় ১২:১৫:০১ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৬

দীর্ঘদিনের গ্যাস সংকটের মধ্যে কিছুটা স্বস্তির খবর দিচ্ছে জাতীয় গ্রিড। মহেশখালীর সমুদ্রবক্ষে ভাসমান দুটি এলএনজি টার্মিনাল, সামিট ও এক্সিলারেট এনার্জি, একসঙ্গে সরবরাহ শুরু করায় শনিবার সকাল থেকে গ্যাসের প্রবাহ বাড়তে দেখা গেছে।

শনিবার (১৫ আগস্ট) সকালে দেশের মোট গ্যাস সরবরাহ গিয়ে ঠেকেছে প্রায় দুই হাজার চারশ মিলিয়ন ঘনফুটে। পেট্রোবাংলার সূত্র বলছে, এদিন সকালে সামিটের টার্মিনাল থেকে চারশ ষাট মিলিয়ন ঘনফুট এবং এক্সিলারেট থেকে তিনশ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হয়েছে। অর্থাৎ শুধু এলএনজিভিত্তিক দুই টার্মিনাল মিলিয়েই সরবরাহ দাঁড়িয়েছে প্রায় সাতশ ষাট মিলিয়ন ঘনফুটে।

তবে এই স্বস্তি এসেছে একটি ছোট বিপত্তি সামলে ওঠার পরই। শুক্রবার বিকেলে কারিগরি ত্রুটি দেখা দেয় এক্সিলারেটের টার্মিনালে, যার জেরে সেখান থেকে গ্যাস সরবরাহ সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায়। এই বিভ্রাটের প্রভাবে দেশের সামগ্রিক গ্যাস সরবরাহ এক পর্যায়ে নেমে আসে প্রায় এক হাজার সাতশ ত্রিশ মিলিয়ন ঘনফুটে, যা স্বাভাবিক সরবরাহের তুলনায় বেশ কম। প্রকৌশলীদের তৎপরতায় অবশ্য ত্রুটি দ্রুতই মেরামত করা হয় এবং শুক্রবার রাতের মধ্যেই ফের সরবরাহ চালু করা সম্ভব হয়।

এর আগে শুক্রবার সন্ধ্যা ছয়টা দশ মিনিটে সামিটের টার্মিনাল থেকেও আবার গ্যাস সরবরাহ শুরু হয়েছিল। প্রাথমিকভাবে সেই সরবরাহের পরিমাণ ছিল প্রায় একশ দশ মিলিয়ন ঘনফুট, যা রাত ও ভোরের মধ্য দিয়ে ধাপে ধাপে বাড়িয়ে নিয়ে যাওয়া হয় প্রায় চারশ ষাট মিলিয়ন ঘনফুট পর্যন্ত। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, আজ রাত দুইটার দিকে সামিট টার্মিনাল থেকে সরবরাহ আরও পাঁচশ পঞ্চাশ মিলিয়ন ঘনফুট পর্যন্ত বাড়ানো সম্ভব হতে পারে।

তবে সরবরাহ বাড়লেও চাহিদার তুলনায় ঘাটতি এখনও পুরোপুরি কাটেনি। দেশে দৈনিক গ্যাসের চাহিদা প্রায় তিন হাজার আটশ মিলিয়ন ঘনফুট, যেখানে স্বাভাবিক সময়ে সরবরাহ থাকে প্রায় দুই হাজার সাতশ মিলিয়ন ঘনফুটের আশপাশে। এর মধ্যে শুধু এলএনজি থেকেই সর্বোচ্চ পাওয়া যায় প্রায় এক হাজার পঞ্চাশ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস। ফলে সামিট ও এক্সিলারেটের যৌথ সরবরাহ বাড়লেও তা মোট চাহিদার তুলনায় এখনও যথেষ্ট নয় বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

গ্যাস সরবরাহে এই টানাপোড়েনের প্রভাব সরাসরি পড়ছে শিল্প-কারখানা, বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং আবাসিক গ্রাহকদের ওপর। বিশেষ করে শিল্পাঞ্চলগুলোতে চাপের ঘাটতির কারণে উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা থেকেই যাচ্ছে, যদিও দুই এলএনজি টার্মিনাল পুরোদমে সচল হলে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হবে বলে আশা করা হচ্ছে। পেট্রোবাংলা কর্মকর্তারা বলছেন, কারিগরি ত্রুটি পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে দুই টার্মিনালেই নিবিড় পর্যবেক্ষণ চালানো হচ্ছে, যাতে সরবরাহে আবারও কোনো বিঘ্ন না ঘটে।

Share this news as a Photo Card