রাজধানী ঢাকায় ব্যাটারি ও যন্ত্রচালিত রিকশা নিয়ন্ত্রণে নতুন এক পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. আবদুস সালাম। তিনি বলেছেন, যত্রতত্র অনুমোদনহীনভাবে ব্যাটারিরিকশা তৈরি বন্ধ করতে নির্দিষ্ট কিছু কারখানা চিহ্নিত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে, যাতে উৎপাদন প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রণের মধ্যে আনা যায়।
শাহবাগ মোড়ে আধুনিক স্বয়ংক্রিয় ট্রাফিক সিগন্যাল ব্যবস্থার পরীক্ষামূলক উদ্বোধন অনুষ্ঠান শেষে সংবাদকর্মীদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি এসব কথা বলেন।
আবদুস সালাম জানান, যেসব অটোরিকশা বা যন্ত্রচালিত রিকশাকে চলাচলের অনুমতি দেওয়া হবে, সেগুলো এলোমেলোভাবে যে কোনো জায়গায় তৈরি করার সুযোগ থাকবে না। এর পরিবর্তে রাজধানীর জন্য নির্দিষ্ট কিছু কারখানা বাছাই করে দেওয়া হবে, যেখানে রিকশা উৎপাদনের আগে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে আনুষ্ঠানিক অনুমতি নেওয়া বাধ্যতামূলক করা হবে।
এই উদ্যোগে কারিগরি সহায়তা দেবে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট)। তিনি জানান, নির্বাচিত কারখানাগুলোর প্রযুক্তিগত মান এবং প্রয়োজনীয় অনুমোদন প্রক্রিয়া যাচাই-বাছাই সম্পন্ন হওয়ার পরই সেগুলোকে উৎপাদনের অনুমতি দেওয়া হবে।
প্রশাসক আরও জানান, ব্যাটারিচালিত রিকশাগুলোকে ধাপে ধাপে সম্পূর্ণ বিদ্যুৎচালিত ব্যবস্থায় নিয়ে আসার পরিকল্পনাও সরকারের রয়েছে। এই রূপান্তরের জন্য একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হবে, যার মধ্যে বিদ্যমান ব্যাটারিরিকশাগুলোকে নতুন বিদ্যুৎচালিত প্রযুক্তিতে রূপান্তরিত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। পাশাপাশি জ্বালানি হিসেবে সৌরশক্তির ব্যবহার বাড়ানোর বিষয়টিও এই পরিকল্পনার অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
তিনি বলেন, সৌরশক্তির ব্যবহার বাড়ানো গেলে জাতীয় বিদ্যুৎ গ্রিডের ওপর চাপ কমানো সম্ভব হবে। এ লক্ষ্যে সরকারের একটি সামগ্রিক রূপরেখা তৈরি রয়েছে, যা ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে বলে তিনি জানান।
রাজধানীর যানজট ও সড়কে বিশৃঙ্খলা নিরসনে শুধু আইনি পদক্ষেপ যথেষ্ট নয় বলে মন্তব্য করেন ডিএসসিসি প্রশাসক। তিনি বলেন, এই সমস্যা সমাধানে নগরবাসীর সচেতনতাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। দীর্ঘদিনের এই জটিলতা কাটিয়ে ওঠার জন্য প্রয়োজনীয় সময় দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সরকার ধীরে ধীরে হলেও এসব সমস্যার সমাধানে কাজ করে যাচ্ছে।
এর আগে ওই দিন শাহবাগ মোড়ে চালু করা হয় আধুনিক স্বয়ংক্রিয় ট্রাফিক সিগন্যাল ব্যবস্থা, যা পরীক্ষামূলকভাবে চালু করা হয়েছে। রাজধানীর ট্রাফিক ব্যবস্থাপনাকে আধুনিকায়নের লক্ষ্যে এই স্বয়ংক্রিয় সিগন্যাল ব্যবস্থা প্রাথমিক পর্যায়ে আরও বিশটি গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে স্থাপনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে বলেও জানানো হয়েছে।
নগর পরিবহন ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ফেরানো এবং পরিবেশবান্ধব যানবাহনের দিকে ধাবিত হওয়ার এই উদ্যোগকে ঢাকার সামগ্রিক যোগাযোগ ব্যবস্থার আধুনিকায়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। ব্যাটারিরিকশা নিয়ন্ত্রণ ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় প্রযুক্তির ব্যবহার একসঙ্গে এগিয়ে নেওয়ার এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে রাজধানীর সড়ক ব্যবস্থাপনায় দৃশ্যমান পরিবর্তন আসতে পারে বলে মনে করছেন নগর পরিকল্পনাবিদরা।
চলমান বার্তা ডেস্ক : 



















