আসন্ন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন পেয়েছেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য, হুইপ ও যুগ্ম মহাসচিবদের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়। বৈঠক চলাকালীন সময়েই সাংবাদিকদের এই তথ্য জানান দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।
সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে রিজভী বলেন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের পক্ষ থেকে আনন্দের সঙ্গে জানানো হচ্ছে যে, দলের সংগ্রামী মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাষ্ট্রপতি পদে দলীয় প্রার্থী হয়েছেন। তিনি আরও জানান, কিছুক্ষণ আগে দলের সম্মানিত চেয়ারম্যানের উপস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এবং সেখানেই আনুষ্ঠানিকভাবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নাম চূড়ান্ত করা হয়।
রিজভী বলেন, রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী হওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দলীয় মহাসচিবের পদ এবং জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্যপদ থেকে পদত্যাগ করেছেন। সাংবিধানিক শিষ্টাচার ও নিরপেক্ষতার বিবেচনায় এই পদত্যাগকে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে, কেননা রাষ্ট্রপতির মতো সাংবিধানিক পদে প্রার্থী হওয়ার পর দলীয় নেতৃত্বের দায়িত্বে থাকা রীতিসম্মত নয় বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।
দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির রাজনীতির একটি পরিচিত ও অভিজ্ঞ মুখ মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। দলের কঠিন সময়ে নেতৃত্ব দেওয়ার অভিজ্ঞতা তাঁর রয়েছে এবং সাংগঠনিক দক্ষতা ও রাজনৈতিক প্রজ্ঞার কারণে দলের অভ্যন্তরে ও বাইরে তিনি ব্যাপকভাবে পরিচিত। তাঁকে রাষ্ট্রপতি পদে মনোনয়ন দেওয়ার সিদ্ধান্তকে দলের ভেতরে একটি কৌশলগত পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে, যেখানে অভিজ্ঞ ও গ্রহণযোগ্য নেতৃত্বকে সামনে আনার চেষ্টা স্পষ্ট।
বৈঠকটি বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্যরা, সংসদীয় হুইপগণ এবং যুগ্ম মহাসচিবরা অংশ নেন। খবর লেখা পর্যন্ত বৈঠকটি চলমান ছিল বলে জানা গেছে। বৈঠকের ফাঁকে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে রিজভী এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের কথা জানান এবং বিষয়টি জাতির উদ্দেশে অবহিত করার গুরুত্ব তুলে ধরেন।
মহাসচিবের পদত্যাগের ফলে দলের সাংগঠনিক কাঠামোয় নতুন পরিবর্তন আসবে কিনা, কিংবা ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব হিসেবে কাকে দায়িত্ব দেওয়া হবে—এসব প্রশ্ন এখন রাজনৈতিক অঙ্গনে ঘুরপাক খাচ্ছে। তবে এ বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত কিছু জানাননি রিজভী। আগামী দিনগুলোতে দলের নীতিনির্ধারণী ফোরামে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে সামনে রেখে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে ইতিমধ্যে আলোচনার নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের প্রার্থিতা ঘোষণার পর থেকেই দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে উচ্ছ্বাস লক্ষ্য করা যাচ্ছে। অনেকেই মনে করছেন, তাঁর মতো একজন অভিজ্ঞ ও শান্ত স্বভাবের নেতা রাষ্ট্রপতির আসনে বসলে তা দলের জন্য মর্যাদাপূর্ণ প্রাপ্তি হবে।
তবে আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচন কমিশনে মনোনয়নপত্র জমাদানসহ পরবর্তী প্রক্রিয়াগুলো কীভাবে এগোবে, তা নিয়ে এখনো স্পষ্ট কোনো সময়সূচি জানা যায়নি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই এ বিষয়ে আরও বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ্যে আসতে পারে। ততক্ষণ পর্যন্ত সারাদেশের মানুষের দৃষ্টি থাকবে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের পরবর্তী ধাপগুলোর দিকে।
চলমান বার্তা ডেস্ক : 



















