শিরোনাম :
৮০ টাকার নিচে সবজি নেই, দেশি মাছের দাম আকাশছোঁয়া ব্যাটারিচালিত রিকশা নিয়ন্ত্রণে সরকারের নতুন উদ্যোগ চট্টগ্রামে শিপইয়ার্ডে গ্যাস দুর্ঘটনায় নিহত সাত শ্রমিক বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি পদ: ৫৫ বছরে ১৮ জন, নতুন মুখের অপেক্ষা গ্যাস সংকট: ক্ষমা চেয়ে ব্যবসায়ীদের ‘মোরাল সাপোর্ট’ চাইলেন জ্বালানিমন্ত্রী ব্যক্তি পর্যায়ের লেনদেনও হবে বাংলা কিউআরে রাষ্ট্রপতি প্রার্থী ফখরুল, এলজিআরডিতে সালাহউদ্দিন, স্বরাষ্ট্রে এ্যানি গ্যাস সংকট: তিন বছরের মধ্যে আরও ৩ এলএনজি টার্মিনাল করার পরিকল্পনা রাষ্ট্রপতি প্রার্থী মির্জা ফখরুল, মহাসচিব পদ থেকে পদত্যাগ আরও ১২ জেলায় চালু হলো অনলাইন ই-বেইলবন্ড ব্যবস্থা

৮০ টাকার নিচে সবজি নেই, দেশি মাছের দাম আকাশছোঁয়া

রাজধানীর বাজারে সবজি-মাছের ঊর্ধ্বগতি: নাভিশ্বাস সাধারণ ক্রেতার
রাজধানীর কাঁচাবাজার ও মাছবাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম যেন ছুটছে লাগামহীন গতিতে। সবজি থেকে মাছ—কোনো বাজারেই মিলছে না স্বস্তির ছোঁয়া। মাসের আয়-ব্যয়ের হিসাব মেলাতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছেন নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো।

রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রাক্কালে বাজার নিয়ন্ত্রণে আসার নানা প্রতিশ্রুতি শোনা গেলেও বাস্তব চিত্র ভিন্ন কথা বলছে। ক্ষুব্ধ ক্রেতাদের ভাষ্য, ক্ষমতায় আসার আগে সবাই আশ্বাস দেয়, কিন্তু বাজারে পণ্যের দাম সাধ্যের মধ্যে রাখতে পারে না কেউ।

শুক্রবার রাজধানীর একাধিক এলাকার বাজার ঘুরে দেখা গেছে, চাল-ডাল থেকে শুরু করে সবজি ও মাছ—প্রায় প্রতিটি নিত্যপণ্যের দামই এখন সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে গেছে।

সবজির দামে হাঁসফাঁস অবস্থা
বাজারে ঢুকতেই ক্রেতাদের কপালে ভাঁজ ফেলছে সবজির মূল্যতালিকা। বেশির ভাগ সবজিই বিক্রি হচ্ছে আশি টাকার আশপাশে। টমেটো ও গাজরের কেজি একশ চল্লিশ টাকা, কাঁচা মরিচ আড়াইশ টাকা এবং ধনেপাতা তিনশ টাকায় গিয়ে ঠেকেছে। পটল, বেগুন, উচ্ছে, বরবটি, করলা ও কচুর লতির মতো সবজিও বিক্রি হচ্ছে সত্তর থেকে নব্বই টাকার ঘরে। তুলনামূলক সহনীয় দামে মিলছে শুধু পেঁপে—চল্লিশ থেকে পঞ্চাশ টাকা, আর চালকুমড়া-শসা পঞ্চাশ থেকে ষাট টাকায়।
স্থানীয় বাজারের ক্রেতারা জানাচ্ছেন, একসঙ্গে কয়েক পদের সবজি কিনতে গেলেই ব্যাগের হিসাব দ্রুত বেড়ে যায়। এক ক্রেতা আক্ষেপ করে বলেন, কয়েক ধরনের সবজি এক কেজি করে কিনলেই পাঁচ থেকে ছয়শ টাকা খরচ হয়ে যায়, ফলে মাছ-মাংসের পাশাপাশি সবজি সামলানোও এখন কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
অন্যদিকে খুচরা বিক্রেতাদের দাবি, পাইকারি আড়ত থেকেই তাদের বাড়তি দামে পণ্য কিনতে হচ্ছে। এর সঙ্গে পরিবহন খরচ ও নষ্ট হওয়ার ক্ষতি যুক্ত হয়ে দাম আরও বাড়ছে বলে জানান তারা।
দেশি মাছ সোনার হরিণ, চাষের মাছও চড়া
সবজির মতোই অস্বস্তি ছড়াচ্ছে মাছের বাজারও। সরবরাহ কমে যাওয়ায় দেশি মাছ এখন নিম্নবিত্তের তো বটেই, মধ্যবিত্তেরও নাগালের বাইরে। বাজারে পাবদা, টেংরা, শিং, মাগুর, শোল, চিতল ও বোয়ালের মতো দেশি মাছ বিক্রি হচ্ছে পাঁচশ থেকে বারোশ টাকা কেজি দরে। এমনকি ছোট আকারের কাচকি মাছও বিকোচ্ছে পাঁচশ থেকে সাতশ টাকায়।
বাধ্য হয়ে অনেকে ঝুঁকছেন চাষের মাছের দিকে, তবে সেখানেও স্বস্তি নেই। পাঙাশ বিক্রি হচ্ছে দুইশ থেকে দুইশ আশি টাকা, তেলাপিয়া দুইশ বিশ থেকে তিনশ টাকা এবং রুই-কাতলা সাড়ে তিনশ থেকে পাঁচশ টাকা কেজি দরে। এক বেসরকারি চাকরিজীবী জানান, পাবদা বা শিংয়ের দাম শুনলেই আর কেনার সাহস হয় না, বাধ্য হয়ে পাঙাশ বা তেলাপিয়ায় ফিরতে হচ্ছে—অথচ সংসারের অন্য খরচ সামলে সেটুকু কিনতেও এখন যথেষ্ট টাকা লাগছে।
বিক্রেতাদের ভাষ্যে, জলাশয়ে আগের মতো দেশি মাছের জোগান নেই, আর চাষের মাছের ক্ষেত্রে খাদ্য, উৎপাদন ও পরিবহন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় দাম চড়া থাকছে।
দ্রব্যমূল্যের এই ক্রমাগত ঊর্ধ্বগতিতে সাধারণ মানুষের মনে জমছে ক্ষোভ। একজন ক্রেতা বলেন, বেতন যে হারে বাড়ে তার চেয়ে অনেক বেশি হারে বাড়ে বাজারের খরচ; মাসের শুরুতে বাজার করতে গেলেই মনে হয় টাকা কোথায় গলে যাচ্ছে, আর মাস শেষে অনেক প্রয়োজনীয় জিনিস তালিকা থেকে বাদ দিতে হয়।
ব্যবসায়ীদের একাংশ মনে করছেন, শুধু খুচরা বাজারে অভিযান চালিয়ে দীর্ঘমেয়াদে দাম নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়—পাইকারি পর্যায় থেকেই তদারকি বাড়ানো জরুরি। বাজার সংশ্লিষ্টদের মতে, উৎপাদন, আমদানি, মজুত, পরিবহন ও বিপণন—পুরো সরবরাহব্যবস্থার ওপর কার্যকর নজরদারি প্রতিষ্ঠা করা না গেলে এবং কৃত্রিম সংকট তৈরি করে মুনাফা লোটার প্রবণতা রোধ না হলে, বাজারের এই অস্বস্তি কাটার সম্ভাবনা কম।
(এই প্রতিবেদনের তথ্য সংশ্লিষ্ট বাজার পর্যবেক্ষণ ও ক্রেতা-বিক্রেতাদের বক্তব্যের ভিত্তিতে তৈরি; সঠিক ও হালনাগাদ মূল্য জানতে স্থানীয় বাজার যাচাই করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।)

Share this news as a Photo Card

© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

৮০ টাকার নিচে সবজি নেই, দেশি মাছের দাম আকাশছোঁয়া

সম্পাদক ও প্রকাশক

মোঃ মাহমুদুন্নবী জ্যোতি

অফিসঃ ২/২ আরকে মিশন রোড , ঢাকা।

ইমেলঃ chalomanbarta@yahoo.com, chalomanbarta@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১০৫৬৮৬৬, ০১৬৮১৯২৪০০০

আরও ১২ জেলায় চালু হলো অনলাইন ই-বেইলবন্ড ব্যবস্থা

১৩ আগস্ট ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
facebook.com/dailycholomanbarta
www.cholomanbarta.com

৮০ টাকার নিচে সবজি নেই, দেশি মাছের দাম আকাশছোঁয়া

আপডেট সময় ০২:৩৫:৩৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৬

রাজধানীর বাজারে সবজি-মাছের ঊর্ধ্বগতি: নাভিশ্বাস সাধারণ ক্রেতার
রাজধানীর কাঁচাবাজার ও মাছবাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম যেন ছুটছে লাগামহীন গতিতে। সবজি থেকে মাছ—কোনো বাজারেই মিলছে না স্বস্তির ছোঁয়া। মাসের আয়-ব্যয়ের হিসাব মেলাতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছেন নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো।

রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রাক্কালে বাজার নিয়ন্ত্রণে আসার নানা প্রতিশ্রুতি শোনা গেলেও বাস্তব চিত্র ভিন্ন কথা বলছে। ক্ষুব্ধ ক্রেতাদের ভাষ্য, ক্ষমতায় আসার আগে সবাই আশ্বাস দেয়, কিন্তু বাজারে পণ্যের দাম সাধ্যের মধ্যে রাখতে পারে না কেউ।

শুক্রবার রাজধানীর একাধিক এলাকার বাজার ঘুরে দেখা গেছে, চাল-ডাল থেকে শুরু করে সবজি ও মাছ—প্রায় প্রতিটি নিত্যপণ্যের দামই এখন সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে গেছে।

সবজির দামে হাঁসফাঁস অবস্থা
বাজারে ঢুকতেই ক্রেতাদের কপালে ভাঁজ ফেলছে সবজির মূল্যতালিকা। বেশির ভাগ সবজিই বিক্রি হচ্ছে আশি টাকার আশপাশে। টমেটো ও গাজরের কেজি একশ চল্লিশ টাকা, কাঁচা মরিচ আড়াইশ টাকা এবং ধনেপাতা তিনশ টাকায় গিয়ে ঠেকেছে। পটল, বেগুন, উচ্ছে, বরবটি, করলা ও কচুর লতির মতো সবজিও বিক্রি হচ্ছে সত্তর থেকে নব্বই টাকার ঘরে। তুলনামূলক সহনীয় দামে মিলছে শুধু পেঁপে—চল্লিশ থেকে পঞ্চাশ টাকা, আর চালকুমড়া-শসা পঞ্চাশ থেকে ষাট টাকায়।
স্থানীয় বাজারের ক্রেতারা জানাচ্ছেন, একসঙ্গে কয়েক পদের সবজি কিনতে গেলেই ব্যাগের হিসাব দ্রুত বেড়ে যায়। এক ক্রেতা আক্ষেপ করে বলেন, কয়েক ধরনের সবজি এক কেজি করে কিনলেই পাঁচ থেকে ছয়শ টাকা খরচ হয়ে যায়, ফলে মাছ-মাংসের পাশাপাশি সবজি সামলানোও এখন কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
অন্যদিকে খুচরা বিক্রেতাদের দাবি, পাইকারি আড়ত থেকেই তাদের বাড়তি দামে পণ্য কিনতে হচ্ছে। এর সঙ্গে পরিবহন খরচ ও নষ্ট হওয়ার ক্ষতি যুক্ত হয়ে দাম আরও বাড়ছে বলে জানান তারা।
দেশি মাছ সোনার হরিণ, চাষের মাছও চড়া
সবজির মতোই অস্বস্তি ছড়াচ্ছে মাছের বাজারও। সরবরাহ কমে যাওয়ায় দেশি মাছ এখন নিম্নবিত্তের তো বটেই, মধ্যবিত্তেরও নাগালের বাইরে। বাজারে পাবদা, টেংরা, শিং, মাগুর, শোল, চিতল ও বোয়ালের মতো দেশি মাছ বিক্রি হচ্ছে পাঁচশ থেকে বারোশ টাকা কেজি দরে। এমনকি ছোট আকারের কাচকি মাছও বিকোচ্ছে পাঁচশ থেকে সাতশ টাকায়।
বাধ্য হয়ে অনেকে ঝুঁকছেন চাষের মাছের দিকে, তবে সেখানেও স্বস্তি নেই। পাঙাশ বিক্রি হচ্ছে দুইশ থেকে দুইশ আশি টাকা, তেলাপিয়া দুইশ বিশ থেকে তিনশ টাকা এবং রুই-কাতলা সাড়ে তিনশ থেকে পাঁচশ টাকা কেজি দরে। এক বেসরকারি চাকরিজীবী জানান, পাবদা বা শিংয়ের দাম শুনলেই আর কেনার সাহস হয় না, বাধ্য হয়ে পাঙাশ বা তেলাপিয়ায় ফিরতে হচ্ছে—অথচ সংসারের অন্য খরচ সামলে সেটুকু কিনতেও এখন যথেষ্ট টাকা লাগছে।
বিক্রেতাদের ভাষ্যে, জলাশয়ে আগের মতো দেশি মাছের জোগান নেই, আর চাষের মাছের ক্ষেত্রে খাদ্য, উৎপাদন ও পরিবহন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় দাম চড়া থাকছে।
দ্রব্যমূল্যের এই ক্রমাগত ঊর্ধ্বগতিতে সাধারণ মানুষের মনে জমছে ক্ষোভ। একজন ক্রেতা বলেন, বেতন যে হারে বাড়ে তার চেয়ে অনেক বেশি হারে বাড়ে বাজারের খরচ; মাসের শুরুতে বাজার করতে গেলেই মনে হয় টাকা কোথায় গলে যাচ্ছে, আর মাস শেষে অনেক প্রয়োজনীয় জিনিস তালিকা থেকে বাদ দিতে হয়।
ব্যবসায়ীদের একাংশ মনে করছেন, শুধু খুচরা বাজারে অভিযান চালিয়ে দীর্ঘমেয়াদে দাম নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়—পাইকারি পর্যায় থেকেই তদারকি বাড়ানো জরুরি। বাজার সংশ্লিষ্টদের মতে, উৎপাদন, আমদানি, মজুত, পরিবহন ও বিপণন—পুরো সরবরাহব্যবস্থার ওপর কার্যকর নজরদারি প্রতিষ্ঠা করা না গেলে এবং কৃত্রিম সংকট তৈরি করে মুনাফা লোটার প্রবণতা রোধ না হলে, বাজারের এই অস্বস্তি কাটার সম্ভাবনা কম।
(এই প্রতিবেদনের তথ্য সংশ্লিষ্ট বাজার পর্যবেক্ষণ ও ক্রেতা-বিক্রেতাদের বক্তব্যের ভিত্তিতে তৈরি; সঠিক ও হালনাগাদ মূল্য জানতে স্থানীয় বাজার যাচাই করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।)

Share this news as a Photo Card