শিরোনাম :
জয়ের পথে বাংলাদেশ, অস্ট্রেলিয়াকে ২২৮ রানের লিড তারেক রহমানের দিল্লি সফরের আমন্ত্রণ, এখনো কাটেনি অনিশ্চয়তার মেঘ মন্ত্রিসভায় নতুন চার মুখ যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা, চলছে আলোচনা ৮০ টাকার নিচে সবজি নেই, দেশি মাছের দাম আকাশছোঁয়া ব্যাটারিচালিত রিকশা নিয়ন্ত্রণে সরকারের নতুন উদ্যোগ চট্টগ্রামে শিপইয়ার্ডে গ্যাস দুর্ঘটনায় নিহত সাত শ্রমিক বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি পদ: ৫৫ বছরে ১৮ জন, নতুন মুখের অপেক্ষা গ্যাস সংকট: ক্ষমা চেয়ে ব্যবসায়ীদের ‘মোরাল সাপোর্ট’ চাইলেন জ্বালানিমন্ত্রী ব্যক্তি পর্যায়ের লেনদেনও হবে বাংলা কিউআরে রাষ্ট্রপতি প্রার্থী ফখরুল, এলজিআরডিতে সালাহউদ্দিন, স্বরাষ্ট্রে এ্যানি

জয়ের পথে বাংলাদেশ, অস্ট্রেলিয়াকে ২২৮ রানের লিড

তৃতীয় দিনের সকালেই বড় স্বপ্ন দেখাচ্ছিল বাংলাদেশ। ছয় উইকেটে ৩৫১ রান নিয়ে দিন শুরু করা দলটি শেষ পর্যন্ত থামল ৪২৬ রানে গিয়ে, অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে যা তাদের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সংগ্রহ। এর আগে ২০০৬ সালে ফতুল্লায় প্রথম ইনিংসে ৪২৭ রান করেছিল বাংলাদেশ, সেই রেকর্ড এক রানের জন্য অক্ষত থেকে গেল। তবে সংখ্যার হিসাব ছাপিয়ে যা বেশি গুরুত্বপূর্ণ, তা হলো ২২৮ রানের বিশাল লিড—যা ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নিজেদের হাতে তুলে নিয়েছে স্বাগতিকদের।

দিনের শুরুটা অবশ্য মসৃণ ছিল না। প্রথম ঘণ্টাতেই দুই উইকেট হারিয়ে বসে বাংলাদেশ, রান ওঠে মাত্র ২৯। প্রথমে ফেরেন তাইজুল ইসলাম, এরপর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক হিসেবে বিদায় নেন হাসান মাহমুদ। এই ধাক্কার পর দায়িত্ব কাঁধে তুলে নেন মেহেদী হাসান মিরাজ। ইনিংসে নিজের অর্ধশতক তুলে নেওয়ার পর তিনি ধীরে ধীরে দলকে টেনে নিয়ে যান চারশ রানের গণ্ডি পার করিয়ে। দ্বিতীয় সেশনের প্রথম ওভারেই জশ হ্যাজলউডের বলে উইকেটরক্ষকের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরার আগে তিনি করেন ৬৫ রান—এই ইনিংসেই তাঁর ব্যাটে ভর করে বাংলাদেশ দুইশ রানের বেশি লিড নিশ্চিত করে। এটি ছিল ইনিংসে হ্যাজলউডের পঞ্চম শিকার, দারুণ এক বোলিং কীর্তি গড়েন তিনি। শেষ ব্যাটসম্যান হিসেবে ইবাদত হোসেন আউট হলে থামে বাংলাদেশের ইনিংস, সেই উইকেটটিও যায় হ্যাজলউডের ঝুলিতে।
পুরো ইনিংস জুড়েই ছিল একাধিক গুরুত্বপূর্ণ অবদান। ওপেনার তানজিদ হাসান তুলে নেন ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরি, যা এই ইনিংসের ভিত গড়ে দেয়। অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত করেন ৮৪ রান, মুমিনুল হক ৪৯ ও মুশফিকুর রহিম ৩৬ রানের কার্যকর ইনিংস খেলেন। মূলত এই ব্যাটসম্যানদের মিলিত প্রচেষ্টাতেই বাংলাদেশের সংগ্রহ চারশ পেরিয়ে যায়, যা বহুদিন ধরে দলটির জন্য কঠিন এক মাইলফলক ছিল।
প্রথম ইনিংসে বল হাতেও দুর্দান্ত ছিলেন হাসান মাহমুদ, পাঁচ উইকেট নিয়ে অস্ট্রেলিয়াকে চাপে রেখেছিলেন তিনি। তাঁর সেই পারফরম্যান্সের সুবাদেই বাংলাদেশ বড় লিডের ভিত পেয়ে যায়। দ্বিতীয় ইনিংসে নেমেও নিজের প্রথম ওভারেই উইকেট তুলে নেন তিনি, বোল্ড করে ফেরান অস্ট্রেলিয়ার ওপেনারকে। ফলে ২২৮ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতেই ধাক্কা খায় সফরকারীরা।
সব মিলিয়ে তৃতীয় দিনের খেলা শেষে সম্পূর্ণ চালকের আসনে বাংলাদেশ। ব্যাট হাতে রেকর্ডের কাছাকাছি গিয়ে বিশাল লিড, এরপর বল হাতে দ্রুত আঘাত—দুই বিভাগেই দাপট দেখিয়েছে স্বাগতিক দল। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্ট ইতিহাসে এমন প্রাধান্য বাংলাদেশ সচরাচর দেখায়নি, তাই এই পারফরম্যান্স দলটির জন্য বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে থাকবে। ম্যাচের বাকি অংশে এই লিড কতটা কাজে লাগানো যায়, তার ওপরই নির্ভর করছে ফলাফল। তবে তিন দিনের খেলা শেষে সমর্থকদের জন্য স্বস্তির খবর—নিজেদের মাটিতে অস্ট্রেলিয়ার মতো দলের বিপক্ষে এমন আধিপত্য বিরল এক দৃশ্য, যা দীর্ঘদিন মনে রাখার মতো।

Share this news as a Photo Card

© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

জয়ের পথে বাংলাদেশ, অস্ট্রেলিয়াকে ২২৮ রানের লিড

সম্পাদক ও প্রকাশক

মোঃ মাহমুদুন্নবী জ্যোতি

অফিসঃ ২/২ আরকে মিশন রোড , ঢাকা।

ইমেলঃ chalomanbarta@yahoo.com, chalomanbarta@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১০৫৬৮৬৬, ০১৬৮১৯২৪০০০

রাষ্ট্রপতি প্রার্থী ফখরুল, এলজিআরডিতে সালাহউদ্দিন, স্বরাষ্ট্রে এ্যানি

১৩ আগস্ট ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
facebook.com/dailycholomanbarta
www.cholomanbarta.com

জয়ের পথে বাংলাদেশ, অস্ট্রেলিয়াকে ২২৮ রানের লিড

আপডেট সময় ১০:০৮:৩৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৬

তৃতীয় দিনের সকালেই বড় স্বপ্ন দেখাচ্ছিল বাংলাদেশ। ছয় উইকেটে ৩৫১ রান নিয়ে দিন শুরু করা দলটি শেষ পর্যন্ত থামল ৪২৬ রানে গিয়ে, অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে যা তাদের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সংগ্রহ। এর আগে ২০০৬ সালে ফতুল্লায় প্রথম ইনিংসে ৪২৭ রান করেছিল বাংলাদেশ, সেই রেকর্ড এক রানের জন্য অক্ষত থেকে গেল। তবে সংখ্যার হিসাব ছাপিয়ে যা বেশি গুরুত্বপূর্ণ, তা হলো ২২৮ রানের বিশাল লিড—যা ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নিজেদের হাতে তুলে নিয়েছে স্বাগতিকদের।

দিনের শুরুটা অবশ্য মসৃণ ছিল না। প্রথম ঘণ্টাতেই দুই উইকেট হারিয়ে বসে বাংলাদেশ, রান ওঠে মাত্র ২৯। প্রথমে ফেরেন তাইজুল ইসলাম, এরপর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক হিসেবে বিদায় নেন হাসান মাহমুদ। এই ধাক্কার পর দায়িত্ব কাঁধে তুলে নেন মেহেদী হাসান মিরাজ। ইনিংসে নিজের অর্ধশতক তুলে নেওয়ার পর তিনি ধীরে ধীরে দলকে টেনে নিয়ে যান চারশ রানের গণ্ডি পার করিয়ে। দ্বিতীয় সেশনের প্রথম ওভারেই জশ হ্যাজলউডের বলে উইকেটরক্ষকের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরার আগে তিনি করেন ৬৫ রান—এই ইনিংসেই তাঁর ব্যাটে ভর করে বাংলাদেশ দুইশ রানের বেশি লিড নিশ্চিত করে। এটি ছিল ইনিংসে হ্যাজলউডের পঞ্চম শিকার, দারুণ এক বোলিং কীর্তি গড়েন তিনি। শেষ ব্যাটসম্যান হিসেবে ইবাদত হোসেন আউট হলে থামে বাংলাদেশের ইনিংস, সেই উইকেটটিও যায় হ্যাজলউডের ঝুলিতে।
পুরো ইনিংস জুড়েই ছিল একাধিক গুরুত্বপূর্ণ অবদান। ওপেনার তানজিদ হাসান তুলে নেন ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরি, যা এই ইনিংসের ভিত গড়ে দেয়। অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত করেন ৮৪ রান, মুমিনুল হক ৪৯ ও মুশফিকুর রহিম ৩৬ রানের কার্যকর ইনিংস খেলেন। মূলত এই ব্যাটসম্যানদের মিলিত প্রচেষ্টাতেই বাংলাদেশের সংগ্রহ চারশ পেরিয়ে যায়, যা বহুদিন ধরে দলটির জন্য কঠিন এক মাইলফলক ছিল।
প্রথম ইনিংসে বল হাতেও দুর্দান্ত ছিলেন হাসান মাহমুদ, পাঁচ উইকেট নিয়ে অস্ট্রেলিয়াকে চাপে রেখেছিলেন তিনি। তাঁর সেই পারফরম্যান্সের সুবাদেই বাংলাদেশ বড় লিডের ভিত পেয়ে যায়। দ্বিতীয় ইনিংসে নেমেও নিজের প্রথম ওভারেই উইকেট তুলে নেন তিনি, বোল্ড করে ফেরান অস্ট্রেলিয়ার ওপেনারকে। ফলে ২২৮ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতেই ধাক্কা খায় সফরকারীরা।
সব মিলিয়ে তৃতীয় দিনের খেলা শেষে সম্পূর্ণ চালকের আসনে বাংলাদেশ। ব্যাট হাতে রেকর্ডের কাছাকাছি গিয়ে বিশাল লিড, এরপর বল হাতে দ্রুত আঘাত—দুই বিভাগেই দাপট দেখিয়েছে স্বাগতিক দল। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্ট ইতিহাসে এমন প্রাধান্য বাংলাদেশ সচরাচর দেখায়নি, তাই এই পারফরম্যান্স দলটির জন্য বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে থাকবে। ম্যাচের বাকি অংশে এই লিড কতটা কাজে লাগানো যায়, তার ওপরই নির্ভর করছে ফলাফল। তবে তিন দিনের খেলা শেষে সমর্থকদের জন্য স্বস্তির খবর—নিজেদের মাটিতে অস্ট্রেলিয়ার মতো দলের বিপক্ষে এমন আধিপত্য বিরল এক দৃশ্য, যা দীর্ঘদিন মনে রাখার মতো।

Share this news as a Photo Card