শিরোনাম :

সড়কপথে যুক্ত হচ্ছে ভোলা, মহাসড়ক নির্মাণের সিদ্ধান্ত দিলেন প্রধানমন্ত্রী

দেশের একমাত্র দ্বীপ জেলা ভোলাকে অবশেষে জাতীয় সড়ক নেটওয়ার্কের সঙ্গে সরাসরি সংযুক্ত করার উদ্যোগ চূড়ান্ত হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে নৌপথের ওপর নির্ভরশীল এই জনপদের বাসিন্দাদের জন্য এটি একটি বড় স্বস্তির খবর হয়ে এসেছে। রাজধানীর তেজগাঁওয়ে সরকারপ্রধানের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
শনিবার অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে সরকারপ্রধান নির্দেশ দিয়েছেন, রহমতপুর-হিজলা-মেহেন্দিগঞ্জ হয়ে ভোলা পর্যন্ত একটি নতুন মহাসড়ক নির্মাণ করা হবে। এর মধ্য দিয়ে রাজধানীর সঙ্গে এবং বরিশালের সঙ্গে ভোলার সরাসরি সড়ক যোগাযোগ স্থাপিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বৈঠকে মূলত তিনটি সম্ভাব্য পথ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। শেষ পর্যন্ত সড়ক ও জনপথ বিভাগের প্রস্তাবিত বরিশাল হয়ে রহমতপুর-হিজলা-মেহেন্দিগঞ্জ-ভোলা রুটটিকেই সবচেয়ে বাস্তবসম্মত ও লাভজনক বিকল্প হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে। কর্মকর্তাদের ভাষ্যমতে, দূরত্ব, সময় ও ব্যয়—তিন ক্ষেত্রেই এই পথ তুলনামূলক সাশ্রয়ী হবে, যা একে অন্যান্য প্রস্তাবের তুলনায় এগিয়ে রেখেছে।
সভাপ্রধান বৈঠকে বলেন, ভৌগোলিক প্রতিবন্ধকতার কারণে ভোলার সঙ্গে দেশের বাকি অংশের যোগাযোগ দীর্ঘদিন ধরে ব্যাহত হয়ে আসছে। এই বাধা দূর করে একটি সুসংহত ও নিরবচ্ছিন্ন সড়ক কাঠামো গড়ে তোলা গেলে কেবল যাতায়াত সহজ হবে না, ব্যবসা-বাণিজ্যের নতুন দুয়ারও খুলে যাবে। তিনি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রকল্পটি দ্রুত গতিতে এগিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেন।
প্রকল্প-সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, প্রস্তাবিত পথে ইতিমধ্যে থাকা সড়কগুলো প্রশস্ত করার পাশাপাশি নতুন করে কিছু অংশে সড়ক নির্মাণ করতে হবে। এ ছাড়া পথে তিনটি ছোট আকারের সেতু নির্মাণের প্রয়োজন হবে। প্রকল্পটির প্রাথমিক সম্ভাব্যতা ও বাস্তবায়নযোগ্যতা যাচাইয়ের কাজ শিগগিরই শুরু হবে বলে জানা গেছে।
এই মহাসড়ক বাস্তবায়িত হলে ভোলার সঙ্গে বরিশাল ও রাজধানীসহ দেশের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ এলাকার সরাসরি সংযোগ তৈরি হবে। ফলে যাতায়াতের সময় যেমন কমবে, তেমনি খরচও উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। চারদিকে নদীবেষ্টিত হওয়ায় এত দিন ভোলার মানুষকে যেকোনো প্রয়োজনে নৌপথের ওপর নির্ভর করতে হতো। নতুন সড়ক চালু হলে এই দীর্ঘদিনের নির্ভরতা অনেকটাই কমে আসবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন সড়ক পরিবহন, সেতু, রেলপথ ও নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকা মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় ও সেতু বিভাগের প্রতিমন্ত্রী রাজিব আহসান, সরকারপ্রধানের বিশেষ সহকারী শাকিরুল ইসলাম খান, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব মোহাম্মদ জিয়াউল হক, সেতু বিভাগের সচিব মোহাম্মদ আবদুর রউফ এবং সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী মো. মনিরুজ্জামানসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
পর্যবেক্ষকদের মতে, ভোলার মতো একটি সম্ভাবনাময় জেলাকে জাতীয় সড়ক নেটওয়ার্কের আওতায় আনতে পারলে সেখানকার কৃষি ও ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডে নতুন গতি সঞ্চার হবে। একই সঙ্গে স্থানীয় বাসিন্দাদের দৈনন্দিন জীবনযাত্রার মান উন্নয়নেও এই উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তাঁরা মনে করছেন।

Share this news as a Photo Card

© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান কি ছুটিতে যাচ্ছেন?

সম্পাদক ও প্রকাশক

মোঃ মাহমুদুন্নবী জ্যোতি

অফিসঃ ২/২ আরকে মিশন রোড , ঢাকা।

ইমেলঃ chalomanbarta@yahoo.com, chalomanbarta@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১০৫৬৮৬৬, ০১৬৮১৯২৪০০০

রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নিলেন মির্জা ফখরুল

২১ আগস্ট ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
facebook.com/dailycholomanbarta
www.cholomanbarta.com

সড়কপথে যুক্ত হচ্ছে ভোলা, মহাসড়ক নির্মাণের সিদ্ধান্ত দিলেন প্রধানমন্ত্রী

আপডেট সময় ০৫:৫৯:২৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ২২ অগাস্ট ২০২৬

দেশের একমাত্র দ্বীপ জেলা ভোলাকে অবশেষে জাতীয় সড়ক নেটওয়ার্কের সঙ্গে সরাসরি সংযুক্ত করার উদ্যোগ চূড়ান্ত হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে নৌপথের ওপর নির্ভরশীল এই জনপদের বাসিন্দাদের জন্য এটি একটি বড় স্বস্তির খবর হয়ে এসেছে। রাজধানীর তেজগাঁওয়ে সরকারপ্রধানের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
শনিবার অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে সরকারপ্রধান নির্দেশ দিয়েছেন, রহমতপুর-হিজলা-মেহেন্দিগঞ্জ হয়ে ভোলা পর্যন্ত একটি নতুন মহাসড়ক নির্মাণ করা হবে। এর মধ্য দিয়ে রাজধানীর সঙ্গে এবং বরিশালের সঙ্গে ভোলার সরাসরি সড়ক যোগাযোগ স্থাপিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বৈঠকে মূলত তিনটি সম্ভাব্য পথ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। শেষ পর্যন্ত সড়ক ও জনপথ বিভাগের প্রস্তাবিত বরিশাল হয়ে রহমতপুর-হিজলা-মেহেন্দিগঞ্জ-ভোলা রুটটিকেই সবচেয়ে বাস্তবসম্মত ও লাভজনক বিকল্প হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে। কর্মকর্তাদের ভাষ্যমতে, দূরত্ব, সময় ও ব্যয়—তিন ক্ষেত্রেই এই পথ তুলনামূলক সাশ্রয়ী হবে, যা একে অন্যান্য প্রস্তাবের তুলনায় এগিয়ে রেখেছে।
সভাপ্রধান বৈঠকে বলেন, ভৌগোলিক প্রতিবন্ধকতার কারণে ভোলার সঙ্গে দেশের বাকি অংশের যোগাযোগ দীর্ঘদিন ধরে ব্যাহত হয়ে আসছে। এই বাধা দূর করে একটি সুসংহত ও নিরবচ্ছিন্ন সড়ক কাঠামো গড়ে তোলা গেলে কেবল যাতায়াত সহজ হবে না, ব্যবসা-বাণিজ্যের নতুন দুয়ারও খুলে যাবে। তিনি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রকল্পটি দ্রুত গতিতে এগিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেন।
প্রকল্প-সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, প্রস্তাবিত পথে ইতিমধ্যে থাকা সড়কগুলো প্রশস্ত করার পাশাপাশি নতুন করে কিছু অংশে সড়ক নির্মাণ করতে হবে। এ ছাড়া পথে তিনটি ছোট আকারের সেতু নির্মাণের প্রয়োজন হবে। প্রকল্পটির প্রাথমিক সম্ভাব্যতা ও বাস্তবায়নযোগ্যতা যাচাইয়ের কাজ শিগগিরই শুরু হবে বলে জানা গেছে।
এই মহাসড়ক বাস্তবায়িত হলে ভোলার সঙ্গে বরিশাল ও রাজধানীসহ দেশের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ এলাকার সরাসরি সংযোগ তৈরি হবে। ফলে যাতায়াতের সময় যেমন কমবে, তেমনি খরচও উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। চারদিকে নদীবেষ্টিত হওয়ায় এত দিন ভোলার মানুষকে যেকোনো প্রয়োজনে নৌপথের ওপর নির্ভর করতে হতো। নতুন সড়ক চালু হলে এই দীর্ঘদিনের নির্ভরতা অনেকটাই কমে আসবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন সড়ক পরিবহন, সেতু, রেলপথ ও নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকা মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় ও সেতু বিভাগের প্রতিমন্ত্রী রাজিব আহসান, সরকারপ্রধানের বিশেষ সহকারী শাকিরুল ইসলাম খান, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব মোহাম্মদ জিয়াউল হক, সেতু বিভাগের সচিব মোহাম্মদ আবদুর রউফ এবং সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী মো. মনিরুজ্জামানসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
পর্যবেক্ষকদের মতে, ভোলার মতো একটি সম্ভাবনাময় জেলাকে জাতীয় সড়ক নেটওয়ার্কের আওতায় আনতে পারলে সেখানকার কৃষি ও ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডে নতুন গতি সঞ্চার হবে। একই সঙ্গে স্থানীয় বাসিন্দাদের দৈনন্দিন জীবনযাত্রার মান উন্নয়নেও এই উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তাঁরা মনে করছেন।

Share this news as a Photo Card