১৪৩ বছরে প্রথম কীর্তি গড়লেন শরিফুল ইসলাম

অস্ট্রেলিয়া সফরে টেস্ট সিরিজে ব্যাটিং ব্যর্থতার মধ্যেও দলের জন্য স্বস্তির উপলক্ষ এনে দিয়েছেন বাঁহাতি পেসার শরিফুল ইসলাম। চোট কাটিয়ে মাঠে ফিরেই বল হাতে জ্বলে উঠেছেন তিনি, আর তার আগুনে স্পেলেই বিপর্যস্ত হয়েছে স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিং লাইনআপ। ম্যাকাইয়ের গ্রেট বেরিয়ার রিফ মাঠে চলমান ম্যাচে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে নিজের ক্যারিয়ার সেরা বোলিং পারফরম্যান্স উপহার দিয়েছেন এই তরুণ পেসার।
রোববার সকালে অস্ট্রেলিয়া নিজেদের প্রথম ইনিংসে মাত্র ২১০ রানে অলআউট হয়ে যায়, আর এই ধসের মূল কারিগর ছিলেন শরিফুল নিজেই। মোট ১৫ ওভার বল করে মাত্র ৪৮ রান খরচ করে সাতটি উইকেট তুলে নিয়েছেন তিনি, যা তার ক্যারিয়ারের অন্যতম স্মরণীয় বোলিং ফিগার হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
আগের দিনের খেলা শেষ হয়েছিল শরিফুলের ছয় উইকেট প্রাপ্তির মধ্য দিয়ে। রোববার সকালেই বাকি কাজটুকু সেরে ফেলেন তিনি। দুর্দান্ত এক ইয়র্কার ডেলিভারিতে অস্ট্রেলিয়ার হয়ে বাংলাদেশের জন্য কাঁটা হয়ে দাঁড়ানো ব্যাটসম্যান ক্যামেরন গ্রিনকে এলবিডব্লিউর ফাঁদে ফেলেন তিনি। মাঠের আম্পায়ার প্রাথমিকভাবে আউট না দিলেও রিভিউ নিয়ে সফল হয় বাংলাদেশ শিবির। আর এই একটি উইকেটের মধ্য দিয়েই দীর্ঘ ১৪৩ বছরের ক্রিকেট ইতিহাসে একেবারে নতুন এক রেকর্ডের জন্ম দিলেন শরিফুল।
পরিসংখ্যান বলছে, অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে সফরকারী কোনো বাঁহাতি পেসারের এক ইনিংসে সাত উইকেট শিকারের সবশেষ নজির ছিল সেই ১৮৮৩ সালে। এরপর পুরো বিংশ শতাব্দী পার হয়ে গেলেও কোনো সফরকারী বাঁহাতি পেসার এই মাইলফলক স্পর্শ করতে পারেননি। প্রায় দেড়শ বছর পর, ২০২৬ সালে এসে সেই দুর্লভ কীর্তি গড়লেন মাত্র ২৫ বছর বয়সী এই বাংলাদেশি তারকা।
সফরকারী দলের বোলারদের মধ্যে তৃতীয় বাঁহাতি পেসার হিসেবে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে সাত উইকেট নেওয়ার গৌরব অর্জন করেছেন শরিফুল। এর আগে এমন কীর্তি ছিল কেবল ইংল্যান্ডের দুই সাবেক পেসারের নামের পাশে—একজন ১৮৭৯ সালে ৬৮ রান খরচায় সাত উইকেট নিয়েছিলেন, আরেকজন ১৮৮৩ সালে মাত্র ৪০ রানের বিনিময়ে সাত উইকেট শিকার করেছিলেন।
সামগ্রিকভাবে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে বাঁহাতি পেসারদের ইনিংসে সাত বা তার বেশি উইকেট নেওয়ার নজির রয়েছে মোট সাতজনের। এই তালিকায় চারজনই স্বয়ং অস্ট্রেলিয়ার সাবেক পেসার। বাকি তিনজনের একজন হলেন শরিফুল, বাকি দুজন ইংল্যান্ডের।
আরেকটি রেকর্ডেও ইতিহাসের দ্বিতীয় স্থানে নাম লিখিয়েছেন এই বাঁহাতি পেসার। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে সফরকারী কোনো বোলারের দ্বিতীয় সেরা বোলিং ফিগারের মালিক এখন শরিফুল। ৪৮ রানে সাত উইকেট নেওয়া এই কীর্তির ওপরে আছেন কেবল ওয়েস্ট ইন্ডিজের কিংবদন্তি পেসার, যিনি এক সময় মাত্র ২৫ রান খরচায় সাত উইকেট শিকার করে অনন্য রেকর্ড গড়েছিলেন।
চোট থেকে ফেরার পর এমন পারফরম্যান্স শুধু ম্যাচেই নয়, ভবিষ্যতের জন্যও শরিফুলের আত্মবিশ্বাস অনেকটাই বাড়িয়ে দেবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। বাকিদের ব্যর্থতার মধ্যেও একজন বোলারের এমন একক কৃতিত্ব দলের জন্য বড় অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে বলেই ধারণা করা হচ্ছে।

Share this news as a Photo Card

© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

সম্পাদক ও প্রকাশক

মোঃ মাহমুদুন্নবী জ্যোতি

অফিসঃ ২/২ আরকে মিশন রোড , ঢাকা।

ইমেলঃ chalomanbarta@yahoo.com, chalomanbarta@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১০৫৬৮৬৬, ০১৬৮১৯২৪০০০

পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান কি ছুটিতে যাচ্ছেন?

২২ আগস্ট ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
facebook.com/dailycholomanbarta
www.cholomanbarta.com

১৪৩ বছরে প্রথম কীর্তি গড়লেন শরিফুল ইসলাম

আপডেট সময় ০৪:৪০:২৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৬

অস্ট্রেলিয়া সফরে টেস্ট সিরিজে ব্যাটিং ব্যর্থতার মধ্যেও দলের জন্য স্বস্তির উপলক্ষ এনে দিয়েছেন বাঁহাতি পেসার শরিফুল ইসলাম। চোট কাটিয়ে মাঠে ফিরেই বল হাতে জ্বলে উঠেছেন তিনি, আর তার আগুনে স্পেলেই বিপর্যস্ত হয়েছে স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিং লাইনআপ। ম্যাকাইয়ের গ্রেট বেরিয়ার রিফ মাঠে চলমান ম্যাচে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে নিজের ক্যারিয়ার সেরা বোলিং পারফরম্যান্স উপহার দিয়েছেন এই তরুণ পেসার।
রোববার সকালে অস্ট্রেলিয়া নিজেদের প্রথম ইনিংসে মাত্র ২১০ রানে অলআউট হয়ে যায়, আর এই ধসের মূল কারিগর ছিলেন শরিফুল নিজেই। মোট ১৫ ওভার বল করে মাত্র ৪৮ রান খরচ করে সাতটি উইকেট তুলে নিয়েছেন তিনি, যা তার ক্যারিয়ারের অন্যতম স্মরণীয় বোলিং ফিগার হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
আগের দিনের খেলা শেষ হয়েছিল শরিফুলের ছয় উইকেট প্রাপ্তির মধ্য দিয়ে। রোববার সকালেই বাকি কাজটুকু সেরে ফেলেন তিনি। দুর্দান্ত এক ইয়র্কার ডেলিভারিতে অস্ট্রেলিয়ার হয়ে বাংলাদেশের জন্য কাঁটা হয়ে দাঁড়ানো ব্যাটসম্যান ক্যামেরন গ্রিনকে এলবিডব্লিউর ফাঁদে ফেলেন তিনি। মাঠের আম্পায়ার প্রাথমিকভাবে আউট না দিলেও রিভিউ নিয়ে সফল হয় বাংলাদেশ শিবির। আর এই একটি উইকেটের মধ্য দিয়েই দীর্ঘ ১৪৩ বছরের ক্রিকেট ইতিহাসে একেবারে নতুন এক রেকর্ডের জন্ম দিলেন শরিফুল।
পরিসংখ্যান বলছে, অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে সফরকারী কোনো বাঁহাতি পেসারের এক ইনিংসে সাত উইকেট শিকারের সবশেষ নজির ছিল সেই ১৮৮৩ সালে। এরপর পুরো বিংশ শতাব্দী পার হয়ে গেলেও কোনো সফরকারী বাঁহাতি পেসার এই মাইলফলক স্পর্শ করতে পারেননি। প্রায় দেড়শ বছর পর, ২০২৬ সালে এসে সেই দুর্লভ কীর্তি গড়লেন মাত্র ২৫ বছর বয়সী এই বাংলাদেশি তারকা।
সফরকারী দলের বোলারদের মধ্যে তৃতীয় বাঁহাতি পেসার হিসেবে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে সাত উইকেট নেওয়ার গৌরব অর্জন করেছেন শরিফুল। এর আগে এমন কীর্তি ছিল কেবল ইংল্যান্ডের দুই সাবেক পেসারের নামের পাশে—একজন ১৮৭৯ সালে ৬৮ রান খরচায় সাত উইকেট নিয়েছিলেন, আরেকজন ১৮৮৩ সালে মাত্র ৪০ রানের বিনিময়ে সাত উইকেট শিকার করেছিলেন।
সামগ্রিকভাবে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে বাঁহাতি পেসারদের ইনিংসে সাত বা তার বেশি উইকেট নেওয়ার নজির রয়েছে মোট সাতজনের। এই তালিকায় চারজনই স্বয়ং অস্ট্রেলিয়ার সাবেক পেসার। বাকি তিনজনের একজন হলেন শরিফুল, বাকি দুজন ইংল্যান্ডের।
আরেকটি রেকর্ডেও ইতিহাসের দ্বিতীয় স্থানে নাম লিখিয়েছেন এই বাঁহাতি পেসার। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে সফরকারী কোনো বোলারের দ্বিতীয় সেরা বোলিং ফিগারের মালিক এখন শরিফুল। ৪৮ রানে সাত উইকেট নেওয়া এই কীর্তির ওপরে আছেন কেবল ওয়েস্ট ইন্ডিজের কিংবদন্তি পেসার, যিনি এক সময় মাত্র ২৫ রান খরচায় সাত উইকেট শিকার করে অনন্য রেকর্ড গড়েছিলেন।
চোট থেকে ফেরার পর এমন পারফরম্যান্স শুধু ম্যাচেই নয়, ভবিষ্যতের জন্যও শরিফুলের আত্মবিশ্বাস অনেকটাই বাড়িয়ে দেবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। বাকিদের ব্যর্থতার মধ্যেও একজন বোলারের এমন একক কৃতিত্ব দলের জন্য বড় অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে বলেই ধারণা করা হচ্ছে।

Share this news as a Photo Card