সরকারি হাসপাতালগুলোয় দীর্ঘদিনের চিকিৎসক সংকট কাটাতে নতুন করে পাঁচ হাজার চিকিৎসক নিয়োগের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। বিশেষ বিসিএসের মাধ্যমে এই নিয়োগ সম্পন্ন করবে বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন—পিএসসি। নিয়োগপ্রক্রিয়া দ্রুত এগিয়ে নিতে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় ইতিমধ্যে আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠিয়ে পিএসসির কাছে চাহিদা জানিয়েছে।
জনপ্রশাসন ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, নিয়োগযোগ্য পাঁচ হাজার পদের মধ্যে ৪ হাজার ৭০০ জন নিয়োগ পাবেন সহকারী সার্জন বা মেডিকেল অফিসার হিসেবে, বাকি ৩০০ জন নিয়োগ পাবেন ডেন্টাল সার্জন পদে।
চলতি অর্থবছরের বাজেটে স্বাস্থ্য খাতে দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে—৬৯ হাজার ৪০৯ কোটি টাকা, যা জিডিপির প্রায় ১ দশমিক শূন্য ১ শতাংশ। বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী তৃণমূল পর্যায়ে চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেছিলেন।
পিএসসির জ্যেষ্ঠ সদস্য সুজায়েত উল্যা জানিয়েছেন, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে চিকিৎসকদের বিশেষ বিসিএস আয়োজনের চাহিদাপত্র তাঁরা পেয়েছেন এবং বিদ্যমান বিধি অনুসরণ করে দ্রুততম সময়ে আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হবে। সাধারণত স্বাস্থ্য ক্যাডারের বিশেষ বিসিএসে শুধু প্রিলিমিনারি ও মৌখিক পরীক্ষা নেওয়া হয়, লিখিত পরীক্ষার ধাপ না থাকায় ফলও প্রকাশ হয় দ্রুত।
এদিকে পিএসসির নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন অধ্যাপক মোহাম্মদ নাজমুজ্জামান ভূঁইয়া। গত ৬ সেপ্টেম্বর সুপ্রিম কোর্টের জাজেস লাউঞ্জে তিনি শপথ নেন। দায়িত্ব গ্রহণের পর তিনি বলেন, রাষ্ট্রপতির দেওয়া সাংবিধানিক দায়িত্ব তিনি নিষ্ঠা, স্বচ্ছতা ও সততার সঙ্গে পালন করবেন।
জাতীয় সংসদে উপস্থাপিত হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, দেশের সরকারি হাসপাতালে অনুমোদিত ৪১ হাজার ৮০৬টি পদের বিপরীতে কর্মরত আছেন মাত্র ৩০ হাজার ৩১১ জন চিকিৎসক, অর্থাৎ শূন্য পদ ১১ হাজার ৪৯৫টি। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মানদণ্ড অনুযায়ী দেশে প্রয়োজন প্রায় ৮৮ হাজার ৯০৯ জন চিকিৎসক। এর আগে ২০২৫ সালের মে মাসে ৪৮তম বিশেষ বিসিএসের মাধ্যমে তিন হাজার চিকিৎসক নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল।
নিজস্ব প্রতিবেদক 
























