শিরোনাম :
তেরঙ্গা ওড়ানোর আগেই আটক সিজেপি প্রতিষ্ঠাতা, কনট প্লেসে উত্তেজনা ক্ষমতা এক লুটেরার হাত থেকে আরেক লুটেরার হাতে : বিরোধীদলীয়নেতা ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার: দুর্গাপূজায় হিন্দুদের শুভেচ্ছা প্রধানমন্ত্রীর রাজধানীর ২৫৭ পূজামণ্ডপে থাকবে সিসিটিভি ও বডিওর্ন ক্যামেরা যুক্তরাষ্ট্রে স্কুলে বন্দুক হামলা, শিক্ষক ও শিশুসহ নিহত ৫ দর্শনা দিয়ে ঢুকছে ভারতের ১৮টি নতুন ব্রডগেজ রেলকোচ, যাবে সৈয়দপুরে সাফে বাংলাদেশের জার্সিতে অভিষেক হচ্ছে প্রবাসী ফরোয়ার্ড রোনান সুলিভানের সংসদ ভবন প্রাঙ্গণ ঘুরে দেখে পরিচ্ছন্নতা ও সংস্কারে নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর ‘যৌনাঙ্গে বুট দিয়ে মেরেছে”জামা টেনে তুলে দিয়েছে’: দিল্লিতে আটক বিক্ষোভকারী মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার আবার খুলছে: বিনা খরচে যাবেন ১০ হাজার কর্মী

তেরঙ্গা ওড়ানোর আগেই আটক সিজেপি প্রতিষ্ঠাতা, কনট প্লেসে উত্তেজনা

জাতীয় পতাকা হাতে কর্মসূচিতে যোগ দেওয়ার আগেই ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকেকে আটক করেছে দিল্লি পুলিশ। শুক্রবার তিনি যে ভবনে উঠেছিলেন, সেখান থেকে বেরোতেই তাঁকে আটক করা হয়। একই দিনে কনট প্লেসের কাছে মান্ডি হাউস থেকে আটক হন বামপন্থী ছাত্রনেত্রী নেহা বোরা। গত কয়েক দিনে এই দুজন একাধিকবার পুলিশের হাতে আটক হলেন।

পুলিশি পাহারায় থমথমে সকাল, বিকেলে বদলে গেল ছবি

‘লেহরা দো তিরঙ্গা’ বা ‘তেরঙ্গা ওড়াও’ নামের এই কর্মসূচির ডাক দিয়েছিল সিজেপি। সময় ছিল শুক্রবার বিকেল ৫টা, জায়গা কনট প্লেসের সেন্ট্রাল পার্ক। সকাল থেকেই এলাকাজুড়ে ছিল কড়া নিরাপত্তা, তাই সারা সকাল পথঘাট ছিল প্রায় ফাঁকা। বিকেলের দিকে চিত্র বদলাতে শুরু করে। নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে জাতীয় পতাকা হাতে কনট প্লেসে জড়ো হতে থাকেন সিজেপির সমর্থকেরা। দীপকে ও বোরার আটকের প্রতিবাদে তাঁরা বিক্ষোভও করেন। পুলিশ বাধা দিলে কয়েকজনের সঙ্গে বচসা হয়। মুম্বাইতেও একই কর্মসূচির ডাক ছিল, সেখানেও কড়া পুলিশি নজরদারির মধ্যে সমর্থকেরা জাতীয় পতাকা নিয়ে সমবেত হন।

আটকের মুহূর্তে কী হয়েছিল

প্রতিবেদন অনুযায়ী, কর্মসূচির জন্য বেরোনোর মুখেই এক পুলিশ কর্মকর্তা দীপকেকে জানান, তাঁকে “প্রতিরোধমূলক আটক” করা হচ্ছে। কর্মকর্তা আরও জানান, সিজেপি সেন্ট্রাল পার্কে বা দিল্লির অন্য কোথাও যেতে পারবে না। দীপকের পাল্টা প্রশ্ন ছিল, তাহলে তিনি কোথায় গিয়ে তেরঙ্গা ওড়াবেন। জবাবে ওই কর্মকর্তা বলেন, পরে সে বিষয়ে জানানো হবে, আপাতত তাঁকে আটক করা হচ্ছে। দীপকে বারবার বলেন, তিনি কোনো আইন ভাঙেননি। তাতে পুলিশ কর্ণপাত করেনি।

পুলিশ ও প্রশাসনের অবস্থান

কনট প্লেস ও আশপাশের এলাকায় ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার (বিএনএসএস) ১৬৩ ধারা জারি ছিল বলে জানান ডিসিপি নেহা যাদব। তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা বিঘ্নিত করে বা নির্দেশনা লঙ্ঘন করে—এমন কোনো সমাবেশে কেউ যেন অংশ না নেন। লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও সতর্ক করেন তিনি। পাশাপাশি পুলিশ জানায়, জাতীয় পতাকা বহন ও জাতীয় সংগীত গাওয়ার জন্য নির্দিষ্ট কিছু ব্যক্তিকে উপযুক্ত স্থানে সমবেত হওয়ার অনুমতি দেওয়ার বিষয়টি তারা বিবেচনা করতে পারে।

নয়াদিল্লি পৌর পরিষদ (এনডিএমসি) প্রশাসনিক কারণে ১৬ ও ১৭ অক্টোবর সেন্ট্রাল পার্ক বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। অননুমোদিত প্রবেশ ঠেকাতে পর্যাপ্ত নিরাপত্তার অনুরোধও তারা পুলিশকে জানিয়েছে। কনট প্লেস ও আশপাশের ব্যবসায়ী এবং বাজার সমিতিগুলোও দোকান ও প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা চেয়ে পুলিশকে চিঠি দিয়েছে। ব্যবসায়ীদের আশঙ্কা, বিপুল জনসমাগম তাঁদের ব্যবসায় প্রভাব ফেলতে পারে।

হিন্দুস্তান টাইমসের প্রতিবেদনে এক পুলিশ কর্মকর্তার বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, ছয় হাজার পুলিশ ও আধাসামরিক সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। প্রতি শিফটে কেন্দ্রীয় সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীর ৩০ কোম্পানি থাকবে এবং দিনে কাজ হবে তিন শিফটে। রাতে ভিড় বাড়লে এই সংখ্যা ৬০ কোম্পানি পর্যন্ত বাড়ানো যেতে পারে। নজরদারির জন্য অডিও ও ভিডিও রেকর্ডিংয়ের সুবিধাসহ ৩০ থেকে ৩৫টি অতিরিক্ত ক্যামেরাও বসানো হয়েছে।

‘আমরা যেখানে খুশি পতাকা ওড়াব’

পুলিশের যুক্তি মানেননি দীপকে। তাঁর প্রশ্ন, “ভারতের পতাকা ওড়াতে কি কোনো অনুমতির প্রয়োজন আছে?” তাঁর দাবি, তেরঙ্গা শুধু দিল্লি পুলিশের নয়, দেশের ১৩০ কোটি মানুষের। এক্স-এ তিনি লেখেন, শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদে ব্যবসার ক্ষতি হয় না। ক্ষতি হয় তখন, যখন সরকার গোটা শহর বন্ধ করে দেয়, ইন্টারনেট পরিষেবা স্থগিত করে এবং নাগরিকদের চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপ করে। তাঁর ভাষায়, “ভোট গণনা শেষ হয়ে গেলেই গণতন্ত্রের অবসান ঘটে না।” সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কাকে “শুধুমাত্র তেরঙ্গা ওড়ানোর জন্য” জেলে পাঠানো হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

রাজনাথ সিংয়ের মন্তব্য

কংগ্রেস ও অন্য বিরোধী দলগুলোকে নিশানা করেছেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং। শুক্রবার লক্ষ্ণৌতে সংবাদ সম্মেলনে তিনি অভিযোগ করেন, যুবশক্তিকে গঠনমূলক কাজে লাগানোর বদলে নৈরাজ্য ও রাজনৈতিক সংঘাতের ‘দাবার ঘুঁটি’ বানানো হচ্ছে। এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশের কথাও তোলেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, কেউ বাংলাদেশের আদলে সরকার পরিবর্তন চান, কেউ প্রকাশ্যে বলেন সেখান থেকে অনুপ্রেরণা নিয়েছেন, আরেকজন সরকার উৎখাতের কথা বলেন। রাজনাথের দাবি, এটা নির্বাচনী সংস্কার, এসআইআর বা জ্ঞানেশ কুমারের প্রশ্নে লড়াই নয়, ক্ষমতা দখলের ষড়যন্ত্র।

কেন এই কর্মসূচি

এর সূত্রপাত যন্তর মন্তরে বিক্ষোভ নিষিদ্ধ করা এবং সিজেপি নেতাদের গ্রেপ্তারের ঘটনায়। ১২ অক্টোবর সিজেপির পক্ষ থেকে বিক্ষোভের দিন ঠিক করে দিতে দিল্লি পুলিশকে ২৪ ঘণ্টার সময় বেঁধে দেওয়া হয়। সেদিনই পুলিশ জানায়, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের একটি কমিটির সুপারিশে যন্তর মন্তরে আর বিক্ষোভ করা যাবে না। বিকল্প হিসেবে রামলীলা ময়দান, বুরারি মাঠ ও পূর্ব দিল্লির সিবিডির কথা বলা হয়। এতে ক্ষোভ আরও বাড়ে।

পরদিন ১৩ অক্টোবর নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে যন্তর মন্তরে ঢুকে স্লোগান দেওয়ার অভিযোগে সৌরভ দাস, আশুতোষ রাঙ্কা ও আজিঙ্কা শিন্ডেকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁদের পাঁচ দিনের বিচার বিভাগীয় হেফাজতে পাঠানো হয়। অভিযোগ ছিল শান্তি ভঙ্গ না করার লিখিত আশ্বাসও (পিস বন্ড) ভাঙা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দাস ও রাঙ্কা এখন তিহার জেলে।

এর আগে শনিবার দিল্লিতে বিক্ষোভের ডাক দিয়েছিল সিজেপি। পুলিশ অনুমতি দেয়নি। সেদিন বিমানে দিল্লিতে নামার পর দীপকে, দাস ও রাঙ্কাকে হেফাজতে নেওয়া হয়। আটক হন ইউটিউবার ধ্রুব রাঠী এবং মমতা ব্যানার্জী, অরবিন্দ কেজরিওয়াল, পিনারাই বিজয়ন ও মানিক সরকারসহ বহু রাজনৈতিক নেতা। ১০ ও ১১ অক্টোবর মিলিয়ে অন্তত তিন হাজার বিক্ষোভকারী আটক হন, তাঁদের মধ্যে একাধিক সাংবাদিকও ছিলেন। সংবাদ সংস্থা পিটিআই অবশ্য সাত হাজারেরও বেশি আটকের কথা জানিয়েছিল। ধরপাকড় ও হেফাজতে মারধরের অভিযোগ তুলেছেন অনেকে, আইনজীবীদের হেনস্তার অভিযোগও উঠেছে।

বৃহস্পতিবার প্রেস ক্লাব অফ ইন্ডিয়ার সংবাদ সম্মেলনে দীপকে, আইসার নেত্রী নেহা বোরা ও অন্যরা প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ দাবি করেন। এসআইআর ঘিরে অনিয়মের অভিযোগ এবং বিক্ষোভে পুলিশের ভূমিকারও সমালোচনা করেন তাঁরা। শুক্রবারের কর্মসূচিতে যোগ দিতে নাগরিক সমাজ ও বিজেপি-বিরোধী দলগুলোকে ডাক দেওয়া হয়েছিল। আম আদমি পার্টিসহ একাধিক দল সেই আহ্বান জানায়।

সূত্র: বিবিসি বাংলা

Share this news as a Photo Card

© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

জনপ্রিয় সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক

মোঃ মাহমুদুন্নবী জ্যোতি

অফিসঃ ২/২ আরকে মিশন রোড , ঢাকা।

ইমেলঃ chalomanbarta@yahoo.com, chalomanbarta@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১০৫৬৮৬৬, ০১৬৮১৯২৪০০০

মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার আবার খুলছে: বিনা খরচে যাবেন ১০ হাজার কর্মী

১৫ অক্টোবর ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
facebook.com/dailycholomanbarta
www.cholomanbarta.com

তেরঙ্গা ওড়ানোর আগেই আটক সিজেপি প্রতিষ্ঠাতা, কনট প্লেসে উত্তেজনা

আপডেট সময় ০৯:১৯:৪৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬

জাতীয় পতাকা হাতে কর্মসূচিতে যোগ দেওয়ার আগেই ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকেকে আটক করেছে দিল্লি পুলিশ। শুক্রবার তিনি যে ভবনে উঠেছিলেন, সেখান থেকে বেরোতেই তাঁকে আটক করা হয়। একই দিনে কনট প্লেসের কাছে মান্ডি হাউস থেকে আটক হন বামপন্থী ছাত্রনেত্রী নেহা বোরা। গত কয়েক দিনে এই দুজন একাধিকবার পুলিশের হাতে আটক হলেন।

পুলিশি পাহারায় থমথমে সকাল, বিকেলে বদলে গেল ছবি

‘লেহরা দো তিরঙ্গা’ বা ‘তেরঙ্গা ওড়াও’ নামের এই কর্মসূচির ডাক দিয়েছিল সিজেপি। সময় ছিল শুক্রবার বিকেল ৫টা, জায়গা কনট প্লেসের সেন্ট্রাল পার্ক। সকাল থেকেই এলাকাজুড়ে ছিল কড়া নিরাপত্তা, তাই সারা সকাল পথঘাট ছিল প্রায় ফাঁকা। বিকেলের দিকে চিত্র বদলাতে শুরু করে। নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে জাতীয় পতাকা হাতে কনট প্লেসে জড়ো হতে থাকেন সিজেপির সমর্থকেরা। দীপকে ও বোরার আটকের প্রতিবাদে তাঁরা বিক্ষোভও করেন। পুলিশ বাধা দিলে কয়েকজনের সঙ্গে বচসা হয়। মুম্বাইতেও একই কর্মসূচির ডাক ছিল, সেখানেও কড়া পুলিশি নজরদারির মধ্যে সমর্থকেরা জাতীয় পতাকা নিয়ে সমবেত হন।

আটকের মুহূর্তে কী হয়েছিল

প্রতিবেদন অনুযায়ী, কর্মসূচির জন্য বেরোনোর মুখেই এক পুলিশ কর্মকর্তা দীপকেকে জানান, তাঁকে “প্রতিরোধমূলক আটক” করা হচ্ছে। কর্মকর্তা আরও জানান, সিজেপি সেন্ট্রাল পার্কে বা দিল্লির অন্য কোথাও যেতে পারবে না। দীপকের পাল্টা প্রশ্ন ছিল, তাহলে তিনি কোথায় গিয়ে তেরঙ্গা ওড়াবেন। জবাবে ওই কর্মকর্তা বলেন, পরে সে বিষয়ে জানানো হবে, আপাতত তাঁকে আটক করা হচ্ছে। দীপকে বারবার বলেন, তিনি কোনো আইন ভাঙেননি। তাতে পুলিশ কর্ণপাত করেনি।

পুলিশ ও প্রশাসনের অবস্থান

কনট প্লেস ও আশপাশের এলাকায় ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার (বিএনএসএস) ১৬৩ ধারা জারি ছিল বলে জানান ডিসিপি নেহা যাদব। তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা বিঘ্নিত করে বা নির্দেশনা লঙ্ঘন করে—এমন কোনো সমাবেশে কেউ যেন অংশ না নেন। লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও সতর্ক করেন তিনি। পাশাপাশি পুলিশ জানায়, জাতীয় পতাকা বহন ও জাতীয় সংগীত গাওয়ার জন্য নির্দিষ্ট কিছু ব্যক্তিকে উপযুক্ত স্থানে সমবেত হওয়ার অনুমতি দেওয়ার বিষয়টি তারা বিবেচনা করতে পারে।

নয়াদিল্লি পৌর পরিষদ (এনডিএমসি) প্রশাসনিক কারণে ১৬ ও ১৭ অক্টোবর সেন্ট্রাল পার্ক বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। অননুমোদিত প্রবেশ ঠেকাতে পর্যাপ্ত নিরাপত্তার অনুরোধও তারা পুলিশকে জানিয়েছে। কনট প্লেস ও আশপাশের ব্যবসায়ী এবং বাজার সমিতিগুলোও দোকান ও প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা চেয়ে পুলিশকে চিঠি দিয়েছে। ব্যবসায়ীদের আশঙ্কা, বিপুল জনসমাগম তাঁদের ব্যবসায় প্রভাব ফেলতে পারে।

হিন্দুস্তান টাইমসের প্রতিবেদনে এক পুলিশ কর্মকর্তার বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, ছয় হাজার পুলিশ ও আধাসামরিক সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। প্রতি শিফটে কেন্দ্রীয় সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীর ৩০ কোম্পানি থাকবে এবং দিনে কাজ হবে তিন শিফটে। রাতে ভিড় বাড়লে এই সংখ্যা ৬০ কোম্পানি পর্যন্ত বাড়ানো যেতে পারে। নজরদারির জন্য অডিও ও ভিডিও রেকর্ডিংয়ের সুবিধাসহ ৩০ থেকে ৩৫টি অতিরিক্ত ক্যামেরাও বসানো হয়েছে।

‘আমরা যেখানে খুশি পতাকা ওড়াব’

পুলিশের যুক্তি মানেননি দীপকে। তাঁর প্রশ্ন, “ভারতের পতাকা ওড়াতে কি কোনো অনুমতির প্রয়োজন আছে?” তাঁর দাবি, তেরঙ্গা শুধু দিল্লি পুলিশের নয়, দেশের ১৩০ কোটি মানুষের। এক্স-এ তিনি লেখেন, শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদে ব্যবসার ক্ষতি হয় না। ক্ষতি হয় তখন, যখন সরকার গোটা শহর বন্ধ করে দেয়, ইন্টারনেট পরিষেবা স্থগিত করে এবং নাগরিকদের চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপ করে। তাঁর ভাষায়, “ভোট গণনা শেষ হয়ে গেলেই গণতন্ত্রের অবসান ঘটে না।” সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কাকে “শুধুমাত্র তেরঙ্গা ওড়ানোর জন্য” জেলে পাঠানো হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

রাজনাথ সিংয়ের মন্তব্য

কংগ্রেস ও অন্য বিরোধী দলগুলোকে নিশানা করেছেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং। শুক্রবার লক্ষ্ণৌতে সংবাদ সম্মেলনে তিনি অভিযোগ করেন, যুবশক্তিকে গঠনমূলক কাজে লাগানোর বদলে নৈরাজ্য ও রাজনৈতিক সংঘাতের ‘দাবার ঘুঁটি’ বানানো হচ্ছে। এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশের কথাও তোলেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, কেউ বাংলাদেশের আদলে সরকার পরিবর্তন চান, কেউ প্রকাশ্যে বলেন সেখান থেকে অনুপ্রেরণা নিয়েছেন, আরেকজন সরকার উৎখাতের কথা বলেন। রাজনাথের দাবি, এটা নির্বাচনী সংস্কার, এসআইআর বা জ্ঞানেশ কুমারের প্রশ্নে লড়াই নয়, ক্ষমতা দখলের ষড়যন্ত্র।

কেন এই কর্মসূচি

এর সূত্রপাত যন্তর মন্তরে বিক্ষোভ নিষিদ্ধ করা এবং সিজেপি নেতাদের গ্রেপ্তারের ঘটনায়। ১২ অক্টোবর সিজেপির পক্ষ থেকে বিক্ষোভের দিন ঠিক করে দিতে দিল্লি পুলিশকে ২৪ ঘণ্টার সময় বেঁধে দেওয়া হয়। সেদিনই পুলিশ জানায়, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের একটি কমিটির সুপারিশে যন্তর মন্তরে আর বিক্ষোভ করা যাবে না। বিকল্প হিসেবে রামলীলা ময়দান, বুরারি মাঠ ও পূর্ব দিল্লির সিবিডির কথা বলা হয়। এতে ক্ষোভ আরও বাড়ে।

পরদিন ১৩ অক্টোবর নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে যন্তর মন্তরে ঢুকে স্লোগান দেওয়ার অভিযোগে সৌরভ দাস, আশুতোষ রাঙ্কা ও আজিঙ্কা শিন্ডেকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁদের পাঁচ দিনের বিচার বিভাগীয় হেফাজতে পাঠানো হয়। অভিযোগ ছিল শান্তি ভঙ্গ না করার লিখিত আশ্বাসও (পিস বন্ড) ভাঙা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দাস ও রাঙ্কা এখন তিহার জেলে।

এর আগে শনিবার দিল্লিতে বিক্ষোভের ডাক দিয়েছিল সিজেপি। পুলিশ অনুমতি দেয়নি। সেদিন বিমানে দিল্লিতে নামার পর দীপকে, দাস ও রাঙ্কাকে হেফাজতে নেওয়া হয়। আটক হন ইউটিউবার ধ্রুব রাঠী এবং মমতা ব্যানার্জী, অরবিন্দ কেজরিওয়াল, পিনারাই বিজয়ন ও মানিক সরকারসহ বহু রাজনৈতিক নেতা। ১০ ও ১১ অক্টোবর মিলিয়ে অন্তত তিন হাজার বিক্ষোভকারী আটক হন, তাঁদের মধ্যে একাধিক সাংবাদিকও ছিলেন। সংবাদ সংস্থা পিটিআই অবশ্য সাত হাজারেরও বেশি আটকের কথা জানিয়েছিল। ধরপাকড় ও হেফাজতে মারধরের অভিযোগ তুলেছেন অনেকে, আইনজীবীদের হেনস্তার অভিযোগও উঠেছে।

বৃহস্পতিবার প্রেস ক্লাব অফ ইন্ডিয়ার সংবাদ সম্মেলনে দীপকে, আইসার নেত্রী নেহা বোরা ও অন্যরা প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ দাবি করেন। এসআইআর ঘিরে অনিয়মের অভিযোগ এবং বিক্ষোভে পুলিশের ভূমিকারও সমালোচনা করেন তাঁরা। শুক্রবারের কর্মসূচিতে যোগ দিতে নাগরিক সমাজ ও বিজেপি-বিরোধী দলগুলোকে ডাক দেওয়া হয়েছিল। আম আদমি পার্টিসহ একাধিক দল সেই আহ্বান জানায়।

সূত্র: বিবিসি বাংলা

Share this news as a Photo Card