ইসরাইলে সংসদ নির্বাচন, যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী নির্বাচন। দুই মিত্র দেশেরই সামনে এখন ভোটের পরীক্ষা। ঠিক এই সময়েই ইরানে নতুন করে তীব্র সামরিক হামলার নির্দিষ্ট পরিকল্পনা তৈরি করেছে ওয়াশিংটন ও তেল আবিব। নির্বাচনের আগে ইরানে নতুন হামলা না চালানোর কথা জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। তবে পরিকল্পনাটি সাজানো হয়েছে মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের পরের সময়কে সামনে রেখে।
কী আছে পরিকল্পনায়
প্রতিবেদন অনুযায়ী, পরিকল্পনাটি একটি স্বল্পমেয়াদি কিন্তু তীব্র সামরিক অভিযানের। এর অংশ হিসেবে দুই দেশের সামরিক বাহিনী সম্প্রতি মহড়া জোরদার করেছে। ইরাকের আকাশসীমা দিয়ে বিমান উড়িয়ে হামলার কৌশলও অনুশীলন করা হচ্ছে।
চলতি সপ্তাহে ইসরাইলে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ। সেখানে সম্ভাব্য হামলা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
লক্ষ্যবস্তুর তালিকায় রয়েছে ইরানের জ্বালানি অবকাঠামো, পারমাণবিক স্থাপনা এবং ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের ভাণ্ডার। কিছু কর্মকর্তার ধারণা, আরেকটি বড় হামলা ইরানের অর্থনীতিকে ধসের মুখে ফেলবে। প্রায় আট মাসের সংঘাতের পর তাতে দেশটি কূটনৈতিক আপসে বাধ্য হবে বলেও তাঁদের বিশ্বাস।
সংশয় ও অনিশ্চয়তা
তবে নতুন এই অভিযান আগের তুলনায় কতটা ফলপ্রসূ হবে, তা নিয়ে বিশ্লেষকদের মধ্যে সংশয় আছে। আরেকটি বড় প্রশ্ন, শেষ পর্যন্ত ট্রাম্প হামলার অনুমোদন দেবেন কি না। চলতি বছরেই বড় সংঘাতের বেশ কয়েকটি পরিকল্পনা তিনি আটকে দিয়েছেন। এমনকি চলতি মাসের শুরুতে পুরোদমে আক্রমণের প্রস্তুতি শেষ হওয়ার পরও শেষ মুহূর্তে অভিযান বাতিল করেন তিনি।
তেহরানের হুঁশিয়ারি
অন্যদিকে তেহরান সতর্ক করেছে, নতুন হামলা হলে তাদের জবাব কেবল বাণিজ্যিক জাহাজ বা জ্বালানি অবকাঠামোতে সীমাবদ্ধ থাকবে না। এবার ডেটা সেন্টার ও সমুদ্রের তলদেশের ইন্টারনেট কেবলও তাদের লক্ষ্য হবে।
ইরানের মধ্যস্থতাকারীদের জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা মাহদি মোহাম্মাদি বলেন, ৭২ ঘণ্টার মধ্যে ওয়াশিংটন অভিযান শেষ করে ফেলবে, এমন ভাবনা কল্পনাপ্রসূত। তাঁর ভাষ্য, এবারের প্রতিরোধ হবে আরও তীব্র, কৌশলগত ও ভিন্নধর্মী।
তেহরানের বিশ্লেষকদের মতে, পিকঅ্যাক্স পাহাড়ে মাটির গভীরের পারমাণবিক স্থাপনায় আঘাত হানা হলে ইরান সৌদি আরবের বড় তেল শোধনাগারে হামলা চালাতে পারে। এতে তেলের দাম বাড়বে, আর তার সরাসরি চাপ পড়বে মার্কিন জনগণের ওপর।
সামনে যা আছে
আগামী নভেম্বরের শুরুর দিকে তিনটি বিমানবাহী রণতরী, হাজার হাজার মেরিন সেনা ও যুদ্ধবিমান নিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন শক্তির সমাবেশ পূর্ণ রূপ নেবে। এর মধ্যেই আসছে ২৭ অক্টোবরের ইসরাইলি নির্বাচন। এই নির্বাচন এবং মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচন পুরো পরিস্থিতিকে রাজনৈতিকভাবে জটিল করে তুলেছে। জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার ঝুঁকি এড়াতে ট্রাম্প ভোটের আগে কোনো পদক্ষেপে যাচ্ছেন না বলেই ইঙ্গিত মিলছে।
হোয়াইট হাউস অবশ্য স্পষ্ট করেছে, ইরান যাতে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে না পারে, সেজন্য সব বিকল্পই এখনো খোলা রাখা হয়েছে।
আন্তর্জাতিক ডেস্ক : 



















