শিরোনাম :
আগামী গ্রীষ্মের আগেই সৌরবিদ্যুৎ থেকে ৫ হাজার মেগাওয়াট উৎপাদনের লক্ষ্য: বিদ্যুৎমন্ত্রী ষড়যন্ত্রকারীদের ২০২৪ সালের মতোই জনগণ উচিত জবাব দেবে : প্রধানমন্ত্রী এআই যেন বেকারত্ব আরও জটিল না করে, সতর্ক করলেন রাষ্ট্রপতি মধ্যবর্তী নির্বাচনে কংগ্রেস হারিয়ে ইরান যুদ্ধের দায় আংশিক মানলেন ট্রাম্প মোংলায় নতুন শিল্পকারখানা গড়ার ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর ‘ফিউচার মেকার্স’ জিতে নিল ব্রিটিশ-বাংলাদেশি কিশোর নাভহান মারধরের মামলায় পরোয়ানার পর আদালতে আত্মসমর্পণ, পরীমনির জামিন মঞ্জুর শিল্পমালিক ও সাবেক মন্ত্রীরা পোশাক শ্রমিকদের আন্দোলনে অর্থায়ন শিল্পাঞ্চলের নিরাপত্তায় ঢাকা ও আশপাশে মোতায়েন ৩৩ প্লাটুন বিজিবি মাল্টা পাইকারিতে ১৮৫, খুচরায় ৩৯০ টাকা: দামে এত ফারাক কেন

নওগাঁর আমবাণিজ্যে লাভ, হারিয়ে যাচ্ছে নারীর কর্মসংস্থান

নওগাঁ একসময় ধান উৎপাদনের জন্য দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জেলা হিসেবে পরিচিত ছিল। কাটারিভোগ, কালিজিরার মতো উন্নতমানের ধান এবং শত শত চালকলকে ঘিরে গড়ে উঠেছিল শক্তিশালী কৃষিনির্ভর অর্থনীতি। কিন্তু গত এক দশকে সেই চিত্র দ্রুত বদলে গেছে। জেলার সাপাহার ও পোরশাসহ বিস্তীর্ণ এলাকায় ধানের জমি রূপ নিয়েছে আমবাগানে। মৌসুমি এই অর্থকরী ফসল স্থানীয় অর্থনীতিতে নতুন গতি আনলেও এর দীর্ঘমেয়াদি সামাজিক ও অর্থনৈতিক প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, বড় জমির মালিক ও বিনিয়োগকারীরাই মূলত আম চাষে এগিয়ে এসেছেন। অনেক কৃষক দীর্ঘমেয়াদে জমি লিজ দিচ্ছেন, আবার কেউ নিজের জমিকেই আমবাগানে রূপান্তর করছেন। ফলে ধান চাষের জন্য প্রয়োজনীয় জমি ও অবকাঠামো সংকুচিত হয়ে পড়ছে। ছোট কৃষকেরা চারপাশে আমবাগান গড়ে ওঠায় আগের মতো ধান উৎপাদন চালিয়ে যেতে পারছেন না।
এই পরিবর্তনের সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়েছে নারী শ্রমিকদের ওপর। আগে ধান রোপণ, কাটা, মাড়াই ও চালকলে কাজ করে বছরের বড় সময় আয় করার সুযোগ ছিল তাঁদের। বিশেষ করে সমতলের আদিবাসী নারীরা কৃষিশ্রমের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত ছিলেন। কিন্তু আম চাষে নারীর কর্মসংস্থানের সুযোগ তুলনামূলক কম। ফলে অনেকেই নিয়মিত আয়ের পথ হারিয়ে অর্থনৈতিকভাবে আরও অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছেন।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, কিছু এলাকায় ঘন আমবাগান নারীদের জন্য নিরাপত্তা-ঝুঁকিও তৈরি করেছে। নির্জন পরিবেশে যৌন হয়রানি ও সহিংসতার অভিযোগ সামনে আসায় অনেক নারী সেখানে কাজ করতে অনাগ্রহী। পরিবার থেকেও তাঁদের নিরুৎসাহিত করা হয়। একই ধরনের কাজ করেও অনেক ক্ষেত্রে নারী শ্রমিকেরা পুরুষদের তুলনায় কম মজুরি পান বলেও অভিযোগ রয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, কোনো অঞ্চলে একটি মাত্র অর্থকরী ফসলের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা কৃষির বৈচিত্র্য কমিয়ে দেয়। ধানের মতো খাদ্যশস্যের উৎপাদন কমে গেলে স্থানীয় খাদ্যনিরাপত্তাও বাজারনির্ভর হয়ে পড়ে। একই সঙ্গে দীর্ঘদিন এক ধরনের চাষাবাদ চলতে থাকলে মাটির উর্বরতা কমে যাওয়া, কীটনাশকের ব্যবহার বৃদ্ধি এবং পরিবেশগত ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ে।
ইতিহাসেও একক ফসলের ওপর অতিনির্ভরতার নেতিবাচক উদাহরণ রয়েছে। তাই গবেষকদের মতে, আমের বাণিজ্য অবশ্যই অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ; তবে সেই উন্নয়ন যেন কৃষির বৈচিত্র্য, খাদ্যনিরাপত্তা, নারী কর্মসংস্থান ও সামাজিক নিরাপত্তাকে ক্ষতিগ্রস্ত না করে, সে দিকেও সমান গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। দীর্ঘমেয়াদে টেকসই কৃষিনীতি এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নই হতে পারে এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার কার্যকর

Share this news as a Photo Card

© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

জনপ্রিয় সংবাদ

কুড়িগ্রামে জেলা শিল্পী কল্যাণ সোসাইটির যাত্রা শুরু

সম্পাদক ও প্রকাশক

মোঃ মাহমুদুন্নবী জ্যোতি

অফিসঃ ২/২ আরকে মিশন রোড , ঢাকা।

ইমেলঃ chalomanbarta@yahoo.com, chalomanbarta@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১০৫৬৮৬৬, ০১৬৮১৯২৪০০০

মাল্টা পাইকারিতে ১৮৫, খুচরায় ৩৯০ টাকা: দামে এত ফারাক কেন

০৫ নভেম্বর ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
facebook.com/dailycholomanbarta
www.cholomanbarta.com

নওগাঁর আমবাণিজ্যে লাভ, হারিয়ে যাচ্ছে নারীর কর্মসংস্থান

আপডেট সময় ১২:৩৬:৪০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬

নওগাঁ একসময় ধান উৎপাদনের জন্য দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জেলা হিসেবে পরিচিত ছিল। কাটারিভোগ, কালিজিরার মতো উন্নতমানের ধান এবং শত শত চালকলকে ঘিরে গড়ে উঠেছিল শক্তিশালী কৃষিনির্ভর অর্থনীতি। কিন্তু গত এক দশকে সেই চিত্র দ্রুত বদলে গেছে। জেলার সাপাহার ও পোরশাসহ বিস্তীর্ণ এলাকায় ধানের জমি রূপ নিয়েছে আমবাগানে। মৌসুমি এই অর্থকরী ফসল স্থানীয় অর্থনীতিতে নতুন গতি আনলেও এর দীর্ঘমেয়াদি সামাজিক ও অর্থনৈতিক প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, বড় জমির মালিক ও বিনিয়োগকারীরাই মূলত আম চাষে এগিয়ে এসেছেন। অনেক কৃষক দীর্ঘমেয়াদে জমি লিজ দিচ্ছেন, আবার কেউ নিজের জমিকেই আমবাগানে রূপান্তর করছেন। ফলে ধান চাষের জন্য প্রয়োজনীয় জমি ও অবকাঠামো সংকুচিত হয়ে পড়ছে। ছোট কৃষকেরা চারপাশে আমবাগান গড়ে ওঠায় আগের মতো ধান উৎপাদন চালিয়ে যেতে পারছেন না।
এই পরিবর্তনের সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়েছে নারী শ্রমিকদের ওপর। আগে ধান রোপণ, কাটা, মাড়াই ও চালকলে কাজ করে বছরের বড় সময় আয় করার সুযোগ ছিল তাঁদের। বিশেষ করে সমতলের আদিবাসী নারীরা কৃষিশ্রমের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত ছিলেন। কিন্তু আম চাষে নারীর কর্মসংস্থানের সুযোগ তুলনামূলক কম। ফলে অনেকেই নিয়মিত আয়ের পথ হারিয়ে অর্থনৈতিকভাবে আরও অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছেন।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, কিছু এলাকায় ঘন আমবাগান নারীদের জন্য নিরাপত্তা-ঝুঁকিও তৈরি করেছে। নির্জন পরিবেশে যৌন হয়রানি ও সহিংসতার অভিযোগ সামনে আসায় অনেক নারী সেখানে কাজ করতে অনাগ্রহী। পরিবার থেকেও তাঁদের নিরুৎসাহিত করা হয়। একই ধরনের কাজ করেও অনেক ক্ষেত্রে নারী শ্রমিকেরা পুরুষদের তুলনায় কম মজুরি পান বলেও অভিযোগ রয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, কোনো অঞ্চলে একটি মাত্র অর্থকরী ফসলের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা কৃষির বৈচিত্র্য কমিয়ে দেয়। ধানের মতো খাদ্যশস্যের উৎপাদন কমে গেলে স্থানীয় খাদ্যনিরাপত্তাও বাজারনির্ভর হয়ে পড়ে। একই সঙ্গে দীর্ঘদিন এক ধরনের চাষাবাদ চলতে থাকলে মাটির উর্বরতা কমে যাওয়া, কীটনাশকের ব্যবহার বৃদ্ধি এবং পরিবেশগত ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ে।
ইতিহাসেও একক ফসলের ওপর অতিনির্ভরতার নেতিবাচক উদাহরণ রয়েছে। তাই গবেষকদের মতে, আমের বাণিজ্য অবশ্যই অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ; তবে সেই উন্নয়ন যেন কৃষির বৈচিত্র্য, খাদ্যনিরাপত্তা, নারী কর্মসংস্থান ও সামাজিক নিরাপত্তাকে ক্ষতিগ্রস্ত না করে, সে দিকেও সমান গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। দীর্ঘমেয়াদে টেকসই কৃষিনীতি এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নই হতে পারে এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার কার্যকর

Share this news as a Photo Card