এআই মানবজাতিকে ধ্বংস করতে পারে,

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) মানবজাতির জন্য অস্তিত্বগত হুমকি তৈরি করছে বলে সতর্ক করেছেন এআই ঝুঁকি নিয়ে কাজ করা একটি প্রতিষ্ঠানের এক শীর্ষ নিরাপত্তা গবেষক। তার দাবি, আগামী দশ বছরের মধ্যে এআই দিয়ে মানবজাতি ধ্বংস হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা ১০ শতাংশের বেশি।

সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ওই গবেষক বলেন, বর্তমান এআই মডেলগুলোর ঝুঁকি তুলনামূলক কম হলেও প্রযুক্তিটি দ্রুত এমন পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে, যা মানবজাতির অস্তিত্বের জন্য বিপজ্জনক হয়ে উঠবে। তবে এআই ঠিক কীভাবে মানবজাতিকে বিপদে ফেলতে পারে, তার বিস্তারিত ব্যাখ্যা তিনি দেননি।

তার এই মন্তব্য এসেছে আরেকটি সংস্থার সাবেক এক গবেষকের পোস্টের জবাবে, যিনি দাবি করেছিলেন, কোনো প্রতিষ্ঠানই দায়িত্বশীল আচরণ করছে না এবং শিগগিরই এমন এআই সিস্টেম তৈরি হবে, যা যেকোনো কিছু হ্যাক করতে ও দ্রুত ব্যাপক পরিবর্তন আনতে সক্ষম হবে।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বিষয়ে জাতিসংঘকে পরামর্শ দেওয়া এক কম্পিউটার বিজ্ঞানী এসব মন্তব্যকে “হতবাক করার মতো” বলে বর্ণনা করেছেন। তার মতে, এসব বক্তব্যের একাংশ বিপণন কৌশলের অংশও হতে পারে, কারণ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো শেয়ারবাজারে নিবন্ধনের প্রস্তুতি নিচ্ছিল। একই সঙ্গে তিনি বলেন, বিনিয়োগকারীদের উচিত এমন উদ্বেগজনক তথ্য সামনে এলে বিষয়টি গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করা।

এই বিতর্কের প্রেক্ষাপটে যুক্তরাজ্য সরকারের সাবেক এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে খোলা চিঠি লিখে নিরাপদ এআই উন্নয়নের জন্য নতুন আন্তর্জাতিক চুক্তির আহ্বান জানিয়েছেন। তার মতে, সরকারগুলোকে একযোগে এগিয়ে এসে সুপার ইন্টেলিজেন্স নিয়ন্ত্রণে কাঠামো তৈরি করতে হবে, নইলে সমস্যা বোঝার আগেই তা সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে পড়বে।
এছাড়া প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানটি যুক্তরাজ্যের একটি এআই নিরাপত্তা পর্যালোচনা সংস্থার কাছে তাদের সাম্প্রতিক একটি মডেল প্রকাশ করেনি। এ বিষয়ে প্রতিষ্ঠানটি সরাসরি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি। যুক্তরাজ্য সরকারের একজন মুখপাত্র বিষয়টি সরাসরি নিশ্চিত বা অস্বীকার না করে জানান, মডেল আরও নিরাপদ করতে শিল্প খাতের অংশীদারদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ চলছে।

গবেষক আরও বলেন, প্রতিষ্ঠানটি সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে বলে তিনি বিশ্বাস করেন, তবে সুপার ইন্টেলিজেন্সকে মানুষের মূল্যবোধের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ (অ্যালাইনমেন্ট) করার নির্ভরযোগ্য কোনো পরিকল্পনা এখনো তৈরি হয়নি। বিশেষজ্ঞদের একাংশ বলছেন, এ ধরনের প্রচেষ্টা কার্যকর না হওয়ার প্রমাণ মিলেছে সাম্প্রতিক কিছু ঘটনায়, যেখানে স্বাধীনভাবে কাজ করতে সক্ষম এআই এজেন্ট ব্যবহার করে সাইবার হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে একাধিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান জানিয়েছে।
উল্লেখ্য, ঝুঁকির সুনির্দিষ্ট শতাংশ ও পোস্টের ভিউ সংখ্যার মতো তথ্য মূল সূত্রের দাবি হিসেবে উপস্থাপিত; এগুলো স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রয়োজন। সুত্র : বিবিসি বাংলা

Share this news as a Photo Card

© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

জনপ্রিয় সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক

মোঃ মাহমুদুন্নবী জ্যোতি

অফিসঃ ২/২ আরকে মিশন রোড , ঢাকা।

ইমেলঃ chalomanbarta@yahoo.com, chalomanbarta@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১০৫৬৮৬৬, ০১৬৮১৯২৪০০০

ভারতে ব্রিকস সম্মেলনে যাচ্ছে না বাংলাদেশ

১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
facebook.com/dailycholomanbarta
www.cholomanbarta.com

এআই মানবজাতিকে ধ্বংস করতে পারে,

আপডেট সময় ১১:০৮:১০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) মানবজাতির জন্য অস্তিত্বগত হুমকি তৈরি করছে বলে সতর্ক করেছেন এআই ঝুঁকি নিয়ে কাজ করা একটি প্রতিষ্ঠানের এক শীর্ষ নিরাপত্তা গবেষক। তার দাবি, আগামী দশ বছরের মধ্যে এআই দিয়ে মানবজাতি ধ্বংস হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা ১০ শতাংশের বেশি।

সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ওই গবেষক বলেন, বর্তমান এআই মডেলগুলোর ঝুঁকি তুলনামূলক কম হলেও প্রযুক্তিটি দ্রুত এমন পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে, যা মানবজাতির অস্তিত্বের জন্য বিপজ্জনক হয়ে উঠবে। তবে এআই ঠিক কীভাবে মানবজাতিকে বিপদে ফেলতে পারে, তার বিস্তারিত ব্যাখ্যা তিনি দেননি।

তার এই মন্তব্য এসেছে আরেকটি সংস্থার সাবেক এক গবেষকের পোস্টের জবাবে, যিনি দাবি করেছিলেন, কোনো প্রতিষ্ঠানই দায়িত্বশীল আচরণ করছে না এবং শিগগিরই এমন এআই সিস্টেম তৈরি হবে, যা যেকোনো কিছু হ্যাক করতে ও দ্রুত ব্যাপক পরিবর্তন আনতে সক্ষম হবে।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বিষয়ে জাতিসংঘকে পরামর্শ দেওয়া এক কম্পিউটার বিজ্ঞানী এসব মন্তব্যকে “হতবাক করার মতো” বলে বর্ণনা করেছেন। তার মতে, এসব বক্তব্যের একাংশ বিপণন কৌশলের অংশও হতে পারে, কারণ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো শেয়ারবাজারে নিবন্ধনের প্রস্তুতি নিচ্ছিল। একই সঙ্গে তিনি বলেন, বিনিয়োগকারীদের উচিত এমন উদ্বেগজনক তথ্য সামনে এলে বিষয়টি গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করা।

এই বিতর্কের প্রেক্ষাপটে যুক্তরাজ্য সরকারের সাবেক এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে খোলা চিঠি লিখে নিরাপদ এআই উন্নয়নের জন্য নতুন আন্তর্জাতিক চুক্তির আহ্বান জানিয়েছেন। তার মতে, সরকারগুলোকে একযোগে এগিয়ে এসে সুপার ইন্টেলিজেন্স নিয়ন্ত্রণে কাঠামো তৈরি করতে হবে, নইলে সমস্যা বোঝার আগেই তা সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে পড়বে।
এছাড়া প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানটি যুক্তরাজ্যের একটি এআই নিরাপত্তা পর্যালোচনা সংস্থার কাছে তাদের সাম্প্রতিক একটি মডেল প্রকাশ করেনি। এ বিষয়ে প্রতিষ্ঠানটি সরাসরি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি। যুক্তরাজ্য সরকারের একজন মুখপাত্র বিষয়টি সরাসরি নিশ্চিত বা অস্বীকার না করে জানান, মডেল আরও নিরাপদ করতে শিল্প খাতের অংশীদারদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ চলছে।

গবেষক আরও বলেন, প্রতিষ্ঠানটি সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে বলে তিনি বিশ্বাস করেন, তবে সুপার ইন্টেলিজেন্সকে মানুষের মূল্যবোধের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ (অ্যালাইনমেন্ট) করার নির্ভরযোগ্য কোনো পরিকল্পনা এখনো তৈরি হয়নি। বিশেষজ্ঞদের একাংশ বলছেন, এ ধরনের প্রচেষ্টা কার্যকর না হওয়ার প্রমাণ মিলেছে সাম্প্রতিক কিছু ঘটনায়, যেখানে স্বাধীনভাবে কাজ করতে সক্ষম এআই এজেন্ট ব্যবহার করে সাইবার হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে একাধিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান জানিয়েছে।
উল্লেখ্য, ঝুঁকির সুনির্দিষ্ট শতাংশ ও পোস্টের ভিউ সংখ্যার মতো তথ্য মূল সূত্রের দাবি হিসেবে উপস্থাপিত; এগুলো স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রয়োজন। সুত্র : বিবিসি বাংলা

Share this news as a Photo Card