একসময় যাঁরা ব্যাট-বলের লড়াইয়ে মাঠ মাতাতেন, তাঁদের অনেকেই এখন খেলা পরিচালনার নেপথ্যে। বিশ্বজুড়ে টি-টুয়েন্টি ও ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটের সম্প্রসারণের সঙ্গে সঙ্গে সাবেক তারকাদের সামনে খুলে গেছে দল মালিকানার নতুন দুয়ার। ইউরোপ থেকে ভারত, শ্রীলঙ্কা থেকে কানাডা—ক্রিকেটের বিস্তৃত বাজারে একের পর এক পরিচিত মুখ এখন দেখা যাচ্ছে মালিকের ভূমিকায়।
এই প্রবণতার সবচেয়ে বড় উদাহরণ মিলছে ইউরোপে, নতুন গঠিত ইউরোপিয়ান টি-টুয়েন্টি প্রিমিয়ার লিগ বা ইটিপিএলে। ভারতের সাবেক অধিনায়ক রাহুল দ্রাবিড় যুক্ত আছেন ডাবলিন গার্ডিয়ানসের মালিকানায়। দক্ষিণ আফ্রিকার তিন সাবেক তারকা জন্টি রোডস, ফাফ ডু প্লেসি ও হাইনরিখ ক্লাসেন মিলে গড়ে তুলেছেন রটারডাম ডকারস দল, যেখানে ডু প্লেসি একই সঙ্গে মালিক ও অধিনায়ক। একই রকম দ্বৈত ভূমিকায় আছেন অস্ট্রেলিয়ার গ্লেন ম্যাক্সওয়েলও—বেলফাস্ট উলভসের সহমালিক হওয়ার পাশাপাশি তিনি দলটির অধিনায়কত্বও করছেন। আরেক অস্ট্রেলিয়ান, ম্যাথু হেইডেনের ভূমিকা আরও বিস্তৃত। গ্লাসগো কসমিকের মালিকানার পাশাপাশি তিনি দলটির প্রধান কোচের দায়িত্বও পালন করছেন। এ ছাড়া নিউজিল্যান্ডের সাবেক ক্রিকেটার কাইল মিলস ও নাথান ম্যাককালাম এডিনবরা ক্যাসল রকারসের মালিক, আর অস্ট্রেলিয়ার সাবেক অধিনায়ক স্টিভ ওয়াহর মালিকানায় আছে আমস্টারডাম ফ্লেমস।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, বিপিএল, আইপিএল, পিএসএল বা সিপিএলের মতো লিগগুলো একক কোনো ক্রিকেট বোর্ডের অধীনে পরিচালিত হলেও ইটিপিএল পরিচালিত হচ্ছে স্কটল্যান্ড, আয়ারল্যান্ড ও নেদারল্যান্ডসের তিনটি ক্রিকেট বোর্ডের যৌথ তত্ত্বাবধানে। লিগের প্রধান বিনিয়োগকারী একদল ভারতীয় ব্যবসায়ী, যাঁদের সামনের সারিতে আছেন বলিউড অভিনেতা অভিষেক বচ্চন। প্রথম মৌসুমে ইউরোপের ছয়টি শহরভিত্তিক ফ্র্যাঞ্চাইজি নিয়ে শুরু হয়েছে এই লিগ।
তবে সাবেক ক্রিকেটারদের এই যাত্রা কেবল ইউরোপেই সীমাবদ্ধ নেই। ভারতেও এখন ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটের সঙ্গে সাবেক তারকাদের সম্পর্ক আর কেবল ডাগআউট বা ধারাভাষ্যকক্ষে আটকে নেই। সাবেক ওপেনার শিখর ধাওয়ান যুক্ত হয়েছেন দিল্লি প্রিমিয়ার লিগের সাউথ দিল্লি সুপারস্টারসের মালিকানায়, আর সাবেক পেসার এস শ্রীশান্ত কেরালা ক্রিকেট লিগে অ্যারিস কোলাম সেইলরসের সহমালিক। একই লিগে ক্যারিবীয় কিংবদন্তি ক্রিস গেইল কোচি ব্লু টাইগার্সের সহমালিক ও মেন্টরের দায়িত্বে আছেন।
সবচেয়ে বিস্তৃত পরিসরে দেখা যাচ্ছে জহির খানকে। ভারতের এই সাবেক পেসার আগে থেকেই ব্যবসায় যুক্ত ছিলেন, এবার তিনি দুটি ফ্র্যাঞ্চাইজির মালিকানায় নাম লিখিয়েছেন। স্টকহোমভিত্তিক প্রতিষ্ঠান অ্যাংকর স্পোর্টস এবির সঙ্গে তিনি যুক্ত হয়েছেন শ্রীলঙ্কার লঙ্কা প্রিমিয়ার লিগের জাফনা কিংসের মালিকানা গ্রুপে। একই প্রতিষ্ঠান আবার কানাডার সুপার৬০ লিগের দল ভ্যাঙ্কুভার অ্যাংকরসেরও মালিক। একটি ভারতীয় বার্তা সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ভ্যাঙ্কুভার অ্যাংকরসের মালিকানায় জহিরের সঙ্গে আছেন ভারতের সাবেক অলরাউন্ডার যুবরাজ সিংও।
একসময় ক্রিকেট ক্যারিয়ার শেষে খেলোয়াড়দের সামনে সাধারণত কোচিং, ধারাভাষ্য বা প্রশাসনের পথ খোলা থাকত। কিন্তু ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটের নতুন বিশ্বে সেই তালিকায় যুক্ত হয়েছে আরেকটি অধ্যায়—দল মালিকানা। মাঠের পরিচিত মুখগুলোই এখন গড়ে তুলছেন খেলাটির ব্যবসায়িক কাঠামো।
ক্রীড়া প্রতিবেদক 



















