কর্মব্যস্ত জীবনে চটজলদি নাশতা কিংবা শিশুদের বায়না মেটাতে ইনস্ট্যান্ট নুডলসের জুড়ি নেই। তবে ঝটপট তৈরির এই খাবারটি যে সবসময় নিরাপদ, তা বলা চলে না। সম্প্রতি মেয়াদউত্তীর্ণ ও অনিরাপদ ইনস্ট্যান্ট নুডলস খেয়ে শিশুদের গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ার একাধিক ঘটনা সামনে এসেছে। ফলে প্রক্রিয়াজাত এই জনপ্রিয় খাবারটি কেনাকাটা ও ব্যবহারের ক্ষেত্রে বাড়তি সতর্কতার কথা বলছেন বিশেষজ্ঞরা।
মেয়াদ ও প্যাকেজিং পরীক্ষা
নুডলস কেনার সময় সবচেয়ে আগে প্যাকেটে উল্লেখিত উৎপাদনের তারিখ এবং মেয়াদের শেষ তারিখ (Exp. Date) ভালোভাবে দেখে নিন। বাজার থেকে প্যাকেট কেনার আগে খেয়াল রাখুন সেটি কোথাও ছেঁড়া বা ছিদ্রযুক্ত কি না। প্যাকেটে সামান্য বাতাস ঢুকলে বা আর্দ্রতা পেলে ভেতরের খাবারে দ্রুত ব্যাকটেরিয়া জন্মাতে পারে। এ ছাড়া প্যাকেট খোলার পর কোনো দুর্গন্ধ বা মশলার স্বাভাবিক রঙে পরিবর্তন দেখলে তা রান্না না করাই ভালো।
কেন বাড়ছে স্বাস্থ্যঝুঁকি?
ইনস্ট্যান্ট নুডলস দীর্ঘদিন ভালো রাখা এবং এর স্বাদ বাড়াতে পাম তেল বা বিশেষ ভেজিটেবল অয়েল ব্যবহার করা হয়। নির্দিষ্ট মেয়াদ পার হয়ে গেলে কিংবা বাতাস ঢুকলে এই তেল রাসায়নিক বিক্রিয়া করে ‘র্যানসিড’ বা দুর্গন্ধযুক্ত ক্ষতিকর উপাদানে পরিণত হয়। এ ধরনের খাবার খেলে পরিপাকনালিতে তীব্র প্রদাহ তৈরি হয়, যার ফলে পেট ব্যথা, বমি, ডায়রিয়া কিংবা ফুড পয়জনিং হতে পারে।
এ ছাড়া নুডলসের মশলার প্যাকেটে আর্দ্রতা ঢুকলে সেখানে সালমোনেলা বা ই-কোলাইয়ের মতো ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে, যা শিশুদের জন্য অত্যন্ত মারাত্মক।
বাংলাদেশি বিশেষজ্ঞদের মতামত ও আইনি পরামর্শ
বাংলাদেশের জনস্বাস্থ্যবিদ ও পুষ্টিবিদদের মতে, ইনস্ট্যান্ট নুডলসে অতিরিক্ত সোডিয়াম, প্রিজারভেটিভ এবং ফ্যাট থাকে। নিয়মিত এটি খেলে শিশুদের পুষ্টিহীনতা ও স্থূলতার ঝুঁকি বাড়ে। তাই মাঝেমধ্যে খাওয়া চললেও এটি কখনোই দৈনন্দিন খাদ্যাভ্যাসের অংশ হওয়া উচিত নয়।
বাংলাদেশ জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের (DNCRP) কর্মকর্তারা জানান, মেয়াাদউত্তীর্ণ বা ভেজাল খাবার বিক্রি করা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। বাজারে মেয়াদউত্তীর্ণ পণ্য বিক্রি হতে দেখলে বা কিনে ক্ষতিগ্রস্ত হলে যেকোনো ভোক্তা ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ দপ্তরে লিখিত অভিযোগ জানাতে পারেন। প্রমাণিত হলে বিক্রেতার জরিমানা ও শাস্তির বিধান রয়েছে।
চলমান বার্তা ডেস্ক : 


























