ইউরোপের গবেষকদের নতুন এক গবেষণায় হৃদ্স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে। গবেষণায় দেখা গেছে, হার্ট অ্যাটাকে আক্রান্ত বা দীর্ঘদিন হৃদ্রোগে ভোগা অনেক রোগীর রক্ত এবং ধমনীতে মাইক্রোপ্লাস্টিক ও ন্যানোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি মিলেছে। গবেষকদের দাবি, এসব অতিক্ষুদ্র প্লাস্টিক কণা ধমনীর ভেতরে জমে প্রদাহ সৃষ্টি করতে পারে, যা সময়ের সঙ্গে রক্তপ্রবাহে বাধা তৈরি করে হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
গবেষণাটি প্রকাশিত হয়েছে ইউরোপিয়ান হার্ট জার্নাল এবং দ্য নিউ ইংল্যান্ড জার্নাল অব মেডিসিন–এ। ইতালির স্যাপিয়েঞ্জা বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকেরা হৃদ্রোগীদের ওপর পরিচালিত সমীক্ষায় দেখতে পান, অংশগ্রহণকারীদের বড় একটি অংশের রক্ত ও ধমনীতে প্লাস্টিকের সূক্ষ্ম কণা রয়েছে। বিশেষ করে ধমনীতে জমে থাকা চর্বির স্তর বা প্লাকের ভেতরেও এসব কণার উপস্থিতি শনাক্ত করা হয়েছে।
মাইক্রোপ্লাস্টিক বলতে সাধারণত ৫ মিলিমিটার বা তার চেয়ে ছোট প্লাস্টিক কণাকে বোঝায়। ন্যানোপ্লাস্টিক আরও ক্ষুদ্র হওয়ায় খালি চোখে দেখা যায় না। বিজ্ঞানীদের মতে, বাতাস, খাদ্য, পানীয় এবং দৈনন্দিন ব্যবহারের নানা প্লাস্টিকজাত পণ্য থেকে এসব কণা মানুষের শরীরে প্রবেশ করতে পারে। প্লাস্টিকের বোতল, খাবারের প্যাকেট, প্লাস্টিকের পাত্র কিংবা একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক সামগ্রী এ ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখতে পারে। ধূমপায়ীদের ক্ষেত্রে সিগারেটের ফিল্টার থেকেও ন্যানোপ্লাস্টিক শরীরে প্রবেশের আশঙ্কার কথা উল্লেখ করেছেন গবেষকেরা।
বিশেষজ্ঞদের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, শ্বাস-প্রশ্বাস বা খাদ্যের মাধ্যমে শরীরে প্রবেশ করা প্লাস্টিক কণা রক্তপ্রবাহে ছড়িয়ে পড়ে এবং ধমনীর ভেতরে জমে থাকা প্লাকের সঙ্গে মিশে যেতে পারে। এতে দীর্ঘমেয়াদি প্রদাহ তৈরি হলে ধমনী সংকুচিত হওয়ার, রক্ত জমাট বাঁধার এবং হৃদ্রোগের ঝুঁকি বাড়তে পারে।
বাংলাদেশেও প্লাস্টিক দূষণ ক্রমেই জনস্বাস্থ্যের গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে উঠছে। পরিবেশবিদরা বলছেন, একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিকের ব্যবহার কমানো, নিরাপদ খাদ্য সংরক্ষণ পদ্ধতি অনুসরণ করা এবং প্লাস্টিক বর্জ্য যথাযথভাবে ব্যবস্থাপনা করা জরুরি। যদিও গবেষণাটি প্লাস্টিক কণা ও হৃদ্রোগের মধ্যে একটি সম্পর্কের ইঙ্গিত দিয়েছে, তবে প্লাস্টিকই সরাসরি হৃদ্রোগের কারণ—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে আরও বিস্তৃত গবেষণার প্রয়োজন বলে বিজ্ঞানীরা উল্লেখ করেছেন। এ কারণে নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা, ধূমপান পরিহার, সুষম খাদ্যাভ্যাস ও স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের পাশাপাশি প্লাস্টিকের অপ্রয়োজনীয় ব্যবহার কমানোর পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।
চলমান বার্তা ডেস্ক : 


























