শিরোনাম :
নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনে অ্যান্টিবায়োটিকের অপব্যবহার বন্ধের আহ্বান প্রতিমন্ত্রীর ধর্মকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার নয়:আইনমন্ত্রী মাত্র ২৫ কোটি বাজেটে ৩১২ কোটির রেকর্ড আয়! ভারতে পলাতকরা যাতে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করতে না পারে: হাইকমিশনারকে মাহদী বিপিএল দুর্নীতি: আরও দুই কর্মকর্তাকে সাময়িক নিষেধাজ্ঞা আসিফ মাহমুদের অর্থপাচার ও দুর্নীতি, দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা চাইছে দুদক ৯৯তম অস্কারে বাংলাদেশ থেকে মনোনয়নের দৌড়ে পাঁচটি চলচ্চিত্র টিসিবিতে এআই মনিটরিং, ডিলার নিয়োগও হবে অনলাইন লটারীতে ক্যান্টনমেন্ট থানার ওসি রাকিবুল প্রত্যাহার ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন নিয়ে ধোঁয়াশা

ইরান যুদ্ধ স্থায়ীত্ব নিয়ে যা বললেন ট্রাম্প

ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ কতদিন স্থায়ী হবে- এমন প্রশ্নের জবাবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে নিজেকে সীমাবদ্ধ রাখতে চান না। স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি বলেন, আমাকে তাড়াহুড়ো করতে বলবেন না। খবর সিএনএনের।

যুদ্ধের সময়সীমা নিয়ে চাপে আছেন কি না- এমন প্রশ্নে ট্রাম্প বলেন, আমরা ভিয়েতনামে ১৮ বছর ছিলাম, ইরাকে ছিলাম বহু বছর। আমি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের কথা বলতে চাই না কারণ সেটি অনেক বড় ছিল, সেখানেও আমরা প্রায় পাঁচ বছর ছিলাম। শুরুতে ট্রাম্প এই যুদ্ধ ৪ থেকে ৬ সপ্তাহের মধ্যে শেষ করার আভাস দিলেও এখন তিনি দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার ইঙ্গিত দিচ্ছেন।

ট্রাম্পের দাবি অনুযায়ী, ইরান বর্তমানে অভ্যন্তরীণ বিশৃঙ্খলার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। তিনি বলেন, তারা একটি চুক্তি করতে চায়। আমরা তাদের সঙ্গে কথা বলছি, কিন্তু তারা নিজেরাও জানে না এই মুহূর্তে দেশ কে চালাচ্ছে। তারা চরম অস্থিরতার মধ্যে আছে। তাই আমরা তাদের কিছুটা সময় দিচ্ছি যাতে তারা এই বিশৃঙ্খলা সামলে নিতে পারে।

যুদ্ধবিরতি চললেও নৌ-অবরোধ বা ব্লকেড নিয়ে নিজের অনড় অবস্থানের কথা পুনরায় জানান ট্রাম্প। তিনি বলেন, আমি কোনো সময়ের চাপে নেই। আপনারা জানেন সময়ের চাপে কারা আছে? ইরান। কারণ যদি তারা তাদের তেল রপ্তানি সচল করতে না পারে, তবে তাদের পুরো তেল অবকাঠামো ধ্বংস হয়ে যাবে।

ইরানের ওপর পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের পরিকল্পনা ছিল কিনা- এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বিরক্তি প্রকাশ করে বলেন, আমি কেন পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহার করতে যাব? এটি একটি বোকামি পূর্ণ প্রশ্ন। প্রথাগত পদ্ধতিতেই আমরা তাদের পুরোপুরি বিধ্বস্ত করে দিয়েছি। তাহলে পারমাণবিক অস্ত্রের কী প্রয়োজন? পৃথিবীর কারও জন্যই পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের অনুমতি থাকা উচিত নয়।

জ্বালানি তেলের দাম নিয়ে সাধারণ মানুষের উদ্বেগের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে ট্রাম্প সরাসরি উত্তর না দিয়ে বিষয়টিকে ইরানের পারমাণবিক হুমকির সাথে তুলনা করেন। তিনি বলেন, তেলের দাম নিয়ে চিন্তার চেয়ে একটি পারমাণবিক শক্তিধর ইরানকে থামানো বেশি জরুরি। আমি ভেবেছিলাম তেলের দাম প্রতি ব্যারেল ২০০ ডলারে উঠে যাবে। কিন্তু পরিস্থিতি এখন সম্পূর্ণ ভিন্ন। যুক্তরাষ্ট্রের কাছে পর্যাপ্ত তেল মজুত রয়েছে। বিশ্বজুড়ে সব জাহাজ এখন মার্কিন তেল নিতে এখানে আসছে।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এমন মন্তব্য থেকে এটি পরিষ্কার, তিনি আপাতত পূর্ণমাত্রার সামরিক অভিযানের চেয়ে অর্থনৈতিক ও কৌশলগত অবরোধের মাধ্যমেই তেহরানকে চূড়ান্ত চুক্তিতে বাধ্য করতে চান। কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা ছাড়াই এই ‘ছায়া যুদ্ধ’ দীর্ঘায়িত করার মানসিক প্রস্তুতি নিয়েই এগোচ্ছে হোয়াইট হাউস।

সূত্র: সিএনএন ও বিবিসি

Share this news as a Photo Card

© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

জনপ্রিয় সংবাদ

নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনে অ্যান্টিবায়োটিকের অপব্যবহার বন্ধের আহ্বান প্রতিমন্ত্রীর

সম্পাদক ও প্রকাশক

মোঃ মাহমুদুন্নবী জ্যোতি

অফিসঃ ২/২ আরকে মিশন রোড , ঢাকা।

ইমেলঃ chalomanbarta@yahoo.com, chalomanbarta@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১০৫৬৮৬৬, ০১৬৮১৯২৪০০০

ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন নিয়ে ধোঁয়াশা

১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
facebook.com/dailycholomanbarta
www.cholomanbarta.com

ইরান যুদ্ধ স্থায়ীত্ব নিয়ে যা বললেন ট্রাম্প

আপডেট সময় ১১:৩৮:৩৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬

ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ কতদিন স্থায়ী হবে- এমন প্রশ্নের জবাবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে নিজেকে সীমাবদ্ধ রাখতে চান না। স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি বলেন, আমাকে তাড়াহুড়ো করতে বলবেন না। খবর সিএনএনের।

যুদ্ধের সময়সীমা নিয়ে চাপে আছেন কি না- এমন প্রশ্নে ট্রাম্প বলেন, আমরা ভিয়েতনামে ১৮ বছর ছিলাম, ইরাকে ছিলাম বহু বছর। আমি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের কথা বলতে চাই না কারণ সেটি অনেক বড় ছিল, সেখানেও আমরা প্রায় পাঁচ বছর ছিলাম। শুরুতে ট্রাম্প এই যুদ্ধ ৪ থেকে ৬ সপ্তাহের মধ্যে শেষ করার আভাস দিলেও এখন তিনি দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার ইঙ্গিত দিচ্ছেন।

ট্রাম্পের দাবি অনুযায়ী, ইরান বর্তমানে অভ্যন্তরীণ বিশৃঙ্খলার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। তিনি বলেন, তারা একটি চুক্তি করতে চায়। আমরা তাদের সঙ্গে কথা বলছি, কিন্তু তারা নিজেরাও জানে না এই মুহূর্তে দেশ কে চালাচ্ছে। তারা চরম অস্থিরতার মধ্যে আছে। তাই আমরা তাদের কিছুটা সময় দিচ্ছি যাতে তারা এই বিশৃঙ্খলা সামলে নিতে পারে।

যুদ্ধবিরতি চললেও নৌ-অবরোধ বা ব্লকেড নিয়ে নিজের অনড় অবস্থানের কথা পুনরায় জানান ট্রাম্প। তিনি বলেন, আমি কোনো সময়ের চাপে নেই। আপনারা জানেন সময়ের চাপে কারা আছে? ইরান। কারণ যদি তারা তাদের তেল রপ্তানি সচল করতে না পারে, তবে তাদের পুরো তেল অবকাঠামো ধ্বংস হয়ে যাবে।

ইরানের ওপর পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের পরিকল্পনা ছিল কিনা- এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বিরক্তি প্রকাশ করে বলেন, আমি কেন পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহার করতে যাব? এটি একটি বোকামি পূর্ণ প্রশ্ন। প্রথাগত পদ্ধতিতেই আমরা তাদের পুরোপুরি বিধ্বস্ত করে দিয়েছি। তাহলে পারমাণবিক অস্ত্রের কী প্রয়োজন? পৃথিবীর কারও জন্যই পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের অনুমতি থাকা উচিত নয়।

জ্বালানি তেলের দাম নিয়ে সাধারণ মানুষের উদ্বেগের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে ট্রাম্প সরাসরি উত্তর না দিয়ে বিষয়টিকে ইরানের পারমাণবিক হুমকির সাথে তুলনা করেন। তিনি বলেন, তেলের দাম নিয়ে চিন্তার চেয়ে একটি পারমাণবিক শক্তিধর ইরানকে থামানো বেশি জরুরি। আমি ভেবেছিলাম তেলের দাম প্রতি ব্যারেল ২০০ ডলারে উঠে যাবে। কিন্তু পরিস্থিতি এখন সম্পূর্ণ ভিন্ন। যুক্তরাষ্ট্রের কাছে পর্যাপ্ত তেল মজুত রয়েছে। বিশ্বজুড়ে সব জাহাজ এখন মার্কিন তেল নিতে এখানে আসছে।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এমন মন্তব্য থেকে এটি পরিষ্কার, তিনি আপাতত পূর্ণমাত্রার সামরিক অভিযানের চেয়ে অর্থনৈতিক ও কৌশলগত অবরোধের মাধ্যমেই তেহরানকে চূড়ান্ত চুক্তিতে বাধ্য করতে চান। কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা ছাড়াই এই ‘ছায়া যুদ্ধ’ দীর্ঘায়িত করার মানসিক প্রস্তুতি নিয়েই এগোচ্ছে হোয়াইট হাউস।

সূত্র: সিএনএন ও বিবিসি

Share this news as a Photo Card