শিরোনাম :
মদিনা থেকে জেদ্দা যাওয়ার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় ৭ বাংলাদেশির মৃত্যু খুলনায় ডায়াগনস্টিক সেন্টারে চাইনিজ কুড়াল হাতে পাঁচ যুবকের হামলা ২৪২ রানে অপরাজিত সেঞ্চুরিতে ইতিহাস গড়লেন হৃদয় শিশুদের শিক্ষার মান বাড়াতে ৩০ কোটি ডলার দিচ্ছে বিশ্বব্যাংক অভিষেকের বাড়িতে রাত ২টায় সশস্ত্র হামলার অভিযোগ, উড়িয়ে দিল বিজেপি গ্রাম পুলিশের বেতন বাড়ল ৩ হাজার টাকা, মিলবে মোবাইল ভাতাও ট্রাকের চাপায় বাবা মা সহ নিহত আট মাসের শিশু ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে একাই লড়ছেন তাওহীদ হৃদয়, ১৫৪ রানে অপরাজিত দল, ধর্ম ও বর্ণ নির্বিশেষে পরিচয় একটাই বাংলাদেশি: প্রধানমন্ত্রী ‘উই ওয়্যার হিয়ার’: এআইয়ের বিরুদ্ধে মাইক্রোওয়েভ

গোল্ডেন বুট জিততে মেসির সামনে কঠিন সমীকরণ

বিশ্বকাপের শিরোপা জয়ের স্বপ্ন পূরণ করেছেন লিওনেল মেসি। টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড় হিসেবে গোল্ডেন বলও তাঁর ঝুলিতে উঠেছে। তবে বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারের একটি বড় অর্জন এখনো অধরা—বিশ্বকাপের গোল্ডেন বুট। সেই অপূর্ণতা ঘোচানোর শেষ সুযোগ এসেছে এবারের ফাইনালে।
তবে কাজটি মোটেও সহজ নয়। কারণ, গোলদাতাদের তালিকায় এখন শীর্ষে আছেন ফ্রান্সের কিলিয়ান এমবাপ্পে। তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে জোড়া গোল করে তিনি নিজের গোলসংখ্যা বাড়িয়ে করেছেন ১০। অন্যদিকে, ফাইনালের আগে মেসির ঝুলিতে রয়েছে ৮ গোল।
এ অবস্থায় শুধু দুটি গোল করলেই গোল্ডেন বুট নিশ্চিত হবে না আর্জেন্টাইন অধিনায়কের। কারণ, গোলসংখ্যা সমান হলেও প্রতিযোগিতার নিয়ম অনুযায়ী এরপর বিবেচনায় আসে অ্যাসিস্টের সংখ্যা। বর্তমানে মেসি ও এমবাপ্পে—দুজনেরই অ্যাসিস্ট ৪টি করে।
এরপরও যদি সমতা বজায় থাকে, তাহলে দেখা হবে কে কম সময় মাঠে ছিলেন। এখানেই সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছেন এমবাপ্পে। ফরাসি ফরোয়ার্ড এ পর্যন্ত খেলেছেন ৭৬৯ মিনিট, আর মেসির মাঠে কাটানো সময় ৭১২ মিনিট। ফাইনালে ৫৮ মিনিটের বেশি খেললেই মেসির মোট খেলার সময় এমবাপ্পের চেয়ে বেশি হয়ে যাবে। ফলে সমান গোল ও সমান অ্যাসিস্টের পরিস্থিতিতে গোল্ডেন বুটের দৌড়ে এগিয়ে থাকবেন এমবাপ্পেই।
সে কারণে মেসির সামনে মূলত দুটি বাস্তবসম্মত পথ খোলা রয়েছে। প্রথমটি হলো, স্পেনের বিপক্ষে ফাইনালে হ্যাটট্রিক করা। সেক্ষেত্রে তাঁর গোলসংখ্যা দাঁড়াবে ১১, যা এমবাপ্পের ১০ গোলকে ছাড়িয়ে যাবে। দ্বিতীয় পথটি হলো, দুটি গোল করার পাশাপাশি অন্তত একটি অ্যাসিস্ট করা। তাতে মেসির গোল হবে ১০ এবং অ্যাসিস্ট হবে ৫। সেই হিসাবে অ্যাসিস্টের দিক থেকে এগিয়ে থেকে গোল্ডেন বুট নিজের করে নিতে পারবেন তিনি।
তবে ফুটবল বিশ্লেষকদের মতে, সবচেয়ে কঠিন হলেও সবচেয়ে পরিষ্কার সমীকরণ হলো হ্যাটট্রিক। কারণ, এতে অন্য কোনো হিসাবের প্রয়োজন হবে না। একই সঙ্গে বিশ্বকাপের ইতিহাসেও যোগ হবে নতুন একটি অধ্যায়।
বিশ্বকাপের ফাইনালে হ্যাটট্রিকের ঘটনা অত্যন্ত বিরল। এখন পর্যন্ত মাত্র দুজন ফুটবলার এই কীর্তি গড়েছেন। ১৯৬৬ সালের ফাইনালে ইংল্যান্ডের জিওফ হার্স্ট প্রথম এই নজির স্থাপন করেন। দীর্ঘ বিরতির পর ২০২২ সালের ফাইনালে একই কীর্তি গড়েন কিলিয়ান এমবাপ্পে। এবার যদি মেসি সেই তালিকায় নিজের নাম যোগ করতে পারেন, তবে সেটি হবে তাঁর ক্যারিয়ারের অন্যতম স্মরণীয় অর্জন।
এবারের বিশ্বকাপেই নিজের প্রথম হ্যাটট্রিকের স্বাদ পেয়েছেন মেসি। টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী ম্যাচে আলজেরিয়ার বিপক্ষে তিন গোল করেছিলেন তিনি। তাই অনেক সমর্থকের আশা, শুরুতে যা করেছিলেন, শেষ ম্যাচেও হয়তো তার পুনরাবৃত্তি ঘটাতে পারবেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা।
তবে এবার প্রতিপক্ষ আলজেরিয়া নয়, ইউরোপের অন্যতম শক্তিশালী দল স্পেন। তাই চ্যালেঞ্জও অনেক বড়। স্পেনের সংগঠিত রক্ষণভাগ ভেঙে একাধিক গোল করা সহজ হবে না বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।
তারপরও মেসির ক্যারিয়ার বারবার দেখিয়েছে, অসম্ভব মনে হওয়া লক্ষ্যও তিনি বাস্তবে রূপ দিতে পারেন। তাই বিশ্বকাপ ফাইনালে তাঁর দিকে থাকবে কোটি কোটি ফুটবলপ্রেমীর দৃষ্টি। শেষ পর্যন্ত তিনি কি গোল্ডেন বুটের আক্ষেপও ঘুচাতে পারবেন, নাকি সেই সম্মান যাবে এমবাপ্পের হাতেই—তার উত্তর মিলবে ফাইনালের শেষ বাঁশি বাজার পর।

Share this news as a Photo Card

© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

জনপ্রিয় সংবাদ

রান্নার অ্যালুমিনিয়াম হাঁড়িতে সিসার ঝুঁকি, মান যাচাইয়ের ব্যবস্থাই নেই

সম্পাদক ও প্রকাশক

মোঃ মাহমুদুন্নবী জ্যোতি

অফিসঃ ২/২ আরকে মিশন রোড , ঢাকা।

ইমেলঃ chalomanbarta@yahoo.com, chalomanbarta@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১০৫৬৮৬৬, ০১৬৮১৯২৪০০০

‘উই ওয়্যার হিয়ার’: এআইয়ের বিরুদ্ধে মাইক্রোওয়েভ

০৭ নভেম্বর ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
facebook.com/dailycholomanbarta
www.cholomanbarta.com

গোল্ডেন বুট জিততে মেসির সামনে কঠিন সমীকরণ

আপডেট সময় ০১:৩০:০০ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬

বিশ্বকাপের শিরোপা জয়ের স্বপ্ন পূরণ করেছেন লিওনেল মেসি। টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড় হিসেবে গোল্ডেন বলও তাঁর ঝুলিতে উঠেছে। তবে বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারের একটি বড় অর্জন এখনো অধরা—বিশ্বকাপের গোল্ডেন বুট। সেই অপূর্ণতা ঘোচানোর শেষ সুযোগ এসেছে এবারের ফাইনালে।
তবে কাজটি মোটেও সহজ নয়। কারণ, গোলদাতাদের তালিকায় এখন শীর্ষে আছেন ফ্রান্সের কিলিয়ান এমবাপ্পে। তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে জোড়া গোল করে তিনি নিজের গোলসংখ্যা বাড়িয়ে করেছেন ১০। অন্যদিকে, ফাইনালের আগে মেসির ঝুলিতে রয়েছে ৮ গোল।
এ অবস্থায় শুধু দুটি গোল করলেই গোল্ডেন বুট নিশ্চিত হবে না আর্জেন্টাইন অধিনায়কের। কারণ, গোলসংখ্যা সমান হলেও প্রতিযোগিতার নিয়ম অনুযায়ী এরপর বিবেচনায় আসে অ্যাসিস্টের সংখ্যা। বর্তমানে মেসি ও এমবাপ্পে—দুজনেরই অ্যাসিস্ট ৪টি করে।
এরপরও যদি সমতা বজায় থাকে, তাহলে দেখা হবে কে কম সময় মাঠে ছিলেন। এখানেই সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছেন এমবাপ্পে। ফরাসি ফরোয়ার্ড এ পর্যন্ত খেলেছেন ৭৬৯ মিনিট, আর মেসির মাঠে কাটানো সময় ৭১২ মিনিট। ফাইনালে ৫৮ মিনিটের বেশি খেললেই মেসির মোট খেলার সময় এমবাপ্পের চেয়ে বেশি হয়ে যাবে। ফলে সমান গোল ও সমান অ্যাসিস্টের পরিস্থিতিতে গোল্ডেন বুটের দৌড়ে এগিয়ে থাকবেন এমবাপ্পেই।
সে কারণে মেসির সামনে মূলত দুটি বাস্তবসম্মত পথ খোলা রয়েছে। প্রথমটি হলো, স্পেনের বিপক্ষে ফাইনালে হ্যাটট্রিক করা। সেক্ষেত্রে তাঁর গোলসংখ্যা দাঁড়াবে ১১, যা এমবাপ্পের ১০ গোলকে ছাড়িয়ে যাবে। দ্বিতীয় পথটি হলো, দুটি গোল করার পাশাপাশি অন্তত একটি অ্যাসিস্ট করা। তাতে মেসির গোল হবে ১০ এবং অ্যাসিস্ট হবে ৫। সেই হিসাবে অ্যাসিস্টের দিক থেকে এগিয়ে থেকে গোল্ডেন বুট নিজের করে নিতে পারবেন তিনি।
তবে ফুটবল বিশ্লেষকদের মতে, সবচেয়ে কঠিন হলেও সবচেয়ে পরিষ্কার সমীকরণ হলো হ্যাটট্রিক। কারণ, এতে অন্য কোনো হিসাবের প্রয়োজন হবে না। একই সঙ্গে বিশ্বকাপের ইতিহাসেও যোগ হবে নতুন একটি অধ্যায়।
বিশ্বকাপের ফাইনালে হ্যাটট্রিকের ঘটনা অত্যন্ত বিরল। এখন পর্যন্ত মাত্র দুজন ফুটবলার এই কীর্তি গড়েছেন। ১৯৬৬ সালের ফাইনালে ইংল্যান্ডের জিওফ হার্স্ট প্রথম এই নজির স্থাপন করেন। দীর্ঘ বিরতির পর ২০২২ সালের ফাইনালে একই কীর্তি গড়েন কিলিয়ান এমবাপ্পে। এবার যদি মেসি সেই তালিকায় নিজের নাম যোগ করতে পারেন, তবে সেটি হবে তাঁর ক্যারিয়ারের অন্যতম স্মরণীয় অর্জন।
এবারের বিশ্বকাপেই নিজের প্রথম হ্যাটট্রিকের স্বাদ পেয়েছেন মেসি। টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী ম্যাচে আলজেরিয়ার বিপক্ষে তিন গোল করেছিলেন তিনি। তাই অনেক সমর্থকের আশা, শুরুতে যা করেছিলেন, শেষ ম্যাচেও হয়তো তার পুনরাবৃত্তি ঘটাতে পারবেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা।
তবে এবার প্রতিপক্ষ আলজেরিয়া নয়, ইউরোপের অন্যতম শক্তিশালী দল স্পেন। তাই চ্যালেঞ্জও অনেক বড়। স্পেনের সংগঠিত রক্ষণভাগ ভেঙে একাধিক গোল করা সহজ হবে না বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।
তারপরও মেসির ক্যারিয়ার বারবার দেখিয়েছে, অসম্ভব মনে হওয়া লক্ষ্যও তিনি বাস্তবে রূপ দিতে পারেন। তাই বিশ্বকাপ ফাইনালে তাঁর দিকে থাকবে কোটি কোটি ফুটবলপ্রেমীর দৃষ্টি। শেষ পর্যন্ত তিনি কি গোল্ডেন বুটের আক্ষেপও ঘুচাতে পারবেন, নাকি সেই সম্মান যাবে এমবাপ্পের হাতেই—তার উত্তর মিলবে ফাইনালের শেষ বাঁশি বাজার পর।

Share this news as a Photo Card