পাহাড়ী ঢল ও ভারী বৃষ্টিতে উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদী বন্যার শঙ্কা
পাহাড়ি ঢল ও অতি ভারী বৃষ্টির কারণে বাংলাদেশের উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের প্রায় ১১টি জেলায় নদী-নালার পানি আশঙ্কাজনকভাবে বাড়তে শুরু করেছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে দেশের এসব অঞ্চলে একটি স্বল্পমেয়াদী বন্যা পরিস্থিতির তৈরি হতে পারে বলে সতর্কতা জারি করেছে পানি উন্নয়ন বোর্ড।
ইতোমধ্যেই দেশের কয়েকটি প্রধান নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ এবং সুনামগঞ্জের মারকুলি পয়েন্টে কুশিয়ারা নদীর পানি বর্তমানে বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
একই সঙ্গে ভারতের আসাম, মেঘালয় ও পশ্চিমবঙ্গ প্রদেশে ভারী বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাসের কারণে উজান থেকে নেমে আসা পানির চাপ দেশের সীমান্ত নদীগুলোতে আরও বাড়তে পারে।
রংপুর বিভাগে নদীগুলোর পানি বৃদ্ধি
আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী দুই দিন দেশের ভেতরে রংপুর ও সিলেট বিভাগে এবং সীমান্তের ওপারে ভারতে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে।
এর প্রভাবে উত্তর পূর্বাঞ্চলের প্রধান নদ-নদী, যেমন—তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার নদীর পানি গত ২৪ ঘণ্টায় স্থিতিশীল থাকলেও আগামী তিন দিন তা টানা বৃদ্ধি পেতে পারে।
পরবর্তী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে এসব নদীর পানি কিছু স্থানে বিপৎসীমা অতিক্রম করার আশঙ্কা রয়েছে। এর ফলে লালমনিরহাট, নীলফামারী, রংপুর, গাইবান্ধা ও কুড়িগ্রাম জেলার নদীসংলগ্ন নিচু এলাকাগুলো হঠাৎ প্লাবিত হতে পারে বা সেখানে আকস্মিক ও স্বল্পমেয়াদী বন্যা দেখা দিতে পারে।
সুরমা ও কুশিয়ারা অববাহিকার চিত্র
দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সুরমা নদীর পানি সমতল গত এক দিনে বৃদ্ধি পেয়েছে, আর কুশিয়ারা নদীর পানি আপাতত স্থিতিশীল রয়েছে। তবে আগামী তিন দিন এ দুটি নদীর পানি সমতলও বৃদ্ধি পাওয়ার পূর্বাভাস রয়েছে।
আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে সুরমা ও কুশিয়ারার পানি কয়েকটি পয়েন্টে বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ার সম্ভাবনা প্রকাশ করেছে পানি উন্নয়ন বোর্ড। এর প্রভাবে সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলার নিম্নাঞ্চলে নতুন করে স্বল্পমেয়াদী বন্যা দেখা দিতে পারে কিংবা বর্তমান বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত থাকতে পারে।
ব্রহ্মপুত্র-যমুনা ও নেত্রকোণার নদী পরিস্থিতি
ব্রহ্মপুত্র নদের পানি সমতল বর্তমানে স্থির থাকলেও যমুনা নদীর পানি অব্যাহতভাবে বাড়ছে, যা আগামী পাঁচ দিন ধরে চলতে পারে। পঞ্চম দিনের মধ্যে কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, জামালপুর, বগুড়া, সিরাজগঞ্জ ও টাঙ্গাইল জেলায় ব্রহ্মপুত্র-যমুনার পানি পয়েন্টভেদে সতর্কসীমার কাছাকাছি বা ওপরে চলে যেতে পারে। এতে এসব জেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।
অন্যদিকে, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের সারিগোয়াইন, যাদুকাটা ও কংস নদীর পানি স্থিতিশীল থাকলেও সোমেশ্বরী ও ভুলাই নদীর পানি সমতল বেড়েছে।
আগামী তিন দিন এসব নদীর পানি আরও বাড়ার ইঙ্গিত দিয়ে সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, পরবর্তী ২৪ থেকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে নেত্রকোণা জেলার সোমেশ্বরী নদী কিছু স্থানে বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে, যা আশেপাশের নিচু এলাকায় সাময়িক বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি করবে।
উত্তর ও উত্তর-পশ্চিমের আপার করতোয়া, আপার আত্রাই, পুনর্ভবা ও মহানন্দার মতো নদীগুলোর পানি সমতল গত ২৪ ঘণ্টায় বৃদ্ধি পেলেও ঘাঘট, আত্রাই ও ছোট যমুনার পানি কিছুটা কমেছে। তবে সার্বিকভাবে আগামী তিন দিন এসব নদীর পানিও সামগ্রিকভাবে বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
চলমান বার্তা ডেস্ক : 





















