মৃত্যুর সঙ্গে টানা সাতদিনের লড়াই শেষে লাল-সবুজের কফিনে নিথর দেহে বাংলাদেশে ফিরছেন ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি। ইতোমধ্যে সিঙ্গাপুর থেকে দেশের উদ্দেশে হাদিকে বহনকারী বাংলাদেশ বিমানের একটি বাণিজ্যিক ফ্লাইটটি রওনা দিয়েছে। আজ শুক্রবার (১৯ ডিসেম্বর) সন্ধ্যা ৬টা ৫ মিনিটে হাদির মরদেহ সিঙ্গাপুর থেকে ঢাকার মাটিতে পৌঁছাবে।
ইনকিলাব মঞ্চ জানিয়েছে, বাংলাদেশ বিমানের একটি বাণিজ্যিক ফ্লাইট স্থানীয় সময় বিকেল ৩টা ৫০ মিনিটে শহীদ ওসমান হাদিকে নিয়ে রওনা করেছে। ঢাকায় অবতরণ করার সম্ভাব্য সময় সন্ধ্যা ৬টা ৫ মিনিটে। শনিবার বাদ জোহর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে জানাজা অনুষ্ঠিত হবে বলেও জানিয়েছে সংগঠনটি।
লাশবন্দি কফিন নিয়ে শুক্রবার (১৯ ডিসেম্বর) দুপুরে ওসমান হাদির ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে একটি পোস্ট করা হয়। এতে লেখা হয়, ‘হারাম খাইয়া আমি এত মোটাতাজা হই নাই, যাতে আমার স্পেশাল কফিন লাগবে! খুবই সাধারণ একটা কফিনে হালাল রক্তের হাসিমুখে আমি আমার আল্লাহর কাছে হাজির হবো।’
যদিও গুলিবিদ্ধ হওয়ার আগেই এমন মন্তব্য করেছিলেন জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম নায়ক ওসমান হাদি।
পোস্টের আড়াই ঘণ্টার মধ্যেই ৩ লাখ ৪৫ হাজার রিঅ্যাক্ট, ১৪ হাজার কমেন্টস এবং ২৭ হাজার শেয়ার হয়েছে। নেটিজেনরা তাদের টাইমলাইনে পোস্টটি শেয়ার করছেন।
জানা গেছে, স্থানীয় সময় বিকেল ৩টা ৫০ মিনিটে হাদির লাশবাহী ফ্লাইটটি সিঙ্গাপুর ছেড়েছে। ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সন্ধ্যা ৬টা ৫ মিনিটে অবতরণের কথা রয়েছে। শনিবার জানাজা শেষে দাফন করা হবে।
এই অবস্থার মধ্যেই পরিবারের ইচ্ছায় তাকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছিল। সবশেষ ১৫ ডিসেম্বর দুপুরে উন্নত চিকিৎসার জন্য এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয় ওসমান হাদিকে। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি।
দেশে পৌঁছানোর পর ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ শরিফ ওসমান হাদির মরদেহ সর্বসাধারণের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে সরাসরি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদে নেওয়া হবে। আজ শুক্রবার (১৯ ডিসেম্বর) বিকেলে ইনকিলাব মঞ্চের ভেরিফায়েড পেজে দেওয়া এক পোস্টে এ কথা জানানো হয়েছে।
এতে বলা হয়েছে, ‘শহীদ ওসমান হাদিকে বহনকারী বিমানটি (শুক্রবার) সন্ধ্যা ৬টা নাগাদ হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করবে। আমাদের জুলাই জজবার প্রাণ, স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষার অকুতোভয় বীরকে গ্রহণ করতে আমরা সবাই এয়ারপোর্ট থেকে শাহবাগগামী রাস্তার দুইপাশে সুশৃঙ্খলভাবে অবস্থান নেব। সেখান থেকে শহীদ ওসমান হাদিকে সর্বসাধারণের সাক্ষাতের জন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদে আনা হবে।’
পরে ইনকিলাব মঞ্চের আরেক পোস্টে বলা হয়, ‘শহীদ ওসমান হাদিকে নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদে আসবে। ছাত্র-জনতা রাজপথ দখলে রাখবেন এবং বিচারের জন্য স্লোগান জারি রাখবেন। ইনকিলাব মঞ্চ ব্যতীত কারো কোনো নির্দেশনা বা প্ররোচনায় পা দেবেন না। আমরা খুব দ্রুতই কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করব। আমরা আমাদের শহীদ ভাইয়ের বিচার নিশ্চিত করেই ঘরে ফিরব ইনশাআল্লাহ।’
ঢাকা-৮ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনি প্রচার চালিয়েছেন ওসমান হাদি। জাতীয় নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পরদিন ১২ ডিসেম্বর রাজধানীর পুরানা পল্টনের বক্স কালভার্ট সড়কে চলন্ত মোটরসাইকেল থেকে দুর্বৃত্তরা রিকশায় থাকা ওসমান হাদিকে গুলি করে। ঢাকা-৮ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করার জন্য প্রচারণা চালাচ্ছিলেন তিনি।
মোটরসাইকেলে করে এসে দুজন তাকে খুব কাছ থেকে গুলি করে পালিয়ে যায়। পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় দ্রুত তাকে ঢাকা মেডিকেলের জরুরি বিভাগে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় জানা যায়, গুলি ওসমান হাদির মাথার ডান দিক থেকে ঢুকে বাম পাশ দিয়ে বের হয়ে গেছে।
নিজস্ব প্রতিবেদক 













