রাজবাড়ীর কালুখালী উপজেলায় দুর্বৃত্তদের নির্মম হামলার শিকার হয়ে গুরুতর আহত হয়েছেন এক যুবক। রক্তাক্ত অবস্থায় স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেছেন। আহত যুবকের নাম শহিদুল্লাহ (৩০)। তিনি কালুখালী উপজেলার মদাপুর ইউনিয়নের দোগাছী গ্রামের বাসিন্দা আবু বকরের ছেলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার সন্ধ্যা সাতটার দিকে এ হামলার ঘটনা ঘটে। ওই সময় শহিদুল্লাহ কালুখালীর রতনদিয়া বাজার থেকে বাড়ির উদ্দেশে রওনা হয়েছিলেন। পথিমধ্যে তিনি হঠাৎ হামলার মুখে পড়েন। স্থানীয় কয়েকজন যুবক অতর্কিতে তার ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে বেধড়ক মারধর করে। আকস্মিক এই হামলায় ঘটনাস্থলেই গুরুতর জখম হন তিনি।
আহত যুবকের ভাবী রিজিয়া আক্তার গণমাধ্যমকে জানান, হামলার সময় দুর্বৃত্তরা তার দেবরের কাছ থেকে নগদ ত্রিশ হাজার টাকা ছিনিয়ে নিয়ে দ্রুত পালিয়ে যায়। মুহূর্তের মধ্যে ঘটে যাওয়া এই ঘটনায় হতবিহ্বল হয়ে পড়েন আশপাশের মানুষজন। আহতের আর্তচিৎকারে ছুটে আসেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তারাই প্রথমে এগিয়ে এসে রক্তাক্ত শহিদুল্লাহকে উদ্ধার করেন এবং দ্রুত নিকটবর্তী কালুখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে ভর্তি করান। বর্তমানে সেখানেই চিকিৎসাধীন আছেন তিনি।
স্থানীয়দের বরাত দিয়ে জানা গেছে, হামলাকারীরা এলাকারই পরিচিত মুখ। তাদের মধ্যে আব্দুল্লাহ, আশরাফুল ও রাসেদের নাম উঠে এসেছে অভিযোগে। পূর্বপরিকল্পিতভাবেই এই হামলা চালানো হয়েছে বলে ধারণা করছেন এলাকাবাসী। যদিও এখনো এর সুনির্দিষ্ট কারণ স্পষ্ট হয়নি, তবে টাকা ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যেই এই আক্রমণ চালানো হয়ে থাকতে পারে বলে মনে করছেন স্বজনরা।
এ ঘটনার প্রেক্ষিতে আহত শহিদুল্লাহর বাবা আবু বকর বাদী হয়ে শনিবার কালুখালী থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের নাম উল্লেখ করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আর্জি জানানো হয়েছে। থানা পুলিশ বিষয়টি খতিয়ে দেখার আশ্বাস দিয়েছে বলে জানা গেছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা এই ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাদের ভাষ্য, সন্ধ্যার পর রতনদিয়া বাজার থেকে গ্রামের দিকে যাওয়ার রাস্তাটি দীর্ঘদিন ধরেই অনিরাপদ হয়ে উঠেছে। প্রায়ই ছিনতাই ও চাঁদাবাজির অভিযোগ শোনা যায় এই এলাকা থেকে। তবে এবারের ঘটনা সহিংসতার মাত্রায় সবাইকে চমকে দিয়েছে। এলাকাবাসীর দাবি, দ্রুত অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা হোক, যাতে ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে।
চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, আহত শহিদুল্লাহর শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। মারধরের কারণে তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম রয়েছে। প্রয়োজন হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে অন্যত্র স্থানান্তরের কথাও ভাবা হচ্ছে বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে।
এদিকে এলাকায় বিরাজ করছে চাপা উত্তেজনা। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্তরা এলাকা ছেড়ে গা ঢাকা দিয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রতিবেশীরা। পুলিশ বলছে, অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং শিগগিরই তাদের আইনের আওতায় আনা হবে। এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচারের দাবিতে সোচ্চার হয়ে উঠেছেন এলাকার সাধারণ মানুষও।
চলমান বার্তা ডেস্ক : 
















